[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

গঠনতন্ত্র     গঠনতন্ত্র সংশোধনী

 

 

 

 

 

 

 

(সুনির্দিষ্ট আদর্শনিষ্ঠতায় বর্ণিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূলনীতি এবং তদসংশিষ্ট এই সংগঠন পরিকাঠামো বা গঠনতন্ত্র প্রচলিত সংগঠন-কাঠামো থেকে স্বকীয় ও স্বতন্ত্র এবং দর্শননিষ্ঠতায় পরিভাষাগতভাবে ভিন্ন, অর্থাৎ মূলগত অর্থে ব্যবহৃত শব্দগুলো 'প্রত্যয়' হিসেবে নির্দিষ্ট।)

 

প্রথম ভাগ

লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূলনীতিসমূহ

 

সংগঠনের নাম   ১। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটসংক্ষিপ্তভাবে বাংলাদেশ মুক্তিজোট। সংক্ষেপে মুক্তিজোট

 

 

লক্ষ্য   ২। অহিংস পথে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তিমূলকে বদলে দিতে আদর্শনিষ্ঠ ধারায় জাতীয় জীবনে 'সংহতি গড়ে তোলা'।

 

ব্যাখ্যা বা প্রত্যয় স্পষ্টীকরণঃ লক্ষ্যাশে বর্ণিত 'সামাজিক-সাংস্কৃতিক' বলতে আর্থ-রাষ্ট্রিক জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধান, নীতি-নৈতিকতা তথা বৌদ্ধিকতা-প্রধান সংস্কৃতিকে নির্দেশ করছে এবং রাষ্ট্রিক তথা 'জাতীয় জীবনে সংহতি গড়া' বলতে নাগরিক বোধগত ক্ষেত্রকে অর্থাৎ যথারীতি সংস্কৃতিকে নির্দেশ করছে। ফলে ঘোষিত 'সংস্কৃতি' শব্দটা প্রথাগতভাবে অপরাপর ক্ষেত্র্রে ব্যবহৃত 'সংস্কৃতি' শব্দের অর্থবোধকতা থেকে ভিন্নতার নির্দেশক- যা ব্যাপক অর্থে গৃহীত।

 

এক্ষেত্রে, যে সংগ্রাম সমাজসংশ্লিষ্ট- তা-ই সাংস্কৃতিক সংগ্রাম এবং সমাজবদ্ধ মানুষ হিসেবে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাপিত জীবনের সবকিছু নিয়েই সংস্কৃতি- অর্থাৎ যা-কিছু মানবীয় জীবনকে ছুঁয়ে যায়, তা-ই সংস্কৃতি। এদিক থেকে অর্থনীতি, রাজনীতি তথা পারিবারিক-জাতীয়-আন্তর্জাতিক ইত্যাদি সংস্কৃতির অঙ্গীভূত। সমাজ সংশ্লিষ্টতায় সংস্কৃতির সীমানা বলতে মানবীয় বোধগত সীমানাকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত উত্তরণ সাযুজ্যতায় বৈশ্বিকতারও নির্দেশক।

 

