[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

আর্থিক নীতি

 

অর্থের উৎস বা অর্থায়ন কোথা থেকে হচ্ছে, কিভাবে চলছে, তা দিয়ে যেমন বুঝা যায় কোন সংগঠন/প্রতিষ্ঠান কোন স্বার্থে, কার স্বার্থে সক্রিয় আছে; তেমনি জাতীয় ক্ষেত্রে কোন সংগঠন কতখানি দেশের আর কতখানি পরের, তা বুঝতেও আজ এটা জানা জরুরী হয়ে পড়েছে।

 

(ক) পরনির্ভরশীলতাই  জাতীয় জীবনে বড় পঙ্গুত্ব, অন্যের পকেট ও অন্যের মগজ উভয় পথই নিজের দেশ ও সংগঠনের জন্য অভিশাপ । দেশজ বোধে স্বকীয় নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন সংগঠন গড়ে তুলতে হবে নিজেদের পায়ে ভর দিয়েই । তাই চেতনা বা সাংস্কৃতিক সংগ্রামের শর্তে সর্বাগ্রেই জরুরি হয়ে উঠেছে স্বনির্ভরতা এবং নিজের দেশ ও সংগঠনকে অপরের পকেটস্থ হওয়া থেকে মুক্ত রাখতে গৃহীত আর্থিক নীতি- 'আপন দেশ, আপন অর্থ, আপন সংগঠন'

 

(খ) সাংস্কৃতিক সংগ্রামের পথে সংগঠন যেহেতু শ্রমসংস্কৃতি গড়ার ঘোষনা করেছে-  "শ্রমবর্জিত চেতনা আর চেতনাবর্জিত শ্রম পঙ্গু ও অসম্পূর্ণ", সেহেতু স্বনির্ভরতার নীতিগত শর্ত ও প্রতিটি সভ্যের শ্রমসম্পৃক্ততায় নিজেদের উপার্জন/অর্থ দিয়েই সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালাবে।

 

(গ) উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসারে,যাঁরা সভ্য নন অথচ সমর্থক (ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ ) তাঁদের ক্ষেত্রেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদেয় অর্থ প্রসঙ্গে স্থানিক কমিটি /অথোরিটির অনুমোদন ও আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।

 

ঘোষিত উপরোক্ত নীতিসহ সামগ্রিক জীবনকে ঘিরেই- যাঁরা আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে আদর্শিক দৃষ্টান্ত করে সংগঠন অনুশীলনে অগ্রগামী, তাঁদের প্রায় সবাই নিজ উপার্জিত অর্থসহ বাড়িঘর পরিবারে থাকা বিষয়-সম্পত্তি, জমি থেকে হালের গরু পর্যন্তও বিক্রি করে- সাংগঠনিক ব্যয়ভার বহন করেছেন। উপায়হীন বাধ্যবাধকতা থেকে এটা করলেও তা নিয়ে তেমন কোন অস্বস্তি আমাদের জাগেনি। কারণ ‘আপন দেশ, আপন অর্থ, আপন সংগঠন’ এর ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ কেউ নিজ বা নিজের মা অথবা বোনের গহনা বন্ধক রেখে কিংবা স্থানিক সমিতি থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে সাংগঠনিক ব্যয়ভার নির্বাহ করেছেন- যা উদ্ভূত আর্থিক সংকটের আপাত সমাধান করলেও বহুবিধ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার জন্ম দেয়। ফলে আর্থিক সমস্যা সমাধানে এমন বিচ্ছিন্ন চড়া সুদভিত্তিক অর্থ সংগ্রহের পথে না যাওয়াই শ্রেয়। সর্বান্তকরণে এটা এড়িয়ে যেতে হবে।

         

