[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
মুক্তিজোট এর সংবাদ সম্মেলন
২৮-১১-২০১৭

 যে দাবীতে মুক্তিজোট গত সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল- বছর পর সে দাবীই পুনঃর্ব্যক্ত করল মুক্তিজোট।

 

জাতীয় রাজনীতিতে মুক্তিজোটই প্রথম ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন’ প্রসঙ্গে, নির্বাচন কমিশনকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাসহ নির্বাচনকালীন সময়ে “স্বরাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসন” মন্ত্রণালয় দেয়ার সুনির্দিষ্ট আইন পাশের দাবী তোলে।

 

বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন মারফত কয়েক বছর অন্তর অন্তর সাধারণত সরকার পরিবর্তন ঘটে এবং সেক্ষেত্রে তার ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় প্রধানত প্রশাসনসহ অপরাপর সাংবিধানিক বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মারফত। তাই সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্র বা বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতায় সর্বদা প্রাতিষ্ঠানিক রূপের ভাবনাটাই অগ্রগণ্য।

 

এক্ষেত্রে, নির্বাচন সংক্রান্ত আস্থা-অনাস্থা তথা জাতীয় সংকট মীমাংসায়-

 

মুক্তিজোট বছর আগে ১০ই অক্টোবর ২০১৩ সালে নিবন্ধন সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে, নির্বাচন কমিশনের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্রথম প্রেস ব্রিফিং-এ সেই প্রাতিষ্ঠানিক দাবীটিই তুলে ধরে।

 

কিন্তু তা পূরণ না হওয়ায় গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বয়কট করে মুক্তিজোট। (তথ্যসূত্রঃ দৈনিক মানবজমিন ০৫.১২.২০১৩, http://mzamin.com/details.php?mzamin=MTY4MA==&s=MQ== সহ অপরাপর গণমাধ্যম)

 

বিশেষতঃ আমাদের দাবী জানানোর প্রায় এক দেড় মাস পর বর্তমান সরকার তৎসময়ে এ দুটি মন্ত্রণালয়সহ আরও একাধিক মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেয়ার স্বদিচ্ছা দেখালেও মুক্তিজোটের দাবী অনুসারে --নির্বাচন কমিশনকে মাত্র দুটি মন্ত্রণালয় দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

 

উল্লেখ্য ‘এড়িয়ে যাওয়া’ বলতে, তৎসময়ে এই মন্ত্রণালয় দেয়ার প্রস্তাবটা সারগতভাবে ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন’ প্রসঙ্গে ছিল না বরং তা ছিল গ্রহনযোগ্যতার চলতি মানদণ্ড হিসেবে থাকা প্রধান দুটি জোটের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের শর্তে এবং উক্ত মন্ত্রণালয়সমূহ দেয়ার প্রস্তাবও ছিল মূলতঃ বিরোধী দলকে তৎকালীন সরকারে যোগ দেয়ারই আহবান মাত্র।

 

সেক্ষেত্রে মুক্তিজোটের প্রস্তাব ছিল ‘সুনির্দিষ্ট আইন’ প্রণয়ন তথা ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন’ প্রসঙ্গে নৈর্ব্যক্তিকতার শর্তে থাকা তার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মধ্যে অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ভাবে সক্ষম করে তোলা। কারণ গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলই সরকারে থাকে এবং নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন মূখ্যতঃ স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে সরকারমুখীনতায় ঝুলে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই সরকারে কোনো দল যোগ দেয়া না-দেয়া বা সরকারের অদল-বদলে তথা সরকার প্রসঙ্গ নিরপেক্ষ নির্বাচনের শর্তে প্রাসঙ্গিক নয় বরং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের শর্তে থাকে যে প্রতিষ্ঠান সেই নির্বাচন কমিশনকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সক্ষম তথা ‘নির্বাচনকালীন সময়ে’ উক্ত দুটি মন্ত্রণালয় দেয়ার আইন পাসই হয়- যুক্তিযুক্ত।

 

৪ বছর পর এবার ইসির সংলাপেও মুক্তিজোট তার দাবী পুনঃর্ব্যক্ত করে এবং অনেক রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবনার মধ্যেই সেই ‘স্বরাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসন’ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় কমিশনকে দেওয়ার দাবী উঠে এসেছে। এমনকি সার্চ কমিটি গঠন প্রসঙ্গে ইতোপূর্বে রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে বিএনপি এই দুইটি মন্ত্রণালয় সহ একাধিক মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে এবং সাম্প্রতিক সময়ে (গত ১৫ই নভেম্বর ২০১৭, জাতীয় প্রেস ক্লাবে) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক বলেন- “নির্বাচন কালে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিসি-এসপি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তখন ‘সরাসরি’ ইসির অধীনে কাজ করবে।” বলা বাহুল্য, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কথা উল্লেখ না করলেও ডিসি-এসপি বলতে এক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ততাকেই বুঝায়; বিশেষতঃ সরাসরি বলাতে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

সুতরাং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতায়- প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের শর্তে, মুক্তিজোটের সে দাবীই আজ জাতীয় রাজনীতিতে অনিবার্য দাবী হয়ে উঠেছে। আর এক্ষেত্রে কেবল মৌখিক বা ব্যক্তি ইচ্ছা নির্ভরতায় কিংবা মুখে মুখে নয় বরং সরকারের স্বদিচ্ছা একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক পথ ধরে নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধতাতেই যথার্থতা পেতে পারে এবং সব ক্ষেত্রে সেটাই কাম্য। 

 

অতএব অনতিবিলম্বে, নির্বাচনকালীন সময়ে, নির্বাচন কমিশনকেস্বরাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রণালয় দেয়ার সুনির্দিষ্ট আইন পাশ করতে হবে।

 

মুক্তিজোট- এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সংগঠন প্রধান- আবু লায়েস মুন্না, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান- মোঃ সিরাজুল ইসলাম, কাঠামো পর্ষদ প্রধান- মাহমুদ হাসান আবেদ, পরিচালনা বোর্ড প্রধান- মোঃ শাহজামাল আমিরুল, কন্ট্রোল বোর্ড প্রধান- মোঃ বদরুজ্জামান রিপন, এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রধান- এ্যাডভোকেট ক্রিস্টিও মারিও দ্য শিল্পী দাস, জাতীয় কাঠামোগত সার্বক্ষণিক- মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, গভর্নেন্স এক্সিকিউটিভ- মোঃ মজিবুল হক ও জাহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি কার্যনির্বাহী সভ্য- নিগার সুলতানা নিপা ও সায়মা নাজনীন।