প্রথাগত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'সংস্কৃতি' শব্দটির প্রচলিত ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Culture’, যা গৃহীত সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'সংস্কৃত' বা 'সংস্কৃতি' শব্দ থেকে ব্যুৎপত্তিগতভাবেই ভিন্ন অর্থকে প্রকাশ করেছে। ব্যুৎপত্তিগত অর্থভিন্নতা ছাড়াও ‘Culture’ শব্দটির ব্যবহার-সম্পূর্ণতায় মাত্র তিন-চার'শ বছর (culture- origin, 17th century- Concise Oxford Dictionary, Tenth Edition, revised, Edited by Judy Pearsall, Oxford University Press, 1999) অতিবাহিত হয়েছে। আর নির্দেশিত 'সংস্কৃত' বা 'সংস্কৃতি' শব্দটি ব্যুৎপত্তিগত ব্যবহার-সম্পূর্ণতায় প্রায় তিন-চার হাজার বছর অতিক্রম করছে। ইতিহাস প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে কোনটি আগে-কোনটি পরে অথবা কোনটি সমগ্র বা কোনটি অংশ, তা নির্ণয়ের সর্বজনগৃহীত নৈর্ব্যক্তিক মানদন্ড হিসেবে সময় বা কাল-ই নির্দিষ্ট। এমন-কি ইতিহাস নিজেও শব্দগত অর্থে সময়কেই প্রতিফলিত করে। কালের নিক্তিতে ‘Culture’ যেখানে কয়েক'শ বছর অতিক্রম করেছে, সেখানে 'সংস্কৃতি' কয়েক সহস্র বছর পেরিয়ে গেছে। ‘Culture’ ব্যুৎপত্তিগত ব্যবহার পরিক্রমায় ‘Cultivation’, বাংলা ভাষান্তরে যা কর্ষণ বা কৃষি সম্বন্ধীয় অর্থকে নির্দেশ করে আর 'সংস্কৃতি' ব্যুৎপত্তি ও ব্যবহার-সম্পূর্ণতায় সর্বদা সমাজবদ্ধ সকল মানুষের জীবনব্যবস্থা বা যাপন সংম্লিষ্ট অর্থপূর্ণতাকে নির্দিষ্ট করেছে, অর্থাৎ ‘Culture’ সমাজবদ্ধ মানুষের মধ্যে একটি পেশা সম্পৃক্ত অংশকে নির্দেশ করছে। এই অর্থে- 'সংস্কৃতি' সামগ্রিকতার নির্দেশক এবং ‘Culture’ অংশের নির্দেশক। ফলে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ক্ষেত্রে 'সামগ্রিক অর্থবোধন'-এ ব্যবহৃত 'সংস্কৃতি' বা 'সাংস্কৃতিক' শব্দটি প্রথাগত অর্থে ব্যবহৃত ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Culture’ থেকে মূলগত অর্থেই ব্যাপক পার্থক্য বহন করে।

 

অতএব সমাজ সংশ্লিষ্টতায় সামগ্রিক অর্থবোধনে 'সাংস্কৃতিক সংগ্রাম'- ইংরেজী প্রতিশব্দে ‘Sanskritic Sangram’ এবং আন্দোলন অর্থে ‘Wide Movement’ হিসেবে অভিহিত হবে।

 

মূলনীতি   ৩। (১) রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণ (Decentralised Centralisation)-এর সমাজ-কাঠামো প্রতিষ্ঠা মারফত স্থানিক শাসন (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান, চতুর্থ ভাগ, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ-৬০) ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতঃ আর্থ-সামাজিক তথা সাংস্কৃতিক অবস্থার বদল।

 

(২) প্রথাগত রাজনীতিকে ছাপিয়ে সামগ্রিক জীবন ও যাপন সংশ্লিষ্টতায় "ডান-বাম নয়, হাঁটতে হবে আপন দেশ বরাবর!"- সাংস্কৃতিক এই বোধ সন্নিষ্ঠতায় সবক্ষেত্রেই বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত উত্তরণ ও চেতনার সাথে জাতীয় বাস্তবতার সাযুজ্যপূর্ণতায় সকল নীতি গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠাই সাংগঠনিক নীতি। অর্থাৎ "জ্ঞানে- বৈশ্বিক, প্রয়োগে- স্থানিক" তথা “Global Knowledge Local Act” শ্লোগানই মূলনীতি অর্থে গৃহীত এবং তা বাস্তবায়নে চাই 'সচেতন সামাজিক শক্তি' (Social power with Knowledge)-এর শাসন প্রতিষ্ঠা।

 

