[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
২০শে সেপ্টেম্বর ইসির সঙ্গে সংলাপে গণফ্রন্ট ও গণফোরাম
২০-০৯-২০১৭

২০শে সেপ্টেম্বর সকালে গণফ্রন্টের চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে অংশগ্রহণ করে। সংলাপ শেষে দলটির চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তার দলের পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে একগুচ্ছ সুপারিশ রাখা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে- বর্তমান সরকারকে সংবিধান সংশোধন করে হলেও, একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে যেসকল নিবন্ধিত দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল তাদের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সমঝোতার মাধ্যমে সে সরকারের প্রধান বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও হতে পারেন বলে মত দেন তিনি। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের কেউ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বনিদ্বতা করতে পারবেন না বলে তিনি প্রস্তাব করেন।

 

এছাড়া নির্বাচনে ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনা সদস্য মোতায়েন, জাতীয় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে, নির্বাচনকালীন ভীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া দলটির অন্যান্য প্রস্তাবগুলো হলো, দলের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নামসর্বস্ব, প্যাডসর্বস্ব, অফিসবিহীন রাতারাতি গড়ে উঠা অনিবন্ধিত দলগুলো যাতে নিবন্ধিত দলের সাথে জোট করতে না পারে এজন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন; নির্বাচনের অন্তত ছয় মাস আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ; জাতীয় সংসদের সীমানা পুনর্বিন্যাস করার জন্য আইনি কাঠামো সংস্কার করা, পাশাপাশি বাস্তবতার নিরিখে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা। সংসদের আসন ন্যূনতম সংখ্যা ৩৫০/৪৫০টি করা; প্রবাসীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদেরকে সহজে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা; একই পোস্টারে সব প্রার্থীর পরিচয় ও প্রতীক এবং নির্বাচনী জনসভা একই মঞ্চে সব প্রার্থীর বক্তব্যের ব্যবস্থা করা; দেশ, জনগণ, গণতন্ত্রের স্বার্থে বিতর্কিত নির্বাচন নয়, সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান, নারী আসন বৃদ্ধি, প্রতি জেলায় একজন নারী সংসদ সংরক্ষিত আসনে নিয়োগ, ধর্মবিরোধী দলের নিবন্ধন বাতিল; নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

 

এদিকে বিকেলে সংলাপে অংশ নেন গণফোরামের সভাপতি ডক্টর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। নির্বাচনকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখা সহ দলটির পক্ষ থেকে কমিশনকে ২২ দফা প্রস্তাব দেয়া হয়। সংলাপ শেষে দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অর্থ’ ও ‘পেশিশক্তি’কে দুই এমপি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর দল নির্বাচন কমিশনকে বলেছে, এই দুই এমপি দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তাই এ থেকে ভোট বাঁচানোর উদ্যোগ কমিশনকেই নিতে হবে।

 

২২ দফা দাবির  মধ্যে আরো রয়েছে প্রবাসীদের ভোটাধিকার, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি, কালো টাকার খেলা বন্ধ, ঋণ খেলাপিদের জামিনদারকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, প্রার্থীদের সম্পদ ও পরিচয় প্রকাশ করে সব তথ্য জনগণকে জানানোর ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

 

গণমাধ্যম কর্মীরা ভোটে সেনা মোতায়েন চান কিনা জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘আইনি সংজ্ঞায় রাখতে বলেছি আমরা। তবে যখনই প্রয়োজন হবে, তখনই সেনা মোতায়েন করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে ইসির নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’

 

দুটি দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

তথ্য সূত্রঃ

http://thebdsob.blogspot.com/2017/09/blog-post_291.html

http://www.protidinersangbad.com/politics/85151/

http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1328381/