[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

দেশ ও মানুষের প্রশ্নে সবাই অভিন্ন বলেই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যা সঠিক তা সবার। আর সঠিকতা আধুনিক রাজনীতিতে সর্বদা যুক্তিযুক্ততায় নির্দিষ্ট হয়। বিশ্বাসের পথ ধরে ব্যক্তি সম্পর্ক এলেও- যুক্তির পথ ধরে বিশ্বাস ও ঐক্য স্থাপনের নামই গণতান্ত্রিক সহমত বা সংস্কৃতি। আর তাই গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ আজ- ‘যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, যা বেঠিক তা নির্মূল হোক।’


প্রকৃতিগতভাবে প্রতিটি মানুষ স্বকীয় এবং তার বোধ ও মতের এই স্বীকৃতিটুকুই মানবীয় মর্যাদার শ্রেষ্ঠ দাবি। শাসনব্যবস্থার ইতিহাসে এই দাবির রাজনৈতিক পরিণতিই হল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। আর বৈশ্বিক ক্ষেত্রে বোধ প্রকাশে মুখের ভাষা আর মত প্রকাশে নিজেকেই পোস্টার করা- এমন অনবদ্য ইতিহাস কেবল বাংলাদেশেরই! ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিণতিতেই ’৭১ এর স্বাধীনতা কিংবা বোধগত প্রত্যয়ে খোদিত ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক;’ অক্ষয় সে দাবির স্মারকে প্রতিষ্ঠিত ৯০ পরবর্তী আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

 

যা সঠিক তা অন্যের হলেও তাতে আমরা সহমত পোষণ করি এবং সঠিক বলেই তা বাস্তবায়নে আমরা প্রয়োজনে সংগ্রামের পথ বেছে নিই। কারণ দেশ ও মানুষের প্রশ্নে সবাই অভিন্ন বলেই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যা সঠিক তা সবার। আর সঠিকতা আধুনিক রাজনীতিতে সর্বদা যুক্তিযুক্ততায় নির্দিষ্ট হয়। বিশ্বাসের পথ ধরে ব্যক্তি সম্পর্ক এলেও-  যুক্তির পথ ধরে বিশ্বাস ও ঐক্য স্থাপনের নামই গণতান্ত্রিক সহমত বা সংস্কৃতি।

 

আর তাই গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ আজ- ‘যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, যা বেঠিক তা নির্মূল হোক।’

 

উদয় আর অস্ত সত্য হলেও তা কেবল ভূমিজ ক্ষেত্রে স্থানিক সত্য মাত্র! কারণ আজকের মানুষ জানে, সূর্য ওঠেও না- ডোবেও না, বরং পৃথিবীটাই ঘুরছে। যে কোনো দেশের যুদ্ধই আজ বিশ্বযুদ্ধের শংকায় ত্রস্ত করে প্রতিটি মানুষকে কারণ প্রত্যেক মানুষই আজ বৈশ্বিক- মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এই একটিই পৃথিবী। প্রযুক্তিগত উত্তরণ সাজুয্যতায় চরম সত্য হলো- ‘পৃথিবী এখন গাঁয়ের চেয়েও ছোট’!

 

সভ্যতা দুই ভাগে বিভক্ত-

 

দৈহিক শ্রমনির্ভর সমাজ-সভ্যতা এবং বৌদ্ধিক শ্রমনির্ভর সমাজ-সভ্যতা।

দৈহিক শ্রমনির্ভর জৈবিক সভ্যতা বিগত, বৌদ্ধিক শ্রমনির্ভর আধুনিক সভ্যতা সমাগত।

 

জাতীয় রাজনৈতিক পথ পরিক্রমার ইতিহাসে বাংলাদেশ এই উপমহাদেশের সবচেয়ে অগ্রগামী দেশ হিসেবে নির্দিষ্ট; কারণ মাউন্ট ব্যাটেন এর মতো কোনো লর্ডের অর্ডারে বা আদেশে এদেশের স্বাধীনতা আসেনি বরং যথার্থ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমার পরিণতিতে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। ৫০’র খাপড়াছড়ি, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট, ৬৬ থেকে ৭০’র ধাপে ধাপে দলীয় রাজনীতির পথ ধরে ক্রমান্বয়ে দল মত নির্বিশেষে জাতীয় রাজনৈতিক ফ্রন্ট- অতঃপর ‘জাতীয় সরকার’ গঠন এবং সেই জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

