[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

নির্বাচন কেন্দ্রিক সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা


               প্রকৃতিগতভাবে প্রতিটি মানুষ স্বকীয় এবং তার বোধ ও মতের এই স্বীকৃতিটুকুই মানবীয় মর্যাদার শ্রেষ্ঠ দাবি। শাসনব্যবস্থার ইতিহাসে এই দাবির রাজনৈতিক পরিণতিই হল বর্তমান পৃথিবীর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। আর বৈশ্বিক ক্ষেত্রে বোধ প্রকাশে মুখের ভাষা আর মত প্রকাশে নিজেকেই পোস্টার করা- এমন অনবদ্য ইতিহাস কেবল বাংলাদেশেরই! মূলত ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিণতিতেই ’৭১ এর স্বাধীনতা আর বোধগত প্রত্যয়ে খোদিত ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক;’ অক্ষয় সে দাবির স্মারকে প্রতিষ্ঠিত ৯০ পরবর্তী আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

 

               দেশের প্রশ্নে অভিন্ন হলেও নীতি-আদর্শ দ্বারা রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে পরস্পর ভিন্নতা থাকে। আর এই দলীয় ভিন্নতার পথ ধরে বহুমত বহুপথের পারস্পরিক তুলনায় জনগণ সঠিক-বেঠিক নির্ণয়ে অপেক্ষাকৃত উন্নত পথ ও মতকে বেছে নেয়, এভাবে অপেক্ষাকৃত উন্নততর পথ পরিক্রমায় দেশ এগিয়ে যায়- যা বহুদলীয় বা সংসদীয় শাসনব্যবস্থা হিসেবে খ্যাত। কিন্তু ক্ষমতার পালা বদলে এ দেশ এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে এখন গৃহযুদ্ধের ‘থ্রেট’ শুনছে- এমনকি অনেকেই গৃহযুদ্ধের শঙ্কায় তটস্থ!

 

               নির্বাচন কেন্দ্রিক সংকট তথা বিগত প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তিতেই রুদ্ধ আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও তার জাতীয় রাজনীতি।

 

               বহুদলীয় শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন মারফত কয়েক বছর অন্তর অন্তর সরকার পরিবর্তন ঘটে এবং ‘সরকার পরিবর্তমানতার বৈশিষ্ট্যগত কারণেই ধারাবাহিকতা (Continuity) রক্ষিত হয় প্রধানত প্রশাসনসহ অপরাপর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মারফত। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বৈশিষ্ট্যগতভাবেই প্রতিষ্ঠান নির্ভর আর এই প্রতিষ্ঠান নির্ভরতার কারণে গণতান্ত্রিক বিশ্বের রাষ্ট্রীয় ভাবনায় এটা প্রায় স্বতঃসিদ্ধ যে ‘গণতন্ত্র সর্বদা প্রাতিষ্ঠানিকতার পথ ধরে স্থিতিশীল হয়’। সেক্ষেত্রে নির্বাচন সম্পন্ন করার শর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ সরকার আসে যায় কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন থেকেই যায়। তাই নির্বাচন কেন্দ্রিক ‘স্থিতিশীলতা’র শর্তে এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পথ হিসেবে নির্বাচন কমিশনই গৃহীত হয়।

 

               কিন্তু ”নিরপেক্ষ নির্বাচন” প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী না করে ইতিপূর্বে এদেশে উক্ত প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনে খোদ একটি প্রাতিষ্ঠানিক সরকারব্যবস্থা তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়- যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তি। 

 

               উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় যেহেতু সরকার বলতে ক্ষমতাসীন কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলকেই বোঝায় এবং নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন মুখ্যতঃ ‘স্বরাষ্ট্র’ ও ‘জনপ্রশাসন’ তথা দুটো মন্ত্রণালয় হয়ে সরকারমুখীনতায় ঝুলে থাকে। সেক্ষেত্রে সরকারের প্রভাব মুক্ত বা ক্ষমতাসীন দল নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের শর্তে নির্বাচনকালীন সময়ে (তফসিল ঘোষণা মাত্র) নির্বাচন কমিশনকে দুটো মন্ত্রণালয় দেওয়ার কথা ভাবা যেত।

 

               গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠান নির্ভর বিধায় উক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তি কাঠামোগত ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে; যেমন নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে জনমনে আজ নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা ও অবস্থান অকার্যকর- যুগপৎ উক্ত ভ্রান্তি ‘সরকার’ সংশ্লিষ্ট ছিল এবং তা সংসদ বা জনসংশ্লিষ্টতায় রাজনীতির পথ ধরে ঘটেছিল বিধায় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিকেই ক্রমশ থমকে দিয়েছে- এমনকি ক্ষমতার পালা বদল গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক ধারা হলেও তা আজ গৃহ যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে! সর্বোপরি তা বাতিল হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ আরও বেশি রাজনৈতিক বা জাতীয় বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিগত প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তি নিরোধেই আজ নির্বাচনকালীন প্রাতিষ্ঠানিক সরকার প্রতিষ্ঠা অনিবার্য।

