[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে।


একাদশ সংসদ নির্বাচন শেষে সমস্ত দেশ যখন স্তম্ভিত, বিজয়ীদের বিজয় উল্লাস যখন ভাষা হারিয়েছে- ঠিক তখন জাতীয় রাজনীতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে গত ২৫শে জানুয়ারী ২০১৯ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে ‘জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন’। সমগ্র দেশবাসী অবাক চোখে তাঁকে নতুন করে চিনে নিলো।

 

মূলতঃ ৩০শে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন ছিলো সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র! তাঁকে নতুন করে চিনে নেয়া বলতে- ২০১৯’র ২৫শে জানুয়ারীর ঘোষণা ১৯৭৫’র ২৫শে জানুয়ারীর ইতিহাসকে মনে করিয়ে দিয়েছে।

 

প্রকৃতিগতভাবে প্রতিটি মানুষ স্বকীয় এবং তার বোধ ও মতের এই স্বীকৃতিটুকুই মানবীয় মর্যাদার শ্রেষ্ঠ দাবি। শাসনব্যবস্থার ইতিহাসে এই দাবির রাজনৈতিক পরিণতিই হলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। ঠিক যেমন ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিণতিতেই ’৭১ এর স্বাধীনতা কিংবা বোধগত প্রত্যয়ে খোদিত ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’- অক্ষয় সে দাবির স্মারকে প্রতিষ্ঠিত ৯০ পরবর্তী আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

 

এই দেশ ও তার মানুষ আপন ভাষার দাবিতেই স্বাধীন হয়েছে, গণতন্ত্রের দাবিতে নিজেকেই পোস্টার করেছে, আঁধবোজা চোখে চেয়ে থাকা বুলেট বিদ্ধ লাশ, মুখ আর বুক একাকার করেই স্বাধীন এ দেশটি অবশেষে গণতান্ত্রিক বিশ্বের সহযাত্রী হয়েছিল। মত প্রকাশে মুখের ভাষা আর বোধ প্রকাশে নিজেকেই পোস্টার করা- বোধ আর মত প্রকাশের বৈশ্বিক ইতিহাসে অনবদ্য আমাদের এই দেশ- বাংলাদেশ!

 

১৯৭১ এ স্বাধীনতা এসেছে, ৯০ এর পর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আমরা এগিয়েছি কিন্তু রাজনৈতিক ‘স্থিতিশীলতা’র ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক যুগের সেই পেটোয়া আর বিশেষ বাহিনী নির্ভর হয়েই হাঁটছি। অথচ স্বাধীনতার পূর্বে আইন তৈরী হতো বিদেশের পার্লামেন্টে, এজলাসেও বসা থাকতো বিদেশীরা। কিন্তু স্বাধীনতার পর আজ আইন তৈরী হওয়া থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই স্বদেশী। দেশের আমলা থেকে রাজনীতিবিদ, দেশটা সবার হওয়াতেই জাতীয় সংকটে দেশাত্ববোধের তাড়না সবাই অনুভব করে কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই দেশাত্ববোধের সদিচ্ছা, সততাটুকু শেষপর্যন্ত বিতর্কিত হয়েছে- স্বচ্ছ ভাবমূর্তি হয়েছে কালিমালিপ্ত ; বিচারপতি সায়েম থেকে ইয়াজউদ্দীন, ফখরুদ্দীন বা জেনারেল মঈন-উ-আহমেদ পর্যন্ত একই ট্রাজেডীর বিভিন্ন প্রকাশ। কারণ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিক পথ ধরেই হতে হয়। আর তা না হলে সে ব্যর্থতার দায়ভার সমস্ত দেশকেই বইতে হয়।

 

এজন্যেই দেশ যদি সাধু সন্ততে ভরেও যায় আর রাজনীতিটা পঁচে ওঠে তবে নিশ্চিত সে দেশ রসাতলে যাবে, বিপরীতক্রমে দেশ যদি গুন্ডা-বদমাইশে ছেঁয়েও যায় আর রাজনীতিটা যথার্থ থাকে তবে সে দেশ অচিরেই বেঁচে উঠবে।

