[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীঃ মুক্তিজোটের নিবন্ধন পরবর্তী গত পাঁচ বছরের রাজনৈতিক অর্জন ও তার পথচলা


সহস্রাব্দের যুগসন্ধিতে ২৪শে নভেম্বর ২০০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট প্রতিষ্ঠিত।

 

এই সতের বছরের মধ্যে সামাজিক সাংস্কৃতিক স্তরের পথচলায় কেটেছে ১২ বছর এবং রাষ্ট্রিক সাংস্কৃতিক  স্তরের বর্তমান পর্যায়ে কেটেছে পাঁচ বছর। উত্তোরিত বর্তমান স্তরকে বলা যায় সদ্য যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র কারণ জাতীয় নির্বাচনের হিসেব ধরে কেবল একটি নির্বাচন পার হয়েছে। স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশের রাষ্ট্রিক সাংস্কৃতিক  স্তরের ঘোষিত আন্দোলনের পথ হিসেবে প্রধানত জাতীয় সংসদ অথবা সংসদ হয়ে আদালত। রাজপথ আলটিমেট হিসেবে নির্দিষ্ট।  ঘোষিত সেই নিক্তিতেই আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনকে ফিরে দেখা উচিত কারণ সদ্য বা মাত্র পাঁচ বছর হলেও বিগতকে ফিরে দেখেই অগ্রগামিতা শর্তে থাকা অভিজ্ঞানকে পেতে হয়! 

 

যদি প্রশ্ন করা হয়,

 

কোন দলটির রাজনৈতিক দাবী নির্বাচন কমিশন সংলাপে আজ প্রায় সর্বদলীয় বা জাতীয় রাজনীতির প্রাইম দাবী হিসেবে উঠে এসেছে- যে দাবীতে দলটি গত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে?

 

কোন দলটির রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জের হিসেবে দেশে ‘রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ’ পর্যন্ত জারি করতে হয়েছিল? 

 

কোন দলটি সংসদের বাইরে থেকেই সরকারকে সংবিধান বিরোধী আইন বাতিলসহ নতুন আইন পাশ করাতে বাধ্য করেছে- যে আইনটি স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের জাতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি মাইল ফলক হিসেবে পরিগণিত?

 

বর্তমান নির্বাচন কমিশন সংলাপে কোন দলটির দেওয়া প্রস্তাবে ৯০ পরবর্তী বাংলাদেশের বহুল আলোচিত বহুকাঙ্খিত জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে- যেখানে সরকার ও বিরোধী দলসহ নিবন্ধিত ৪০টি দলই এক টেবিলে থাকবে।

এবং

 

৪০টি দলের মধ্যে কোন দলটির প্রস্তাব (সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ) সংলাপ শেষ করার পূর্বেই নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে তা পাশ করার ক্ষেত্রে আইনগত দিকটাকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে?

 

[উল্লেখ্য, সরকার ও বিরোধী দলকে এক টেবিলে আনা বা সমঝোতার প্রসঙ্গটা যেমন সর্বোচ্চ আলোচিত তেমনি যে কোন সংকটে সব দলকে নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রসঙ্গটাও বহুকাঙ্খিত কিন্তু কোন পথে, কীভাবে? সে উত্তর না থাকাতে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে অদ্যাবধি তা অমীমাংসিত বা অপূরিতই থেকে গেছে এবং যথারীতি তার ফাঁক গলে অ-রাজনৈতিক বা গণবিচ্ছিন্ন সরকার ব্যবস্থা উঠে আসতে পেরেছে। তাই জাতীয় পরিষদের প্রস্তাব ছিল জাতীয় রাজনৈতিক শূন্যতায় উদ্ভুত যে কোন গণবিচ্ছিন্ন অরাজনৈতিক অপচেষ্টাকে রুখে দেয়ার জাতীয় রক্ষা কবচ। ফলে মোটেই এটা শুধু মুক্তিজোট বা ৪০টি দলের প্রসঙ্গ না বরং ১৬ কোটি মানুষের জাতীয় রাজনৈতিক জীবনের দাবী।]

 

দল-মত নির্বিশেষ তথা ‘সচেতন সামাজিক শক্তির (Social power with knowledge) শাসন প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক ঘোষণায়- যে পথ চলা, স্বাভাবিক ভাবেই তা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকেই প্রকাশ করবে।

 

অন্ধরা কোলাহলেই ভোরের অস্তিত্বকে বোঝে কিন্তু বজ্রপাতেও ঘুম ভাঙ্গেনি এমনটা কি শোনা গেছে?