স্বাধীনতার পূর্বে আইন তৈরী হতো বিদেশের পার্লামেন্টে এজলাসেও বসা থাকত বিদেশী। কিন্তু স্বাধীনতার পর আজ আইন তৈরী হওয়া থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই স্বদেশী। দেশের আমলা থেকে রাজনীতিবিদ দেশটা সবার হওয়াতেই জাতীয় সংকটে দেশাত্ববোধের তাড়না সবাই অনুভব করে কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই দেশাত্ববোধের সদিচ্ছা, সততাটুকু শেষপর্যন্ত বিতর্কিত হয়েছে- স্বচ্ছ ভাবমূর্তি হয়েছে কালিমালিপ্ত; বিচারপতি সায়েম থেকে ইয়াজউদ্দীন, ফখরুদ্দীন বা জেনারেল মঈন-ইউ-আহমেদ পর্যন্ত একই ট্রাজেডির বিভিন্ন প্রকাশ। কারণ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিক পথ ধরেই হতে হয়। আর তা না হলে সে ব্যর্থতার দায়ভার সমস্ত দেশকেই বইতে হয়।

 

এজন্যই দেশ যদি সাধু সন্ততে ভরেও যায় আর রাজনীতিটা পঁচে ওঠে তবে নিশ্চিত সে দেশ রসাতলে যাবে, বিপরীতক্রমে

দেশ যদি গুন্ডা-বদমাইশে ছেয়েও যায় আর রাজনীতিটা যথার্থ থাকে তবে সে দেশ অচিরেই বেঁচে উঠবে। কোনো দেশেই সব কিছু থাকে না কিংবা অনেক কিছু না থাকলেও একটি দেশ চলতে পারে কিন্তু রাজনীতিটা যথাযথ না হলে সে দেশ অচল হয়ে পড়ে, কারণ দেশ রাজনীতি মারফত বাঁচে। তাই একটি দেশের জন্য সর্বাগ্রে- সবসময় সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়ে সে দেশের রাজনীতি।

 

দেশে একটি সংবিধান আছে বলেই- রাষ্ট্রিক দিক থেকে জরুরি এবং বিশেষ অবস্থার সাথে সাধারণ অবস্থারও পার্থক্য আছে। অথচ সাংবিধানিক নির্দেশ থাকা সত্তে¡ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সুনির্দিষ্ট বিধি না করে বছরের পর বছর সার্চ কমিটি গঠনের মত নাটকীয়তা বা অপ্রাতিষ্ঠানিকতা চললেও কোন প্রশ্ন ওঠে না।  মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বগত শর্তে কোনো দল অনিবার্যভাবেই সরকারের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট হওয়ার পরও তাকে সংসদের বিরোধী দল হিসেবে ট্রিট করলে যে তা হয়ে যায় না- এমনকি বিশ্বের অপরাপর রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা সরকারী সফরে এসে ‘বর্তমান’ নয় বরং ‘সাবেক’ সংসদে বিরোধী দল ও নেতাকেই খোঁজে বা সাক্ষাৎ করে সেটা দেখেও আমরা বুঝি না- রাষ্ট্রীয় গ্রামারটা বদলে যায় নি বলেই বিশ্বের কাছে ৫ই জানুয়ারি পরবর্তী সংসদ, বিরোধী দলহীন একটি সংসদ হিসেবেই ট্রিট হয়েছে!

