[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
দুই কোরিয়ার ঐতিহাসিক মিলন
১৪-০৫-২০১৮

১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছালেন কোনও উত্তর কোরীয় শীর্ষ নেতা। কিম জং উন সীমান্ত অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে প্রবেশ করছেন। ঠিক এই সময় কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন তাঁকে স্বাগত জানান। পৌঁছেই অসামরিক এলাকা হিসেবে পরিচিত পানমুনজামের পিস হাউসে উত্তর কোরিয়ার এই নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুন জে ইন।

 

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন দুই দফা বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় তাঁরা ৬৮ বছরের যুদ্ধের ইতি টানার ও কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ঘোষণাও দেন। আর উভয় দেশের সীমানার মধ্যে স্মারক হিসেবে একটি করে পাইন গাছ রোপন করেন বলে জানা গেছে।

 

গত দুই দশক ধরেই দুই কোরিয়ার শত্রুতা নির্মূলে নিরলসভাবে পর্দার অন্তরালে কাজ করে যাচ্ছিলেন একজন। সেই ব্যক্তিটি হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা প্রধান সুহ হোন।

 

এই দেশ দুটো মাত্র কয়েকমাস আগেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয়ার মতো অবস্থানে ছিল? যে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন ধারাবাহিক একের পর এক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে উপদ্বীপটিতে তো বটেই সারা দুনিয়ার জন্যই উত্তেজনা সৃষ্টিতে মদমত্ত ছিলেন, যখন কিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে একের পর এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ফাঁকে পরমাণু হামলার শঙ্কাও তৈরি করেছিল সেই তিনিই কিনা এদিন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববাসীকে চমকে দিলেন!

 

চমকে দেওয়া এই ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করেছে দুই কোরিয়ার মানুষ। সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, জাপানসহ অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে বিশ্বের জন্য এক অভাবনীয় সুখবর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি সুখবরের অপেক্ষায় ছিল। দুই নেতার বৈঠক ও যৌথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।

 

এশিয়ার অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সব কিছু ঠিকঠাক মতো এগোলে এই সমঝোতা এশিয়ার জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবেও বিবেচিত হবে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এই প্রথম বিরল এক দৃশ্য দেখল দুনিয়াবাসী যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন তিন পরাশক্তি একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দুই কোরীয় নেতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 

১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পর কিম জং উন-ই কোনো নেতা যিনি দুই কোরিয়ার বিতর্কিত গ্রাম পানমুজামের সেই সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রাখেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রগতিশীল নেতা মুন জে-ইন গত বছরে দায়িত্ব নেওয়ার পরই সুহ হোনকে দেশটির গোয়েন্দা প্রধান নিয়োজিত করেন। নিয়োগ পাওয়ার পরই সুহ হোন বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে বৈঠক জরুরি।

 

উল্লেখ্য, ২০০০ ও ২০০৭ সালে অুনষ্ঠিত দুটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্মেলনে সুহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় সুহ বেশ পরিচিত একটি নাম। কারণ তিনিই প্রথম কোনো উত্তর কোরীয় নেতাকে আলোচনায় বসাতে চেষ্টা করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালেও দেশ দুটির মধ্যে আলোচনার দ্বার তৈরি হয়েছিল।

 

জানা গেছে, ১৯৯০ সালের শেষের দুই বছর সুহ উত্তর কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দমাতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তার ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এদিকে সুহ এর ভূমিকা নিয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

 

সূত্র: রয়টার্স