[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
ন্যাপ ২১ ও পিডিপির ১৭ দফা প্রস্তাব ইসির সংলাপে
১৮-০৯-২০১৭

১৮ই সেপ্টেম্বর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশনের সংলাপে সকালে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি এর নেতৃত্বে ১২ জনের প্রতিনিধি দল ২১ দফা প্রস্তাব এবং বিকেলে পিডিপি কো-চেয়ারম্যান নিলুফার পান্না কোরেশীর নেতৃত্বে ১৫ জনের প্রতিনিধিদল ১৭ দফা প্রস্তাব দেয়।

 

সংলাপ শেষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের সামাজিক-রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতা হচ্ছে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। দলীয় সরকারগুলোর অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। আর এই ব্যর্থতার দায় অনেকটা নির্বাচন কমিশনকেও বহন করতে হয়েছে। তাই আমরা প্রস্তাব করেছি, মহামান্য রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে ও ইসির মধ্যস্থতায় একটি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নির্বাচকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই সরকারের অধীনে একটি জাতীয় নির্বাচন করা।’

 

চেয়ারম্যান জানান তাদের অন্য প্রস্তাবগুলো হলো- নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পরই বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা এবং তাদেরকে নির্বাচন পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত নিয়োজিত রাখা, অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা, নির্বাচনে অবৈধ অর্থ, কালো টাকা ও পেশীশক্তির ব্যবহার কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ, নিরপেক্ষ স্থানে ভোটকেন্দ্র্র স্থাপন করা, ভোটার ও প্রার্থীর এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে প্রার্থীদের এজেন্টদের স্বাক্ষরসহ ভোটকেন্দ্রের ভোটের ফলাফল ঘোষণা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্তত এক বছর আগে থেকেই সব দলের লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ‘না’ ভোটের বিধান সংযুক্ত করা,  প্রবাসীদের ভোটাধিকার,  ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বাদ দেয়া, সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের সুবিধা ও নিরাপত্তা বাতিল করা এবং সব প্রার্থীকেই সেই নিরাপত্তা প্রদান, যেসব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতর্কিত তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা, গণমাধ্যম কর্মীদের সব কেন্দ্রে উম্মুক্ত প্রবেশাধিকার।

 

এছাড়া আরও দাবি হচ্ছে জনবল ও বাজেটের দিক থেকেও নির্বাচন কমিশনের জন্য সরাসরি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও জোটসমূহের সারাদেশে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান চালু করা, ভোটারের সংখ্যা অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া, আরপিও’র ধারাসমূহ বাতিল করা, নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা যাতে নির্বিঘ্নে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা, জাতীয় নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেবার বিধান চালু করা এবং গত নির্বাচন সমূহের অভিজ্ঞতার আলোকে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রার্থী ও দলসমূহের নির্বাচনী আচরণবিধি ঢেলে সাজানো।

 

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাহী প্রধান করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও সরকারি কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি-পিডিপি। এসময় মন্ত্রিপরিষদ ও পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঐচ্ছিক ছুটিতে থাকবে বলে প্রস্তাব করেন। তাদের অন্যান্য প্রস্তাবনাগুলো হলো, অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সাধারণ ভোটারদের ভোটদানের নিশ্চয়তার বিধান করা; পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসারদের নিরাপত্তা বিধানে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে কেন্দ্রে অবস্থানের সুযোগ দেয়া; ভোটের আগের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতির দায়িত্ব দেয়া; শুধু জনসংখ্যা নয়, ভোটার সংখ্যা ও সংসদীয় এলাকার আয়তন বিবেচনায় সীমানা নির্ধারণের আইনি কাঠামো সংস্কার; প্রবাসীদের দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা; নির্বাচনের তিন মাস আগে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন; নির্বাচনে ইভিএম প্রয়োগ বাতিল করা; নির্বাচন মাঠে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা; নির্বাচনে না ভোটের বিধান রাখা, কোনো আসনে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট না ভোটের থেকে কম হলে সেই আসনে ভোট বাতিল করা; নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ না হয়ে নিজ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়া; একটি দলের একই প্রতীক বারবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিধান বাতিল করা; জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের পরিবর্তন আনা যায় কি না বিষয়টি বিবেচনা করা সহ ১৬ দফা প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

 

২৮শে জানুয়ারির ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৬ই জুলাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোডম্যাপ ঘোষণা করে ইসি। রোডম্যাপ অনুযায়ী সংলাপ হচ্ছে। গত ৩১শে জুলাই সুশীল সমাজ, ১৬ই ও ১৭ই আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপের পর ২৪শে আগস্ট থেকে মুক্তিজোট এর সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করছে ইসি। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি সহ এ পর্যন্ত ১৪টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ হয়েছে।