[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের (নিবন্ধিত ৪০টি দল নিয়ে) প্রাতিষ্ঠানিক দিশায়- সংসদ নয়, নিবন্ধনগত শর্তেই ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ এর রূপরেখা ঘোষিত


গত ১২ই জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বলেন,...“ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার নির্বাচনের সময় সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।”...

 

সবাই জানে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশন মারফত তাই নির্বাচন প্রাসঙ্গিক আস্থা তথা ‘নিরপেক্ষতা’র প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সাথেই জড়িয়ে থাকে।

 

অথচ নির্বাচন প্রসঙ্গে আস্থার ঘাটতি পূরণে তথা নিরপেক্ষতার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রাসঙ্গিক না থেকে খোদ একটি সরকার গঠনের মতো বিষয়ের অবতারণা এবং এটা শুধু প্রধানমন্ত্রী নয় বিরোধী দল সহ ব্যাপক জনমনে গ্রহণযোগ্যতার নিক্তি হয়ে উঠছে। এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ এলেও নির্বাচনকালীন সরকারের ঘোষণা দেয়ার পরই কেবল তা উল্লেখ করতে হচ্ছে। আর এটা করতে গিয়ে সংবিধানে উল্লেখ না থাকলেও সংবিধানের দোহাই দিতে হচ্ছে!

 

দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলসহ ব্যাপক জনমনে এ বিষয়টা ঘটতে পারছে কিভাবে?

 

জাতীয় রাজনীতি বলতে বহুদলীয় বা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কোনো না কোনো দল এবং সেই দলের জনসংশ্লিষ্টতা তথা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রসঙ্গটাই আলোচ্য থাকে। কারণ, কোনো দলের জনসংশ্লিষ্টতা নিরূপণ করাটাই নির্বাচন এবং সেই নিক্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেই দলটি সরকার। এভাবে গণতন্ত্র বলতে ক্ষমতায়ন, সরকার ও বিরোধী দল, সংসদ ও সংবিধান, নির্বাচন, শাসক ও শাসিতসহ ইত্যাদি বিষয়াদির মূল কথাই হলো- কোনো দল ও তার জনসংশ্লিষ্টতা। আর এই বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা যথার্থতায় কার্যকর থাকার অনিবার্য শর্তেই থাকে প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও তার রাজনীতি আবর্তিত থাকে জনসংশ্লিষ্টতায়- দলীয় প্রসঙ্গে, কিন্তু তার প্রাতিষ্ঠানিকতার অনিবার্য শর্তে থাকে- নির্দলীয় বা নিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্যে।     

 

এক্ষেত্রে, নির্দলীয় বা নিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্যটি প্রাতিষ্ঠানিকতার সাথে যুক্ত থাকলেও সেই বৈশিষ্ট্য এখন সরকার সংশ্লিষ্টতায় প্রযুক্ত হয়ে পড়ছে! আবার নির্বাচিত সরকার হয়েও নির্বাচনকালীন সময়ে এসে নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার ঘোষণা করছে। অথচ বহু দলীয় শাসন ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকার কোনো না কোনো দলেরই হয়ে থাকে। আর সেই সরকার নিজেকে যতই নিরপেক্ষ আর নির্দলীয় সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান না কেনো তাঁর সে স্বদিচ্ছা ও সততা ততোধিক শঠতাপূর্ণ ভাবমূর্তিতেই দেশবাসীর সামনে উপস্থাপিত হতে থাকে। কারণ, দল করে দলীয় সরকার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সেই সরকারী জোরে কেবল ঘোষণা দিয়েই নিজেকে রাতারাতি ‘নির্দলীয়’ ভাবমূর্তিতে স্থাপন করা যায় না- আর করতে গেলে তা কাঁঠালের আমসত্ব হয়ে ওঠে!

 

সরকার ও প্রাতিষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে এই লেজে-গোবরে অবস্থা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বহুবিধ ক্ষেত্রেই ব্যধির প্রকোপ নিয়ে জেঁকে বসেছে- যা বিগত সরকারগুলোর চরম রাজনৈতিক কাণ্ডজ্ঞানহীনতারই প্রকাশ।

 

৯০ পরবর্তী, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছিল এমনই এক প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তি যার মধ্য দিয়েই মূখ্যতঃ এদেশের ব্যাপক মানুষের নাগরিক বোধে গেঁথে গেছে- ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন নয়, সরকারই প্রসঙ্গ তথা সরকারের তত্ত্বাবধানগত দায়িত্বেই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে প্রজাতন্ত্রের সকল বিভাগ বা প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের সম্পর্ক ড্রাইভার ও ইঞ্জিন সদৃশ তথা একজন চালক ও অপরগুলি কাঠামোগত উপাদান বা মাধ্যম। একদেশে একটিই সরকার থাকে কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একাধিক বিভাগ থাকে। এদিক থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ও সীমানা এবং সরকারের সাথে প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সীমানা বৈশ্বিক ভাবনায় সুস্পষ্ট নয়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তি আসাটা স্বাভাবিক কিন্তÍু তার পরিণতিটা ভয়ংকর হয়।

 

