[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

রাজনৈতিক মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে নির্বাচন কমিশনে “জাতীয় পরিষদ” এর প্রস্তাব দেয় মুক্তিজোট


রাজনৈতিক দলসহ যারা মতামত দিচ্ছেন এবং বিচার বিশ্লেষণপূর্বক তা গৃহীত বা বিধি হিসেবে প্রণয়ন করবেন, তন্মধ্যে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা অভিজ্ঞান যেমন থাকে কেবল রাজনৈতিক দল সমূহের তেমনি বিধি-বিধানগুলো প্রত্যক্ষভাবে বহনও করতে হয় প্রধানত রাজনৈতিক দল সমূহকেই এবং তা কোনো একটি দল নয় বরং সব দলকেই। এক্ষেত্রে যেকোনো প্রয়োজনে যে কোনো সময় যে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে ডেকে নির্বাচন কমিশন বসতেই পারেন পক্ষান্তরে বিধি মোতাবেক (Representation of the People Order, 1972 এর 90F(1)(e)) রাজনৈতিক দলগুলোও তা পারে। কিন্তু পারস্পরিক সম্পর্কের বিধিবদ্ধতায় সমন্বিত রূপ বা যৌথ করণের শর্ত বিযুক্ত থাকায় তা অনানুষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক হিসেবে নির্দিষ্ট হয়ে পড়ে। অথচ বিধিগুলো প্রণীত হওয়ার পূর্বে সম্মিলিত বা যৌথের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শর্ত থাকছে না তথা বহনের ক্ষেত্রে সম্মিলিত হলেও আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কোনো সমন্বিত বা যৌথ করণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনুপস্থিত বা প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত বিযুক্ত। এতে করে বিধিগুলো যদি বাস্তবতা বিবর্জিত বা বাজে কথার ফুলের চাষও হয়ে থাকে তবুও তা বাস্তবায়িত না হওয়ার ব্যর্থতা কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর কাঁধেই বর্তায়। 

 

তাই আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কারসহ তার বিধি-বিধান প্রসঙ্গে সর্বাগ্রে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটাই এসে পড়ে। বিশেষতঃ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া তথা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির শর্ত ধরেই পারস্পরিক সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিকিকরণের শর্তটা এসে গেছে। কারণ যৌথ বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক স্বীকৃত হওয়া মাত্রই উক্ত প্রাসঙ্গিকতায় গৃহীত যাবতীয় বিধি-বিধান সংস্কার বা গ্রহন বর্জন- সেই প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের অনুবর্তীতায় নির্দিষ্ট হতে হয়। তা না হওয়ায় এবং যতক্ষণ তা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তা প্রাতিষ্ঠানিক বৈশিষ্ট্যে সংজ্ঞায়িত হতে পারে না। পক্ষান্তরে, এই নিবন্ধন যা তার অর্জন হলেও কেবল একতরফা বিধিবিধান বা নির্দেশ পালনের এই বাধ্যবাধকতা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আমলাতান্ত্রিক মুচলেকার মত অমর্যাদাকর হয়ে থাকবে।

 

এক কথায়, প্রত্যক্ষ জনসম্পৃক্ত রাজনীতিতে কেবল রাজনৈতিক দলগুলো থাকে বলেই সে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা বা বাস্তবনিষ্ঠতা তাঁদেরই থাকে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত এ সংশ্লিষ্ট কোন বিধি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোকেই বহন করতে হয় আর যেহেতু তা কোনো একটি বিশেষ দল নয় বরং সকল দলকেই বহন করতে হয় তাই তা প্রনীত হওয়ার পূর্বে সমন্বিত সভা মারফত সম্পন্ন হলেই সেটা অধিকতর বাস্তবসম্মত বা যথাযথ হতে পারে এবং নিবন্ধন শর্তে একতরফা বিধি প্রণীত হওয়ার পথ ধরে ও যথারীতি তা বহন করার বাধ্যবাধকতা ভিন্নার্থে- রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ‘আমলাতান্ত্রিক মুচলেকা’ দেয়ার সমার্থক হয়ে ওঠে অথচ দেশ যাঁরা চালান দলও তাঁরাই চালান

 

সেক্ষেত্রে, নির্বাচন কমিশন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের যৌথ বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ আসতে পারে জাতীয় পরিষদ গঠনের মধ্যে দিয়ে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সমূহের পারস্পরিক এই যৌথ সভা বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তথা জাতীয় পরিষদ পক্ষান্তরে রাজনৈতিক দল সমূহের জন্য সমন্বিত সভার রূপ পরিগ্রহ করবে।

 

জাতীয় পরিষদ

‘পরমত সহিষ্ণুতা’ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি হিসেবে নির্দিষ্ট হলেও গণতন্ত্র বা বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা স্থিতিশীলতা লাভ করে কেবল প্রাতিষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে। যেখানে এই প্রাতিষ্ঠানিকতার দিকটি গড়ে ওঠে না সেখানেই গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে থাকে এবং যথারীতি পরমত সহিষ্ণুতা তথা রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পারিক বিশ্বাস-আস্থার দিকটা এগুতে পারে না। প্রস্তাবিত, নির্বাচন কমিশন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সমূহের পারস্পারিক এই যৌথ সভা বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তথা জাতীয় পরিষদ- যা রাজনৈতিক দল সমূহের জন্য সমন্বিত সভা হিসেবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনিবার্য শর্তকে পূরণ করে।

 