 

যে সব জীব চোখ দিয়ে দেখে চোখ না থাকলে তারা অন্ধ থাকে কিন্তু মানুষই সম্ভবত একমাত্র জীব যাদের চোখ থাকলেও অনেক সময় অন্ধ থাকে কারণ অন্যমনস্কতায় সম্মুখটাই না দেখা হয়ে ওঠে! অর্থাৎ বোধের অনুবর্তীতাতেই তার সকল ক্রিয়া। আর তাই ‘বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা বেরিয়ে আসে’ মাও সেতুং এর বিখ্যাত উক্তির চেয়ে অনেক বড় সত্য বন্দুকের পিছনে যে মানুষটা থাকে- ‘সে’! আর সে মানুষ সর্বদা বোধ অনুবর্তীতাতেই এগিয়ে যায়, জীব হিসেবে অপরাপর জীব থেকে এখানেই তার মৌলিকত্ব- এটাই তার মনুষ্যত্ব।

 

অতএব ‘মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামের ডাকে ‘ডান নয়-বাম নয় হাঁটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর’ এই উচ্চারণ নিরেট এ দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে। মানুষ ও মনুষ্যত্বের ডাকটি যেমন বৈশ্বিক ‘মার্চ ফর বাংলাদেশ’ ইংরেজি বাক্যটির বাংলা প্রতিশব্দ তেমনি ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ’। 

 

সুতরাং ঘুম না ভাঙ্গার দায় কারও নয় কারণ ঔপনিবেশিক যুগের রাজনৈতিক সেই মান্ধাতার চোখ স্বাধীন দেশের হরতাল মিছিল আর কোলাহলকেই রাজনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে জানে। এর বাইরে স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক বোধ ও তার বিনির্মাণ, আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে বলা যায় সূচনা হয়েছে মাত্র!

 

ঘুমন্ত মানুষ কাউকে জাগাতে পারে না কিন্তু কেউ জেগে থাকলে জেগে উঠলে সহস্র জনকে সে জাগাতে পারে। যাঁরা আগুয়ান, জাগরণে আজ তাঁরাই পথিকৃৎ ।

 

তাই শুরুতে যে প্রশ্ন তার প্রত্যুত্তরেই আছে নিবন্ধন পরবর্তী এই চার-পাঁচ বছরের রাষ্ট্রিক স্তরের রাজনৈতিক পথচলাঃ

 

বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন মারফত কয়েক বছর অন্তর অন্তর সাধারণত সরকার পরিবর্তন ঘটে এবং সেক্ষেত্রে তার ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় প্রধানত প্রশাসনসহ অপরাপর সাংবিধানিক বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মারফত। তাই সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র বা বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপের ভাবনাটাই অগ্রগণ্য। তাছাড়া বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থায় সাধারনত কোন না কোন দলই সরকারে থাকে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তি ইচ্ছা নিরপেক্ষ নৈর্ব্যক্তিক শর্তে প্রধানত প্রাতিষ্ঠানিকতাই গ্রহণযোগ্য।

 

এক্ষেত্রে, নির্বাচন সংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হল নির্বাচন কমিশন তাই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সংকটের মীমাংসা নৈর্ব্যক্তিক প্রাতিষ্ঠানিকতায় হতে হলে- নির্বাচন কমিশন মারফতই তা হতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন সরকারমুখী নির্ভরতায় ঝুলে থাকে মূখ্যত দুটো মন্ত্রণালয় দিয়ে- ‘জনপ্রশাসন’ ও ‘স্বরাষ্ট্র’ মন্ত্রণালয়।

 

