[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসির সংলাপে দুই দলের ১৪ দফা ও ১৭ দফা প্রস্তাব
০৮-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি ১৪ দফা আর ১৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। 

 

৮ই অক্টোবর সকালে জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব সংলাপের পর সাংবাদিকদের ১৪ দফা সম্পর্কে বলেন, কোনো সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনো দেশেই সম্ভব হয় না। সে কারণে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সিইসিকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সেই সঙ্গে সন্ত্রাস, মাস্তানি, কালো টাকার ব্যবহার, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন তথাকথিত পুলিশ দিয়ে রোধ করা সম্ভব হবে না। সে কারণে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, শুধু রাস্তাঘাটে ঘুরাঘুরি ও টহল দেয়ার জন্য সেনাবাহিনী নয়, নির্বাচনী যে কোনো অনিয়ম প্রতিরোধে সেনাবাহিনীকে তাৎক্ষণিক ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামাতে হবে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী যদি জাতীয় যেকোনো দুর্যোগ যেমন বন্যা, ত্রাণ, রাস্তা নির্মাণ ও রোহিঙ্গাদের জন্য মাঠে নামতে পারে তাহলে কেন নির্বাচনে তাদের নামানো হবে না। দলটির অন্যান্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনী মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি, না ভোটের ব্যবস্থা করা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত, নির্বাচনী সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের টাকায় যাতে হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে সরকারি যানবাহন ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য ইসি’র পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া। এছাড়া ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছে দলটি। নির্বাচনকালীন সরকারের  মেয়াদেই সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা ও উপনির্বাচনের বিধান বাতিল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণার বিধান করার দাবি জানায় দলটি।


অপরদিকে, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ ১৭টি দাবি তুলে ধরে সংলাপে। দলটি লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়টি আদমশুমারির সঙ্গে সংযুক্ত। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নতুনভাবে কোনো আদমশুমারি হচ্ছে না বিধায় আমরা মনে করি, দশম সংসদ নির্বাচনের সংসদীয় আসন বহাল রেখেই একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে হবে। বিকালে সংলাপ শেষে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেন, জাসদ বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনের সুপারিশ করেছে। তবে নির্বাচনের সময় সরকার দাপ্তরিক ও নির্বাচনী কার্যক্রমের বাইরে অন্য কোনো কাজ করতে পারবে না। ইনু আরো বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষে আমরা আছি। আমাদের সরকারও আছে। আমরা চাই আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে। জাসদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে, জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা, নিবন্ধিত দলকে ব্যয় নির্বাহে ও প্রচারণায় নিয়মিত অনুদান, সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ইভিএম ব্যবহার, স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকার শর্ত বাতিল, দলের অনুদান আয়কর মুক্ত করা, অনলাইনে মনোনয়নের ব্যবস্থা, ভোটে কালো টাকার ব্যবহার রোধে প্রার্থিতা বাতিল, প্রতীক বরাদ্দের দিনই জোটভুক্তদের প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ রাখা, স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনে স্বপদে থেকে নির্বাচন করায় অযোগ্যতা বিধান, নির্বাচন আর্কাইভ স্থাপন এবং পাবলিক ও বেসরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর ভোটে অংশ নেয়ার শর্ত শিথিল করার দাবি জানায় দলটি।

 

দুটি দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে ইসি। গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। পরে ১৬ ও ১৭ আগস্ট অর্ধশত গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সংলাপ করে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করে ইসি। ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ২৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের  সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি। এ পর্যন্ত ২৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ হয়েছে।

 

তথ্য সূত্রঃ

http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=86589

http://www.channelionline.com/

https://www.jugantor.com/city/2017/10/09/161782/print