[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

কহতব্য

 

কহতব্য ২১শে ফেব্রুয়ারী


 

মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগের প্রতি অনুগত ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক জানাচ্ছি যে, জাতির রাজনৈতিক অর্জনকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদে ‘বাঙালী জাতি’কে ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তায় গঠন বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা” বাংলা। সেই দেশের একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মুক্তিজোট দেশ, জাতি তথা ব্যাপক মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও আশা-আকাঙ্খার রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে দায়বদ্ধ এবং সংবিধানের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধাশীলতার কারণেই বাংলাদেশের মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত আদেশ বাংলা ভাষায় প্রেরণ করা হলে আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের প্রতি অনুগত থেকেই আমাদের জবাব উপস্থাপন করার ইচ্ছা পোষণ করছি।

 

রাজনৈতিক দল কর্তৃক আহুত হরতাল ও অবরোধ এর প্রেক্ষিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা লাভের জন্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে (রিট পিটিশন নং ১৮৮৪/২০১৫, মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগের বিজ্ঞ বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান-এর বেঞ্চ)। উক্ত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতি তাদের স্ব স্ব বক্তব্য হাইকোর্ট বিভাগে উপস্থাপন করার জন্য ২রা মার্চ ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে রুল জারি করে কিন্তু তা ইংরেজী ভাষায় হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে “মুক্তিজোট” জবাব দেয়ার শর্তে উক্ত নির্দেশ বা রুলটি বাংলা ভাষায় পাঠানোর জন্য মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ সমীপে ৭ই এপ্রিল ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে উপরোক্ত বক্তব্য প্রেরণ করে, যার শুনানী অনুষ্ঠিত হয় ১২ই এপ্রিল ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে।

 

উল্লেখ থাকে যে, ইতোপূর্বে সরকার সর্বস্তরে (আন্তর্জাতিকতার শর্ত ব্যতিরেকে) বাংলা ভাষা চালু করার ক্ষেত্রে কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে বাধ্য করছে না এই মর্মে হাইকোর্ট বিভাগ এর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসাইন এর বেঞ্চ থেকে ১৭ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে একটি রুল জারি করা হয়।

 

সেক্ষেত্রে কোর্টের রুল ইংরেজী ভাষায় কেন দিতে হচ্ছে সে প্রশ্নটা কি সরকারের নজরে আসছে না? না-কি বিচার বিভাগ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ও ভাষাসহ তার জাতিসত্তার বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান!

 

দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রাজনৈতিক সংগ্রামের পথ ধরে অর্জিত- যা সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৯-এ উল্লিখিত “ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন...”। স্বাভাবিকভাবেই দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে রাজনীতির এবং সেই প্রতিশ্রুতির পথ ধরে একটি সরকার তার দায়িত্ব পালনে পায় রাষ্ট্র-কাঠামোর তিনটি অংশ- আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগ আইন ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে কিন্তু সরকার সমস্ত জনগণের কাছে।

 

সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আদালত যে অর্থে অপরাপর প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক দাপ্তরিক ভাষা করার ক্ষেত্রে নির্দেশ দেন, সেই অর্থেই সর্বাগ্রে বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে বাধ্যতামূলক করে আইন পাশ করাও সরকারের দায়িত্ব।

 

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা কিংবা পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ৫২ থেকে ৭১-এ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরেও প্রাতিষ্ঠানিকতার পথ ধরে আমাদের শিক্ষিত মননে ঔপনিবেশিক দাসত্বের সেই মনোবৃত্তি গেঁথে যায়। এক দেশেই বারো পদের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকছে বছরের পর বছর। এক দেশ এক জাতির শপথে দেশ স্বাধীন হলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক বোধে আমরা যথেষ্ট সচেতন নই- একাট্টা হওয়াতো দূরের কথা। যে কারণে ১৪ই ডিসেম্বরকে ’জাতীয় ছুটি’ ঘোষণা করার দাবীটি মুক্তিজাটের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে দেখা দেয়।

