[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
বিএনএফ ও বিজেপির আলাদাভাবে ৫ দফা সুপারিশ ইসিকে
১৭-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ১৭ই অক্টোবর সকালে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এমপির নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল ৫ দফা এবং বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল ৫ দফা সুপারিশ করেন কমিশনকে।

 

বৈঠক শেষে বিএনএফ সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনকালীন একটি সরকার থাকবে সেটা হবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে। পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী সংসদ বহাল রেখে দশম সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী দলসমূহকে নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নবম সংসদের সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে এক দশমাংশ টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের প্রস্তাব করেছি।’

 

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা বিএনপির কথাও বলেছি। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি, এলডিপি, বিজেপি থেকে ইচ্ছা করলে প্রধানমন্ত্রী টেকনোক্রেট মন্ত্রী নিতে পারেন।’ তিনি বলেন, সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই না। ইসির অধীনে নির্বাচন হবে। তখনকার সময়ের সরকার নির্বাহী কাজে সহযোগিতা করবে।  নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে মত দিয়ে বিএনএফ সভাপতি আরও বলেন, সব কাজে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘সিইসি আমাকে প্রস্তাব দিয়েছেন সব দলের প্রতিনিধি নিয়ে একটি সভা করার। তিনি বলেছেন এ ব্যাপারে আপনি উদ্যোগী হোন। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে এ সভার আয়োজন করবো বলে আশা করি।’

 

দলটির অন্যন্য প্রস্তাবগুলো হলো- নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা, সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে বাৎসরিক আর্থিক সহযোগিতা (থোক বরাদ্দ) দিতে কমিশনকে উদ্যোগ নেয়া, নির্বাচনে ইসির পক্ষ থেকে অভিন্ন পোস্টার, মঞ্চ ব্যবস্থা ও ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।

 

অন্যদিকে বিজেপির প্রস্তাব গুলো হচ্ছে- নির্বাচন কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার, নির্বাচন কমিশনের আস্থা অর্জন, হলফনামার পাশাপাশি অঙ্গীকারনামা। সংলাপে বিজেপি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিদ্যমান, তাতে সহায়ক সরকার কিংবা নির্দলীয় সরকার ব্যতীত ইসির পক্ষে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা অনেকাংশে কঠিন হয়ে পড়বে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবনায় বলা হয়- সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে মোতায়ন করতে হবে। সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার. জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্বাচনের আগে পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের আস্থা অর্জন প্রসঙ্গে বলা হয়- ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন এবং মেয়র নির্বাচনে যে অনিয়ম এবং কারচুপির দালিলিক প্রমাণ গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তাতে নির্বাচন কমিশন জনগণের কাছে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। জনগণ ও নির্বাচন কমিশনের এই দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গত ৩১শে জুলাই সুশীলসমাজের প্রতিনিধি; ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং ২৪শে আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সাথে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে ইসি। এ পর্যন্ত ৩৭টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ করেছে কমিশন। ১৮ই অক্টোবর আওয়ামী লীগ, ১৯ অক্টোবর সকালে জাতীয় পার্টি- জেপি; বিকেলে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপির সাথে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। এরপর ২২ অক্টোবর পর্যবেক্ষক, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রী এবং ২৪ অক্টোবর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সাথেও বসবে ইসি।