[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

জাতীয় শোক দিবস- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি


 

         যে সব উপাদান দ্বারা আধুনিক রাজনীতির যথার্থতা নিরূপিত হয়, সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হিসেবে পরিগণিত হয় এবং এটা কেবল ভাবাদর্শিক বা রাষ্ট্রতাত্ত্বিক সংস্কৃতিগত দিক নয়, বরং এটা আধুনিক রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের সাথে যুক্ত।

 

         এ উপমহাদেশে ব্রিটিশ-ভারতের হাত ধরে ধর্ম ভিত্তিক যে বিকৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তা থেকে কেবল বঙ্গীয় রাজনৈতিক ধারাই বেরিয়ে এসেছিল এবং আধুনিক রাজনীতির যথার্থতায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশই এগিয়ে, তার বড় প্রমাণ স্বাধীনতার পর অদ্যাবধি এদেশের ব্যাপক মানুষ ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাষ্ট্রীয় সীমানায় গ্রহণ করেনি। এমন কি ভোটের হিসাবে ধর্ম ভিত্তিক সব দল মিলে এযাবৎকাল সর্বোচ্চ প্রায় শতকরা ১০ ভাগ সমর্থন জোটাতে পারলেও ক্রমান্বয়ে তা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়েছে। অথচ ভারত ও পাকিস্তানে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ভোটের অনুপাত ক্রমান্বয়ে বেড়েছে এবং একাধিকবার বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতায় শাসক দল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বা এখনও হয়ে যাচ্ছে।

 

            --- ১৯৪৭ এর পর ৫০, ৫২, ৬৫, ৬৯ যেভাবে ধাপে ধাপে এদেশের জাতীয় রাজনীতি ক্রমোত্তরণে এগিয়েছিল, উন্মেষ ও বিকাশপ্রাপ্ত হয়েছিল-  সেটা এই উপমহাদেশের অপর দুটি দেশের ক্ষেত্রে ঘটেনি। ফলে জাতীয় রাজনীতির পরিণতি ও প্রকাশগত দিক বা ঐক্যের মূ্র্ত রূপ হিসাবে জাতীয় অথেনটিকতার প্রকাশটাও এখানে রাজনৈতিক রূপ নিয়ে সুস্পষ্ট হতে পেরেছে। বিশেষত, ৭০-এর নির্বাচন ও ৭ই মার্চের ভাষণে সেটা যতোটুকু অস্পষ্ট ছিল, ২৫শে মার্চের পর তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। তদানীন্তন পাকিস্তানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত দল আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর কেন্দ্রীক রাজনৈতিক বৈধতাকে নস্যাৎ করতে তৎসময়ের পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী- রাজনৈতিক ভূমিকা ও পথপদ্ধতির বদলে সামরিক বলপ্রয়োগের বর্বর পদ্ধতি বেছে নেয়। তাতে শুধু আওয়ামী লীগ নয়- দেশের সব দলের নেতা-কর্মীদের একযোগে আত্মগোপন, দেশত্যাগ সর্বোপরি দল-মত নির্বিশেষে প্রতিরোধ যুদ্ধকে আর যাই হোক এক দেশের দুটি দলের ক্ষমতা হস্তান্তর কেন্দ্রীক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তথা আওয়ামী লীগ বনাম অপর কোন দলের প্রসঙ্গ বলা যায় না। আক্ষরিক অর্থেই আওয়ামী লীগের দলগত বৈশিষ্ট্য লুপ্ত হয়ে জাতীয় রাজনৈতিক পরিচয় বা ফ্রন্টে পরিণত হয় অর্থাৎ বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান প্রসঙ্গ হয়ে ওঠে  এবং বঙ্গবন্ধু তেমনি জাতীয় অথেনটিকতায় নির্দিষ্ট হয়ে পড়েন।

 

         যে কারনে তৎসময়ে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও জাতীয় সরকারসহ স্বাধীনতা সংক্রান্ত যাবতীয় চুক্তি ও ঘোষণা তাঁর নামেই সম্পন্ন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুবিধ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সত্ত্বেও ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার তাঁর পর্যন্ত বিলম্বিত থেকে- কেবল তাঁর প্রত্যক্ষতা দ্বারাই সম্পন্ন করতে হয়েছে।