 

বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা করার ক্ষেত্রে শিক্ষাসহ যে যে আনুষাঙ্গিক শর্ত রয়েছে সেই ব্যাপক কর্মসীমানা বিচার বিভাগের থাকে না। রাষ্ট্র-কাঠামোর কোনো বিভাগই এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় আর সেটা হয়ও না, হলে সে সরকার হয়ে ওঠে- যেমন সামরিক সরকার। কারণ সরকারই কেবল সব বিভাগের সমন্বিত ক্রিয়ায় সর্বোচ্চ কর্তৃত্বে আসীন থাকে। রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা বলতে কাঠামোবদ্ধ অপরাপর অংশের সাপেক্ষেই কেবল নির্দিষ্ট হয়। সেদিক থেকে কোনো বিভাগের সাথে সরকার ও তার কর্মসীমানার তুলনাটাই আসতে পারে না অথচ ইদানিং সেটাও করতে হচ্ছে!

 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি নাগরিক বোধ থেকে ভালো লাগলেও তা প্রাসঙ্গিক আলোচনা এবং কর্মসীমানা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এতটাই ভাসা ভাসা বা অগভীর বোধ আলোচিত হয় তাতে মনে হয়- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টিই Muddle Headed বুদ্ধিজীবীসহ অনেকের মাথায় ঘুরছে! কারণ বর্তমান পৃথিবীতে বিচার বিভাগের স্বাধীন কর্মকাণ্ডের বে-নজির বহুচর্চিত দৃষ্টান্ত সেখানেই ঘটেছে- স্বয়ং প্রধান বিচারপতিকে যেখানে মিডিয়া ফেস করাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায় পাওয়া গেছে! এহেন বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতাটুকু অনেকের কাছে নমস্য হলেও রাষ্ট্রীয় দিক থেকে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ তো বটেই বিচার বিভাগ বিশেষতঃ বিচারপতির মর্যাদার ক্ষেত্রে ওটা ছিল সতীত্ব খোয়ানোর মতো ঘটনা।

 

এটা পাকিস্তান নয়- এটা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এবং এই দেশ ও তার স্বাধীনতা এবং এর পবিত্র সংবিধান আপামর জনতার রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল, আর যথারীতি একটি রাজনৈতিক সরকার বহাল আছে। তাই সর্বাগ্রে মনে রাখা জরুরী- বিচার বিভাগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একটা প্রতিষ্ঠান মাত্র। স্বাধীন হলেও প্রাতিষ্ঠানিক এই পরিচয়ের বাইরে তার কোনো আলাদা পরিচয় বা কর্মসীমানা নেই।

 

ব্রিটিশ আদালতের বিচারপতি মাথায় পরচুলা পড়লে ভালো লাগে কারণ তা তাঁদের ঐতিহ্যের স্মারক ঠিক যেমন আমার দেশের কৃষক মাথায় ‘মাথাল’ পড়লে হৃদয়ের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব পাখা মেলে কিন্তু আমার দেশের আদালতের কোনো বিচারক মাথায় পরচুলা পরলে বুকে বিঁধে ‘হায় স্বাধীনতা বৃথা যায় বৃথা যায়...’।

 

ঔপনিবেশিকতার আঁকর জিইয়ে রাখা কিংবা কোনো বিতাড়িত শয়তানের প্রতারণার ফাঁদ ও তার সুশোভিত উপস্থাপনে তারাই প্রভাবিত হয় যারা তার বিগত ইতিহাস ভুলে যায়। ভুললে চলবে কেন ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে এই উপমহাদেশে যতো মানুষ শহীদ হয়েছে তার অর্ধেকেরও বেশি ছিল বাঙালী, ব্রিটিশ কর্তৃক সৃষ্ট ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে যে দূর্ভিক্ষ তা এই বাংলাতেই ঘটেছে- যেখানে গড় হিসেবে প্রতি তিনজনে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। ত্রিশ লক্ষ মানুষের মৃত্যু দেখা মানুষের সংখ্যা এদেশে এখনও অনেক আছে। ব্রিটিশ থেকে পাকিস্তান ঔপনিবেশিক ও পরাধীনতার শৃংখল মুক্তিতে এদেশে যতো মানুষের মৃত্যু ও বলিদান হয়েছে তাঁদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা এখনও দেশজ বোধ প্রতিষ্ঠার দায়িত্বেরই সমার্থক হয়ে আছে অথচ স্বাধীনতা অর্জনের অর্ধ শতাব্দীতে আমরা পা রেখেছি!