ব্যাখ্যাঃ

(ক) এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণ (Decentralised Centralisation)-এর সমাজকাঠামো-র ব্যাখ্যা বা প্রত্যয় স্পষ্টীকরণঃ ব্যক্তি মানুষের সাপেক্ষে শুরু-শেষ তথা সময় বা কাল নির্ণয় থাকলেও- প্রকৃতি কালাতিক্রম্য সর্ব মানুষের ক্ষেত্রে সমান প্রবাহে সর্বজনগৃহীত নৈর্ব্যক্তিক শিক্ষক হিসেবে পথ দেখাতে পারে। সেই প্রকৃতিগত শর্তে যদি প্রশ্ন করা হয় "সমাজ কোথা থেকে শুরু হয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তরে একটাই গ্রহণযোগ্য উত্তর হতে পারে, তা হলো- একজন নারী ও পুরুষকে একান্ত জৈবিক ক্রিয়া তথা খাদ্য গ্রহণ-বর্জন ইত্যাদির মধ্যে শুধুমাত্র দাম্পত্যের জৈবিক ক্রিয়াতেই পারস্পরিক হতে হয় এবং এখানে একান্ত জৈবিক ক্রিয়া হলেও তা সম্পন্ন হয় যৌথভাবে (নারী-পুরুষ), যেখানে শুধু দু'জন নয়- আগামী (শিশু)-ও থাকে। অর্থাৎ এটাই জীবনধারা উৎসরণে তথা প্রজন্ম-প্রবাহের 'সংঘবদ্ধতা'। সংঘবদ্ধতার শুরু যেখানে, সামাজিকতার শুরুও সেখানে। কারণ, একার অর্থে কখনো সমাজ হয় না। তাই সামাজিকতা আর পারস্পরিক সংঘবদ্ধতা মৌলিক অর্থে একই" (সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন পর্যায়ের সাংগঠনিক চতুর্থ রিপোর্ট, যা ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত)।

 

জীবমাত্রই যৌথের প্রকৃতিগত আদি কোষ বা মানবীয় সমাজ উদ্ভবের আদিম অবস্থা অর্থাৎ 'তিন' থেকে (মা-বাবা ও শিশু) ততোধিকের অনিবার্য গতিপূর্ণ যে 'সামষ্টিকতা'- তাকেই সমাজ বলে, যা খাদ্য ও নিরাপত্তার শর্ত থেকে উদ্ভূত হয়ে সামগ্রিক জীবনকে নিয়ে নিয়ত বহমান। আর যেহেতু তিন বা ততোধিকের অস্তিত্ব মানেই- তিন বা ততোধিকের সামষ্টিক হয়ে ওঠার শর্তে 'বোঝা-পড়া' বা সমন্বিত তথা সংহত হওয়ার শর্ত অনিবার্য, সেহেতু এই সমন্বয় বা সংহত থাকার শর্ত থেকেই নীতি-নৈতিকতা বা Ethics-morality-র জন্ম তথা মানব সংস্কৃতির আদি আঁতুরঘর। সেখান থেকে হাজার হাজার বছর বিবর্তনের পথ ধরে উত্তরিত আজকের বাস্তবতা বা নীতি-নৈতিকতা তথা Ethics-morality-র সাথে তুলনা করলে, বিশেষত সমন্বিত বা সংহত থাকা, পূর্বোলিস্নখিত 'বোঝা-পড়া'র বিষয়টাকে আজকের প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞায় ফেললে- আর্থিক পরিভাষায় তা একটি management প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য বহন করে।

 

কারণ, একজনের জন্য management-এর প্রয়োজন নেই। ঠিক যেমন পূর্বোল্লিখিত দিশায়- 'একার অর্থে কখনও সমাজ হয় না' কিংবা একার অর্থে কোনো সংগঠনও হয় না এবং 'সামাজিকতা আর পারস্পরিক সংঘবদ্ধতা মৌলিক অর্থে একই' বলতে সমাজ অভ্যন্তরস্থ যে-কোনো পরস্পরবদ্ধ সংঘবদ্ধতাই মূলত সামাজিকতার কাঠামোগত মৌলিকত্বকেই প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ সমাজ সংশ্লিষ্টতায় পারস্পরিক বোঝা-পড়া তথা সমন্বয়গত শর্তের সমার্থক হয়ে 'ব্যবস্থাপনা' শব্দই মূলগত অর্থে সমাজ বা 'সামষ্টিকতা'কে প্রতিফলিত করে- যা সমাজ অভ্যন্তরস্থ সকল প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানমাত্রেই কাঠামো অর্থে প্রকাশিত বা প্রতিফলিত। পরিবার, রাষ্ট্র তথা যে-কোনো সংগঠন-কাঠামোর ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য।

 