 

সংবিধান অনুসারে স্বাধীন এ দেশটির সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ। আর তাই জনসংশ্লিষ্টতায় রাজনীতিই সর্বাগ্রে বিবেচিত হয় কিংবা জনসংশ্লিষ্টতা নিরূপণে নির্বাচন মারফত সরকারই দেশের চালক ভূমিকায় নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তু রাজনীতি নিজেই যখন রাজনীতিহীন হয়ে ওঠে তখন দেশটা মগের মুল্লুক হয়ে পড়ে।

 

দেশে একটি সংবিধান আছে বলেই- রাষ্ট্রীক দিক থেকে জরুরী এবং বিশেষ অবস্থার সাথে সাধারণ অবস্থারও পার্থক্য আছে। অথচ সংসদ বহাল থাকার পরেও আইন না করে বছরের পর বছর সার্চ কমিটি গঠনের মতো নাটকীয়তা বা অপ্রাতিষ্ঠানিকতা চলতে থাকলেও এদেশে কোনো প্রশ্ন ওঠে না। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বগত শর্তে কোনো দল অনিবার্যভাবেই সরকারের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট হওয়ার পরও তাকে সংসদের বিরোধী দল হিসেবে ট্রিট করলেই যে তা হয়ে যায় না- এমনকি বিশ্বের অপরাপর রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা সরকারী সফরে এসে ‘বর্তমান’ নয় বরং ‘সাবেক’ সংসদের বিরোধী দল ও নেতাকেই খোঁজে বা সাক্ষাৎ করে সেটা দেখেও আমরা বুঝি না- রাষ্ট্রীয় গ্রামারটা বদলে যায়নি বলেই বিশ্বের কাছে ৫ই জানুয়ারী ২০১৪ পরবর্তী সংসদ, বিরোধী দলহীন একটি সংসদ হিসেবেই ট্রিট হয়েছে!

 

স্মর্তব্য, ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছিলেন আর ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ সেই স্বীকৃতির পথ ধরেই বিশ্বের কাছে যুক্তিযুক্ততায় বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সরকার বা যুদ্ধকালীন স্বাধীন সরকার স্বীকৃত হয়েছিল- এ কারণে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতেও তাঁকেই সরকার প্রধান করা অনিবার্য ছিল। তদ্রুপ একই দেশের ‘রাজনৈতিক গন্ডগোল’ না সেটা প্রমাণেই প্রয়োজন হয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণায় সামরিক সংশ্লিষ্টতায় ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমানকে ; তদুপরি তা সামরিক ক্যু নয় সেটা প্রমাণ সহ কূটনৈতিক চুক্তির শর্তে প্রয়োজন হয়েছিল সরকার গঠন। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় গ্রামারটা ছিল, আছে এবং গ্লোবালাইজেশনের বর্তমান বাস্তবতায় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সেটা জানা জরুরী। কারণ সেই না জানাটা অনেক সময় রাজনৈতিক অমর্যাদায় ফেলে দেয়।

 

 ‘ইতিহাসকে বদলানো যায় না’ যে অর্থে সে অর্থেই ৭১-এর ইতিহাস প্রসঙ্গে বিএনপি যেমন অবান্তর হয়ে পড়ে তেমনি ৯০ পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে অপরাপর দলের রাজনৈতিক ভূমিকা আজ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে!

