[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসির সংলাপে জেপির ৮ দফা এবং এলডিপির ২১ দফা প্রস্তাব
১৯-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ১৯শে অক্টোবর সকালে জাতীয় পার্টির (জেপি) দলীয় চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে  ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল ৮ দফা আর বিকেলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল ১২ দফা প্রস্তাব দেন ইসিকে।

 

সংলাপ শেষে জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ যতটুকু না করলে নয়, তার বেশি করা ঠিক হবে না। বর্তমানে নতুন করে কোনো আদমশুমারি হয়নি। এখন কত জনসংখ্যা তার সঠিক হিসাবও নেই; ছিটমহলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা লাগবে। নতুন উপজেলা হলে সংযুক্ত করা লাগতে পারে। এর বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সব দল একমত না হলে এ পথে যাওয়া ঠিক হবে না। সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে নানা কথা উঠেছে। এটি ইসির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ইসি যদি মনে করেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়নের প্রয়োজন হলে সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সেনা মোতায়েন করা যেতে পারে। সেনা মোতায়েনের বিষয়টি ইসির উপর আমরা ছেড়ে দিয়েছি। অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশটি বাংলায় করার ক্ষেত্রে ইংরেজির সঙ্গে যেন বাংলা সাংঘর্ষিক না হয়, ভোটার তালিকা হালনাগাদের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সন্নিবেশিত করা ও সঠিকভাবে ভোটারের বাড়ি বাড়ি যাওয়া, একই কেন্দ্রে বেশি বুথ না থাকা, না ভোটের বিধান চালু, রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র প্রতিপালন এবং নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে একটি সেল গঠন।

 

তিনি আরও বলেন, অর্থবহ অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই। সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক। তবে একটি বা দুটি রাজনৈতিক দল অংশ না নিলে অর্থবহ হবে না-তা নয়। সত্তরের নির্বাচনে মওলানা ভাসানীর দল অংশ না নিলেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আগামীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ইসিকে একটি নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে বলেছি। ইসির সামনে ‘সুন্দর নির্বাচন করাই’ আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের সময় ইসি ও সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা থাকলে সহায়ক সরকারের কোনো দরকার নেই।

 

এদিকে সংলাপ শেষে জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য তো সংবিধানের বাইরে যাবে না; গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বারবার যেখানে আঘাত করা হয়েছে, সেখানে আমাদের একটা স্ট্যান্ড ছিল। আমাদের অবস্থান নির্বাচনের পক্ষে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, প্র্যাকটিস করতে দেওয়া হয়নি।’ সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সেনা মোতায়েনের পক্ষে না, বিপক্ষেও না।’

     

অন্যদিকে সংলাপ শেষে অলি আহমেদ বলেন, প্রতি ১০ বছর পর পর সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য ব্যবস্থা করতে হয়। এটা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। পৃথিবীর অনেক সভ্য দেশেও এ ব্যবস্থা চালু নেই। এ জন্য ২০১৩ সালে যে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে কারো আপত্তি রয়েছে বলে মনে করি না। এ জন্য সীমানা পুনর্নির্ধারণে কাজ বন্ধ করার প্রস্তাব করেছি।

 

তিনি আরও জানান, ভোটের ১৫ দিন আগ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনা মোতায়েন অপরিহার্য। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনার তদারকি ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরূপ ক্ষমতা দেওয়া জরুরি। এমনকি বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ও ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়ার সুপারিশসহ ইভিএম চালুর বিষয়ে সবার ঐক্যমত নেওয়ার পক্ষে এলডিপি।


নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব না থাকলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দেশের প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান অলি আহমেদ। লিখিত প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের ভোট ছাড়া অন্য নির্বাচনগুলো ছিল বিতর্কিত। ইসির রোডম্যাপ বিভ্রান্তিকর, সময়ক্ষেপণ ও অহেতুক জনঅর্থ ব্যয়ের একটি প্রস্তাব। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসির ভূমিকা আরো স্পষ্ট হওয়া উচিত। এছাড়াও ১৬তম সংশোধনীর প্রসঙ্গ টেনে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ১০ম ও ১১তম সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে রায়ে বলা হয়েছে। ইসিকে শক্তিশালী করারও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ইসি এখনও দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

 

দুটি দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ২৪শে আগস্ট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের  সঙ্গে বৈঠক শুরু করে এবং এলডিপির সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করলো ইসি।

 

তথ্যসূত্রঃ

http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/first-page/2017/10/20/230432.html

https://bangla.bdnews24.com/politics/article1410173.bdnews

http://www.bd-pratidin.com/first-page/2017/10/20/273664