[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
দুই দলের পক্ষ থেকে ১০ দফা ও ১৫ দফা সুপারিশ ইসির সংলাপে
১০-০৯-২০১৭

১০ই সেপ্টেম্বর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে পৃথক সংলাপে ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১০ দফা এবং ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

 

সকালে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির ১২জন সদস্য ইসির সঙ্গে বৈঠকে বসে। সেখানে তারা দলের লিখিত সুপারিশ কমিশনকে দেয়। দলটির দেওয়া সুপারিশের মধ্যে আছে নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইসির হাতে রাখা। তবে দলটি ২০২০ সালের মধ্যে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বিরোধিতা করেছে।

 
বৈঠক শেষে ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব আবদুল মতিন সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা ১০ দফা সুপারিশ জানিয়েছেন। ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব না রাখতে চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব কমিটিতে এই সংখ্যক নারী প্রতিনিধি রাখার আইন বাস্তবসম্মত নয়। এ কারণে তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছেন, এই আইন বাতিল করে বরং প্রত্যেক দলে নারীদের জন্য আলাদা অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে।


বিকেলে ইসির সঙ্গে বৈঠকে আগামী নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিপক্ষে ও সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশনকে আইনের আওতায় আনতে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে তারা। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোঃ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেন। পরে মাদানী সাংবাদিকদের কাছে সুপারিশগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন করলে ইসিকে আইনের আওতায় আনতে আইনি কাঠামো প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংসদ ভেঙে অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা, অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল, নির্বাচনী জামানত ১০ হাজার টাকা, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনপদ্ধতি প্রণয়ন, নির্বাচনী ব্যয় কমানো, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়েছে।

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছে। কমিশন মোট সাতটি দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে। এর আগে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজ এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সাথে এ সংলাপ করেছে কমিশন।

 

আগামী ১২ই সেপ্টেম্বর আরো দুটি দলের সাথে সংলাপে বসবে কমিশন। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বিকেল ৩টায় ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় কল্যাণ পার্টি ও বিকেল ৩টায় ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সাথে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি; ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বিকেল ৩টায় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি); ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় গণফ্রন্ট, বিকেল ৩টায় গণফোরাম এবং ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বিকেল ৩টায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সংলাপ হবে।

 

দুটি দলের সঙ্গে সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও বেগম কবিতা খানম এবং ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

 

তথ্য সূত্রঃ

http://www.ittefaq.com.bd/national/2017/09/10/126812.html

http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1318261/

http://www.newsjs.com/bd/