 

সুতরাং আপামর জনতার ভাষা সংস্কৃতি কিংবা সংবিধানে উল্লিখিত জাতিসত্তা ও ভাষার ব্যবহার প্রসঙ্গে উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার আইন প্রণয়ন এবং যতোটুকু আইন আছে অনতিবিলম্বে তা প্রয়োগে সরকারের যথোচিত সরকার সুলভ ভূমিকা কাম্য।

 

এক্ষেত্রে কথিত ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’ বা পরিভাষা সহ বহুবিধ অজুহাতে কাল বিলম্ব মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় কারণ এমন অজুহাতেই ৪৫ বছর পেরিয়ে গেছে এবং যতোদিন বাধ্য-বাধকতার আইন না আসছে এই অজুহাতে আরও ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না এবং যথারীতি অবসর নেয়ার পর ভাষার জন্য অনেকের মায়া কান্নায় বাহবা পাওয়ার অবকাশও রয়ে যাবে।

 

কারণ মহান একুশ এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার উদযাপনে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের অনবদ্য বিজয়গাঁথা হিসেবে জাতীয় মর্যাদার সমার্থক হয়ে পড়েছে- সকল শহীদানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।



ক্রমিক
শিরোনাম
তারিখ
১০
মহান মে দিবস উপলক্ষে মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। ২০১৯-০৫-০১
প্রথম অস্থায়ী জাতীয় সরকার ও তার কর্মপ্রবাহের পরিণতি-ই আজকের সার্বভৌম বাংলাদেশ ২০১৯-০৪-১৭
স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দেশের ইতিহাস- কেবল একটি দল বা পক্ষের ইতিহাস হতে পারে না ; সেটা হলে গণতন্ত্র স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং ফাল্গুনের অগ্নিভ উচ্চারণে ছিলো- অ আ ক খ আর ২৬শে মার্চ অগ্নিঝরা ঘোষণায় আজ- March FOR BANGLADESH! নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নিয়ে (বর্তমানে নিবন্ধিত দল ৪০টি) জাতীয় পরিষদ গঠন করতে হবে এবং উক্ত ৪০ দল নিয়ে গঠিত জাতীয় পরিষদকেই অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকারের (তত্ত্বাবধানগত ভূমিকায় Suo Motu Government ) ঘোষণা দিতে হবে। ২০১৯-০৩-২৬
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনঃ জাতীয় শিশু দিবস। ধর্মের জন্যে আছে ঐশী গ্রন্থ- বেদ, বাইবেল, আল-কোরান; দেশ ও রাজনীতির জন্যেও তেমনি গুরুত্বে আজ ইতিহাস! অতএব ইতিহাস কথা কও. . . . . . ২০১৯-০৩-১৭
৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতির পথ ধরে এখন বৈশ্বিক! ২০১৯-০৩-০৭
বিচার বিভাগের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ২০১৯-০২-২১
শুভ বড়দিন। যীশু খ্রিস্টের জন্মোৎসবে সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা। ২০১৮-১২-২৫
বিজয়ের এই মহান দিনে পৃথিবীর সব মানুষকে শুভেচ্ছা ২০১৮-১২-১৫
অবিলম্বে “১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করতে হবে”। ২০১৮-১২-১৩
জাতীয় শোক দিবস- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ২০১৮-১০-০৬

previous12345next