[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসির সংলাপে জাতীয় পার্টির ৮ দফা
০৯-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে জাতীয় পার্টি ৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইসিকে। ৯ই অক্টোবর ইসির সঙ্গে সংলাপে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান  ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির ২৫ সদস্যর প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়।

 

সংলাপ শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে দলীয় প্রস্তাবের কথা ‍উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জাতীয় পার্টির প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। দলটি মনে করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ সাধনের মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।’

 

‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ ইসির এখতিয়ারভুক্ত নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটা তো সরকার করবেন এবং গতবারও তাই করেছিলেন। আশা করি, এবারও করবেন।’

 

সংলাপের লিখিত প্রস্তাবে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে। দলীয় প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ করতে হবে। নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনে কোনও বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দায়িত্বে রাখা যাবে না।’

 

দলটি আরও মনে করে, নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে- সব খরচ তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করতে হবে। প্রচার কাজের গাড়িবহর সীমিত রাখার বিধান রাখতে হবে।

 

এছাড়াও সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ করতে বারবার সীমানা নির্ধারণ না করে ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে।

 

নির্বাচনকালীন সময়ে প্রয়োজনে সংবিধানের ধারা-উপধারা সংশোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়ে আসতে হবে।

 

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনসহ নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে বিবেচনা করার প্রস্তাব করে বলা হয়, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে সুষ্ঠু নির্বচনের ব্যবস্থা করা খুবই কঠিন ব্যাপার। এই পদ্ধতিতে সন্ত্রাসী, মাস্তান, কালো টাকার মালিক, অর্থ ও বিত্তের জোরে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন কিংবা নির্বাচনে জিতে আসার সুযোগ রয়ে গেছে। এজন্য নির্বাচন শুধু দলের ভিত্তিতে হতে পারে। অর্থাৎ ভোটাররা দলকে ভোট দেবেন। সরাসরি প্রার্থীকে নয়। পরে প্রত্যেক দল প্রাপ্তভোটের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সদস্য পাবে।

 

সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে ইসি। গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। পরে ১৬ ও ১৭ আগস্ট অর্ধশত গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সংলাপ করে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করে ইসি। ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ২৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি।

 

তথ্য সূত্রঃ

http://www.banglatribune.com/politics/news/250331/

https://www.dailyinqilab.com/article/99028/

http://www.ajkalerkhobor.com/details.php?id=39921