এক্ষেত্রে, সরকার ও প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক তুলনায় যা হয় যথারীতি তাই হচ্ছে অর্থাৎ নির্বাচন প্রাসঙ্গিকতায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন অগৌণ হয়ে পড়েছে। যদিও আদালতের রায়ে তা বাতিল হয়েছে তবুও কমিশন যেমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই সরকার প্রাসঙ্গিকতায় অগৌণ তেমনি আদালতও রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকার প্রাসঙ্গিকতায় অগৌণ হয়ে যেতে বাধ্য। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ার পরও ব্যাপক জনগণের কাছে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের শর্তে সেই ‘নির্দলীয় তথা প্রাতিষ্ঠানিক সরকার’ এর ধারণাটাই রয়ে গেছে এবং যথারীতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর এই ভারসাম্যহীনতার প্রভাব দিনকে দিন বাড়তেই থাকবে- যেমন সংবিধান, নির্বাচন কমিশন বা আদালতের ভূমিকা ও মর্যাদার ক্ষেত্রে ঘটছে। এভাবে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও তার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্রমেই বিষিয়ে উঠছে এবং ওয়ান-ইলেভেন ছাড়াও ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তির সেই বিষবৃক্ষ ডাল-পালা ছড়িয়ে বহুভাবেই ফল দিচ্ছে।

 

যেকোনো জাতীয় সংকটে সব দলকে নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রসঙ্গটা এদেশে বহুকাঙ্খিত এবং তা গণতান্ত্রিক দেশের জন্যে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। অথচ জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য তো দূরের কথা ৯০ পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী দল কোনো বিষয়ে সমঝোতা করার  যোগ্যতাও যেনো আজ হারিয়ে ফেলেছে। দেশের প্রশ্নে যত প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক হোক না কেনো দিনকে দিন সেটা অসম্ভব হয়ে উঠছে! প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তির ফাঁদে রাজনৈতিক দলসমূহ যেমন রূদ্ধ তেমনি জনগণও যেন আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

 

মূলতঃ দুটো দিক থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অগ্রহণযোগ্য ছিল- একটি ভাবাদর্শিক দিক  অন্যটি গঠনগত বৈশিষ্ট্যের দিক।

 

ভাবাদর্শিক দিকঃ গণতন্ত্রের মূল শর্ত- ‘জনগণের জন্য আইন করার ক্ষমতা (সংসদ) কিংবা সরকার গঠনের বৈধতা কেবল জনগণই দিতে পারে। অর্থাৎ জনগণের রায়ে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে দিয়েই তা অর্জিত হতে হবে এটা কেউ কাউকে দিতে পারে না- কেবল জনগণই পারে ’। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের মর্মার্থ এটাই। যে কোনো যুক্তি বলেই এই মূল শর্তকে লঙ্ঘন করা মাত্রই তা আর কোনো ভাবেই গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক আদর্শের সাথে যায় না। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এই শর্তকে লঙ্ঘন করেছিল।

 

তাছাড়া প্রত্যক্ষ জনসংশ্লিষ্টতার পথ ধরে কোনো কর্মের জন্যই তা ব্যাপক জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না বা ব্যাপকের কাছে ফেরার কোনো শর্তও ছিল না। অর্থাৎ গণবিচ্ছিন্নতা বা জবাবদিহিতার শর্ত বিযুক্ত থাকায় মুক্তিজোট তৎসময়ে (চতুর্থ জাতীয় সাংগঠনিক রিপোর্ট, ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের বিকৃতি আখ্যা দিয়েছিল ।

 

গঠনগত বৈশিষ্ট্যের দিকঃ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান ও সরকারের পারস্পরিক সম্পর্ককেও গুলিয়ে ফেলা হয়েছিল।

 

নির্বাচন সংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। তাই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সংকটের মীমাংসা নৈর্ব্যক্তিক প্রাতিষ্ঠানিকতায় হতে হলে- নির্বাচন কমিশন মারফতই তা হতে হবে। সেক্ষেত্রে, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন সরকারমুখীন নির্ভরতায় ঝুলে থাকে মূখ্যতঃ দুটো মন্ত্রণালয় দিয়ে- ‘স্বরাষ্ট্র’ ও ‘জনপ্রশাসন’ মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন প্রাসঙ্গিক সংকটের সমাধান তথা নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের শর্তে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনকে দুটো মন্ত্রণালয় দেয়ার কথা ভাবা গেলেও সরকার প্রসঙ্গ আসতে পারে না। অথচ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার শর্তে নির্বাচন কমিশন না হয়ে- সরকারই প্রসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে দেয়ার এই তত্ত্ববাগীশতাকে মুক্তিজোট ঘোলাটে বুদ্ধি সম্পন্ন (Muddle headed) কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছিল। (চতুর্থ জাতীয় সাংগঠনিক রিপোর্ট, ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ)

 

যে কারণে ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় সহজ শর্ত থাকলেও আর সেটা পূরণের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মুক্তিজোট তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে নিবন্ধিত হওয়াকে ‘আমলাতান্ত্রিক মুচলেকা’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখান করেছিল এবং পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন সার্টিফিকেট হাতে পেয়েই (১০ই অক্টোবর ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ) দাবী করেছিল- নির্বাচনকালীন সময়ে ‘স্বরাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসন’ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে।

 

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে মুক্তিজোটই প্রথম এ দাবী তোলে এবং এর কয়েক মাস পর তফসিল ঘোষণার পূর্বে তৎকালীন সরকার প্রধান, বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও মুক্তিজোটের দাবী অনুসারে তা নির্বাচন কমিশনে দেয়ার মতো স্বদিচ্ছা দেখাননি। ফলে, নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েও মুক্তিজোট শেষ পর্যন্ত গত সংসদ নির্বাচন বয়কট করে।