 

সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর হয়ে ওঠে সরকার ও বিরোধী দল নিয়ে। অর্থাৎ গণতন্ত্র কার্যকর থাকার জন্যে নূন্যতম দুটি দল অনিবার্য।

 

৯০ পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকায় একক অথবা জোটবদ্ধভাবে অদ্যাবধি শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছিল। ধারাবাহিকতার সে ইতিহাসগত কারণেই দুটো দল না থাকলে বিরাজনীতিকরণের তত্ত্ব কিংবা একটি দল না থাকলে অপর দলটি একক রাজনৈতিক ভূমিকায় ক্রিয়াশীল হয়ে উঠবে এটাই ভবিতব্য থাকে।

 

স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার ও ধারাবাহিক শাস্তির প্রত্যক্ষতার পথ ধরে স্বাধীনতা সংগ্রাম একটি পক্ষের- ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ভাবাদর্শ হিসেবে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবেই স্বাধীনতা আর দেশ সমার্থক বলেই ক্ষমতাসীন দলের বিপক্ষে কথা বলা পক্ষান্তরে দেশ বিরোধীতার সমার্থক হয়ে ওঠে- এভাবে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যায়।

 

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মধ্যেই আজ একদলীয় শাসনব্যবস্থা জেঁকে বসেছে। অতঃপর গণতন্ত্র বা নির্বাচন, সংবিধান বা জনগণ সবটাই আজ একদলীয় ঢক্কা-নিনাদ মাত্র! ২৫ শে জানুয়ারী ২০১৯-কে এর বাইরে ভাবার অবকাশ নেই।

 

ধর্মের জন্যে আছে ঐশী গ্রন্থ- বেদ, বাইবেল, আল-কোরান; দেশ ও রাজনীতির জন্যেও তেমনি গুরুত্বে আজ ইতিহাস! অতএব ইতিহাস কথা কও. . . . . .

 

অতীত যদি বর্তমানকে বুঝার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে ওঠে তবে সে অতীত আলো না হয়ে জাতীয় জীবনে- চোখের ঠুলি হয়ে পড়ে। বিগতের কাছ থেকে মানুষ শিখলেও সে পথ হাঁটে সামনের দিকে তাকিয়ে। অতীতের পরিণতি অর্থেই থাকে বর্তমান আর বর্তমানে দাঁড়িয়েই ঘোষিত হয় ভবিষ্যৎ ও তার দিক নির্দেশনা।

 

রাজনীতিহীন কোন সার্বভৌম দেশের অস্তিত্ব পৃথিবীর জানা নেই। কোনো দেশেই সব কিছু থাকে না কিংবা অনেক কিছু না থাকলেও একটি দেশ চলতে পারে কিন্তু রাজনীতিটা যথাযথ না হলে সে দেশ অচল হয়ে পড়ে। দেশ রাজনীতি মারফত বাঁচে বলেই সর্বাগ্রে কোন দেশের জন্যে সবসময়-- সবচেয়ে জরুরী হয়ে থাকে, সে দেশের রাজনীতি।

 

ঠিক তেমনি গণতন্ত্রের চেয়েও উন্নত কোনো মানবীয় শাসন ব্যবস্থার কথা এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর জানা নেই। অপরাপর শাসন ব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত অগ্রগামী বা উন্নত বলেই কোনো দেশ রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে না থাকলে এই শাসন ব্যবস্থা সে দেশে কার্যকর হতে পারে না-- এমনকি হিতে বিপরীত হয়ে ওঠে ; অর্থাৎ ভালো মাত্রই সব সময় সব ক্ষেত্রে হিতসাধন করে না এবং তা রাজনীতির ক্ষেত্রে হলে হাজারও জীবন মানকে পঁচিয়ে তোলে।

 

এই দৃষ্টান্তের জন্যে পৃথিবীর অপরাপর দেশ নয় খোদ বাংলাদেশের ইতিহাস টানলেই চলে। বলা যায়, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির শুরুই হয়েছিল ‘ভুল’ দিয়ে আর শুরুর সেই ভ্রান্তিটির নাম ছিল ‘গণতন্ত্র’!