রাষ্ট্র সহ সকল প্রতিষ্ঠানই যেহেতু সমাজের অংশ বা আওতাভুক্ত এবং সমাজ কারও অংশ নয়, বরং সব অংশকে নিয়েই সে সমগ্র বা সামগ্রিক অর্থে প্রকাশিত। 'ব্যবস্থাপনা' উক্ত সামগ্রিকতা বা কাঠামোগত দিক থেকে সমন্বয় বা সংহতের অর্থে সামাজিকতার সমার্থক। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে চালিত যে-কোনো প্রতিষ্ঠানই কাঠামোবদ্ধতার মাধ্যমে উক্ত সামাজিকতা বা মৌলিকত্বকে বহন করে, অর্থাৎ সমন্বয় বা পরস্পরবদ্ধতার শর্তে সামাজিক-মৌলিকত্বে থাকা ব্যবস্থাপনার শর্ত-প্রকাশ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

 

এক্ষেত্রে- ব্যবস্থাপনা তাই সমাজ বা সামষ্টিকতার অর্থবাচক, অর্থাৎ সংস্কৃতি বা সামগ্রিকতাকে নির্দেশ করে। যদিও প্রচলিত বৌদ্ধিক জগতে এখনও অর্থনীতি বা অর্থশাস্ত্রই বৃহৎ বা সামগ্রিকতার অর্থে প্রতিষ্ঠিত এবং ব্যবস্থাপনা তার অংশ মাত্র, যা শুধু বিপরীত অর্থেই নয় বরং অস্বাভাবিক ভ্রান্তি ও অর্থবাদী অন্ধ ঝোঁকের প্রকাশ।

 

এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সমাজ অভ্যন্তরস্থ কোনো জাতীয় সীমারেখার মধ্যে অপরাপর প্রতিষ্ঠানসমূহ সংহতকরণে সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত হলেও সমাজ অভ্যন্তরস্থ রাষ্ট্র, সংগঠন বা অপরাপর প্রতিষ্ঠান কাঠামোগত দিক থেকে একই মৌলিক অর্থ বহন করে, বিধায় কাঠামোগত অর্থবোধনে ব্যবহৃত 'ব্যবস্থাপনা' শব্দটি তাই 'প্রত্যয়' অর্থে গৃহীত হয়ে সমাজ ও সমাজ অভ্যন্তরস্থ অপরাপর প্রতিষ্ঠান তথা এক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সংগঠন উভয়ের অর্থে ব্যবহৃত এবং বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণ (Decentralised Centralisation)-এর সংগঠন-কাঠামো ব্যবস্থাপনার ব্যাপক অর্থে যথারীতি সমাজ-কাঠামো হিসেবে নির্দিষ্ট।

 

(খ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত, 'জ্ঞানতত্ত্ব' বা 'সচেতন' শব্দের ব্যাখ্যা বা প্রত্যয় স্পষ্টীকরণঃ সচেতন বলতে প্রথাগত অর্থে চেতনা না বুঝিয়ে জ্ঞানতত্ত্বকে বোঝানো হয়েছে অর্থাৎ চেতনার ইংরেজী প্রতিশব্দ Conscious-কে না বুঝিয়ে Knowledge অর্থে গৃহীত হয়েছে- যা স্পষ্টত প্রায়োগিক ভিন্নতায় স্বতন্ত্র অর্থকে প্রতিফলিত করছে।

 

এক্ষেত্রে 'চেতনা' বলতে ব্যক্তিচেতনাকে বোঝায় এবং সেক্ষেত্রে ব্যক্তি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি অসংখ্য তথ্যের সমন্বিত বোধ বা অখন্ড বোধই 'চেতনা' অর্থে নির্দিষ্ট। এমন-কি নিরক্ষর ও অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের পার্থক্য বলতে মূলত তথ্য জানা-না জানাকে বোঝায়, অর্থাৎ অক্ষর সংশিষ্ট তথ্যসম্পন্ন বা তথ্যসমৃদ্ধ ব্যক্তিকেই অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন, কথ্য ভাষায় যাকে শিক্ষিত বলা হয়। সেদিক থেকে মানবীয় বোধ বা চেতনার উন্মেষে যা-কিছু সে জ্ঞাত হয়, তা মূলত তথ্য অর্থাৎ ব্যক্তি-চেতনা যদি অসংখ্য তথ্যের সমন্বিত বোধ বা চেতনা হয়, তবে ক্রমোত্তরণের পথ ধরে আজকের যে সমাজ-সভ্যতা, তা অসংখ্য তথ্যের সমাহারপূর্ণতায় সৃষ্ট সমন্বিত রূপ। এদিক থেকে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা বলতে মানুষের যে পাঁচটি মৌলিক অধিকার- যা প্রতিটি মানুষের বাঁচার অধিকার শর্তে স্বীকৃত বা অনুমোদিত; সেখানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের বাঁচার শর্তে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা বা এ-চারটি যে অর্থে মৌলিক, 'শিক্ষা' শব্দে সেই অর্থপূর্ণতাকে প্রতিফলিত করে না, বরং তা তথ্যকেই নির্দেশ করে।