 

               নির্বাচন কেন্দ্রিক সংকট তথা বিগত প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তিতেই রুদ্ধ আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও তার জাতীয় রাজনীতি। সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংকট কোন দলের নয় বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত পথ ধরে জাতীয় বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে তাই তা নিরোধে জাতীয় ঐক্যের অনিবার্যতা নির্দিষ্ট হয়। কারণ বিগত প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তি থেকে শুধু  জাতীয় প্রাতিষ্ঠানিক সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে মুক্ত হতে পারে।   

 

               উল্লেখ্য, গৃহ যুদ্ধে’র শঙ্কা তথা অনিশ্চয়তার রাজনৈতিক ‘থ্রেট’ থাকায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক হলেও তা রাজনৈতিক ভ্রান্তি নিরোধে বিধায় অনিবার্যভাবেই তা প্রোয়জন ভিত্তিক বা Suo Motu Government বৈশিষ্ট্যেই নির্দিষ্ট হয়। যুগপৎ তাকে অবশ্যই হতে হবে রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য সঞ্জাত। 

 

               জাতীয় রাজনৈতিক পথপরিক্রমার ইতিহাসে বাংলাদেশ এই উপমহাদেশের সবচেয়ে অগ্রগামী দেশ হিসেবে নির্দিষ্ট ; কারণ মাউন্টব্যাটেন এর মতো কোনো লর্ডের অর্ডারে বা আদেশে এদেশের স্বাধীনতা আসে নি বরং যথার্থ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমার পরিণতিতে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। ৫০’র খাপড়াছড়ি, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট, ৬৬ থেকে ৭০’র ধাপে ধাপে দলীয় রাজনীতির পথ ধরে ক্রমান্বয়ে দল মত নির্বিশেষে জাতীয় রাজনৈতিক ফ্রন্ট- অতঃপর ‘জাতীয় সরকার’ গঠন এবং সেই জাতীয় সরকারের নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

 

               অতএব স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র উভয়ই দেশ ও মানুষের স্বার্থে আজ জাতীয় ঐক্যর সমার্থক হয়ে গেছে- জাতীয় জীবনে নেমে আসা অন্ধকারের বিরুদ্ধে ইতিহাসকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

 



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ২০২০-০২-২১
দেশ ও মানুষের প্রশ্নে সবাই অভিন্ন বলেই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যা সঠিক তা সবার। আর সঠিকতা আধুনিক রাজনীতিতে সর্বদা যুক্তিযুক্ততায় নির্দিষ্ট হয়। বিশ্বাসের পথ ধরে ব্যক্তি সম্পর্ক এলেও- যুক্তির পথ ধরে বিশ্বাস ও ঐক্য স্থাপনের নামই গণতান্ত্রিক সহমত বা সংস্কৃতি। আর তাই গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ আজ- ‘যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, যা বেঠিক তা নির্মূল হোক।’ ২০২০-০২-০২
নতুন সূর্যোদয়- সুস্বাগতম ২০২০ খ্রিস্টাব্দ! ২০২০-০১-০১
শুভ বড়দিন। যীশু খ্রিস্টের জন্মোৎসবে সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা। ২০১৯-১২-২৫
বিজয়ের এই মহান দিনে পৃথিবীর সব মানুষকে শুভেচ্ছা ২০১৯-১২-১৬
অবিলম্বে “১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করতে হবে”। ২০১৯-১২-১৪
-- ২০১৯-১২-০৫
-- ২০১৯-১১-২৪
নির্বাচন কেন্দ্রিক সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা ২০১৯-১০-১৮
দেশ ও মানুষের প্রশ্নে সবাই অভিন্ন বলেই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যা সঠিক তা সবার। আর সঠিকতা আধুনিক রাজনীতিতে সর্বদা যুক্তিযুক্ততায় নির্দিষ্ট হয়। বিশ্বাসের পথ ধরে ব্যক্তি সম্পর্ক এলেও- যুক্তির পথ ধরে বিশ্বাস ও ঐক্য স্থাপনের নামই গণতান্ত্রিক সহমত বা সংস্কৃতি। আর তাই গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ আজ- ‘যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, যা বেঠিক তা নির্মূল হোক।’ ২০১৯-১০-১৫

previous123456next