 

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিরপ্রথম ভুল

 

উপমহাদেশের ইতিহাসে জাতীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশই সবচেয়ে অগ্রগামী দেশ হিসেবে নির্দিষ্ট। কারণ মাউন্ট ব্যাটেন এর মত কোন লর্ডের ‘অর্ডারে’ বা আদেশে এদেশের স্বাধীনতা আসেনি বরং ‘যথার্থ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমা’র পরিণতিতেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। ৫০ এর খাপড়াছড়ি ওয়ার্ড থেকে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, অতঃপর ৫৪- এর যুক্তফ্রন্ট থেকে দলীয় রাজনীতির পথ ধরে ৬৬ থেকে ৭০ ধাপে ধাপে ক্রমান্বয়ে দল মত নির্বিশেষ জাতীয় রাজনৈতিক ফ্রন্ট—অতএব ‘জাতীয় সরকার’ গঠন এবং সেই জাতীয় সরকারের নেতৃত্বেই বৈশ্বিক ইতিহাসে ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

 

উল্লেখ্য, যে সব উপাদান দ্বারা আধুনিক রাজনীতির যথার্থতা নিরূপিত হয়, সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হিসেবে পরিগণিত এবং এটা কেবল ভাবাদর্শিক বা রাষ্ট্রতাত্ত্বিক সংস্কৃতিগত দিক নয় বরং এটা আধুনিক রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের সাথে যুক্ত।

 

এ উপমহাদেশে বৃটিশ ভারতের হাত ধরে ধর্মভিত্তিক যে বিকৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তা থেকে কেবল আধুনিক রাজনীতির যথার্থতায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশই বেরিয়ে এসেছিল, তার বড় প্রমাণ- স্বাধীনতার পর অদ্যাবধি এদেশের ব্যাপক মানুষ ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাষ্ট্রীয় সীমানায় গ্রহণ করেনি। অথচ ভারত ও পাকিস্তানে ধর্মভিত্তিক দলগুলো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় শাসক দল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বা এখনও হয়ে যাচ্ছে। যথার্থ রাজনীতির পরিণতি অর্থেই এদেশের স্বাধীনতা তথা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির এই অগ্রগামীতা অর্জিত হয়েছে।

 

ইতিহাসগত দিক থেকে দেখা যায়, ব্রিটিশরা এই উপমহাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে যেমন প্রশ্ন উঠেছিল (এন.সি. চৌধুরী এই প্রাসঙ্গিকতায় একটি কুখ্যাত বা বিখ্যাত নাম) নিজেদের দেশ শাসনের যোগ্যতা এদের আছে কিনা তেমনি পাকিস্তানিরাও এই প্রশ্ন তুলেছিল (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খানের স্মৃতিকথায় এই প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য পাওয়া যেতে পারে)। অর্থাৎ কোনো দেশকে কুক্ষিগত করার নৈতিক যুক্তি হিসেবে পররাষ্ট্রগ্রাসী শাসক গোষ্ঠী উক্ত দেশটির শাসনকার্য চালানোর ‘অযোগ্যতা’কেই দায়ী করে। দেশ চালানো বলতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের দক্ষতাকেই নির্দিষ্ট করে। কারণ কোনো রাষ্ট্র তথা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ভেতরের নিয়ামক ভূমিকাতেই থাকে প্রশাসনিক দিক। আর তাই রাষ্ট্রীয় কাঠামো তথা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা দিয়েই মূলত ’সরকারের যোগ্যতা’ যাচাই হয়।

 

