[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

উদ্ভাসনের পথেই আরেক পদচিহ্ন, হিসেবের নতুন ক্ষণ, নতুন সূর্যোদয়- সুস্বাগতম ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ!


সভ্যতা দুই ভাগে বিভক্ত- দৈহিক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা ও বৌদ্ধিক শ্রম নির্ভর সমাজ সভ্যতা; দৈহিক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা বিগত এবং বৌদ্ধিক শ্রম নির্ভর সমাজ সভ্যতা সমাগত।

 

জৈবিক অন্ধকার ছেড়ে পৃথিবী আজ আধুনিক সভ্যতায় উদ্ভাসিত। উদ্ভাসনের সেই পথেই আরেক পদচিহ্ন, হিসেবের নতুন ক্ষণ, নতুন সূর্যোদয়- সুস্বাগতম ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ!

 

শুরু থেকে অদ্যাবধি পৃথিবীর মানুষ দেখেছে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত। পৃথিবী ও তার গতিকে জানার সাথে সাথে প্রাত্যহিক জীবনে দেখা এই চরম সত্যটাও এক সময় বদলে গেছে! আজ মানুষ জানে- সূর্য ওঠেও না সূর্য ডোবেও না পৃথিবীটাই ঘুরছে। এভাবে জানা ও বোঝার জগত নিয়ত এগিয়ে চলে- ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতায় যা কিছু ঘটে বোধগত ক্ষেত্রে তা এক সময় ভিন্ন সত্যে প্রতিষ্ঠা পায়। মানবীয় জ্ঞান জগৎ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার সীমানাকে ছাড়িয়ে কেবল জ্ঞাত তথ্যকেই সত্য বলে আপন বোধ ও বিশ্বাসে ঠাঁই দেয় এমনকি বিজ্ঞান এটাকে অগ্রগায়ন বা ক্রমোত্তরণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। অর্থাৎ মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্রমশ তথ্যই বড়- ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর। এভাবেই অস্তহীন সূর্যের ছায়ে পৃথিবী আজ অখন্ড।

 

অথচ বিগত পৃথিবী আর তার খণ্ডিত ভূ-পৃষ্ঠের কাঠামোগত রূপ এখনও লানতের মত চেপে আছে পৃথিবীর ললাটে। কোনো একদিন মানুষ, মানুষ হয়েও মানুষকে দড়ি বেঁধে বাজারে তুলেছে বিক্রির জন্য, আজ মানচিত্রের রেখাগুলোই পুরোনো দড়ি হয়ে ফিরে এসেছে- খাদ্যহীন মানুষের ঝাঁক আর শরণার্থীর সংজ্ঞায়; এখনও নারী-পুরুষ-শিশু মানুষের সংজ্ঞা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পথে পথে ঘুরছে এবং তা ক্রমশ প্রাত্যহিক ঘটনা হয়ে- শেষ পর্যন্ত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে এদেশের মাটিতে।

 

তামাম দুনিয়া সুদ্ধ মানুষের চোখের সামনে (টিভি, নেট, মিডিয়া বা প্রযুক্তিগত উত্তরণ সাজুয্যতায়) সিরীয় শিশু আইলান কুর্দির মৃতদেহ ভেসে উঠেছে; যারা নিজেদেরকে সু-সভ্য, আধুনিক মানুষ বলে জানেন; তারাই আজ যুদ্ধ আর ইতরামীর সেই দড়ি রক্ষায় সবচেয়ে বেশী অর্থ ব্যয় করে। তাড়া খাওয়া কুকুর, বেড়াল আর শ্মশান এর কাক হয়ে উঠছে মানুষ, অথচ ইবলিসীয় সেই লানত রাষ্ট্রীক চেহারায় এখনও মানুষ ও মানুষের পৃথিবীকে আষ্টে-পৃষ্টে বেঁধে রেখেছে- ভাগাভাগিতে জীবন মানকে নরকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

মানুষ কেন মানুষ? কিভাবে মানুষ? কোথায় সে আলাদা? মানুষ কল্পনা বা বোধে কোনো কিছু না এনে কিছু করতে পারে না- এভাবে মানুষ মাত্রই বোধ অনুবর্তী ক্রিয়ায় পৃথিবীর সব জীব থেকে ভিন্ন। আজকের মানুষ অন্য গ্রহের জীবের সন্ধান করার মতো অগ্রগামী সভ্যতায় উঠে এসেছে অথচ মানুষের সেই বোধগত হাসি-কান্না, কল্পনা, ইচ্ছা ইত্যাদি মানবীয় দিকটি অনাবিষ্কৃত, অচিহ্নিত এখনও বৈজ্ঞানিক সীমানার বাইরে!

 

