[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসির সংলাপে ওয়ার্কার্স পাটির ১৪ দফা এবং ন্যাপ এর ১৬ দফা
১১-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দলের সঙ্গে ইসির সংলাপে ওয়ার্কার্স প্রার্টির ১৪ দফা এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ১৬ দফা প্রস্তাব দেন নির্বাচন কমিশনকে।

 

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ১১ই অক্টোবর সকালে ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিকেলে ন্যাপ এর কার্যকরি সভাপতি মিসেস আমিনা আহমেদের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়।


সংলাপ  শেষে পার্টির সভাপতি রাশেদ খান  মেনন ইসিকে দেয়া দলের প্র্রস্তাবের কথা তুলে ধরে বলেন, কার অধীনে নির্বাচন হবে তা নিয়ে বির্তকের অবকাশ আছে বলে মনে করি না। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। তবে নির্বাচনের সময় সরকার নিয়মিত কাজ ছাড়া নীতিগত  কোনো সিদ্ধান্ত  নেবে না। তবে দলটি নির্বাচনের সময় স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে চায়।


নির্বাচনে  সেনা  মোতায়েনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে  তিনি আরও বলেন, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে  সেনা  মোতায়েনের  কোনো অবকাশ  নেই। এ বিষয়ে আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো নয়, তবে কমিশন চাইলে  ক্ষেত্রবিশেষ স্ট্রাইকিং  ফোর্স হিসেবে  সেনা  মোতায়েন করতে পারে, যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবে।


এছাড়াও সংলাপে দলটি পাইলট প্রকল্প হিসাবে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে। মেনন বলেন, ব্যালট  পেপারের পাশাপাশি প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার এক বা দুইটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা  যেতে প্রারে। এতে ভবিষ্যতে ইভিএম ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হবে।

 

এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি ধর্মীয় ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করে। একই সঙ্গে ইতিপূর্বে কোনো দলকে নিবন্ধন  দেয়া হয়ে থাকলে তা বাতিলের দাবিও জানায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকা দাখিলের বিধানটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তা বাতিল চেয়েছে।

 

অন্যদিকে ন্যাপ এর প্রস্তাবনায় বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধানের আলোকে বর্তমান সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সব দল এবং প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে; নির্বাচনে “স্ট্রাইকিং ফোর্স” হিসেবে বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। এ বিষয়টি ‍নিয়ে অহেতুক বিতর্ক জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াবে; স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী দল বা ব্যক্তি যেন কোনভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে পারে সে জন্য আইনের সংস্কার; সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা এবং নারী আসনে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা; প্রার্থী নিজে নির্বাচনী ব্যয় করবে না। ইসির উদ্যোগে প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা, পোস্টার, নির্বাচনী সভার তারিখ স্থান নির্ধারণ ও ভোটারের স্লিপ বিতরণের ব্যবস্থা করা; মাস্তানির দৌরাত্ম এবং টাকার অপব্যবহার বন্ধে আইন সংস্কার, সম্ভব হলে সকল ভোট কেন্দ্রে (৪০ হাজার প্রায়) সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা।

 

অন্যান্য প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনী জামানত ১০ হাজার টাকার মধ্যে সীমিত রাখা; নির্বাচনে না ভোট রাখা; প্রার্থীদের হলফনামা এনবিআর ও দুদকের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা; অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা; সংবাদকর্মী এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; আচরণ বিধি না মানলে প্রার্থীতা বাতিলসহ ১ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা; নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা নির্বাচনী ব্যয় বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ কমিশনে জমা দেওয়া। 
 

দুটি দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে ৩০টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করল নির্বাচন কমিশন। গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ২৪শে আগস্ট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের  সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি।