[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
অভিষেকে দর্শক সমাগম নিয়ে গণমাধ্যম ও ট্রাম্প প্রশাসন মুখোমুখি
২৫-০১-২০১৭

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত তার অভিষেকে দর্শকের উপস্থিতি নিয়ে মিডিয়ার মিথ্যাচারকে অসৎ আচরণ বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি মনে করেন গণনমাধ্যম তাঁর অভিষেকে উপস্থিত দর্শকসংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখিয়েছে। এমনকি তিনি একপর্যায়ে বেশ রাগ ও ক্ষোভ নিয়ে মিডিয়াকে অসৎ বলেও দায়ী করেছেন।

 

এদিকে হোয়াইট হাউসের বর্তমান মুখপাত্র শন স্পাইসার একই দিনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দাবি করেন, ট্রাম্পের অভিষেকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক দর্শকের সমাগম হয়েছিল। টিভি ও পত্রপত্রিকায় ওবামার ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের অভিষেকের সঙ্গে তুলনা করে পাশাপাশি যে ছবি ছাপিয়েছে, স্পাইসারের দাবি, সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি আরও দাবি করেন, কারও পক্ষে দর্শকসংখ্যা বলা সম্ভব নয়, কিন্তু পরমুহূর্তে তিনিই দাবি করেন এই অভিষেকে সাড়ে সাত লাখ দর্শকের উপস্থিতি ছিল। ওবামার অভিষেকের তুলনায় ট্রাম্পের অভিষেকে অধিক দর্শক ছিল, তার প্রমাণ হিসেবে তিনি গণপরিবহন দপ্তরের প্রদত্ত হিসাব দিয়ে বলেন, ওবামার ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের অভিষেকের সময় যেখানে ৩ লাখ ১৭ হাজার মানুষ ওয়াশিংটনের মেট্রো বা পাতালরেল ব্যবহার করে, সেখানে ট্রাম্পের অভিষেকের সময় ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ এই রেল ব্যবহার করে। সাংবাদিকদের দিকে তর্জনী উঁচিয়ে তিনি আরও বলেন, মিথ্যাচারের মাধ্যমে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের মানুষের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি করছে। তাদের মিথ্যাচার বন্ধ করতে হোয়াইট হাউস তথ্যমাধ্যমকে নজরদারির মধ্যে রাখবে।

 

মেট্রো কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমের কাছে যে পরিসংখ্যান প্রদান করে, তাতে দেখা যায় স্পাইসার উভয় সংখ্যাই ভুল বলেছেন। ট্রাম্পের অভিষেকের দিন মোট ৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মেট্রো বা পাতালরেল ব্যবহার করে। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ওবামার অভিষেকের দিন মেট্রো ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৮২ হাজার। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ওবামার প্রথম অভিষেকে মেট্রো ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ। ওয়াশিংটনের পার্ক সার্ভিসের হিসাব অনুসারে, ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ওবামার অভিষেকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ।

 

নির্বাচনী প্রচারের সময়, রাশিয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির ডেটাবেইসে সাইবার হামলা চালায় বলে সিআইএ এবং এফবিআই এর তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় কিন্তু ট্রাম্প সে অভিযোগ মিথ্যা বলে অভিহিত করেন এমনকি মার্কিন গোয়েন্দাদের আচরণকে নাৎসি জার্মানির সঙ্গেও তুলনা করেন। কিন্তু সিআইএ সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প পুরোনো সে বিতর্কে ফিরে যাননি বা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য নিরসনের কোনো চেষ্টাও করেননি তিনি। তার বদলে, বক্তব্যের অধিকাংশই ব্যয় করেন তাঁর সমালোচকদের প্রতি পাল্টা আক্রমণে। 

 

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তাঁর আক্রমণের শিকারের মধ্যে ছিলেন সেসব ব্যক্তি, যাঁরা তাঁকে যথেষ্ট চৌকস ও বুদ্ধিমান ভাবেন না। সিনেটের সদস্যরা যাঁরা তাঁর প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ চূড়ান্ত করায় বিলম্ব করছেন এবং সাংবাদিকেরা, যাঁরা তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকসংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন।

 

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতেই অন্য সব বাদ দিয়ে কত লোক অভিষেকে এসেছে তা নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় হতবাক হয়ে পড়েছে অনেকে। নিউইয়র্ক টাইমস  লিখেছে, অভিষেকে দর্শকসংখ্যা নিয়ে ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা। রাজনৈতিক পত্রিকা পলিটিকো  লিখেছে, ট্রাম্পের মুখপাত্র মাত্র পাঁচ মিনিটের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চারটি মিথ্যা কথা বলেন। ওবামার সাবেক উপদেষ্টা ডেভিড এক্সেলরড বলেছেন, ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস মার্কিন জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট এমন সামান্য বিষয় নিয়ে মিথ্যাচার করবেন, তা ভাবা যায় না।