[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসির নির্বাচনী সংলাপঃ ভোট পর্যবেক্ষণে ইসির প্রশিক্ষণ চান পর্যবেক্ষকরা
২২-১০-২০১৭

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্নে এবং ইসির নিয়মের মধ্যে পর্যবেক্ষণে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধানরা।

 

২২শে অক্টোবর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসির সংলাপে এ দাবি জানানো হয়। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন সামগ্রিক ভোট কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেন। পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আমরা আপনাদের পরামর্শ নিয়েই বিধি প্রণয়ন করেছি। আপনারা যাদের নির্বাচনী দায়িত্বে মাঠে পাঠাবেন, তাদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেবেন বলে আশা করি।


সিইসির সভাপতিত্বে সংলাপে প্রায় ৩০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এ সংলাপ চলে বেলা একটা পর্যন্ত। পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে কে এম নুরুল হুদা বলেন, আপনারা নির্বাচন চলাকালে মাঠে-ময়দানে বিচরণ করবেন। আপনারা সঠিক সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। আপনাদের পরামর্শ আমরা গুরুত্বসহকারে নিয়ে বিবেচনা করব।


সংলাপ শেষে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া মাঠে গেলে নানা রকমের আনাড়িপনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সে কারণে আমি সুনির্দিষ্টভাবে প্রস্তাব দিয়েছি যাতে ইলেক্টোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ট্রেনিং অব ট্রেইনারের আয়োজন করা হয়। পর্যবেক্ষণের সময় কী করা যাবে কী করা যাবে না, আর কতক্ষণ করা যাবে- সেগুলো যদি হাতে কলমে বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাহলে ভালো হবে।


ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক আবদুল আলিম বলেন, পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে যে ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসে সেগুলো আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের আগের দিন আমাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। আমরা আরো একটু আগে কার্ড দেওয়ার জন্য বলেছি। এ ছাড়া কেন্দ্রে কম সময়ে থাকার জন্য বলা হয়। এই কম সময়টা কতটুকু তা নির্ধারণ করতে বলেছি। দলের পক্ষে পর্যবেক্ষক হয়ে কাজ করার অভিযোগের বিষয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আবদুল  আলিম  বলেন, ‘ইসির একটি গাইডলাইন আছে। আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন কমিশন কোনো পর্যবেক্ষককে এই বিধি লঙ্ঘন করার জন্য কখনো কাউকে বরখাস্ত করেনি। আমাদের ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি কোড অব কনডাক্ট আছে। সেটা আমরা শক্তভাবে মেনে চলি। ভোটার তালিকা একেক বছর একেক সময়ে শুরু না করে একটি নির্দিষ্ট দিনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করা এবং ওই দিনটিকে জাতীয় ভোটার দিবস ঘোষণা করার জন্য তারা প্রস্তাব করেন বলে জানান আবদুল আলিম।


ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলেন, বর্তমান পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী ২৫ বছরের নিচে কেউ পর্যবেক্ষক হতে পারে না। আমি তাদের বলেছি এটি ২০ থেকে ২৫ বছর করা হোক। নীতিমালা অনুযায়ী এক জায়গার পর্যবেক্ষক অন্য জায়গায় পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদেরও পরীক্ষা করে এই সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব  করেছেন তারা।


যাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক মো. আবদুল আলীম, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. সামসুল হক, পলিসি রিসার্স স্টাডিজ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, ডাক দিয়ে যাই-এর নির্বাহী পরিচালক শাহজাহান গাজী, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুর্শিদ, ওয়েব ফাইন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, মানবিক সাহায্য সংস্থার (এমএসএস) নির্বাহী পরিচালক এ এন এম ইমাম হাসনাত, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব সাইফুল ইসলাম দিলদার, ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টারের (এমএমসি) পরিচালক কামরুল হাসান মঞ্জু, হোমস্টেড রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল মালেক, ডেমোক্রেসিওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রহমান, ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খানম, ইনোভেশন ক্যাপিটাল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট এ এইচ এম নোমান, আইইডির নির্বাহী পরিচালক নোমান আহমেদ খান, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রোখসানা খন্দকার, অ্যাকশন অব ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম, সোসাইটি ফর রুরাল বেসিক নীড-স্রাবনের প্রধান নির্বাহী সাকিব আহমেদ বশার, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক এস এম হারুন অর রশীদ লাল, উত্তরণের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এনডিপি) পরিচালক আলাউদ্দিন খান, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ কে আরজু, গণকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শামিমা ইয়াসমিন, লাইট হাউজের প্রধান নির্বাহী হারুন অর রশীদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক সেলিমা সারওয়ার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সরদার হুমায়ুন কবির, বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক এনজেলা গোমেজ এবং গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্রের (গাক) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আলমগীর হোসাইন।


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ নেয়ার অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ করছে নির্বাচন কমিশন। গত ৩১শে জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে ইসির এবারের সংলাপ শুরু করে। ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ইসি। এরপর ২৪ আগস্ট থেকে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন যা শেষ হয় ১৯শে অক্টোবর। আগামী ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রী এবং ২৪ অক্টোবর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপসূচি নির্ধারণ রয়েছে।

 

তথ্যসূত্রঃ

http://www.ajkalerkhobor.com/details.php?id=40860

http://www.dainik-destiny.com/2017/10/22/

https://www.manobkantha.com/