[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ


১৯৭১ সাল, ২৫শে মার্চ’র কালোরাত থেকে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী এদেশে ভয়াল গণহত্যা শুরু করে আর তা প্রতিরোধে স্বাধীনতার ঘোষণায় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীকে আগ্রাসী দেশ হিসেবে নির্দিষ্ট করায়- বাংলাদেশে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।

 

স্বশস্ত্র গণযুদ্ধের সাথে কূটনৈতিক যুদ্ধের মেল-বন্ধন তথা রাজনৈতিক দিক থেকে নিজেদের জাতিগত অস্তিত্ব-অবস্থানকে সংহত ও বিশ্ব দরবারে জাতীয় আত্ম-পরিচয় প্রকাশ বা জানান দেয়াটাও জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ স্বাধীন ভূখন্ড তথা সার্বভৌম রাষ্ট্রের অনিবার্য শর্ত ‘একটি সরকার’। 

 

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল, স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বদলীয় ‘অস্থায়ী জাতীয় সরকার’ গঠিত হয়। মুখ্যতঃ ৬ দফা আন্দোলন থেকে ৭০ এর নির্বাচন হয়ে ৭ই মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ক্রমশ জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের মূর্তরূপ বা জাতীয় অথেনটিকতায় উঠে আসেন, বিশেষত ৭০-এ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতায় বঙ্গবন্ধু নির্বাচিত থাকায় রাষ্ট্রতাত্ত্বিক গ্রামার অনুসারে বৈশ্বিক ক্ষেত্রে গৃহীত ছিলেন; ফলে তিনি তৎসময়ে পাকিস্তান কারাগারে আটক থাকা সত্ত্বেও তাঁকেই স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

 

১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন, পলাশীর আম্রকাননে- বাংলার শাসন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দেশীয় ষড়যন্ত্র আর বিদেশী চতুরতার মাধ্যমে হাতছাড়া হয়েছিল; প্রায় ২১৪ বছর পর ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তেমনি এক আম্রকানন বৈদ্যনাথতলায় বাংলার শাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেয়- স্বাধীন বাংলার প্রথম সরকার। 

 

ইতিহাসের পরম্পরায় অশ্রু-ক্রোধ-ভালোবাসায় বঙ্গ হৃদয় এদিন কেঁদেছিল। আর কাঁদতে কাঁদতেই যেন ইতিহাসের চাকা দোর্দণ্ড প্রতাপে জয়ের দিকে টেনে ধরেছিল। 

 

স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী জাতীয় সরকার ‘আন্তর্জাতিক’ ও ‘জাতীয় ক্ষেত্রে’ মুক্তিযুদ্ধকে নতুন মাত্রা দিয়ে দ্রুত পরিণতির দিকে এগিয়ে নিতে থাকে। 

 

অবশেষে ২৬শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা, প্রায় নয় মাসের এই রক্তাক্ত যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষের তাজা প্রাণ আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হারিয়ে- পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে- সবুজ ঘেরা সূর্যস্পর্শিত রক্ত স্মারক-এর স্পর্ধিত পতাকা হাতে বাংলা ঘোষণা করে নিজের সদম্ভ অস্তিত্ব।

 

আর ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর হয়ে ওঠে আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের রক্ত স্তম্ভে অঙ্কিত মহান বিজয় দিবস।

 

বাংলার প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দক্ষ ও সফল জাতীয় সরকারের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিল।

 

উল্লেখ থাকে যে, বিদেশের বিরুদ্ধে দুই প্রকার যুদ্ধ হয়-সশস্ত্র যুদ্ধ ও কূটনৈতিক যুদ্ধ। নিজ ভূখণ্ড বা জাতীয় সীমানায় চলে বিদেশী শাসন বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ আর সেই যুদ্ধকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন হয় কূটনৈতিক যুদ্ধে বিজয়। তৎসময়ে বহু দেশই তার স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত থাকলেও কূটনৈতিক যুদ্ধে হেরে যাওয়ার কারণে বিজয় লাভে ব্যর্থ হয়। যেমন, প্যালেস্টাইন দীর্ঘ সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও এখনও দেশটির সরকার কূটনৈতিক যুদ্ধে পেরে না ওঠার কারণে নিজ ভূখণ্ডকে শত্রু মুক্ত করতে পারেনি। 

 