আমরা আইন না করে সার্চ কমিটি গঠন করি, নিজেদের পারস্পারিক বিশ্বাস-আস্থার ঘাটতি পূরণ করতে সংসদে বসে ঠান্ডা মাথায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তত্ত্ব পাশ করি, এমনকি তার ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রূপ দেখেও এখনও আমরা কেউ কেউ সহায়ক সরকারের দাবী করছি কিংবা সরকার হিসেবে সহায়তাও করতে চাচ্ছি অথচ ইতোমধ্যে তা অ-সাংবিধানিক হিসেবে প্রমাণিত। তথাপিও যে শর্তে সহায়তা করা যায় সে শর্তেই কেউ সহায়ক সরকারের দাবী তুলতেই পারে। মূখ্যত নির্বাচন কমিশন দুটো মন্ত্রণালয়ের হয়ে সরকারমুখীন থাকে। মুক্তিজোট গতবার নিবন্ধন সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে প্রথম মিডিয়া ব্রিফিং এ কমিশনের বারান্দায় দাড়িয়ে বলেছিল নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাসহ নির্বাচনকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে দেওয়ার আইন পাশ করতে হবে। ইতোমধ্যে একটা  নির্বাচন হয়ে গেছে, আরেকটি নির্বাচন আসন্ন, সহায়তা করার সদিচ্ছাটুকু নির্বাচন পর্যন্ত প্রতীক্ষায় কেন? বরং সে আইনটা পূর্বে করলেই তো এমন অ-সাংবিধানিক বিষয়টা উঠে আসার সুযোগ পেত না বা পায় না। আমরা রাজনীতি করি, সরকার গঠন করি কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকতাকে আমলে নিতে চাই না। অথচ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের মধ্যে স্থিতিশীল হতে পারে এবং তা প্রায় একমাত্র পথ হিসেবে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্বতঃসিদ্ধ হয়ে উঠছে সেটা আমরা যেনো ভাবতেই চাচ্ছি না।

 

জাতীয় পরিষদ-এর গঠন বা কাঠামোগত দিশাঃ

          নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের  দলীয় প্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত হবে জাতীয় পরিষদ। অর্থাৎ নিবন্ধন প্রাপ্তির পথ ধরে দলীয় প্রধানগণ পদাধিকার বলে জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র কর্তৃক অথেনটিক মর্যাদায় নির্দিষ্ট হবেন। জাতীয় পরিষদের সদস্যগণ সংসদ সদস্যর সমমান বহন করবেন। জাতীয় পরিষদের সাধারণ কর্ম নির্বাহের জন্য আহ্বায়ক হিসেবে নির্দিষ্ট থাকবেন পদাধিকার বলে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আর উক্ত জাতীয় পরিষদের প্রধান তথা চূড়ান্ত নির্দেশদানকারী কর্তৃত্বে থাকবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।

 

যুক্তিবিধানঃ-

প্রথমতঃ- সংসদ সদস্যের সমমান আর সংসদ সদস্য সমার্থক নয়। এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের সমমানে নিরাপত্তাসহ অপরাপর সুবিধা পেলেও সংসদ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ বা জনগণের জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রযুক্ত থাকবে না। অর্থাৎ রাষ্ট্র তথা প্রতিষ্ঠানগত শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা পেলেও জনগণের জন্য আইন করার বৈধতা বা সরকার গঠনে কেবল জনগণের রায়ে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে অর্জিত হবে। এটা কেউ কাউকে দিতে পারে না- কেবল জনগণই পারে।

 

কিন্তু সংসদে থাক বা না-থাক কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হওয়ার শর্তে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত বিধি বিধানের আওতার বাইরে থাকতে পারে না। সে অর্থেই জাতীয় পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক যুক্তিযুক্ততা গৃহীত হয় এবং জাতীয় পরিষদ গঠিত হলেও এক্ষেত্রে এই যুক্তিযুক্ততার কারণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানএর অনুচেছদ ১২৪ এর কোনো ব্যত্যয় ঘটে না।

 

দ্বিতীয়তঃ রাজনৈতিক দল মাত্রই প্রত্যক্ষ জনগণ সংশ্লিষ্ট তথা জণগণের মধ্যে তাকে ফিরতেই হয়। জনগণের প্রতি এই দায়বদ্ধতার বৈশিষ্ট্যের কারণেই প্রাতিষ্ঠানিক এই স্বীকৃতিটা যুক্তিযুক্ততা পায়। কারণ যারা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেন তাঁরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

অতএব, উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত- নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান তথা জাতীয় পরিষদ গঠন করে বিধি-বিধানগুলো পুনঃনির্দিষ্ট বা সংস্কার করতে হবে।



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৬-১৭
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০১৯-০৫-০১
প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ ২০১৯-০৪-১৭
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৩-২৬
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনঃ জাতীয় শিশু দিবস। ধর্মের জন্যে আছে ঐশী গ্রন্থ- বেদ, বাইবেল, আল-কোরান; দেশ ও রাজনীতির জন্যেও তেমনি গুরুত্বে আজ ইতিহাস! অতএব ইতিহাস কথা কও. . . . . . ২০১৯-০৩-১৭
৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতির পথ ধরে এখন বৈশ্বিক! ২০১৯-০৩-০৭
বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ২০১৯-০২-২১
শুভ বড়দিন। যীশু খ্রিস্টের জন্মোৎসবে সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা। ২০১৮-১২-২৫
বিজয়ের এই মহান দিনে পৃথিবীর সব মানুষকে শুভেচ্ছা ২০১৮-১২-১৫
অবিলম্বে “১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করতে হবে”। ২০১৮-১২-১৩

previous12345next