যে কারণে মুক্তিজোট গতবার নিবন্ধন সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে (১০ই অক্টোবর ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম মিডিয়া ব্রিফিং এ কমিশনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলেছিল নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাসহ নির্বাচনকালীন সময়ে ‘স্বরাষ্ট্র’ এবং ‘জনপ্রশাসন’ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে দেওয়ার আইন পাশ করতে হবে।

 

কিন্তু তফসিল ঘোষণার পূর্বে তৎকালীন সরকার প্রধান, বিরোধী দলকে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয় দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও মুক্তিজোটের দাবী অনুসারে নির্বাচন কমিশনকে ‘স্বরাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসন’ মন্ত্রণালয় দেওয়ার মতো সদিচ্ছা দেখাননি।

 

ফলে ৩০০ আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত মুক্তিজোট নির্বাচন বয়কট করে।

 

৪ বছর পর এবার ইসির সংলাপে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবনার মধ্যেই সেই ‘স্বরাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসন’ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় কমিশনকে দেওয়ার দাবী উঠে এসেছে। বলা যায়, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের শর্তে মুক্তিজোটের সেই দাবীই আজ জাতীয় রাজনীতিতে প্রধান দাবী হয়ে উঠে আসছে।

 

জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পূর্বেই যদি স্থানীয় নির্বাচনে হরেক কিসিমের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হতো তবে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিজোটের দলীয় প্রতীকটি হরেক কিসিমের প্রতীকগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারতো। ফলে সদ্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় নির্বাচন বয়কট করার পর মুক্তিজোট দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করার জন্য আদালতে রিট করে। তাছাড়াও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রার্থীর পরিচয়ে বছরের পর বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যে মানুষের কাছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মিথ্যাচারী সাব্যস্ত করারই নামান্তর, একজন সৈনিকের ইউনিফর্ম কেড়ে নেয়ার মতোই অমর্যাদাকর বা অসম্মানের, সেটা মুক্তিজোটের রাজনৈতিক নীতি-আদর্শের কাছেও অগ্রহণযোগ্য ছিল।

 

নির্বাচন কমিশনের সংবিধান বিরোধী আইন বাতিল করতেই রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে হয় এবং তদুপরি সংসদ হয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের আইন পাশ হয়। অর্থাৎ মুক্তিজোট সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও সংসদের বাইরে থেকেই সংবিধান হয়ে সরকারকে সংবিধান বিরোধী আইন বাতিলসহ নতুন আইন পাশ করাতে বাধ্য করে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন ছিল মুক্তিজোট- এর আইনি লড়াইয়ে অর্জিত একটি রাজনৈতিক বিজয়।

 

বর্তমানে সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে উৎকণ্ঠা ও টানাপোড়েন এবং তদুপরি সমঝোতা সহ বিভিন্ন সময় জাতীয় সংকটকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বারবার উচ্চারিত হয়েছে।

 

কিন্তু কোন পথে? কি ভাবে? এই প্রশ্নের মীমাংসা যেন ক্রমশঃ ভাগ্য নির্ভরতায় জড়িয়ে গেছে!

 

‘সংকটের প্রকাশ যত ভয়াবহই দেখাক প্রাতিষ্ঠানিকতার পথ ধরে তার সমাধান খুবই সহজ। কারণ যন্ত্রের বিশালতার সাথে সুইচের আকৃতি ভাবাটা ভুল বরং ক্ষুদ্রই বৃহতের দ্বার উদ্ঘাটন করে।’

 

সংসদের শর্তে সরকার ও বিরোধী দুই দলের পক্ষ-বিপক্ষতা সহ বহুদল বহুমতের সঠিক বেঠিক নির্ণয়ে- ‘তর্কবিতক’ই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় দেশের ক্রমউন্নয়নের শর্ত। তাছাড়া জাতীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতাই মূল প্রসঙ্গ হলেও তাকে জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য বলা যায় না। তাই সংসদকে ঘিরে- যেখানে সরকার ও বিরোধী দল তথা পক্ষ-বিপক্ষতা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সেখানে পারস্পারিক সমঝোতাসহ জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রশ্নটাই সংসদের বাইরের দিকটাকে নির্দেশ করে।

