[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ইসির সংলাপে মুসলিম লীগ এর ২৪ এবং খেলাফত আন্দোলন এর ৩৮ দফা প্রস্তাব
০২-১০-২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে ২রা অক্টোবর বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন অংশ নেয়। দল দুটি ২৪ দফা ও ৩৮ দফা প্রস্তাব দেয় ইসিকে।

 

সকালে মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়েরের নেতৃত্বে দলটির ১৮ জন প্রতিনিধি এবং বিকেলে খেলাফত আন্দোলনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ’র নেতৃতে দলটির ১৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেয়।

 

সংলাপে মুসলিম লীগের দেওয়া ২৪টি প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নিবন্ধিত প্রত্যেকটি দলের একজন প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, ইভিএম ব্যবহার না করা, জাতীয় নির্বাচনে ৫০ শতাংশের কম ভোট পড়লে আবারও নির্বাচনের আয়োজনসহ প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, না ভোটের ব্যবস্থা না রাখা, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও দলের নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক করা, দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনি দায়িত্ব না দেওয়া এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে অতিরিক্ত জেলা জজকে দেওয়াসহ নির্বাচন কমিশনকে নতজানু না হয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো ইসির অধীন আনার দাবি জানানোর পাশাপাশি বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার না করা, নির্বাচন সংক্রান্ত সব আইন বাংলায় করা, প্রার্থীদের জামানত ১০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা, নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকার মধ্যে আনা, সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা নেয়া, প্রবাসীদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করা।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এর ৩৮ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, নির্বাচনের সময় জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কমিশনের হাতে হস্তান্তর, ইভিএম চালু না করা, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিধান বাতিল করে একক প্রার্থী হলে পুনঃনির্বাচনের বিধান করা, প্রবাসীদের ভোটদানের সুযোগ চালু করা, সংলাপে সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন বিলুপ্তির দাবি সহ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহের সঙ্গে সাংর্ঘষিক কোনও শর্ত আরোপ না করা ইত্যাদি।

 

দুটি দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে ২০টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করল নির্বাচন কমিশন। গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ২৪শে আগস্ট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের  সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি।

 

সংলাপে আসা সুপারিশগুলোর মধ্যে- জাতীয় পরিষদ গঠন, নির্বাচনকালীন অস্থায়ী সরকার গঠন, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালীন সময়ে ইসির অধীনে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, সেনা মোতায়েন, না ভোটের প্রবর্তন, প্রবাসে ভোটারধিকার প্রয়োগ ও দলের নির্বাহী কমিটিতে বাধ্যতামূলকভাবে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান তুলে নেওয়া ইত্যাদি অন্যতম।

 

ইতোমধ্যেই সবগুলো দলের সঙ্গে সংলাপের সূচি প্রকাশ করেছে ইসি। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৮ অক্টোবর এবং বিএনপির সঙ্গে ১৫ অক্টোবর সংলাপ করবে ইসি।

 

এছাড়া অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে, চলতি মাসের ৪ তারিখ সকালে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) , ৫ তারিখ সকালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিকেলে জাকের পার্টি, ৮ তারিখ সকালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বিকেলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ৯ তারিখ জাতীয় পার্টি, ১০ তারিখ সকালে বিকল্পধারা বাংলাদেশ; বিকেলে ইসলামী ঐক্যজোট, ১১ তারিখ সকালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি; বিকেলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ১২ তারিখ সকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিকেলে গণতন্ত্রী পার্টি,  ১৬ তারিখ সকালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বিকেলে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), ১৯ অক্টোবর সকালে জাতীয় পার্টি-জেপি; বিকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি। এরপর ২২ অক্টোবর পর্যবেক্ষক, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রী এবং ২৪ অক্টোবর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মত বিনিময় করবে ইসি।

 

তথ্য সূত্রঃ

https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1402528.bdnews

http://www.banglatribune.com/national/news/247959/

http://www.channelionline.com/