 

         যাঁর বিরল জনপ্রিয়তার সামনে পাকিস্তানী জান্তা মুখ থুবড়ে পড়েছে, সাড়ে সাত কোটি মানুষ- একটি মানুষে একীভূত হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা এসেছে। এক দেশ এক জাতি এক নেতা হয়ে উঠার শর্তেই জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের মূর্তরূপ বা অথোরিটি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর তুলনা কেবল এই উপমহাদেশের অপর দুটি দেশতো নয় বরং আধুনিক পৃথিবীর জাতীয় রাজনীতি ও তার পরিণতিগত প্রকাশ হিসাবে খুব কম দেশেই পাওয়া যাবে।

 

            জাতীয় রাজনৈতিক অথেনটিকতা যেমন দীর্ঘ সংগ্রামের পরিণতি, তাই খোদ যিনি অথোরিটি তাঁর জন্মেরও বহু পূর্বে বহু ঘটনা ও বহু সংগ্রামের পরিণতি অর্থেই তিনি সামষ্টিক বা অথোরিটি হয়ে ওঠেন; তেমনি তাঁর অনুপস্থিতিতেও তাঁর প্রভাব ক্রিয়াশীল থাকে। এভাবে একজন জাতীয় অথোরিটি কাল অতিক্রম্য। ফলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড যতোটা না হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রাসঙ্গিক, তার চেয়েও জাতীয় রাজনীতি ও রাজনৈতিক ধারার গতি-প্রকৃতি বদলের প্রাসঙ্গিকতায় নির্ণায়ক মানদন্ড। আর সেই মানদন্ডেই ১৫ই আগষ্ট কেবল  বাংলাদেশের জাতীয় রাজনৈতিক ধারার স্বাভাবিক গতিকেই  এলোমেলো করে দেয়নি বরং এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র আধুনিক রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যসঞ্জাত ধারাটিকেই আঘাত করেছিল ।

 

        তাই যতক্ষন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’এর অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকবে ততক্ষন পর‌্যন্ত বঙ্গবন্ধু প্রত্যেক নাগরিক  বোধ ও পরিচয়ের স্মারক। এর অর্থ এই নয় যে তিনি কেবল সংবিধান হয়ে বরং ইতিহাসগত সত্যে এদেশের সংবিধানই তাঁর হয়ে।

 

       নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধু ব্যক্তি নন কিংবা কোন দলের নন- তিনি সর্বদা নৈর্ব্যক্তিক সত্যে আমাদের জাতীয় নিক্তি। ইতিহাসকে ছাড়িয়ে যাওয়া যায় না যেভাবে- সেভাবেই সাত কোটি থেকে ষোল কোটি… কিংবা তিনি হয়ে থাকেন তার চেয়েও ততোধিক।



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
নির্বাচন কেন্দ্রিক সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা ২০১৯-১০-১৮
দেশ ও মানুষের প্রশ্নে সবাই অভিন্ন বলেই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যা সঠিক তা সবার। আর সঠিকতা আধুনিক রাজনীতিতে সর্বদা যুক্তিযুক্ততায় নির্দিষ্ট হয়। বিশ্বাসের পথ ধরে ব্যক্তি সম্পর্ক এলেও- যুক্তির পথ ধরে বিশ্বাস ও ঐক্য স্থাপনের নামই গণতান্ত্রিক সহমত বা সংস্কৃতি। আর তাই গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ আজ- ‘যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, যা বেঠিক তা নির্মূল হোক।’ ২০১৯-১০-১৫
দেশবাসী সহ বিশ্বের সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা। ২০১৯-১০-০৪
জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা ২০১৯-০৮-২৩
ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আর নেই ২০১৯-০৮-২৩
জাতীয় শোক দিবস- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০১৯-০৮-১৫
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৬-১৭
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০১৯-০৫-০১
প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ ২০১৯-০৪-১৭
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৩-২৬

previous12345next