 

বর্তমান বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সেই শর্তটা অপূরিতই রয়ে গেছে অর্থাৎ যে কারণে এত কাণ্ড সে বিষয়টা তেমনি আছে- কমিশনকে দুটো মন্ত্রণালয় দেয়ার আইন পাশ হয়নি, অপরদিকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছে। রোগীটি আগে হাঁটা-চলা করতো, এখন শয্যাগত।

 

এক্ষেত্রে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন তথা নিরপেক্ষ নির্বাচনের শর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হলেও তা আর নির্বাচন কেন্দ্রীক সীমানাতে থাকেনি কারণ সরকার প্রসঙ্গটা কোনো বিভাগীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্য সদৃশ বিশেষ সীমানার বাহক নয় বরং সরকার হওয়ার শর্তে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ এর চালক ভূমিকায় জাতীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, সরকার হিসেবে তার যাবতীয় কর্মকা- শেষ পর্যন্ত তার প্রাতিষ্ঠানিক জন্মের লক্ষ্য ও সীমানার মধ্যে না থেকে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় রাজনীতি প্রসঙ্গেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

 

রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে উদ্ভূত সকল সংকটের মীমাংসা তার প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে না হয়ে কেবল সরকার অদল-বদলের মধ্যে খোঁজা বা সরকারে আসা-যাওয়া, থাকা না-থাকার রাজনৈতিক প্রবণতায় অনেক সময় জনগণ, গণতন্ত্র বা সংবিধান হয়ে ওঠে কথার কথা! আর তাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাত দিয়ে অনির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে খোদ একটি সরকার ব্যবস্থা কায়েম করা এদেশের রাজনীতিতে অস্বাভাবিক মনে হয়নি।

 

সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকতার পথ ধরে তা ঘটেছে বলেই যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিকতা দ্বারা তা নিরোধ হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচনকে ঘিরে আস্থার সংকট নিরসনে যতক্ষণ না পর্যন্ত ‘নির্দলীয়’ অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিষময় কুফল বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

 

অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের বৈশিষ্ট্য

 

এক্ষেত্রে তাই বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থলে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রসঙ্গে বা আস্থার সংকট নিরসনে নির্দলীয় প্রাতিষ্ঠানিক সরকারকে অবশ্যই হতে হবে বিগতের প্রমাণিত প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রান্তি থেকে মুক্ত যুগপৎ বিগতের প্রতিষেধক তথা রাজনৈতিক সরকার। অর্থাৎ তাকে হতে হবে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সংবিধান সম্মত।

 

সুতরাং উপরোক্ত প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত সে সরকার হবে, গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিকে সমুন্নত (Repairing) করার শর্তেই Care-taker for Democracy অর্থাৎ The Government for Democratic Bangladesh । ফলে, অবশ্যই তা হবে রাজনৈতিক সরকার। আর প্রাতিষ্ঠানিক সরকারের শূন্যতা পূরণে নির্দিষ্ট বিধায় তাকে ধারাবাহিক (continue) প্রক্রিয়ার পরিণতি অর্থেই নির্দিষ্ট হতে হবে- অর্থাৎ প্রকৃতিগত (nature) দিক থেকে রাজনৈতিক হলেও যুগপৎ প্রাতিষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্যকেও বহন করবে। আর ধারাবাহিক বলেই তা প্রতি নির্বাচনকালীন সময়ে suo motu কার্যকারীতায় নির্দিষ্ট হবে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও তদ্পক্ষে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রামাণিকতায় যথার্থতা প্রতিপন্ন হওয়ার পথ ধরেই পরবর্তীতে উক্ত সরকারের প্রয়োজনীয়তা-অপ্রয়োজনীয়তা সুনির্দিষ্ট হবে।

 

উপরোক্ত দিশা অনুসারে, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সহ জাতীয় রাজনীতিতে আস্থার সংকট নিরসনে তিনটি বৈশিষ্ট্য বা শর্ত পূরিত হওয়ার মধ্যে দিয়েই কেবল উক্ত সরকার ‘যথার্থতায় ক্রিয়াশীল’ হতে পারে-

 

প্রথমত, নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।

 

দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক সম্পর্ক (Relation) তথা পরমত সহিষ্ণুতার গণতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক শর্তজাত (nature) হয়েই ধারাবাহিক (continue) বৈশিষ্ট্যের বাহক অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

 

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার পরিণতি বিধায় নির্বাচন প্রাসঙ্গিক suo motu কার্যকারীতায় ঘোষিত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রয়োজনীয়তা-অপ্রয়োজনীয়তা সুনির্দিষ্ট হবে।

 

সেক্ষেত্রে পূর্বেই বলা হয়েছে, বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচিত কোনো সরকারের পক্ষেই নির্দলীয় হওয়া সম্ভব নয়। কারণ তা সবসময় দলীয় সরকারই হয়ে থাকে।

 

উক্ত ‘নির্দলীয়তা’র শর্ত মূলতঃ সরকারের প্রভাব মুক্ত তথা ক্ষমতাসীন ‘দল নিরপেক্ষতা’র শর্তকেই বুঝায় এবং অনিবার্যভাবেই তা ‘সর্বদলীয়’তার রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। আর সকল দলের সম্মিলিত রূপকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য’ বা সর্বদলীয় ফ্রন্ট হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়।