 

বিশেষত, 'শিক্ষা' যেভাবে শুরু-শেষ তথা প্রাতিষ্ঠানিক বা বিশেষীকৃত হওয়ার মধ্য দিয়ে আজকের সমাজমননে সার্টিফিকেটধারী মান-মর্যাদার মতো ইত্যাদি বিষয় দিয়ে প্রতিষ্ঠিত, তাতে প্রতিটি মানুষের বাঁচার শর্তে সারা জীবন সমানভাবে প্রয়োজনীয় উক্ত চারটি মৌলিক অধিকারের মতো, 'শিক্ষা' সামগ্রিকতাকে প্রতিফলিত করতে পারছে না। এক্ষেত্রে তথ্যই উক্ত চারটি মৌলিক অধিকারের মতো জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি প্রতিটি মানুষের কাছে একই গুরুত্ব বহন করে, অর্থাৎ সামগ্রিকতাকে প্রতিফলিত করে। অক্ষরজ্ঞান বা প্রাতিষ্ঠানিক অর্থে যে শিক্ষা, 'তথ্য' হিসেবে তা মানবজীবনে প্রয়োজন মূলত তথ্যপ্রাপ্তির মাধ্যম অর্থে- মানবজীবনে তথ্যপ্রাপ্তির অসংখ্য মাধ্যমের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আর মাধ্যম কখনোই 'মূল'-এর সমার্থক হয় না। ফলে মৌলিক অধিকার বলতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার সাথে 'শিক্ষা' শব্দে পৃথিবীতে যা উচ্চারিত ও প্রতিষ্ঠিত, তা মূলগত ও অর্থগতভাবে তথ্যকেই নির্দিষ্ট করে। সেক্ষেত্রে জীবমাত্রেই বেঁচে থাকার শর্তে খাদ্য অনিবার্য এবং বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা মূলত সমাজবদ্ধ মানুষের জন্য বেঁচে থাকার অপরিহার্য শর্ত আর তথ্যহীনতায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সুতরাং সমাজবদ্ধ মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উক্ত পাঁচটি মৌলিক অধিকারকে ক্রমবিন্যাস করলে জৈবিক শর্তে 'খাদ্য' এবং এর পরেই সমাজবদ্ধতার শর্তে আসে 'তথ্য', অর্থাৎ পাঁচটি মৌলিক অধিকার হিসেবে খাদ্য এবং তথ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসাই নির্দিষ্ট হয়।

 

মাধ্যম হয়েও মূলগত অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার মতো এত বড় ভ্রান্তি পৃথিবীতে এখনও প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণ, প্রতিষ্ঠানবদ্ধ অন্ধত্বের সাথে সাথে মাধ্যম হিসেবে এর ব্যাপক ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা।

 

