[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

৭ দিনের সংবাদ দুনিয়া

 
দুর্নীতির দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট অপসারিত
১০-০৩-২০১৭

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইকে দুর্নীতির দায়ে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত।

 

তিন মাস আগে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট পার্ককে অভিশংসনের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, স্থানীয় সময় শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত তা বহাল রাখে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ায় সাবেক সেনাশাসক পার্ক চুং-হির মেয়ে পার্ক গিউন-হাই দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রষ্ট্রপ্রধান, যাকে অভিশংসিত হতে হল। অভিশংসিত হওয়ায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তির সুযোগও হারাচ্ছেন পার্ক। তাকে এখন দুর্নীতির দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।

 

শুক্রবার আদালতের রায়ের পর সিউলের বিভিন্ন সড়কে উল্লাসে মেতে ওঠেন পার্কের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে পার্কের সমর্থকরাও আদালতের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষোভের মধ্যে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

 

এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পুরোপুরি অপসারিত হলেন ৬৫ বছর বয়সী পার্ক। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেতে নির্বাচন করতে হবে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের।

 

সায়েনুরু পার্টির শীর্ষ নেতা পার্ক গিউন-হাই ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ১১তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া একমাত্র নারী।

 

দায়িত্ব গ্রহণকালে তুমুল জনপ্রিয়তা থাকলেও ২০১৪ সালে সিউলে ফেরিডুবির ঘটনায় ৩০৪ জনের মৃত্যুর পর তার এবং দলের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। সরকার তড়িৎ ব্যবস্থা না নেওয়ায় মৃত্যের সংখ্যা বেড়েছে বলে তখন বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছিল। এছাড়া ব্যক্তিগত লাভের লক্ষ্যে এক পুরোনো বন্ধুকে সুবিধা পাইয়ে দিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগে গতবছরের মাঝামাঝি সময়ে সংসদে ও রাজপথে পার্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি পদত্যাগ করতে চাইলেও, বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনে। গতবছর ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টে ওই প্রস্তাব ২৩৪-৫৬ ভোটে অনুমোদন পায়। নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যরাও সেদিন পার্কের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন।

 

সূত্রঃ বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স