 

দল নিরপেক্ষতার রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য সঞ্জাত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের শর্ত পূরণে জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য কিভাবে সম্ভব- যেখানে শুধু সরকার ও বিরোধী দল নয় বরং সকল রাজনৈতিক দলেরই সংশ্লিষ্টতা থাকবে।   

 

আর সেই সর্বদলীয় ঐক্যের সাংবিধানিক বা কাঠামোগত রূপ দেয়ার মধ্যে দিয়েই কেবল অনাস্থার সংকট নিরসনে দল নিরপেক্ষ সরকার তথা রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য সঞ্জাত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার আসতে পারে। 

 

প্রস্তাবিত- অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রসঙ্গে নিবন্ধন শর্ত এবং সংসদ

 

সংসদে সব দল থাকে না বা নির্বাচনে অংশ নেয় না অথবা নির্বাচিতও হতে পারে না অথচ জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য বলতে সব দল নিয়ে গঠিত হওয়াকেই বোঝায়। তাছাড়া জাতীয় সংসদ সরকার ও বিরোধী দল তথা বিধিবদ্ধতায় পক্ষ-বিপক্ষের বৈশিষ্ট্যকে বহন করে। অর্থাৎ ‘সর্বদল’ এবং সংসদীয় বৈশিষ্ট্যের মানদণ্ডেই ঐক্যের শর্তকে প্রতিফলিত করতে পারে না বিধায় জাতীয় ঐক্যের মানদণ্ডে জাতীয় সংসদ নির্দিষ্ট হতে পারে না।

 

আর তাই এক্ষেত্রে দল বলতে কোন রাজনৈতিক দলসমূহ এবং কোন মানদণ্ড বা নিক্তিতে তা নির্দিষ্ট হবে? সর্বাগ্রে সে প্রশ্নের মীমাংসাই জরুরী হয়ে পড়ে। অর্থাৎ জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ক্ষেত্রে দল নির্দিষ্টকরণে ‘জাতীয় নিক্তি’ অনিবার্য। আস্থার সংকট নিরসনে বিগত প্রাতিষ্ঠানিক সরকারের শুন্যতা পূরণেই মূখ্যত নির্বাচনকালীন সরকারের প্রাসঙ্গিকতা উঠে এসেছে বিধায়-

 

প্রথমতঃ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সংসদ ও সরকার তথা কর্তৃত্বগত দায়িত্ব নির্দিষ্ট হয় নির্বাচন মারফত। তাই এক্ষেত্রে নির্বাচনই রাজনৈতিক দলসমূহের জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকাগত প্রাসঙ্গিকতায় প্রধান দিক হয়ে ওঠে আর সংবিধান যেহেতু রাষ্ট্র তথা জাতীয় প্রাতিষ্ঠানিক নিক্তি হিসেবে নির্দিষ্ট থাকে সেহেতু ‘জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মানদণ্ড তথা নিবন্ধন-এর শর্ত’ই রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘জাতীয় মানে’ গৃহীত হয়। ফলে, সব রাজনৈতিক দল বলতে ‘প্রাতিষ্ঠানিক মানদণ্ডে’ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহকেই বুঝায়। অর্থাৎ জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গৃহীত ‘জাতীয় নিক্তি’ তথা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সীমানায় নিবন্ধন শর্তে যে প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট হয় তা হলো- নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে, সংসদে কোনও দল থাক না-থাক, নির্বাচিত হোক না-হোক নিবন্ধনগত শর্তে নিবন্ধিত সব দলই কমিশনের বিধি বহন করে তাই যুগপৎ তা একমাত্র সাংবিধানিক পথ হিসেবে নির্দিষ্ট হয়।

 

দ্বিতীয়তঃ নির্বাচন মারফত যাবতীয় কর্তৃত্বগত দায়িত্বে- সংসদ সদস্য ও সরকার (বিধি সংশ্লিষ্টতা) এবং সর্বোচ্চ বা চূড়ান্ত কর্তৃত্বের প্রতিভূ অর্থে নির্দিষ্ট রাষ্ট্রপতির (রাষ্ট্র কাঠামো সংশ্লিষ্টতা) নির্বাচন সংক্রান্ত তত্ত্বাবধান হয় যে কাঠামোগত মাধ্যম দ্বারা- তা হলো ‘নির্বাচন কমিশন’। আর নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কর্ম সম্পাদনের শর্তেই- বহুদলীয় বা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিদ্যমান  রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে ‘জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য (Relation)’ তথা রাজনৈতিক দল ও তার পারস্পরিক সম্পর্ককে ঘিরে কোনো সংকট সমাধান তথা জাতীয় রাজনীতি প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ‘প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বে’ নির্বাচন কমিশনই প্রণিধান যোগ্য হয়ে ওঠে।

 

তৃতীয়তঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচন সংক্রান্ত আইন বা বিধি-বিধান প্রণয়ন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কিন্তু নিবন্ধনগত শর্তে ইতোমধ্যে সে ক্ষমতা রাজনৈতিক দলসমূহের প্রসঙ্গেও প্রযুক্ত হচ্ছে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন এখন আর কেবল নির্বাচন সংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ নয় বরং রাজনৈতিক দলসমূহেরও (রাজনৈতিক দল ও তার পারস্পরিক সম্পর্ক) প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। তাই জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার অনিবার্যতায় নির্বাচন কমিশনই প্রাসঙ্গিক।