মানবীয় বোধ বা চেতনার উন্মেষে যা কিছু সে জ্ঞাত হয়, তা যেহেতু 'তথ্য' এবং ক্রমোত্তরণের পথ ধরে আজকের যে সমাজ-সভ্যতা, তা অসংখ্য তথ্যের সমাহারপূর্ণতায় সৃষ্ট সমন্বিত রূপ বিধায় তথ্যহীনতা মানবীয় জীবনবোধ বা চেতনার উন্মেষকে রুদ্ধ করে (চেতনাগত প্রতিবন্ধীর স্তরে রাখে) অর্থাৎ সভ্যতার ক্রমোত্তরণকে কণ্টকিত করে (আদিম স্তর বা পরস্পরবিচ্ছিন্নতায় রাখে)। এদিক থেকে প্রতিটি মানুষ প্রকৃতিগতভাবে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে স্বকীয় বোধ বা চেতনায় স্বতন্ত্র- বিশ্লেষণে অসংখ্য তথ্যের সম্ভার। ব্যক্তি-মানুষের চেতনা তথা তথ্যসম্ভার- সমন্বিত বা সংহত হওয়ার মধ্য দিয়েই জ্ঞানতত্ত্ব বা সমন্বিত তথ্যসম্ভার। বর্তমানের প্রযুক্তিগত উত্তরণ, যা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ও সংহতকরণের বাস্তব শর্ত নিয়ে এসেছে। ব্যক্তি চেতনার সীমাবদ্ধতা, সামষ্টিক চেতনা ধারণে নৈর্ব্যক্তিক বা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে। পৃথিবীর প্রতিটি জনপদ নিজেদের বাস্তবনিষ্ঠতায় নিজেদের শাসনে নিজ নিজ পূর্ণাঙ্গতায় প্রতিটি মানুষই প্রত্যেকের শর্তে অখন্ড তথা বহু মানুষ। অর্থাৎ তথ্যহীন বিশৃঙ্খল-বিদ্রোহ থেকে মুক্ত থেকে অখন্ড মানুষ (বহু মানুষের প্রতিমূর্তি হয়ে ওঠা প্রত্যেক জন- The First man) হতে পারে, যাকে 'সচেতন' মানুষ বলা হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যক্তির ঊর্ধ্বে সমষ্টি, চেতনার ঊর্ধ্বে জ্ঞান। আর জ্ঞানকে ধারণ করে (with Knowledge- The First man) 'সচেতন'।

 

তাই সাংগঠনিকভাবে 'ব্যক্তি', আদর্শনিষ্ঠতায় 'সংগঠন' হিসেবে ঘোষিত হয়েছে এবং সমন্বিত বা অখন্ড রূপে 'সচেতন সামাজিক শক্তি' (Social Power with Knowledge)- যা কাঠামোগতভাবে বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামো।

 

উল্লিখিত ২ ও ৩ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নে গৃহীত সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সুনির্দিষ্ট দিশা   ৪। দেশকে সামনে রেখে সমাজবদ্ধ মানুষ হিসেবে জাতীয়, আন্তর্জাতিক, আর্থিক-পারিবারিক তথা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাপিত জীবনের যা কিছু তাকে প্রভাবিত করে- সেই সমস্ত দিক ব্যপ্ত করে, নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে চেতনাকে গড়ে তোলা ও পরিকাঠামোর দ্বারা সে চেতনা একত্রীভূত, বিশেষীকৃত বা সংহতকরণ, যা এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম হিসেবে মূলনীতিতে গৃহীত। নীতিগত দিক থেকে গৃহীত উক্ত সাংস্কৃতিক সংগ্রাম তাই 'অবিরত'। অর্থাৎ সমাজ পরিবর্তনের প্রশ্নে নিজেদেরকে পরিবর্তনের মৌলিক ও প্রথম শর্ত পূরণে তথা বৌদ্ধিক ও মননজগৎকে ঘিরে গুণগত মান অর্জন দিয়ে যে সংগ্রামের শুরু, পরিণতিতে তা-ই সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তিমূল বদলের সংগ্রামকে নিশ্চিত করে। সূচনা থেকে পরিণতি পর্যন্ত যা 'তিনটি পর্যায়'-এ বিভক্তঃ

 

(১) সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (Socio-Wide Movement)ঃ বিদ্যমান সামাজিক অবক্ষয়-অনাচার-হিংসা-বিদ্বেষ-বৈষম্য সহ সর্বস্তরে ব্যাপক বিশৃংখলা, নৈরাজ্য, অব্যবস্থা ও দূষণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে- সর্বব্যাপী সামাজিক চেতনা গড়ে তোলার পথে, দল-মত-জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশাত্মবোধে দীপ্ত নাগরিক চেতনা সম্পন্নদের সাংগঠনিক পরিকাঠামোভুক্তকরণ।

 