 

স্মর্তব্য, ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছিলেন আর ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ সেই স্বীকৃতির পথ ধরেই বিশ্বের কাছে যুক্তিযুক্ততায় বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সরকার বা যুদ্ধকালীন স্বাধীন সরকার স্বীকৃত হয়েছিল। এ কারণে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতেও তাঁকেই সরকার প্রধান করা অনিবার্য ছিল। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় গ্রামারটা ছিল, আছে এবং গ্লোবালাইজেশনের বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সেটা জানা জরুরি। কারণ সেই না জানাটা অনেক সময় রাজনৈতিক অমর্যাদায় ফেলে দেয়।

 

মানুষ পিছন দিকে ফিরে নয়- সামনের দিকে ঝুঁকেই হাঁটে; বিগতের কাছে মানুষ ঋণী হলেও তার দায়বদ্ধতা থাকে আগামীর কাছে। আমরাও ইতিহাস থেকে শিখি কিন্তু বিশ্বাস করি "Global knowledge Local act" এর বিনির্মাণকে, আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিকে।

 

আর তাই, বিগত অর্থে বিদ্যমান কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রকাঠামোর বিপরীতে বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকরণ এর সংগঠন কাঠামো প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে “জনগণ কেবল সরকার গঠন করবে না, সরকার চালনাও করবে- সরকার প্রসঙ্গে ভোট শুধু একবার নয় বরং সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বারবার”। ... দূরে থেকেও যেভাবে মোবাইল ফোনে সংসার চালান, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন- সেভাবেই জনগণ আজ সরকার চালাবেন। 

 

স্বাভাবিক ভাবেই ‘স্থানীয় সরকার ভিত্তিক জাতীয় সরকার গড়ে তোলা’র রাজনৈতিক ঘোষণায়- মুক্তিজোটের ডাক, ‘ডান-বাম নয় হাঁটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর’- MARCH FOR BANGLADESH।

 

নাস্তিকতা আর দেশের প্রশ্নে রাজনীতিহীনতাকে বর্জন করি বলেই আমরা ‘সচেতন-সামাজিক শক্তি (Social Power with Knowledge)’র রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এ কারণেই মুক্তিজোটের রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জাতীয় পরিষদ কিংবা প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি সমূহে রাজনৈতিক ঐক্যের সংবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় সবগুলো দলই সংশ্লিষ্ট থাকে। দল যাঁরা চালায়, দেশও তাঁরাই চালান। এভাবে আমাদের রাজনীতিতে সর্বদা রাজনীতি হয়েই দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র ‘দেশ’ ও ‘দশ’ জড়িয়ে থাকে। তাই ‘সর্বময় ক্ষমতার মালিক- পরম দয়ালু প্রতিপালক, মহান স্রষ্টায় সমর্পিত হয়ে মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একাত্ম হও।

  

অতএব ৭১’র মাউজার এখনও যাঁদের পূর্ব পুরুষদের হাড়-গোড় ফাঁক ফোঁকর গলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে অথবা উত্তর পুরুষ শিয়রে দাঁড়িয়ে এখনও বলে ‘লাব্বাইক’! এই মাটিতেই বেড়ে বলে ওঠা সেই মানুষগুলো নিশ্চয়ই আজ বলবে, "Hold your tongue, let me love my Country, my Independence and my Democracy"|

 



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
অবিলম্বে “১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করতে হবে”। ২০১৭-১২-০৭
১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীঃ মুক্তিজোটের নিবন্ধন পরবর্তী গত পাঁচ বছরের রাজনৈতিক অর্জন ও তার পথচলা ২০১৭-১১-২৪
৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতির পথ ধরে এখন বৈশ্বিক! ২০১৭-১১-২০
রাজনৈতিক মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে নির্বাচন কমিশনে “জাতীয় পরিষদ” এর প্রস্তাব দেয় মুক্তিজোট ২০১৭-০৮-২৫
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রেরিত ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা’র প্রেক্ষিতে মুক্তিজোট- এর প্রস্তাবনা ২০১৭-০৮-২৪
জাতীয় শোক দিবস- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০১৭-০৮-১৫
জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা ২০১৭-০৮-১৪
‘ভিশন- ২০৩০’ এর ৩নং ধারাটি- বিএনপি’র নাকি মুক্তিজোটের? জানতে চেয়ে বিএনপি - কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান করলো মুক্তিজোট। ২০১৭-০৫-২৩
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০১৭-০৫-০১
বাংলাদেশের প্রথম (অস্থায়ী) জাতীয় সরকার এবং তার অমীমাংসীত রাজনৈতিক কর্মপ্রবাহের নামই- বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি! ২০১৭-০৪-১৭