[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ঢাবির সমাবর্তনে চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে রাষ্ট্রপতির উষ্মা প্রকাশ
১৩-১০-২০১৮

গত ৬ই অক্টোবর শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ-এর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক মোঃ আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড.মুহাম্মদ সামাদসহ বিশ্বদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ইনিস্টিটিউটের ডিন ও পরিচালক, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ।

 

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ তাঁর ভাষণে রাজনীতিতে প্রবেশের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন । সরকারি চাকরির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন শেষে রাজনীতিতে প্রবেশের যে প্রবণতা বর্তমানে দেশে প্রচলিত আছে তা থেকে সরকারি ও বিরোধী দলকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ছাত্র বয়স থেকে যাঁরা রাজনীতি করে আসছেন, তাঁদের হাতে নেতৃত্ব থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

 

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের গ্রামে একটা প্রবাদ আছে, গরিবের বউ নাকি সবার ভাউজ (ভাবী)। এখন রাজনীতি সাবজেক্টটা হয়ে গেছে গরিবের ভাউজের মতো। এখানে যে কেউ যেকোন সময় ঢুকে পড়তে পারে। আমি যদি বলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের প্রফেসর হতে চাই, ভিসি স্যার ঢোকাবেন না; বা আমি যদি কোনো হাসপাতালে গিয়ে বলি, এত বছর রাজনীতি করেছি আমাকে ডাক্তারির জন্যে দেওয়া হোক। বোঝেন অবস্থাটা কী হবে। ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি পড়াতে যাব এ কথা বললে হাসির পাত্র ছাড়া কিছুই হবে না। কিন্তু রাজনীতি গরিবের ভাউজ; ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সবাই করে। ৬৭ বছর সরকারি চাকরি করে অবসরের পরে বলে আমিও রাজনীতি করব। আমার মনে হয় সব রাজনৈতিক দলকে এটা চিন্তা করা উচিত। সরকারি ও বিরোধী দলগুলোকে বলছি, এই জিনিসগুলো আপনারা চিন্তা করেন। যারা ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করে আসছে শুধু তারাই থাকুক। ডাইরেক্ট কেউ রাজনীতিতে এসে মন্ত্রী হয়ে যাবে এটা যেন কেমন কেমন লাগে।”

 

এছাড়াও ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ চলমান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সক্রিয় থাকার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আশার আলো দেখা গেছে। তফসিল ঘোষণা হলে জটিলতা দেখা দিবে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া যেনো বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য কর্তৃপক্ষকে তৎপর থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা অনুচিত হবে। ডাকসু নির্বাচন হলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়ে যাবে। ছাত্ররাজনীতি থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব আসবে।”

 

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “আমি খুব জোর দেব শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের বিকাশে। উচ্চশিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থীরা যদি ভালো-মন্দ বিচার করতে না পারে এবং ভালোর পক্ষে দাড়িঁয়ে মন্দকে প্রতিরোধ করতে না পারে, তাহলে তাদের উচ্চশিক্ষা বৃথা। জীবনে আহরিত মূল্যবোধ সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ না-ও হতে পারে। শিক্ষার্থীরা যদি মানুষের কল্যাণের লক্ষে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, সর্বাগ্রে আমি তাকেই স্বাগত জানাব।”

 

এর আগে অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ-এর নেতৃত্বে সমাবর্তন শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

 

তথ্য সূত্রঃ

http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2018/10/07/688493

http://www.bd-pratidin.com/national/2018/10/06/366131

https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1547382.bdnews