[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসিতে বিএনপির ২০ দফা প্রস্তাব
১৫-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ১৫ই অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সংলাপে বিএনপি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবসহ ১৬ সদস্য এতে অংশ নেন।

 

২০ দফা লিখিত প্রস্তাবে রয়েছে- দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণ, ভোটগ্রহণের ৯০ দিন পূর্বে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, সরকারকে দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গ্রহণ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দী নেতা-কর্মীদের মুক্তি, এখন থেকেই রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ সকল স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিতকরণ, এক-এগারো সরকারের সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানে পরিবর্তন এনে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করে ভোটগ্রহণ, নির্বাচনের ৬ মাস পূর্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনার সুপারিশ, ১২ মাসের মধ্যে দলের নিবন্ধন না দেওয়া, ছবিসহ ভোটার তালিকা ভোটকেন্দ্রে সরবরাহ করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও বন্ধ গণমাধ্যম চালু, নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক চালু, প্রতি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ডিজিটাল ভোটিং মেশিন ব্যবহার না করা ও  কালো-পেশি শক্তি ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশও করেছেন তাঁরা।

 

এছাড়াও নির্বাচনকালীন সিদ্ধান্ত পুরো কমিশনের মাধ্যমে নেওয়া, নির্বাচনপূর্ব সময়ের শুরুতেই সকল মেট্রোপলিট্রন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশের সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করা, ২০০৮ সালের আগে যে সীমানা ছিল সেই সীমানায় নির্বাচন, ব্যালট পেপারে দৃশ্যমান জলছাপের ব্যবস্থা, আচরণ বিধি প্রতিপালনে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাবও রয়েছে।

 

সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে ইসি। গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। পরে ১৬ ও ১৭ আগস্ট অর্ধশত গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সংলাপ করে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করে ইসি। ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ২৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের  সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি। 

 
সংলাপে আসা এ পর্যন্ত সুপারিশগুলোর মধ্যে সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন, সেনা মোতায়েন, বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, প্রতি ভোটকেন্দ্রে সিসি টিভি/ক্যামেরা স্থাপন, নবম সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, দশম সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, ‘না ভোট’ প্রবর্তন, প্রবাসে ভোটারধিকার প্রয়োগ, জাতীয় পরিষদ গঠন, নির্বাচনকালীন অস্থায়ী সরকার গঠন, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালীন সময়ে ইসির অধীনে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, দলের নির্বাহী কমিটিতে বাধ্যতামূলকভাবে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান তুলে নেওয়া অন্যতম।

 

 

তথ্যসূত্রঃ

https://www.sheershakhobor.com/politics/2017/10/15/

http://samakal.com/politics/article/1710929/

https://www.sheershanews24.com/politics/details/10385/

http://www.banglanews24.com/