এক্ষেত্রে বিশ্বের ইতিহাসে দু’টি দেশ প্রায় প্রবাদপ্রতীম হয়ে আছে। একটি ভিয়েতনাম, আপন ভূখণ্ড বা জাতীয় সীমানায় যে দেশটি সশস্ত্র যুদ্ধে মার্কিন পরাশক্তিকে পরাস্ত করেছিল। আর ১৯৭১- এ বাংলাদেশ, কূটনৈতিক যুদ্ধে চীন-মার্কিন পরাশক্তিকে পরাভূত করেছিল। আমরা ভিয়েতনামের কথা জানলেও নিজ দেশটির সেই প্রবাদপ্রতীম বিজয়কে জানি না। যদিও বর্তমান পৃথিবীতে সশস্ত্র যুদ্ধ বা সামরিক লড়াইয়ের চেয়ে ক্রমেই কূটনৈতিক (বৌদ্ধিক) যুদ্ধ বা পারস্পারিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে; এক্ষেত্রে আইনি লড়াইয়ে প্রাপ্ত বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানা এর প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। ৭১-এর কূটনৈতিক বিজয় ছিল বৈশ্বিক ক্ষেত্রে প্রায় একমেবা অদ্বিতীয়ম। এমনকি আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে আজও বিরল উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশই প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে।

 

জাতীয় সরকারের প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামের প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে তাজউদ্দিন আহমেদ নিপুণ দক্ষতা ও ক্ষীপ্রতায় এই সরকারকে যেভাবে সমন্বিত ও একাট্টা করে জাতীয় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উপদেষ্টা পরিষদ, বিশেষতঃ বৈশ্বিক বা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে মার্কিন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কমরেড মনি সিং, সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থানকে যেভাবে দৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছিলেন- তা ছিল যুগান্তকারী। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো দেয়াতে পাকিস্তান-মার্কিন-চীন বারবার মুখ ধুবড়ে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে না পেরে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিনের যুদ্ধযাত্রায় প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ ঘোষণা ছিল তৎসময়ে বিশ্বযুদ্ধ ঘোষণার সমার্থক। 

 

স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী জাতীয় সরকার ‘আন্তর্জাতিক’ তথা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্ককে বিশ্ব রাজনীতির ময়দানে যথাযথ ব্যবহার করে বা যেভাবে খেলিয়ে নিতে পেরেছিল- চীন-মার্কিন তথা বিদেশী চাতুর্য, পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী আর দেশীয় ষড়যন্ত্রকে পরাভূত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেছিল- তা দিয়েই মূলতঃ সফল ও দক্ষ জাতীয় সরকার হিসেবে বৈশ্বিক রাজনীতিতে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাকে যথার্থতায় স্থাপন করে বাংলাদেশ কেবল এই উপমহাদেশ নয় বরং চলমান বিশ্বরাজনীতির সংকট সমাধানে মহান এক শুভ উদ্বোধক হয়ে উঠুক আর মহতী সেই রাজনৈতিক দিশায় পৃথিবী জেগে উঠুক!

 

আজকের দিন সেই প্রত্যয়ের দিন হিসেবেই সমাগত।



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
জাতীয় শোক দিবস- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০২০-০৮-১৫
ঈদ মোবারক। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের পক্ষ থেকে সবাইকে পবিত্র ঈদ-উল-আযাহার শুভেচ্ছা। ২০২০-০৮-০১
অবশে‌ষে বা‌জেট ঘোষণা করলো সরকার ২০২০-০৬-১৭
গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ আজ- ‘যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, যা বেঠিক তা নির্মূল হোক’ ২০২০-০৬-০৮
ইসলামী ঐক‌্যজোট এর চেয়ারম‌্যান মাওলানা মোঃ আব্দুল ল‌তিফ নেজামী আর নেই। ২০২০-০৫-১২
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০২০-০৫-০১
বাংলাদেশ ছাত্র মুক্তিজোট’ এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মুক্তিজোট এর শুভেচ্ছা। ২০২০-০৪-২৪
প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ ২০২০-০৪-১৭
সুস্বাগতম ১৪২৭ বঙ্গাব্দ। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের পক্ষ থেকে সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। ২০২০-০৪-১৪
মু‌ক্তি‌জো‌টের শেরপুর জেলার সদর উপ‌জেলা ক‌মি‌টিরি সমন্বয়কারী মোঃ ছা‌নোয়ার হো‌সেন এর অকাল প্রয়াণে আমরা শোকাহত। ২০২০-০৪-০৭

previous1234567next