 

এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন এখন আর কেবল নির্বাচন সংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ নয় বরং নিবন্ধনগত শর্তে ইতোমধ্যে তা রাজনৈতিক দলগুলোরও প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। তাই রাজনৈতিক ঐক্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হিসেবে নির্বাচন কমিশনই প্রণিধানযোগ্য হয়ে উঠে।

 

অতএব গত ২৪শে আগস্ট ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচন কমিশন সংলাপে মুক্তিজোট বিধি-বিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানদের সমন্বয়ে জাতীয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেয়- যেখানে কেবল দুটি দল নয় বরং সরকার ও বিরোধী দলসহ সমস্ত দলগুলোকে নিবন্ধনগত প্রাতিষ্ঠানিক শর্তে এক টেবিলে নিয়ে আসার পথ-পদ্ধতি ও সিদ্ধান্তকে সুস্পষ্ট করে। অর্থাৎ যথার্থই তা ছিল বহুকাঙ্খিত সেই জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দিশা। 

 

একারণে নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধান সংশ্লিষ্টতায় দেয়া- মুক্তিজোটের জাতীয় পরিষদের প্রস্তাব পক্ষান্তরে রাজনৈতিক পরিণতিগত দিক থেকে তথা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ‘সমন্বিত সভা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়; যেখানে জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে দলীয় প্রধানরা জাতীয় অথেনটিক মর্যাদায় নির্দিষ্ট থাকবেন এবং মর্যাদাগত কারণেই নিরাপত্তার শর্তে তাঁদেরকে সংসদ সদস্যর সমমান দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। বিশেষতঃ এই নিরাপত্তার প্রসঙ্গটা নিবন্ধিত অপরাপর দলের নেতৃত্বের মুখেও বারবার শোনা গেছে কিন্তু জাতীয় পরিষদের প্রস্তাবের মধ্যেই নেতৃত্বের মর্যাদার সাথে নিরাপত্তার প্রসঙ্গটা প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক অর্থে যুক্তিযুক্ততা পায়।

 

সুতরাং গণতান্ত্রীক স্থিতিশীলতা কোন ব্যক্তি বা দলের ইচ্ছানির্ভর অভিভাবকত্বের পথ ধরে নয় বরং ‘নৈর্ব্যক্তিক প্রাতিষ্ঠানিকতার পথ ধরে হতে হয়- এর বাস্তবায়নের শর্তেই নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রসঙ্গে ৪ বছর পূর্বে মুক্তিজোট যেমন নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনে ‘জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র’ মন্ত্রণালয় দেয়ার দাবী জানিয়েছিল; ঠিক তেমনি ৪ বছর পরও জাতীয় পরিষদের প্রস্তাবে- গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতায় বহু চর্চিত একটি সংকটের মীমাংসায় প্রাতিষ্ঠানিক দিকটাকেই তুলে ধরা হয়।

 

আন্দোলন সংগ্রামের ক্ষেত্রে আমাদের স্বতন্ত্রতা!

 

একটি স্বাধীন দেশে নির্বাচন ও সরকার তথা রাজনীতি প্রধানত জনগণের জন্য আইন করা ও তার প্রয়োগ-প্রতিষ্ঠার শর্তেই আবর্তিত থাকে। মতাদর্শিক দিশা অনুসারে, আইন রক্ষা যখন ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল রক্ষার নামান্তর হয় তখন তা ছিঁড়ে না ফেলার অর্থ পরাধীনতাকে মেনে নেয়া; কিন্তু স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশের জন্য তার আধুনিক রাজনীতিতে হরতাল-মিছিল-মিটিং এর চেয়ে ক্রমশঃ প্রণিধানযোগ্য হয়ে ওঠে- ‘সংসদ’ এবং সংবিধান হয়ে ‘আদালত’।

 

সাধারণত দেশের যুদ্ধাবস্থা বা জরুরী পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জরুরী অধ্যাদেশ জারী হয়। এক্ষেত্রে কোন ভাংচুর, চিৎকার-চেঁচামেচি বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী হয়নি অথচ বিনা-মেঘে বজ্রপাতের মত রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারী হয়েছে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের আধুনিক রাজনীতিতে আন্দোলনের পথ-পদ্ধতি হিসেবে এই দিশা সমেত দৃষ্টান্ত কি স্বতন্ত্রতার ভিন্ন এক বার্তা বহন করে না? আদালত মারফত মুক্তিজোটের আইনি লড়াইয়ে যা সম্ভব হয়েছে, আইন ভাঙ্গার মহোৎসব কিংবা হাজারটা হরতাল-পটকা ফাটিয়েও কি তা সম্ভব ছিল?