দেশের স্বাধীনতা বা জাতীয় বিজয় অর্জনের পর প্রয়োজন হয় দেশকে বস্তুগত ও মননগত উভয় দিক থেকে স্থিতিশীলতায় দাঁড় করানো। তাই জাতীয় সংহতি বা জাতীয় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পরেই কেবল অপেক্ষাকৃত অগ্রগামী শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গণতান্ত্রিক বা বহুমত অর্থে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রসঙ্গ আসতে পারে। কারণ স্বাধীনতাত্তোর কোন দেশ পুনর্গঠনে সামর্থ্যগত ঘাটতি এক অনিবার্য ভবিতব্য। আর সে কারণেই সেখানে পারস্পরিক অনাস্থা, অবিশ্বাস, ধৈর্য্যের অবনতি তথা বিভক্তি-বিভাজন চরম নৈরাজ্য এক সাধারণ প্রবণতা হিসেবে থেকে যায়। সেক্ষেত্রে পরাজিত শক্তি বা প্রতিক্রিয়াশীল চক্র বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিভাজনগত ক্ষতকে আরো উস্কে দেয়। আর তাই যে ফ্রন্ট মারফত এই বিজয় অর্জিত হয় সে ফ্রন্ট মারফতই তাকে সংহত করার সিদ্ধান্ত রাজনীতিতে প্রায় স্বতঃসিদ্ধ। এক্ষেত্রে প্রথম স্বাধীন বা জাতীয় সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছিল বিধায় তাকে সংহত করার ঐতিহাসিক দায়িত্বও তার কাঁধেই ছিল কারণ ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় সংহতি’ একই সংগ্রামের অংশ।

 

কিন্তু ঐতিহাসিক সে দায়িত্ব পূরণ করার পূর্বেই ’৭২-এর ১১ই জানুয়ারী প্রথম জাতীয় সরকার ভেঙে দিয়ে- নির্বাচন মারফত বহুদল-বহুমতের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং যথারীতি প্রতিক্রিয়া অর্থে উঠে আসা দেশের নৈরাজ্য বিশৃংখলাকে উক্ত গণতান্ত্রিক সরকার দিয়েই রোধ করার চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে সরকারের সাধারণ দায়িত্ব অর্থে যে ভূমিকা সেটাই পালন করা হয়েছিল কিন্তু উক্ত সরকারটি গণতান্ত্রিক সরকার ছিল বিধায় ঐ সাধারণ দায়িত্ব পালনই গণতন্ত্রবিরোধী একদলীয় সরকারের চেহারা পেয়ে যায়। কারণ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কার‌্যকারিতা বলতে মূলত পক্ষ-বিপক্ষ, সঠিক-বেঠিক নির্ণয়কেই বুঝায় আর তাই আলোচনা সমালোচনার রাজনৈতিক অধিকারকেই মূখ্যত গণতান্ত্রিক অধিকার বলে। সেক্ষেত্রে দলীয় বা গণতান্ত্রিক সরকার দিয়ে উক্ত স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার সমার্থক হয়ে ওঠে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক বা দলীয় সরকার দিয়ে ‘জাতীয় সরকার’-এর দায়িত্ব তথা জাতীয় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি রাজনৈতিক পথ পদ্ধতি অনুসারে একেবারেই যায় না। মোটকথা, স্বাধীন দেশের জাতীয় রাজনীতি শুরুই হয়েছিল ভ্রান্তি দিয়ে আর শুরুর এই ভ্রান্তি পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র সহ জাতীয় রাজনীতির স্বাভাবিক পথ পরিক্রমা ও সংস্কৃতিকে এলোমেলো করে দেয়। স্বাধীনতার পূর্বে গণতন্ত্রের জন্যে জাতির দীর্ঘ লড়াই ও আর্তি থাকায় তৎসময়ে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন ছিল জাতীয় প্রত্যাশা পূরণ। কিন্তু রাজনীতিতে যা কিছু ভালো যা কিছু প্রত্যাশিত তা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া মেনেই সম্পন্ন করতে হয়। আর সেটা না হলে  বিপরীতটাই প্রতিষ্ঠা পায়। এমনকি ব্যক্তিক সদিচ্ছা বা ঔদার্য্য সেখানে বিপরীত অর্থ নিয়ে আসে-- গণতন্ত্রের মহানায়কও একনায়কের দানবীয় অভিধা পেয়ে যান, জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কিংবদন্তীও ভ্রান্তির মেঘে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েন!

