[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
সরকার এবং বিচার বিভাগের সমন্বয় স্থাপনে সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান প্রধান বিচারপতির
১৯-০৩-২০১৭

রাষ্ট্রের দুটি অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় না থাকার সমস্যার দিকটি তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “যদি বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকে, তাহলে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার এবং এক্সিকিউটিভে যারা আছেন, তারা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে সরকার এবং বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করা যায়।”

 

১৮ই মার্চ ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ‘অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আরও বলেন “একটি মহল বিচার বিভাগের সাথে প্রশাসনের দূরত্ব তৈরি করে দিচ্ছে। বিচার বিভাগের ছোটো ছোটো সমস্যাগুলো ঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না, বরং তা উল্টোভাবে সরকার প্রধানের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। প্রশাসনকে ভুল বোঝানো হয়েছে। বলা হচ্ছে বিচার বিভাগ প্রশাসনের প্রতিপক্ষ। এটা অত্যন্ত ভুল ধারণা। কোনোদিনই বিচার বিভাগ প্রশাসন বা সরকারের প্রতিপক্ষ হয়নি। আমি আশা রাখব, বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে যারা আছেন, তারা ভুল রিপোর্ট দেবেন না সরকার প্রধানকে। তারা ঠিক রিপোর্ট দেবেন, যাতে বিচার বিভাগ এবং সরকার সুন্দরভাবে চলে।”

 

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকার ও বিচার বিভাগের টানাপড়েনের মধ্যে প্রধান বিচারপতি দাবী করেন “বিচার বিভাগ ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না, সংবিধান এবং আইনের আওতায় বিচার বিভাগকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সে মতো কাজ করতে দিলে দেশে দুর্নীতি, অপরাধ প্রবণতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থাকবে না।”

 

তিনি আরও বলেন “যখন কোনো রাজনৈতিক সরকার শাসনতন্ত্র ঠিকমতো পরিচালনা করবে না, তখন বিচার বিভাগ এগিয়ে আসবে। না হলে সেই দেশের সভ্যতা থাকবে না। রাজনৈতিক সরকারগুলোর চিন্তা-চেতনায় কিছু ‘বাড়াবাড়ি’ থাকে। সে কারণেই বিচার বিভাগ। না হলে তো প্রশাসনই বিচার করত।”

 

তবে পাকিস্তান আমল থেকে ইতিহাস পর্যালোচনা করে বিচারপতি সিনহা বলেন, “বিচার বিভাগের যত ক্ষতি হয়েছে তা করেছে আমাদের বিচার বিভাগের কিছু সদস্য।”

 

বিচারক স্বল্পতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় জনসংখ্যা, মামলা সংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে কম বিচারক আমাদের দেশে। সেখানে যদি ৩০৭টি পদ খালি থাকে তাহলে মামলা ডেডলক তো হবেই।”

 

বাংলাদেশে ছয়টি জেলা জজ, নয়টি অতিরিক্ত জেলা জজ, ১৬টি যুগ্ম জেলা জজ, ১২৩টি সহকারী জেলা জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে ১৫৯ পদসহ মোট ৩০৭টি পদ খালি বলে জানান তিনি।

 

‘অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ আরও আগে শুরু হওয়া দরকার ছিল মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকারের যে ডিজিটালাইজেশনের কথা বলা হচ্ছে, এর পেছনে অনেক টাকাও ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজেশনের জন্য কোনো টাকা দেওয়া হচ্ছে না।

 

“ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ডিজিটালাইজেশনের জন্য ইউএনডিপির সাহায্য নিতে হচ্ছে, এটা দুঃখজনক। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এটি আরও অনেক আগেই করা যেত।”

 

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ, বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব পরেশ চন্দ্র শর্মা। সবশেষে প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) কমিশনের অনলাইন এপ্লিকেশন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম উদ্বোধন করেন।

 

তথ্য সূত্রঃ

http://www.dhakatimes24.com/2017/03/18/24710

http://www.amadershomoy.biz/unicode/2017/03/14/229791.htm#.

http://www.newspapers71.com/422897/