 

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সংবিধান বিরোধী আইন বাতিল করতেই রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে হয় এবং তদুপরি সংসদ হয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের আইন পাশ করতে হয়েছে।

 

অনেক শিক্ষিত মানুষ এদেশে সংস্কৃতি বলতে কেবল গান-বাজনাকেই বোঝেন অথচ ক্লাস ফাইভের ছাত্রও জানে বিলাতী মেমরা শাড়ী পরে না, চীনারা হাত দিয়ে খায় না, অনেক দেশে ভাতও প্রধান খাদ্য না অর্থাৎ অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-ধর্ম ইত্যাদি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাপিত জীবনের সবকিছুই সংস্কৃতির আওতাভুক্ত- এমনকি রাজনীতিও এর বাইরে নয়। এই দেশ ও মানুষকে  নিয়েই মুক্তিজোট এবং তা সামগ্রীক জীবনকে নিয়ে আবর্তিত বলেই সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট। স্বাভাবিক ভাবেই, মুক্তিজোট তার রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে, পথ-পদ্ধতিতে ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র হয়ে যেতে বাধ্য; কারণ তার কাছে ব্যক্তিতত্ত্ব ও রাষ্ট্রতত্ত্বের তফাৎ আছে। তেমনি স্বাধীন ও পরাধীন দেশের রাজনীতি ও তার আন্দোলন সংগ্রামের পার্থক্যটাও মুক্তিজোটের আমলে আছে।

 

ইতিহাস থেকে আমরা শিখি কিন্তু মানুষ পিছন দিকে ফিরে নয়, সামনের দিকে ঝুঁকেই হাঁটে; তাই বিগতের কাছে মানুষ ঋণী হলেও তার দায়বদ্ধতা থাকে আগামীর কাছে। আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলেই মুক্তিজোটের স্লোগান- ডান নয়-বাম নয় হাঁটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর।

 

অর্থাৎ মুক্তিজোট তার আপন নীতি ও আদর্শের পথ ধরে ঠিকই হাঁটছে।

 

১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই দিনে- প্রত্যয় আর প্রত্যাশার সাথে, আধুনিক বাংলাদেশে ও তার রাজনৈতিক বিনির্মাণে দল-মত নির্বিশেষ সমগ্র দেশবাসীকে সামিল করার সংগ্রামে সবাইকে শুভেচ্ছা।



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
নির্বাচন কেন্দ্রিক সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা ২০১৯-১০-১৮
দেশ ও মানুষের প্রশ্নে সবাই অভিন্ন বলেই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যা সঠিক তা সবার। আর সঠিকতা আধুনিক রাজনীতিতে সর্বদা যুক্তিযুক্ততায় নির্দিষ্ট হয়। বিশ্বাসের পথ ধরে ব্যক্তি সম্পর্ক এলেও- যুক্তির পথ ধরে বিশ্বাস ও ঐক্য স্থাপনের নামই গণতান্ত্রিক সহমত বা সংস্কৃতি। আর তাই গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ আজ- ‘যা সঠিক তা প্রতিষ্ঠা পাক, যা বেঠিক তা নির্মূল হোক।’ ২০১৯-১০-১৫
দেশবাসী সহ বিশ্বের সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা। ২০১৯-১০-০৪
জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা ২০১৯-০৮-২৩
ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আর নেই ২০১৯-০৮-২৩
জাতীয় শোক দিবস- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০১৯-০৮-১৫
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৬-১৭
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০১৯-০৫-০১
প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ ২০১৯-০৪-১৭
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৩-২৬

previous12345next