 

যদিও তৎসময়ে এই ভুল শোধরানোর চেষ্টায় ১৯৭৫ এর ২৫শে জানুয়ারীপুনরায় জাতীয় সরকার গঠন করা হয়েছিল। তথাপিও দলীয় সরকার দিয়ে জাতীয় স্থিতিশীলতা তথা বিচি দিয়ে তরমুজ বহনের হাস্যকর প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতার অলিন্দে বসেই পুনরায় কেবল ঘোষণা দিয়েই রাতারাতি একটি সরকার তথা একটি জাতীয় দল গঠনের যে লেজে-গোবরে হওয়ার ইতিহাস সেটাই শুরু হয়েছিল ’৭২-এর ১১ই জানুয়ারী।

 

গোড়ার সেই ‘গলদ’ থেকেই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে গণবিচ্ছিন্নতার উদ্ভব অর্থাৎ জনগণের মধ্য থেকে জনগণ হয়ে দল বা সরকার নয় বরং ক্ষমতার অলিন্দে বসে ‘স্থিতিশীলতা’র ধোঁয়া তুলে কেবল ঘোষণা কেন্দ্রীক দল ও সরকার গঠনের রাজনৈতিক প্রবণতা উঠে আসে। মেজর ডালিমের সেই খুনে ঘোষণার পথ ধরে প্রেসিডেন্ট মোশতাক, এর কাউন্টারে মেজর খালেদ মোশাররফ, তৎপরবর্তীতে কর্নেল তাহের অতঃপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং উক্ত পদাঙ্ক অনুসরণে ক্রমান্বয়ে নিরেট ক্ষমতা সর্বস্বতার রাজনৈতিক স্মারক হিসেবে প্রেসিডেন্ট লেঃ জেঃ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক আর্বিভাব।

 

অর্থাৎ প্রথম জাতীয় সরকার ভেঙে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করায় জনগণের ভূমিকা কার্যত বাতিল হয়ে যায় এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ক্রাইসিস এনকাউন্টার’ জন্ম নেয়—জনগণ যেখানে নীরব দর্শক থেকে প্রায়শঃ জিম্মী হয়ে ওঠে।

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮, সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলসমূহের সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ২৪শে আগস্ট ২০১৭ সালে মুক্তিজোট নিবন্ধিত সব দল (৪০টি দল) নিয়ে জাতীয় পরিষদগঠনের প্রস্তাব দেয়- যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দিশাসমেত জাতীয় ঐক্যের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা জমা দেয়া হয়েছিল ; এমনকি উক্ত সংলাপের দুদিন পর সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন তা পাস করার সিদ্ধান্তে আইনগত দিকটি খতিয়ে দেখার কথা জানায় (২৭শে আগস্ট ২০১৭ জাতীয় দৈনিক সমূহ)। অপরাপর দলের সাথে সংলাপ শেষ করার আগেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা একটি দল প্রসঙ্গে গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সমালোচিত হয় (২৭শে আগস্ট ২০১৭ প্রথম আলো)। উল্লেখ্য, ৪০ দল নিয়ে উক্ত জাতীয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাবই ছিল পরবর্তী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা। অর্থাৎ একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচন কমিশনে প্রস্তাবিত জাতীয় পরিষদ পাস করে উক্ত পরিষদকেই নির্বাচনকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ঘোষণার দাবী জানায় মুক্তিজোট। বলাবাহুল্য, জাতীয় ঐক্যের সে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি অথচ একাদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গত ২৫শে জানুয়ারী ২০১৯ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে ‘জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন’।

 

