[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসি সংলাপে বিকল্প ধারার ১৩ দফা আর ইসলামী ঐক্যজোটের ১১ দফা প্রস্তাব
১০-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবে ১০ই অক্টোবর সকালে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপে বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল ১৩ দফা এবং বিকেলে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল ১১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন।

 
বিকল্পধারার লিখিত প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-নির্বাচনের এক মাস আগে সেনাবাহিনীকে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা, সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেন নির্বাচনের দিন ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেয় তার বিধান করা, ভোট শেষের ১৫ দিন পর্যন্ত শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সেনাবাহিনী নিয়োজিত রাখা। লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, প্রচলিত বিধানে জেলা প্রশাসকরা পদাধিকার বলে স্ব স্ব জেলায় রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু অধিকাংশ জেলা প্রশাসকই রাজনৈতিক বিবেচনায় নিযুক্ত হয়ে থাকেন এবং তারা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর আমলে জেলা প্রশাসকগণ নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে আসেন, তদ্রুপ জেলা প্রশাসকগণ নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচন কমিশনের অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা যে জেলায় ভোটার হবেন তাদের সেই জেলার দায়িত্ব দেয়া যাবে না। ভোটার তালিকা নির্ভুল এবং হালনাগাদ করতে প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। এ মুহূর্তে কোনো সীমানা পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজন নেই বলে মনে করে বিকল্পধারা। দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় প্রতিবারই জাতীয় নির্বাচনের আগে কমিশন কর্তৃক কিছু কিছু সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এতে বিভিন্ন বিতর্ক এবং জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাই এই মুহূর্তে আর কোনো সীমানা পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজন নেই। জনপ্রতিনিধিদের একটি নির্ধারিত এলাকায় বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য এটা প্রয়োজন।

 

এছাড়া নমিনেশন পেপার যাচাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া, প্রত্যেক প্রার্থীকে সমান মাপকাঠিতে বিচার করা, নির্বাচনী প্রচারণার সময় সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেয়া, সরকারি বা প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে না পারা, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা, সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে প্রতিটি বুথে ভোটারের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৫০০ এর বেশি না হওয়া, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ৩-৫ জন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৩-৫ জন সদস্যকে নিয়োজিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

 

বিকল্পধারার প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে ভোটার কার্ড ব্যতীত অন্য কোনো অপরিচিতিতে ভোট দিতে না পারা, কেন্দ্রের ভেতর প্রার্থীর কোনো এজেন্ট বা প্রতিনিধি থাকার পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা, ভোট কেন্দ্র প্রাঙ্গণে কোনো প্রার্থীর অফিস স্থাপন করতে না দেয়া এবং প্রার্থীর ব্যাজ পরিহিত কোনো প্রতিনিধি না থাকা, ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের পরেও ‘না ভোট’- এর বিধান থাকা, সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তির চেয়ে না ভোটের সংখ্যা বেশি হলে সেক্ষেত্রে সেই আসনে ৯০ দিনের মধ্যে পুনঃভোটের ব্যবস্থা করা, ভোট শেষে সব প্রার্থীর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ভোটগণনা শুরু করা, ফলাফল গণনা শিটে সব প্রার্থীর প্রতিনিধির স্বাক্ষর নেয়া, ফলাফল ঘোষণাপত্রে উপস্থিত পুলিশ, সেনাপ্রতিনিধি ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকের স্বাক্ষর থাকা।

 

এছাড়া প্রত্যেক নির্বাচনী কেন্দ্রে যারা দায়িত্ব পালন করবেন (যেমন ইউএনও, ওসি, প্রিসাইডিং অফিসার, সেনাবাহিনীর সদস্য) তাঁরা যেন জনসমক্ষে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআন/গীতা/বাইবেল ও ত্রিপিটক ছুঁয়ে নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার শপথ নেন সে প্রস্তাবও দিয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশ।

 

অন্যদিকে বিকেলে সংলাপ শেষে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান ‘নির্বাচনের সময় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে স্পর্শকাতর এলাকায় সেনাবাহিনী নিয়োগ দিতে হবে। ঢালাওভাবে সেনাবাহিনী নিয়োগের প্রয়োজন নেই।’

 

ইসলামী ঐক্যজোটের লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরে দলটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, নির্বাচনে অনৈতিকভাবে জেতার প্রয়াসকে প্রতিহত করা; পোলিং বুথে সব প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের নির্ভয়ে কাজ করবার পরিবেশ নিশ্চিত করা; প্রতিটি কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল জনসমক্ষে ঘোষণা করা এবং প্রত্যেক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সার্টিফিকেট ইস্যু বাধ্যতামূলক করাসহ নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সব প্রার্থীর নাম, দল ও প্রতীকের উল্লেখ সম্বলিত অভিন্ন পোস্টারের ব্যবস্থা করা। এতে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাবেন।

 

এছাড়াও দলটির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনকালে সবধরনের রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও অহেতুক আঞ্চলিক অফিস স্থাপন বন্ধ করা; তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন পর্যন্ত বিদ্যামান সরকার শুধু রুটিনওয়ার্ক করবেন। এমন কোনো পরিকল্পনা নিতে পারবেন না, যাতে ভোটাররা প্রভাবিত হয়।

 

নির্বাচনী বিরোধ পাঁচ বছরেও শেষ না হওয়ায় বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্বাচনী অভিযোগ তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান করা। এর জন্য হাইকোর্টে একটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করা যেতে পারে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান লতিফ নেজামী।

 

নির্বাচনে কালো টাকা পেশীশক্তি প্রভাবমুক্ত রাখার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ নৈতিক স্থলনের অভিযোগে দণ্ডিত ব্যক্তিদের (দুই বছর পর) সংসদ নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করা সুযোগ বাতিল করা; যেসব দল ৩০ এর অধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেবে, সে সব দলকে বেতার ও টিভিসহ সরকারি প্রচার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সুযোগ দেয়ার বর্তমান নিয়ম বহাল রাখাসহ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকেও নিরপেক্ষ করতে হবে। তাই রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কমিশন থেকে প্রত্যাহার করা।

    

দুটি দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে ২৮টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করল নির্বাচন কমিশন। গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ২৪শে আগস্ট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের  সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি।

 

 

তথ্য সূত্রঃ

http://www.breakingnews.com.bd/bangla/politics/39844.online

http://www.dhakatimes24.com/2017/10/10/52261/

http://www.poriborton.com/national/76607