 

উপরোল্লিখিত তিনটি কারণেই প্রধানত সংসদ নয় বরং নিবন্ধন শর্তই এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য এবং কমিশন হয়ে সংবিধানসম্মত উপায় বলতেও নিবন্ধিত দলসমূহই সুনির্দিষ্ট হয়ে পড়ে।

 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে গত ২৪শে আগস্ট ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে ‘জাতীয় পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল মুক্তিজোট- যেখানে সরকার ও বিরোধী দলসহ নিবন্ধিত ৪০টি দলই এক টেবিলে থাকবে।

 

জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত উক্ত জাতীয় পরিষদ তথা ‘সমন্বিত সভা’ই জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক আস্থার সংকট নিরসনে ‘অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার’-এর ভূমিকায় নির্দিষ্ট থাকবে; যুগপৎ যা দল নিরপেক্ষ তথা সর্বদলীয় রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যে সংবিধান সম্মত একমাত্র পথ হিসেবে সুনির্দিষ্ট রূপরেখায় প্রস্তাবিত থাকছে

 

জাতীয় পরিষদ বা সমন্বিত সভা

 

‘পরমত সহিষ্ণুতা’ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হিসেবে নির্দিষ্ট হলেও গণতন্ত্র বা বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা স্থিতিশীলতা লাভ করে কেবল প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে। যেখানে এই প্রাতিষ্ঠানিকতার দিকটি গড়ে ওঠে না সেখানেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে থাকে এবং যথারীতি পরমত সহিষ্ণুতা তথা রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক বিশ্বাস-আস্থার দিকটা এগুতে পারে না। প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সমূহের পারস্পারিক এই যৌথ সভা বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তথা জাতীয় পরিষদ- যা রাজনৈতিক দল সমূহের জন্য সমন্বিত সভা হিসেবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনিবার্য শর্তকে পূরণ করে।

 

জাতীয় পরিষদ-এর গঠন বা কাঠামোগত দিশাঃ

 

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের দলীয় প্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত হবে জাতীয় পরিষদ। অর্থাৎ নিবন্ধন প্রাপ্তির পথ ধরে দলীয় প্রধানগণ পদাধিকার বলে জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক অথেনটিক মর্যাদায় নির্দিষ্ট হবেন। জাতীয় পরিষদের সদস্যগণ সংসদ সদস্যর সমমান বহন করবেন। জাতীয় পরিষদের সাধারণ কর্ম নির্বাহের জন্য আহ্বায়ক হিসেবে নির্দিষ্ট থাকবেন পদাধিকার বলে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আর উক্ত জাতীয় পরিষদের প্রধান তথা চূড়ান্ত নির্দেশদানকারী কর্তৃত্বে থাকবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি

 

          [অথেনটিকতাঃ একজন মানুষ নিরাপদ দূরত্বে থেকে নাগরিক অধিকারে দেশ নিয়ে অনেক বুদ্ধিদীপ্ত দিক নির্দেশনা দিতে পারেন কিন্তু একজনে সংগঠন হয় না অর্থাৎ সংগঠন মানেই একাধিক বা সংঘবদ্ধতা। আর সে অর্থেই দলীয় প্রধান সামষ্টিক শর্ত এবং সেই সমষ্টিকে সংবদ্ধকরণের শর্তে- কাঠামোগত দিককেও বহন করে। অর্থাৎ উভয় মিলেই দলীয় প্রধান প্রাতিষ্ঠানিকতার প্রতিভূ অর্থে নির্দিষ্ট থাকেন। এক্ষেত্রে, দলীয় প্রধান ব্যক্তি বা person হলেও তিনি personified বা নৈর্ব্যক্তিক প্রাতিষ্ঠানিক শর্তের প্রকাশক হিসেবে অথেনটিকতায় নির্দিষ্ট হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে, কোনো দল ও তার দলীয় প্রতীক যেমন উক্ত দলীয় নীতির অনুবর্তীতায় হাজারো মানুষের আদর্শিক বোধ বা চেতনার সমর্থনগত স্মারক অর্থেই ক্রিয়াশীল তেমনি সেই দলটির দলীয় প্রধানও উক্ত সংবদ্ধতার রূপকে বহন করেন। এজন্যেই তাঁর নিরাপত্তার প্রসঙ্গটাও ব্যক্তি থেকে এই ভিন্নতার কারণেই যুক্তিযুক্ততা পায়

 

          সাধারণভাবে বলা যায়, কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্ব বন্যার্তদের পাশে না দাঁড়ালে প্রশ্ন ওঠে কিন্তু যিনি প্রশ্ন তোলেন তাকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না সে কারণেই জনসংশ্লিষ্টতায় একজন দলীয় প্রধান তাঁর দায়িত্বগত মর্যাদায় ব্যক্তি থেকে ভিন্নতায় সুস্পষ্ট থাকেন। আর নিবন্ধনগত শর্তে তা নির্দিষ্ট হওয়ায় সেটাকেই সাংবিধানিক পথ ধরে রাষ্ট্র বা প্রাতিষ্ঠানিকতায় সুনির্দিষ্ট করাটাই হবে যথার্থ।]

 

যুক্তিবিধানঃ-

 

