[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
২০ হাজার নয় সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়া যাবে রাজনৈতিক দলে
০৩-০২-২০১৭

রাজনৈতিক দলগুলিকে আর ২০ হাজার নয় নগদ চাঁদা দেওয়া যাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা। তার ওপরের অঙ্কের সব চাঁদাই নিতে হবে চেকে কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে। এর পাশাপাশি আইন সংশোধন করে একটি বন্ড বাজারে আনার কথাও বলেছেন জেটলি। যে বন্ড এক মাত্র চেকে কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে কিনে খুব কম সময়ে এক বা একাধিক রাজনৈতিক দলকে চাঁদা হিসেবে দিতে পারবেন।

 

১লা ফেব্রুয়ারি ভারতের লোকসভায় বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি রাজনৈতিক দলের আর্থিক হিসাব স্বচ্ছতার প্রশ্নে এ ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সহ গোটা শাসক শিবির টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানান। এমনকী বিরোধী শিবিরে সেই সময়ে বসে থাকা রাহুল গাঁধী বলেন, রাজনৈতিক তহবিলকে স্বচ্ছ করতে যে কোনও পদক্ষেপকে তাঁরা সমর্থন করবেন। কারণ, আপাত ভাবে রাজনীতিতে কালো টাকা রোখা আর নির্বাচনী সংস্কারের লক্ষ্যে এ’টি একটি বড় পদক্ষেপ।  

 

কিন্তু সংশোধিত আইনটি চালু হবে ২০১৮ সালে ১লা এপ্রিল। ফলে বর্তমানে চালু পদ্ধতিতেই নগদ টাকা তোলার বিস্তর সময় থাকছে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে। আর বর্তমান আইন অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ দিলে যেহেতু তাঁর নাম ধাম প্রকাশ করতে হয় না। ফলে ভুয়ো নামেই কোনও এক জন ২০ হাজার টাকা করে একাধিক স্লিপ কেটে লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি টাকা কোনও দলকে চাঁদা দিতে পারেন। তবে নতুন আইন অনুযায়ী ২ হাজার টাকা হলে শুধু খাটনি বাড়বে সাথে স্লিপের সংখ্যাটা। এমকি বাজেটে যে বন্ড আনার কথা বলছে, তা ব্যাঙ্কে চেক বা ডিজিটাল লেনদেন করে পাওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে কোন দলকে কত দেওয়া হচ্ছে, সে’টি গোপন থাকবে। তবে এক দল জানতে পারবে না, অন্য দলকে কে কত দিচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালেও সেই তথ্য আসবে না। যা আগে বিভিন্ন ট্রাস্টের মাধ্যমে আসত, এখন তা হবে বন্ডের মাধ্যমে। যদিও সরকার তথা শাসক দল ইচ্ছে করলেই সে হিসেব জানতে পারবে।

 

এদিকে বাজেট ঘোষণার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হলে আপাত এই আইনের পিছনের গলদগুলি তুলে ধরে সরব হচ্ছেন বিরোধীরা। আর তা নিয়ে এখন কংগ্রেস-আপের মতো বিপক্ষ নেতাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে খোদ জেটলিকেও।

 

আর এই সমালোচনার জবাবে জেটলি বলেন- আসলে নির্বাচন কমিশনই ক’দিন আগে নগদে চাঁদার পরিমাণটি কমিয়ে ২ হাজার টাকা করতে বলেছিল। সরকার শুধু সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। কারণ অনেক গরিব লোক ছোট অঙ্কের চাঁদা দেয় তাঁরা যেন চেক ব্যবহার করতে পারে। আর ২ হাজার সীমাটি তাঁদের কথা ভেবেই বেঁধেছে নির্বাচন কমিশন।

বন্ড নিয়ে জেটলি আরও বলেন, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, এক দলকে চাঁদা দিতে হলে অন্য দল প্রশ্ন তোলে, কেন তাদের দেওয়া হচ্ছে না? ফলে একটি গোপনীয়তা রাখতেই হতো। বন্ডের মাধ্যমে লেনদেন সাদা টাকায় হবে, গোপনীয়তাও বজায় থাকবে। আর ২ হাজার টাকা করে কত ভুয়ো নামেই বা চাঁদার ব্যবস্থা করবে রাজনৈতিক দলগুলি?

 

প্রসঙ্গতঃ টাইমস অব ইন্ডিয়ার গত ২৪শে জানুয়ারি ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর) উল্লেখিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০০৪-২০০৫ থেকে ২০১৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত ১১ টি কর বর্ষের ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় মোট ৭ হাজার ৮৩৩ কোটি রুপি আয় যার উৎস প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি; যা দলগুলোর মোট আয়ের প্রায় ৬৯ শতাংশ।

 

তথ্য সূত্রঃ

http://www.anandabazar.com/national/cash-donation-to-parties-capped-at-rs-2k-poll-bonds-proposed-in-budget-1.557790#

http://www.bartamanpatrika.com/content/main2.html