[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসির সংলাপে সিপিবির ১৬ দফা এবং গণতন্ত্রী পার্টির ২১ দফা
১২-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ১২ই অক্টোবর সকালে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল ১৬ দফা এবং গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশ আলীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল ২১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন কমিশনকে।

 
 সংলাপ শেষে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সিইসির কাছে ১৬ দফা লিখিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- তফসিল ঘোষণার পূর্বেই বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে, যতদিন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে ততদিন আরো তিনটি ব্যবস্থা- সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১০০ তে উন্নীত ও সরাসরি ভোট করতে হবে, নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ওই প্রতিনিধিকে প্রত্যাহারের বিধান করতে হবে ও না ভোটের বিধান যুক্ত করতে হবে।
 

দলটির অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা; স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিধান বাতিল, জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হতে হলে কোনো ব্যক্তিকে কমপক্ষে ৫ বছর রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য শর্ত যোগ, নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা, সন্ত্রাস, পেশি শক্তির প্রভাব ও দুর্বৃত্তমুক্ত নির্বাচন করা, নির্বাচনে ধর্ম, সাম্প্রদায়িকতা ও আঞ্চলিকতার অপব্যবহার রোধ করা, নির্বাচনে সকলের সম-সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণে ও নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা বিধান করা, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও বিধির সংস্কার করা এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র আদালত গঠন করতে হবে।

 

অন্যদিকে সংলাপ শেষে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‍‌‌সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ২১ দফা প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা বলেছি- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানের আলোকে বর্তমান সরকারের বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার দৈনন্দিন কার্যাবলী ছাড়া নীতিগত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না।’

 

দলটির অন্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সময় স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন; স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধিনস্ত থাকা, নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া; যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ও জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি, মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত না করা; প্রবাসীদের ভোটার ভোটাধিকার; ফৌজদারি দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয়া; নির্বাচনে ধর্মের সর্বপ্রকার ব্যবহার, সাম্প্রদায়িক প্রচার প্রচারণা ও ভোট চাওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ করা; স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দলকে নিবন্ধন না দেয়া; সমস্ত স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের চাকরি ছাড়ার পর নির্বাচনে অংশ নেওয়া।

 

দুটি দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে ৩০টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করল নির্বাচন কমিশন। গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ২৪শে আগস্ট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের  সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি।

 

 

তথ্যসূত্রঃ

http://www.banglatribune.com/national/news/251365

http://www.banglanews24.com/Election-Comission/news/bd/608914.details

http://www.banglanews24.com/Election-Comission/news/bd/608914.details