[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
সব দলকে ভোটে আনার উদ্যোগ নিতে পরামর্শঃ সাবেক কমিশনারদের
২৪-১০-২০১৭

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলকে আনতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আস্থা অর্জনের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনাররা। ২৪শে অক্টোবর নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে সিইসি কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে তারা এমন পরামর্শ দেন।

 

সংলাপ থেকে বেরিয়ে সাবেক সিইসি এটিএম শামসুল হুদা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে কার্যকরী করতে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করতে হবে। অনেক শক্তিশালী করতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গেলে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার করতে হবে। আমরা এটা শুরু করেছিলাম। ভবিষ্যতে যা ব্যাপক আকারে দরকার।

 

তিনি আরও বলেন, কিছু প্রস্তাব আছে যা ইসির আওতাভুক্ত। কিছু প্রস্তাব আছে ইসির কিছু করার নেই। সীমানা নির্ধারণের ফলে গ্রামে আসন সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এজন্য ইসিকে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না। কেননা, আইন যেভাবে আছে তাতে এমনই হবে। তবে চাইলে আইন সংশোধন করে কীভাবে আসনের বিন্যাস করা যায় তা নির্ধারণ করতে হবে। শহরে বাড়ানো হবে নাকি গ্রামে বাড়ানো হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে এই আলোচনার সমাধান হবে না। কেননা, নির্বাচনের আর এক বছর বাকি আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা যদি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা যদি বলেন, এটা আর হবে না। এটা পারবেন না। কেননা, এটা সংবিধানে আছে। কাজেই যে পরিবেশ এবং অবস্থা আছে এটা মেনে নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ইসি তো এই পরিবর্তন আনতে পারে না। সুতরাং এটা নিয়ে আমাদের আলাপই হয়নি। কেননা, এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়।

 

বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন নিয়ে শামসুল হুদা বলেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী এখন নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ আলাদা। কাজেই তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া, এটা একটা রাজনৈতিক প্রশ্ন। একটা আসনে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেবেন এবং তারা ব্যবস্থা নিতে পারবে তার জন্যও আইনে আছে।

 

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এজন্য নির্বাচন কমিশনকে আস্থা অর্জন করতে হবে। দলগুলো যদি মনে করে মোটামুটি ভালো পরিবেশ তবেই তারা আসবে। ভোটার যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং বাড়ি ফিরতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা বিজিবি, র‌্যাব এবং পুলিশের মাধ্যমেই করা সম্ভব।

 

সাবেক সিইসি বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ইনডিসিপ্লিন। এটা ঠিক করতে না পারলে নিউক্লিয়ার অয়েপন দিয়েও নির্বাচন সুষ্ঠু করা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটারকেই দায়িত্ব দিতে হবে। ফাইভ স্টার, থ্রি স্টার নিয়ে ভোটের দিন ঘোরার দরকার নেই। এসপি, ডিসি’র দরকার নেই। ভোটাররাই তাদের এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে। এজন্য ৫শ জন ভোটারের জন্য একটি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র গড়ে দিতে হবে। সরকারি কর্মচারী দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।

 

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছুহুল হুসাইন বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এই ইস্যুটা রাজনৈতিক দলের। এটা সেটেলের বিষয়। সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা যে দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তারা থাকবে আইন অনুযায়ী। আমার মনে হয়ে, দলগুলোর মধ্যে গ্যাপ দূর করতে ইসি একটা উদ্যোগ নিতে পারে। এতে তারা সফল হবে এর কোনো গ্যারান্টি নেই। তবে সফল না হলেও কোনো দোষ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে নির্বাচন কমিশনকে শক্ত ও কঠোর হাতে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া সংসদ নির্বাচনের ছয় লাখ লোকবলকে মোটিভেট করতে হবে নিরপেক্ষ থাকার জন্য। কেননা, তারা নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন নিরপক্ষে হবে না। এজন্য যাদের নিয়োগ করা হবে, তাদের আগে থেকেই চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশন করতে হবে। এছাড়া প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও আমরা বলেছি। এক্ষেত্রে দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

 

সূচনা বক্তব্যে নূরুল হুদা বলেন, গত প্রায় তিন মাস ধরে অনেক মূল্যবান কথা শুনেছি, অনেক ভারি ভারি কথা শুনেছি। আজ আপনাদের পেয়ে অনেকটা হালকা অনুভব করছি। কবিতা আওড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্ততা ও উচ্ছ্বসিত সিইসি কবি গুরুর ‘সোনারতরী‘ কাব্যগ্রন্থের ‘মানসুন্দরী‘ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি তুলে ধরেন। সাবেক সিইসি, নির্বাচন কমিশনারদের পেয়ে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা জানান নূরুল হুদা। তিনি বলেন, আজ বিচিত্র অভিজ্ঞতার গল্প শুনতে চাই। গল্প পরামর্শ আকারে গ্রহণ করবো। যত্ন সহকারে তা সংরক্ষণ করবো, তা প্রয়োগ করবো।

 

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপের শুরুতে বলেন, এপর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে অনেক প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা, সবার সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা করা, নির্বাচনের সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোকে কমিশনের অধীনস্থ করা, নির্বাচনের আগে ও পরে সন্ত্রাস দমনের ব্যবস্থা করা, একই মঞ্চে নির্বাচন প্রচারনার ব্যবস্থা করা, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করা, নিবন্ধিত দলগুলোর দলীয় প্রধানদের সমন্বয়ে জাতীয় পরিষদ গঠন, সেনাবাহিনী মোতায়েনে পক্ষে বিপক্ষে মত এসেছে, ইভিএম ব্যবহার করার পক্ষে বিপক্ষে, সীমানা পুনঃনির্ধারণ করার পক্ষে বিপক্ষে মত এসেছে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেয়ার সুযোগ দেয়া, ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া, নির্বাচনী সব আইন বাংলায় করা, সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব পেয়েছি।

 

সিইসি কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সংলাপে অপর চার কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত ছিলেন। সংলাপে সাবেক দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার,৭ জন কমিশনারসহ ১৬ জন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন।

 

৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল ইসি। এরপর গত ২৪শে আগস্ট থেকে ১৯শে অক্টোবর পর্যন্ত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সে ধারাবাহিকতায় ২২শে অক্টোবর নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে এবং ২৩শে অক্টোবর নারী নেত্রীদের সঙ্গে এবং সব শেষে ২৪শে অক্টোবর সাবেক ইসি কমিশনারদের সাথে সংলাপ এর মধ্যেদিয়ে শেষ হলো ইসির ধারাবাহিক এ সংলাপ।

 

তথ্যসূত্রঃ

http://www.mathabhanga.com/news/116829/

http://www.banglanews24.com/Election-Comission/news/bd/611912.details

http://www.dhakatimes24.com/2017/10/24/54230/