          প্রথমতঃ- সংসদ সদস্যের সমমান আর সংসদ সদস্য সমার্থক নয়। এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের সমমানে নিরাপত্তাসহ অপরাপর সুবিধা পেলেও সংসদ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ বা জনগণের জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রযুক্ত থাকবে না। অর্থাৎ রাষ্ট্র তথা প্রতিষ্ঠানগত শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা পেলেও জনগণের জন্য আইন করার বৈধতা বা সরকার গঠনে কেবল জনগণের রায়ে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে অর্জিত হবে। এটা কেউ কাউকে দিতে পারে না- কেবল জনগণই পারে।

 

কিন্তু সংসদে থাক বা না-থাক কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হওয়ার শর্তে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত বিধি বিধানের আওতার বাইরে থাকতে পারে না। সে অর্থেই জাতীয় পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক যুক্তিযুক্ততা গৃহীত হয় এবং জাতীয় পরিষদ গঠিত হলেও এক্ষেত্রে এই যুক্তিযুক্ততার কারণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান- এর অনুচেছদ ১২৪ এর কোনো ব্যত্যয় ঘটে না।

 

দ্বিতীয়তঃ রাজনৈতিক দল মাত্রই প্রত্যক্ষ জনগণ সংশ্লিষ্ট তথা জণগণের মধ্যে তাকে ফিরতেই হয়। জনগণের প্রতি এই দায়বদ্ধতার বৈশিষ্ট্যের কারণেই প্রাতিষ্ঠানিক এই স্বীকৃতিটা যুক্তিযুক্ততা পায়। কারণ যারা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেন তাঁরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার

 

          তফসিল ঘোষণার পূর্বে- জাতীয় পরিষদের নির্বাহী প্রধানের দায়িত্বে সরকার প্রধানকে নির্দিষ্ট করতঃ রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচন বা সরকার হিসেবে ঘোষণা করবেন। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত উক্ত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার দ্বারাই গৃহীত হবে

 

যুক্তিবিধানঃ-

          প্রথমতঃ সংসদ বা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রধান জাতীয় পরিষদের নির্বাহী প্রধান এর দায়িত্বে নির্দিষ্ট হওয়ার শর্তেই কেবল তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে রূপ পায়। ফলে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার অ-নির্বাচিত সরকারের অভিযোগ থেকে মুক্ত- যা সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের শর্তকে নিশ্চিত করে। অর্থাৎ জনসংশ্লিষ্টতায় নির্দিষ্ট (নির্বাচন ও সংবিধান) বা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত রক্ষিত থাকে। 

 

          দ্বিতীয়তঃ সেই সাথে সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দিলেও প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কার্যভার গ্রহণের আগ পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকতে পারেন বিধায় প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার সংবিধানসম্মত।

 

          তৃতীয়তঃ নির্বাচিত হোক আর না হোক রাজনৈতিক দল মাত্রই জনসংশ্লিষ্টতার শর্ত বিদ্যমান এবং দলীয় প্রধানদের জনগণের কাছে ফেরার বা জবাবদিহিতার শর্ত অনিবার্য থাকে বিধায় প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার গণবিচ্ছিন্নতার বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত থাকে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক ভাবাদর্শের মূল শর্তকে লঙ্ঘন করে না যুগপৎ তা বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রতিফলিত করে।

 

          চতুর্থতঃ দল যাঁরা চালান দেশও তাঁরাই চালান এবং জাতীয় রাজনীতি ও নির্বাচন প্রাসঙ্গিকতায় তাঁদের ভূমিকাই নিবন্ধনগত শর্তে সংবিধান সম্মত। তাই সংসদ সদস্যের পদমর্যাদায় নির্দিষ্ট হওয়ার পথ ধরেই নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংসদীয় ভূমিকায় নির্দিষ্ট হওয়ার যুক্তিযুক্ততা গৃহীত হয়।

 

সুতরাং

 

          প্রতিরোধের ঘোষণায় গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিকে সমুন্নত (Repairing) রাখতে- দল নিরপেক্ষতার শর্ত পূরণে প্রস্তাবিত ‘সর্বদলীয়’ অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে পূর্বোল্লিখিত তিনটি বিষয়ের অনিবার্যতায় সুনির্দিষ্ট হলো-

 

          প্রথমত, নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার শর্তে- অবিলম্বে নির্বাচনকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দেয়ার আইন করতে হবে

 

          দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক সম্পর্ক (Relation) তথা পরমত সহিষ্ণুতার গণতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক শর্তপূরণে- অবিলম্বে জাতীয় পরিষদের প্রস্তাবকে সাংবিধানিক রূপ দিতে হবে।

 

          তৃতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আস্থার সংকট নিরসনে কাঙ্খিত দল নিরপেক্ষ সরকারের শর্ত পূরণে- জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

 

পুনশ্চঃ

 

          প্রযুক্তিগত উত্তরণ সাজুয্যতায় আজ যেমন সবাইকে জানানো যায়, তেমনি কেউ না চাইলেও সমাজবদ্ধ বর্তমানের মানুষ তা জেনে যায়। আজকের বাস্তবতায় যা মিথ্যা তা প্রকাশ পাবে, আর সে কারণেই যা সত্য ও ন্যায় তার প্রতিষ্ঠা হবে।

 

