[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ট্রাম্পের খবর কীভাবে দেবেঃ রয়টার্স প্রধান
০৫-০২-২০১৭

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিয়ে খবর লেখার ক্ষেত্রে ‘বৈরী দেশ থেকে অর্জিত দক্ষতা’ কাজে লাগাতে বলেছে রয়টার্স।


বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করতে হবে, সে ব্যাপারে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করা নিজেদের হাজারো সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিককে ই-মেইল করেন রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিভ অ্যাডলার। কিন্তু ই-মেইলটি ফাঁস হয়ে যায়। এরপর গত ৩১শে জানুয়ারি রয়টার্স নিজেদের ওয়েবসাইটে অ্যাডলারের পুরো বার্তাটি প্রকাশ করে।

 

সহকর্মীদের উদ্দেশে অ্যাডলার লিখেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘পৃথিবীর সবচেয়ে অসৎ মানুষদের মধ্যে সাংবাদিকেরাও আছেন’’ বা তাঁর প্রধান নীতিনির্ধারক গণমাধ্যমকে যে “বিরোধী দল” আখ্যা দিয়েছেন; সেটা তো আর তাঁরা প্রতিদিন বলছেন বা করছেন না। তবে আমরা এখনো জানি না ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণ পরবর্তী সময়ে কতটা তীক্ষ্ণ হবে অথবা এসব আক্রমণের পাশাপাশি আমাদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে কী রকম আইনি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।’


এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের খবর কীভাবে পরিবেশন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা বিচিত্র কিছু নয়। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিভ অ্যাডলার সংবাদকর্মীদের এ নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। রয়টার্সে প্রকাশিত ওই নির্দেশনায় তিনি লিখেছেন, এই প্রশ্নের কী উত্তর দেবে রয়টার্স? রয়টার্স কি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা করবে? ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে শান্ত থাকবে? ট্রাম্পের ব্রিফিং বয়কট করবে? নাকি গণমাধ্যমের পাশে দাঁড়াবে? গণমাধ্যমগুলোর কাছে সব ধরনের পরিকল্পনাই আছে। অনেক সংবাদমাধ্যমের জন্য এগুলো সঠিকও হতে পারে। তবে রয়টার্সের কাছে এগুলোর কোনোটাই অর্থপূর্ণ নয়। ‘আমরা জানি, আমাদের কী করতে হবে। কারণ, আমরা প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী তা করছি।’

 

অ্যাডলার বলেন, রয়টার্স বিশ্ব সংবাদ সংস্থা। ১০০টিরও বেশি দেশে রয়টার্স স্বাধীন ও পক্ষপাতহীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করে। এসব দেশের মধ্যে এমন অনেক দেশ আছে, যেখানে সাংবাদিকতার পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সংবাদকর্মীরা প্রায়ই হামলার শিকার হন। সেখানেও রয়টার্স সাংবাদিকতার ওই অভিন্ন নীতি অনুসরণ করে।


এ ক্ষেত্রে অ্যাডলার তুরস্ক, ফিলিপাইন, মিসর, ইরাক, ইয়েমেন, থাইল্যান্ড, চীন, জিম্বাবুয়ে ও রাশিয়ার উদাহরণ দিয়ে লিখেছেন, এসব দেশ সাংবাদিকদের আটক, হত্যা, নিপীড়ন, আক্রমণ করে থাকে এবং হুমকি-ধমকি দেয়। তাঁদের প্রচারিত খবরে সরকার হস্তক্ষেপ করে এবং ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অ্যাডলার ওই বার্তায় সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘সাংবাদিকতার পরিবেশ খুব বেশি নেতিবাচক হয়ে গেছে বলে ধরে নেবেন না; বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করে যেসব দক্ষতা অর্জন করেছেন, সেগুলো কাজে লাগানোর এটা একটা সুযোগ।’


সাংবাদিকদের আতঙ্কিত না হয়ে উপায় বের করতে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং সরকারিভাবে প্রত্যাশিত তথ্য না পেলেও কম চিন্তিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


