[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
নারী নেত্রীদের সঙ্গে ইসির সংলাপ- রাজনৈতিক দলে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ
২৩-১০-২০১৭

রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে তাগিদ দিয়েছেন নারী নেত্রীরা। যেসব রাজনৈতিক দল এই বিধানের বিরোধিতা করে তাদের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশও করেছেন তারা।

 

২৩শে অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়ে নারী নেত্রীরা এই সুপারিশ করেন। ইসি গঠনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম নারী নেত্রীদের সংলাপে ডাকা হয়েছে। সংলাপে ২২ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও মাত্র ১৩ জন নারী নেত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

সংলাপ শেষে নারী প্রগতি সংঘের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোকেয়া কবির সাংবাদিকদের বলেন,  অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সংলাপের সময় রাজনৈতিক দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বিধানের বিরোধিতা করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। সংবিধান বিরোধী এই ধরনের দাবি যারা করেছে তাদের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির দাবি করেছি। বাংলাদেশের নারীদের সমানাধিকার নাই। তারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে চলাফেরা, রাজনৈতিক দলগুলো থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ পায় না। আমরা এটি নিশ্চিত করার জন্য বলেছি। মেয়েরা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায় না এজন্য তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এছাড়া নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার না করার বিষয়ে কথা হয়েছে। কারণ ধর্মের ব্যবহারের ফলে নারীরা সবচেয়ে বেশি ভিকটিম হয়। প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যারোমা দত্ত বলেন, অনেক নতুন প্রজন্মের ভোটার রয়েছে। তাদের সচেতন করতে হবে। প্রতিবারই আমরা দেখি নির্বাচনের আগে ও পরে নারীরা সহিংসতার শিকার হয়। এব্যাপারে নারীদের যাতে সাপোর্ট দেয়া হয় এবং সহিংসতা না ঘটে। বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী নারীরা যাতে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের জেনারেল সেক্রেটারি পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, নির্বাচনে নারীরা যাতে অন্যের মতামতের উপর প্রভাবিত না হয়ে নিজের মতামত প্রয়োগ করতে পারে তার ব্যবস্থা ইসিকে করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় মসজিদে খুতবা দিয়ে নারীদের ভোটে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু এটা না করে তাদের ভোট দিতে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া উচিত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সবগুলো নির্বাচনে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সমান সুযোগ ও তাদের জন্য পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছে নারী নেত্রীরা। এছাড়াও সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের পাশাপাশি নারীরা যাতে আরো বেশি করে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে পারে সেই ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা। এছাড়াও সংলাপে সংরক্ষিত নারী আসন বাড়ানো, সরাসরি ভোটে নারীদের বেশি করে মনোনয়ন, না ভোট রাখার দাবিসহ বিভিন্ন দাবি ওঠে নারী নেত্রীদের পক্ষ থেকে। সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিইসি কে এম নূরুল হুদা দেশের উন্নয়নে নারীদের অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা করতে চাই। কেননা, বাংলাদেশের নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। কে এম নূরুল হুদা বলেন, সরকার পরিচালনায় নীতিনির্ধারণী, রাজনীতিতে দপ্তর ব্যবস্থাপনায়, ব্যবসা, বিচারকার্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সামরিক বাহিনী, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায়, কূটনীতি, শ্রমবাজারে এমনকি ইসিতেও নারীদের অবস্থান সুসংগঠিত রয়েছে। দেশ গঠনে, দেশ পরিচালনায় নারীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষ সকলের অংশগ্রহণে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার পথে এগিয়ে গেছে।

 

সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন ফর ইউ ফর এভারের (ফাইফে) প্রেসিডেন্ট রেহানা সিদ্দিকী, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব উইমেন ফর সেলফ এমপাওয়ারমেন্টের (বাউশী) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাহবুবা বেগম, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মাসহুদা খাতুন শেফালী, ডিজ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ এসোসিয়েশনের (ডিআরআরএ) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মালেকা বানু,  নারী নেত্রী রেখা চৌধুরী,  রিনা সেনগুপ্তা, মানসুরা আকতার, ফাতেমা আক্তার, নাসরিন বেগম প্রমুখ।

 

৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি। এরপর গত ২৪শে আগস্ট থেকে ১৯শে অক্টোবর পর্যন্ত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। গত রোববার নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গেও সংলাপ করেছে সংস্থাটি। 

 

তথ্যসূত্রঃ

http://www.ittefaq.com.bd/national/2017/10/23/132658.html

http://bonikbarta.net/bangla/news/2017-10-24/135938/

http://mini.thesangbad.net/news/lastpage/