          মানুষ পিছন দিকে ফিরে নয়- সামনের দিকে ঝুঁকেই হাঁটে; বিগতের কাছে মানুষ ঋণী হলেও তার দায়বদ্ধতা থাকে আগামীর কাছে। আমরাও ইতিহাস থেকে শিখি কিন্তু বিশ্বাস করি ‘Global knowledge Local act’ এর বিনির্মাণকে, আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিকে আর তাই মুক্তিজোটের স্লোগান- ‘ডান নয়-বাম নয় হাঁটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর’।

 

রাজনৈতিক দল ও সুহৃদ নেতৃবৃন্দ,

 

বর্তমান সরকার অনেক আগে থেকেই বহুবার এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সংসদে দাঁড়িয়ে ‘দলীয় প্রতীক’ এ স্থানীয় নির্বাচনের কথা বলেছেন কিন্তু তা আইনি রূপ না দেয়ায় দীর্ঘদিন ‘কথার কথা’ হয়েই ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তার প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবায়নে আমাদেরকে আদালতের দারস্থ হতে হয়। কারণ তা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ ছিল না, আমাদের কাছে তা ছিল জাতীয় রাজনৈতিক মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম। বিশেষতঃ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রার্থীর পরিচয়ে বছরের পর বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যে মানুষের কাছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মিথ্যাচারী সাব্যস্ত করারই নামান্তর, একজন সৈনিকের ইউনিফর্ম কেড়ে নেয়ার মতোই অমর্যাদাকর বা অসম্মানের, সেটা আমাদের রাজনৈতিক নীতি-আদর্শের কাছেও অগ্রহণযোগ্য ছিল। মুক্তিজোট বিশ্বাস করে- যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, যা বেঠিক তা নির্মূল হোক। অর্থাৎ যা সঠিক তা অন্যের হলেও তাতে আমরা সহমত পোষণ করি এবং সঠিক বলেই তা বাস্তবায়নে আমরা প্রয়োজনে সংগ্রামের পথ বেছে নিই। কারণ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যা সঠিক তা সবার। আর সঠিকতা আধুনিক রাজনীতিতে সর্বদা যুক্তিযুক্ততায় নির্দিষ্ট হয়;  বিশ্বাসের পথ ধরে নয় বরং যুক্তির পথ ধরেই বিশ্বাস ও ঐক্য স্থাপনের নাম গণতান্ত্রিক সহমত।  

 

গত ১০ই অক্টোবর ২০১৩ খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে মুক্তিজোটই প্রথম নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাসহ নির্বাচনকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দেয়ার আইন পাশের দাবী জানিয়ে ছিল। এমনকি এ দাবীতেই গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল মুক্তিজোট। এ বছর নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে গত ২৪শে  আগস্ট মুক্তিজোট পুনরায় এ দাবী তোলে। পরবর্তীতে উক্ত সংলাপে অনেক দলই ঐ দুটি মন্ত্রণালয়সহ তিন বা ততোধিক মন্ত্রণালয় দেয়ার দাবী তুলেছিল। গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও তার আন্দোলনের স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে সঠিকতায় সহমত পোষণের রাজনৈতিক সভ্যতায় আমরা যুক্তিযুক্ততায় সহমত পোষণে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সে দাবীর পেছনে কোনো দলই যুক্তিযুক্ততা উল্লেখ করেনি। যদি কি বলছি, কেনো বলছি, কোথায় তা রাজনৈতিক- সেটা স্পষ্ট না হয় তাহলে সে দাবী সব দলের ঐক্যমত্যে জাতীয় রাজনৈতিক দাবী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, যা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারাকে ভোতা করারই নামান্তর হয়ে ওঠে। আমাদের দুটো মন্ত্রণালয় দেয়ার দাবী যুক্তিযুক্ততায় সবার কাছে স্পষ্ট ছিল কারণ প্রস্তাবে তা উল্লিখিত ছিল। ঐ দুটো মন্ত্রণালয় দেয়ার যুক্তিনিষ্ঠতায় সবাই সহমতে একাত্ব হলে সে দাবী আজ জাতীয় রাজনীতির অনিবার্য দাবী হয়ে উঠতো। তাই সঠিকতায় সহমত স্থাপনের ন্যূনতম রাজনৈতিক সংস্কৃতি জরুরী হয়ে পড়েছে। কারণ, দল যাঁরা চালান, দেশ তাঁরাই চালান।

 

ব্যক্তি থেকে এখানেই আমাদের ভিন্নতা। যুক্তিনিষ্ঠ সঠিকতায় সহমত স্থাপন তাই দেশ ও মানুষের প্রতি রাজনৈতিক আমানতদারীর প্রথম শর্ত। পণ্যের ভিন্নতায় ট্রেড জরুরী কিন্তু রাজনীতি তো পণ্য নয় তাই কেবল নিজের স্বকীয়তা প্রমাণে বস্তুনিষ্ঠ যুক্তির বাইরে গিয়ে ততোধিক মন্ত্রণালয়ের কথা বলে পক্ষান্তরে কমিশনকেই সরকার বানানোর নামান্তর হয়ে ওঠে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন তথা প্রতিষ্ঠান ও সরকারের পার্থক্য না বোঝার সেই পূর্বতন রাজনৈতিক ব্যধিকেই প্রকাশ করে মাত্র। কিংবা মূল প্রসঙ্গটাকে এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে বলার মধ্যে রাজনৈতিক মোড়কে থাকা বেনোবৃত্তিকেই প্রমাণ করে।  নকলনবীশতা তথা ট্রেডিং বা বেনোবৃত্তির সাথে রাজনৈতিক মনস্কতার পার্থক্য থাকে তার ঔদার্যে ও সহমতে- প্রতিযোগিতা থাকলেও তা এগিয়ে যায় সঠিকতা নিরূপণে। কারণ সেখানেই তার লাভ-লোকসান কিস্তু বেনোবৃত্তির ভয় ও লাভালাভ উভয়ই জড়িয়ে থাকে তার ট্রেডের সাথে।