ই-মেইলটি এমন একটা সময়ে ফাঁস হলো, যখন ‘মূলধারার’ সংবাদমাধ্যমের প্রতি ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তিনি সিএনএন এবং নিউইয়র্ক টাইমসকে লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে একাধিকবার ‘অসৎ’ আখ্যা দিয়েছেন এবং নাৎসি-যুগে ব্যবহৃত ‘লুগেনপ্রেস’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এ শব্দের মানে মিথ্যাচারী সংবাদমাধ্যম। ডানপন্থীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অনুসারীদের উপস্থিতিতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

 

ই-মেইল বার্তায় অ্যাডলার বলেন, ‘আমরা জানি না ট্রাম্প আমাদের সংবাদ সংগ্রহে কী কী চাপ প্রয়োগ করতে পারেন। কিন্তু আমরা এটাও জানি ট্রাম্প প্রশাসনের খবর সংগ্রহ করতে আমাদের বিশেষ কোনো নীতির দরকার নেই। অন্য জায়গায় যেভাবে আমরা খবর সংগ্রহ করি, এই খবরও সেভাবেই পরিবেশন করব।’

 

আমরা যা করবঃ মানুষের জীবনসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদ লিখব এবং যাতে তারা অধিকতর ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, প্রয়োজনীয় সেই তথ্যই দেব। সংবাদে তথ্য আরও বেশি থাকবে। তথ্যের এক দরজা বন্ধ হলে আরেক দরজা খুলব। বিবৃতির ওপর নির্ভর থাকা যাবে না এবং সংবাদ সংগ্রহে সরকারি সুযোগের তোয়াক্কা কম করতে হবে। এসব আসলে কখনোই কোনো কাজে লাগেনি। ইরানের সংবাদ সংগ্রহে আমাদের ভূমিকা ছিল দুর্দান্ত এবং সেখানে আমাদের কার্যত ঢোকার কোনো সুযোগ ছিল না। আমাদের যা আছে, সেটা হলো সূত্র। কোন দেশের মানুষ কীভাবে থাকে, কী চিন্তাভাবনা করে, কোন বিষয় তাদের উপকার করে, ক্ষতিই-বা করে কী, সরকার ও সরকারি কর্মকাণ্ড তাদের সামনে কীভাবে হাজির হয়, সেটা জানতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে- সততা, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সব সময় রক্ষা করতে হবে।

 

আর যা করব না- তথ্য প্রকাশে কখনো ভয় পাব না। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কোনো লড়াইয়ে নামব না।সাংবাদিকতার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে বেশি চিন্তারও দরকার নেই। বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিকূল অবস্থায় আমাদের সংবাদ পরিবেশনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ এখন।

 

অ্যাডলার আরও লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের সর্বত্র এই নীতিতেই সংবাদ পরিবেশন করবে রয়টার্স। ‘আমরা পেশাদার সাংবাদিকতা চর্চা করি। আর এই সাংবাদিকতা সাহসী ও নিরপেক্ষ। এ কারণেই আমরা আলাদা। যখন আমরা কোনো ভুল করি, দ্রুত তা সংশোধন করি। কোনো বিষয় না জানলে সেটাও উল্লেখ করি। আমরা গুজবের সত্যতা যাচাই করি। তথ্য যথার্থ হলেই সেটি পরিবেশন করি। আমরা গতিশীলতাকে মূল্যায়ন করি। কিন্তু তাড়াহুড়া করতে চাই না। যখন কোনো কিছু যাচাই করার প্রয়োজন হয়, আমরা সময় নিই। আমরা সবার আগে বিশেষ কিছু দিতে চেয়ে ভুল করি না।’

 

এসব নীতিতেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের যেকোনো দেশে কাজ করে যাবে রয়টার্স। সংবাদকর্মীদের সে নির্দেশনাই দিয়েছেন প্রধান সম্পাদক।