মুক্তিজোট প্রস্তাবিত ‘জাতীয় পরিষদ’-এর সাংবিধানিক রূপ দেয়ার মধ্য দিয়েই কেবল এদেশ গৃহযুদ্ধের শঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারে, পরমত সহিষ্ণুতার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফিরে পেতে পারে- স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে গণতান্ত্রিক বিশ্বের পথিকৃৎ। দুটো দল না থাকলে বিরাজনীতিকরণ কিংবা একটি দল না থাকলে অপর দলটির জন্য এক দলীয় শাসন ; সব অর্থেই রাজনীতিহীনতার প্রতিরোধে জাতীয় পরিষদ পাস করার মধ্য দিয়ে অনবদ্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা কী শ্রেয় নয়? স্মর্তব্য, ১৯৭৫’র ২৫শে জানুয়ারী এবং ২০১৯’র ২৫শে জানুয়ারীর মধ্যে সময়ের অনেক ব্যবধান! কেবল ব্যবধান নেই একটি বোধ ও বাক্যের, ‘আমি আমার দেশ ও দেশের মানুষকে খুব ভালোবাসি’।

 

প্রযুক্তিগত উত্তরণ সাযুজ্যতায় সমগ্র পৃথিবীর চেহারাটা আজ মানুষের হাতে হাতে ঘোরে- তাই আগামীর বাংলাদেশ অথবা আধুনিক রাজনীতি আজ অনিবার্য।

 

‘সঠিকতা’ সর্বদা যুক্তিযুক্ততায় নির্দিষ্ট হয় বলেই আধুনিক রাজনীতি বলতে ‘গণতন্ত্র’কেই বুঝায়। কারণ বিশ্বাসের পথ ধরে ব্যক্তি সম্পর্ক এলেও- যুক্তির পথ ধরে বিশ্বাস ও ঐক্য স্থাপনের নাম গণতান্ত্রিক সহমত বা পরমত সহিষ্ণুতা। নীতি-আদর্শগত দিক থেকে দলগুলোর পরস্পর ভিন্নতা থাকলেও দেশ ও দেশের মানুষের প্রশ্নে সবাই এক এবং অভিন্ন। মুক্তিজোট বিশ্বাস করে যা ‘সঠিক’ তা সবার।

 

অতএব, আমাদের উচ্চারণ ‘যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, আর যা বেঠিক তা নির্মূল হোক।’

 

সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর মার্চের অগ্নিঝরা ঘোষনায় আজ- March FOR BANGLADESH! দল-মত নির্বিশেষ- সচেতন সামাজিক শক্তি (Social Power with Knowledge) ’র উত্থান অনিবার্য।

 

অতএব, ৭১’র মাউজার এখনও যাঁদের পূর্ব পুরুষদের হাড়-গোড় ফাঁক-ফোকর গলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে অথবা উত্তর পুরুষ শিয়রে দাঁড়িয়ে এখনও বলে লাব্বাইক! এই মাটিতেই বেড়ে বলে ওঠা সেই মানুষগুলো নিশ্চয় আজ বলবে, “Hold your tongue, let me love my Country, my Independence and my Democracy”

 

‍পুনশ্চঃ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন বুকে নিয়ে যাঁরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন আজকের আধুনিক বাংলাদেশ তাঁদের স্বপ্নেরই বিনির্মাণ। সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দেশমাতৃকার পাগলপারা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সশ্রদ্ধ অভিনন্দন আর দেশবাসীকে রইল স্বাধীনতার শুভেচ্ছা।



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৬-১৭
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০১৯-০৫-০১
প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ ২০১৯-০৪-১৭
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৩-২৬
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনঃ জাতীয় শিশু দিবস। ধর্মের জন্যে আছে ঐশী গ্রন্থ- বেদ, বাইবেল, আল-কোরান; দেশ ও রাজনীতির জন্যেও তেমনি গুরুত্বে আজ ইতিহাস! অতএব ইতিহাস কথা কও. . . . . . ২০১৯-০৩-১৭
৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতির পথ ধরে এখন বৈশ্বিক! ২০১৯-০৩-০৭
বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ২০১৯-০২-২১
শুভ বড়দিন। যীশু খ্রিস্টের জন্মোৎসবে সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা। ২০১৮-১২-২৫
বিজয়ের এই মহান দিনে পৃথিবীর সব মানুষকে শুভেচ্ছা ২০১৮-১২-১৫
অবিলম্বে “১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করতে হবে”। ২০১৮-১২-১৩

previous12345next