 

নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচনকালীন সময়ে ‘নির্বাচন কমিশনকে  স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দেয়া’র আইন কিংবা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি তথা জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার প্রশ্নে ‘জাতীয় পরিষদ’ (সমন্বিত সভা) কিংবা তার সাংবিধানিক রূপের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবিত ‘নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যা স্মর্তব্য তা হলো, নীতি-আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও দেশ ও মানুষের জন্যে যা সঠিক তাতে সহমত স্থাপনের দৃঢ়তাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, অকার্যকর রাষ্ট্রের রাজনৈতিক তকমা দেয়ার বিগত রাজনীতির ঘৃণ্যতা থেকে এ দেশটিকে বাঁচাতে পারে।

 

‘দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন ছিল জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি মাইলফলক এবং যুগপৎ তা ছিল রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন বয়কট করার পরও অর্থাৎ সংসদের বাইরে থেকেও আইন করার দৃষ্টান্তে মুক্তিজোট-এর জন্য রাজনৈতিক বিজয়। এটা সম্ভব হয়েছিল- ‘যা সঠিক তাতে সহমত ও সংগ্রামে এগিয়ে থাকা আর যা বেঠিক তা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নেয়া’র প্রত্যয় থেকে। যা ‘সচেতন-সামাজিক শক্তি (Social Power with Knowledge)’র রাজনীতিগত বোধ ও বিশ্বাস থেকে উৎসারিত। একারণেই মুক্তিজোটের রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জাতীয় পরিষদ কিংবা প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের দাবী তথা কোনো রাজনৈতিক দাবী বা আন্দোলন তার কোনো একক শর্ত বা স্বার্থকে প্রতিফলিত করে না বরং সমস্ত দল এবং দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র দেশই জড়িয়ে থাকে।

 

নীতি-আদর্শগত দিক থেকে আমাদের ভিন্নতা থাকলেও দেশ ও দেশের মানুষের প্রশ্নে আমরা এক এবং অভিন্ন। আর একারণেই আমরা রাজনীতি করি, আমানতদারীর সেই প্রতিজ্ঞায় দেশ ও মানুষের প্রশ্নে সর্বদা এগিয়ে যেতে বাধ্য হই।

 

সুতরাং, সরকার, বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক দল এবং অবশ্যই এদেশের প্রতিটা মানুষ নাগরিক বোধে সংঘবদ্ধ হয়ে উঠুক, একটি দেশে অনেক কিছু না থাকলেও চলে- চেষ্টা করলে তার বিকল্প মেলে কিন্তু রাজনীতি না থাকলে সে দেশ অচল হয়ে পড়ে; কারণ দেশ রাজনীতির মারফত বাঁচে। এজন্যেই রাজনীতিহীন দেশের হদিস কেউ দিতে পারে না। তাই, রাজনীতির বিকল্প কেবল রাজনীতিই থাকে।

 

অতএব,

 

 নব্বই পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে প্রত্যেকবার জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সরকারকেন্দ্রীক টানা-হেঁচড়ায় খুন-রাহাজানি সহ জাতীয় রাজনৈতিক বিপর্যয় থেকে দেশকে বাঁচাতে-

 

সমবোধে অগ্রজ সমকণ্ঠে আজ ধ্বনিত হোক-

 

অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার-এর রূপরেখা বাস্তবায়নে অবিলম্বে- ৩টি আইন পাস কর, করতে হবেঃ

 

১.        নির্বাচনকালীন সময়- নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থাকার আইন পাস করতে হবে

 

২.       নির্বাচন কমিশনে মুক্তিজোটের প্রস্তাবিত-

জাতীয় পরিষদকে সাংবিধানিক রূপ দিতে হবে

 

৩.       মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে ‘সরকার প্রধান’কে জাতীয় পরিষদের নির্বাহী প্রধান নির্দিষ্ট করে জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের ঘোষণা দিতে হবে



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৬-১৭
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০১৯-০৫-০১
প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ ২০১৯-০৪-১৭
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৩-২৬
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনঃ জাতীয় শিশু দিবস। ধর্মের জন্যে আছে ঐশী গ্রন্থ- বেদ, বাইবেল, আল-কোরান; দেশ ও রাজনীতির জন্যেও তেমনি গুরুত্বে আজ ইতিহাস! অতএব ইতিহাস কথা কও. . . . . . ২০১৯-০৩-১৭
৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতির পথ ধরে এখন বৈশ্বিক! ২০১৯-০৩-০৭
বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ২০১৯-০২-২১
শুভ বড়দিন। যীশু খ্রিস্টের জন্মোৎসবে সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা। ২০১৮-১২-২৫
বিজয়ের এই মহান দিনে পৃথিবীর সব মানুষকে শুভেচ্ছা ২০১৮-১২-১৫
অবিলম্বে “১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করতে হবে”। ২০১৮-১২-১৩

previous12345next