মানুষসহ সব জীবই মাতৃজঠরের স্মৃতি বিস্মৃত হয়। অপরাপর জীব থেকে মানুষের পার্থক্য, জন্ম স্মৃতি ভুললেও চারপাশ থেকে সে নির্দিষ্ট করতে পারে- মায়ের সাথে তার সম্পর্ক; এক সময় মাতৃজঠরের বিস্মৃত স্মৃতিই সেই সম্পর্কের ভিত হয়ে যায়। এভাবে মনে না থাকলেও মানুষ সেই সম্পর্ককে উদ্ধার করে এবং চেতনাগত শর্তে পুনঃস্থাপন করে- আরও অধিকতর পবিত্রতায়। প্রকৃতিই  শিক্ষক কারণ প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কারই বিজ্ঞান- অর্থাৎ মানুষ কিছু সৃষ্টি করে না কেবল প্রকৃতির নিয়মগুলোকে চিহ্নিত করে মাত্র সেটাই আবিষ্কার। মহাজগত বা বিশ্বপ্রকৃতি যদি বিধাতার নিয়মে চলে আর সে নিয়ম আবিষ্কারই যদি বিজ্ঞান হয় এবং সমাজতত্ত্বও বিজ্ঞান অর্থে নির্দিষ্ট হলে সমাজ-সভ্যতা প্রাসঙ্গিক ‘মা ও সন্তান’ কে ঘিরে উচ্চারিত প্রতিটি বিধি-বিধান আজ বিধাতারই অমোঘ নির্দেশনার আদি-অন্তের প্রতিধ্বনি। মা ও সন্তানের সম্পর্ক তথা দায়িত্ব ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেই আছে ‘ব্যবস্থাপনা’ অর্থাৎ রাষ্ট্র-সমাজ প্রসঙ্গের আদি ভ্রুণ। সেই পরম্পরার সুসমাচার- যা সংহতির শর্তে পারম্পার্যতার বীজ হয়ে অনাগত সমাজ মহীরূহে রূপ নেয়। তাই মাতৃজঠরের যন্ত্রণা আজ আর Labour Pain নয়, আদি পাপের স্মারকও নয় বরং মানব সমাজের জন্য তা আজ এক দিশারী- যেখানে সন্তান বিধাতার ‘নিদর্শন’ আর মা হলেন সমাজ-সভ্যতার ‘বাতিঘর’। 

 

প্রকৃতি-মাধ্যম আলোকময় সে দিশায় বিধাতা নিজেই অমোঘ হয়ে নির্দেশ দিতে থাকেন! অনাগত দুনিয়ার মুক্তি বারতায় আজ সে ‘সত্য’ই সমাগত। সামাজিক সব সম্পর্কের মধ্যে পবিত্র- চিরায়ত আর আবেগঘন ম্যাডোনা চিত্রের এটাই হলো গোড়ার কথা!

 

সুতরাং, অখণ্ড বিশ্ব আর তার উদ্ভাসনে বিগত পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের ভূমিকা ছিলো- ঈশ্বর দূতের মতই অগ্রগণ্য।

 

প্রযুক্তিগত উত্তরণ সাজুয্যতায় আজ যেমন সবাইকে জানানো যায়, তেমনি কেউ না চাইলেও সমাজবদ্ধ বর্তমানের মানুষ তা জেনে যায়। আজকের বাস্তবতায় যা মিথ্যা তা প্রকাশ পাবে, আর সে কারণেই যা সত্য ও ন্যায় তার প্রতিষ্ঠা হবে।

 

বিজ্ঞানকে প্রণিধান করেই যেমন পৃথিবী আজ অখণ্ড তেমনি বহু পূর্বেই এই অনার্য ভূমিপুত্ররা পৃথিবীকে বসুমাতা হিসেবে জানে। ধরিত্রী অর্থেই প্রকৃতি, প্রত্যেক মানুষই প্রকৃতির সন্তান- আমাদের সহোদর। আর তাই আমাদের কণ্ঠে খুব সহজেই আজকের সিদ্ধান্ত উচ্চারিত হয়, প্রতিধ্বনিত সেই আদি শব্দে- প্রতিটা মানুষই গুরুত্ববহ।

 

প্রত্যেক মানুষের বাঁচার জন্য আজ একটিই পৃথিবী’। আমি যে জনপদেরই হই মানুষ হিসেবে বিগতের পদপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তাই সমাগত নতুন বছরের শুভকামনা- পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষকে। 

 

পুনশ্চঃ

 

২০১৮ খ্রিস্টাব্দ। সিরীয় শিশু আইলান কুর্দির সেই অসহায় চোখ লাখ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর চোখ হয়ে বিশ্ববাসীর দিকে চেয়ে আছে! তবে তারা মৃত নয়, এখনও জীবিত। কারণ It’s not INDIA or CHINA, IT’S THE GREAT BANGLADESH!!!

 

আপন ভাষা রক্ষার সংগ্রামের পরিণতিতেই ৭১-এ এদেশের স্বাধীনতা এসেছিল, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সেই মানুষই ৯০-এ নিজেকে পোস্টার করে খোলা আকাশের নিচে বুলেট বিদ্ধ লাশ হয়েছিল, মানুষের ভাষা আর মানুষই পোস্টার হওয়ার সেই দেশ আজ ইতিহাসগত ভাবেই মানুষ আর মনুষ্যত্বের মুক্তি ও তার মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সমার্থক হয়ে গেছে।

 

অতএব, ডান নয়-বাম নয় হাঁটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর এবং অবশ্যই সমগ্র দুনিয়ার জন্যে নতুন বার্তা MARCH FOR BANGLADESH!!! 



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৬-১৭
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০১৯-০৫-০১
প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ ২০১৯-০৪-১৭
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৩-২৬
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনঃ জাতীয় শিশু দিবস। ধর্মের জন্যে আছে ঐশী গ্রন্থ- বেদ, বাইবেল, আল-কোরান; দেশ ও রাজনীতির জন্যেও তেমনি গুরুত্বে আজ ইতিহাস! অতএব ইতিহাস কথা কও. . . . . . ২০১৯-০৩-১৭
৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতির পথ ধরে এখন বৈশ্বিক! ২০১৯-০৩-০৭
বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ২০১৯-০২-২১
শুভ বড়দিন। যীশু খ্রিস্টের জন্মোৎসবে সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা। ২০১৮-১২-২৫
বিজয়ের এই মহান দিনে পৃথিবীর সব মানুষকে শুভেচ্ছা ২০১৮-১২-১৫
অবিলম্বে “১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করতে হবে”। ২০১৮-১২-১৩

previous12345next