এর অর্থ এই নয় যে, যাঁরা ইতোমধ্যে এটা করেছেন তাঁরা ভুল করেছেন- মোটেই তা নয়, বরং উপায়ান্তর না থাকায় শেষ পর্যন্ত এটা হয়েছে। এমনকি দেখা গেছে তাঁদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিজ পরিবারে থাকা শেষ উপায়টুকু বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই তাঁরা অগ্রজ দায়িত্ববোধের দায়বদ্ধতা থেকে এটা করেছেন। কিন্তু কেউ কেউ যখন অনুগামীদের আর্থিক চাপমুক্ত রাখার মানসিকতা থেকে পুরো আর্থিক দায়িত্ব একাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এমনটা করেছেন- সেটা পদ্ধতি হিসাবে যথার্থ ছিল না। কারণ অনুগামীদের প্রতি এই মমত্ব তাঁদেরকে এগিয়ে না দিয়ে বরং পিছিয়ে দেয়। ইতোপূর্বে বারবার বলা হয়েছে আর্থিক শেয়ার কেবল সংগঠনের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর প্রশ্নেই জরুরি নয় বরং আর্থিক শেয়ারে না আসলে কোন সংগঠকের সাংগঠনিক চরিত্র গড়ে উঠতে পারে না। এতে আপাত সংগঠন বিস্তার ঘটলেও ‘আপন দেশ, আপন অর্থ, আপন সংগঠন’ এর নীতিগত দিকটা যথাযথ প্রতিফলিত হয় না- ফলে স্বকীয় নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন সংগঠন গড়ে ওঠার পরিবর্তে পরনির্ভরশীল পঙ্গুত্বের দ্বার উন্মোচিত হতে থাকে।

 

          সেই সাথে সংগঠন কাঠামোয় নেতৃত্ব নির্বাচনের শর্তে থাকা যে নীতি তথা ‘সময়’- এর নিক্তিতে সাংগঠনিক চরিত্র মাপার মানদণ্ড হিসাবে ঘোষিত পারিবারিক, আর্থিক ও সাংগঠনিক ফিল্ড (কনস্ট্যান্ট প্রাকটিস) এর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। অর্থাৎ সময়ের মানদণ্ডে এগিয়ে থাকলেও আর্থিক শেয়ারের রির্পোট-রেকর্ডে তথা সাংগঠনিক চরিত্রের দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। আর সাংগঠনিক চরিত্র না গড়ে উঠলে নানাবিধ জটিলতাসহ সাংগঠনিক রুচি-সংস্কৃতিরও ঘাটতি প্রকটিত হয়ে ওঠে। তখন এই মমত্ব অনুগামীকে আপনত্বের বদলে বিচ্যুতির পথে ঠেলে দেয়, অথোরিটিও বিতর্কিত হয়ে পড়েন।

 

          কিন্তু তবুও উপরোক্ত নেতিবাচকতা প্রচলিত সমাজমননের বিপরীত সত্যকে প্রকাশ করে।

         

কারণ বিদ্যমান পারিপার্শ্বিকতায়- যখন শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ঘুষ খেতে বা নিজের মর্যাদাবোধ, নীতি নৈতিকতা বিকিয়ে দিতে তথাকথিত শিক্ষিতদের বাধছে না, বিনাশ্রম অর্থ আয়ের খায়েস কিংবা পরার্থ হরণের কৌশলই যেখানে শিক্ষা-দীক্ষা, বুদ্ধিমত্তা হিসাবে চর্চিত ও স্বীকৃত হচ্ছে- সেখানে মানুষ ও মনুষ্যত্ববোধের মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে এমন আত্মস্বার্থশুন্য সামষ্টিক বোধে উজ্জীবিত তারুণ্যের ঝাঁক পৃথিবীতে আর কোথায় আছে?

 

          বিশেষতঃ একবিংশ দুনিয়ার এই বেনো-সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে- জনান্তিক প্রান্তিক ছুঁতে, আসমান স্পর্শ করার স্পর্ধায়, এমন অটল পাহাড় হয়ে উঠতে- কারা একযুগ পেরিয়ে এসেছে? ধৈর্য-স্থৈর্যে তারুণ্যের নতুন সংজ্ঞায় এত দীর্ঘ সংবদ্ধতার সাধনায় এ মূহুর্তে কারা আছে?