(২) রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (Political-Wide Movement)ঃ ১ম পর্যায়ের সামাজিক আন্দোলনের পথে (খ্রিস্টীয় ২০০০ সালের ২৪শে নভেম্বর থেকে) সাংগঠনিক প্রসার এবং ব্যাপক সাংস্কৃতিক সংগ্রাম তথা গুণগত উৎকর্ষ অর্জনের ক্রমোত্তরিত ধারায় বর্তমান (খ্রিস্টীয় ২০১২ সালের ২৪শে নভেম্বর থেকে) দ্বিতীয় পর্যায় তথা রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের স্তর গৃহীত বা যুক্ত। আর এই পথ ধরে দল-মত-জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সামাজিক সংঘবদ্ধতা তথা 'জাতীয় জীবনে নাগরিক সংহতি' গড়ে তোলার দিশা নির্দিষ্ট- রাজনীতি যার অনিবার্য অংশ।

 

অর্থাৎ সাংস্কৃতিক সংগ্রামের মতাদর্শিক দিশায় উক্ত তিনটি পর্যায়ের মধ্যে ১ম পর্যায় তথা সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে এবং বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়-এর উন্মেষ তথা রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন-এ উত্তরণ ঘটছে, যার লক্ষ্য নির্দিষ্ট থাকছে- রাষ্ট্রিক স্তরে তথা 'জাতীয় জীবনে নাগরিক সংহতি' গড়ে তোলা।

 

(৩) সামাজিক-রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (Socio-Political-Wide Movement)ঃ এক্ষেত্রে ক্রমোত্তরণের দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন-এর পথ ধরে জাতীয় জীবনে সংহতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তৃতীয় পর্যায়ে উত্তরণ তথা সামাজিক-রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন-এ সংযুক্ত হবে, যা মূলনীতি [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান, চতুর্থ ভাগ, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ ৬০-এর যথার্থ বাস্তবায়নকল্পে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণ (Decentralised Centralisation) -এর সমাজকাঠামো প্রতিষ্ঠা মারফত স্থানিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতঃ আর্থ-সামাজিক তথা সাংস্কৃতিক অবস্থার বদল] বাস্তবায়নের তৃতীয় পর্যায় হিসেবে নির্দিষ্ট বা ঘোষিত।

 

মূল্যায়নে বলা যায়, "সচেতন সামাজিক শক্তি" (Social Power with Knowledge) বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ লক্ষ্যনিষ্ঠ, সাংগঠনিক পরিকাঠামোর দ্বারা সংহত এবং আদর্শগতভাবে দৃঢ়বদ্ধ তথা গুণগত উৎকর্ষ অর্জনই মূলতঃ সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট এই মতাদর্শিক দিশা অনুসারে, সমাজবদ্ধ মানুষ ও মানবীয় সংঘবদ্ধতায় সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অনিবার্য বিধায় তাকে 'অবিরাম' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্দিষ্ট প্রথম বা প্রাথমিক পর্যায়ের 'সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন'-এর পথে সংগঠন বা সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলা- যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে তথা রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের স্তরে উত্তরিত। আর এই দ্বিতীয় স্তর তথা বর্তমানে গৃহীত- 'রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন'-এর পথ ধরেই বিকশিত হবে জাতীয় সংহতি তথা "সচেতন সামাজিক শক্তি" (Social Power withg Knowledge)-এর পূর্ণতা।

 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় 'বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামো'র অনিবার্যতা   ৫। "সচেতন সামাজিক শক্তি" (Social Power withg Knowledge) -এর শাসন তথা রাজনৈতিক সংহতি প্রতিষ্ঠার অনুষঙ্গ ও অনিবার্য শর্তে রয়েছে- বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামো। যা প্রথাগত সংগঠন-কাঠামো থেকে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র।

 

(১) জাতীয় বাস্তবতাঃ দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশমুখী স্বার্থ- এদেশ বা এদেশের ব্যাপক জনসমাজ নয়। বিশেষত, বিগত আড়াইশ-তিনশ বছরের উক্ত শাসন-শোষণের স্বার্থেই গড়া আর্থ-শিক্ষা বা রাষ্ট্রিক রীতি-নীতি তথা সমস্ত সামাজিক-রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল, যেখানে বেশির ভাগ নীতি-পরিকল্পনাই ছিল এদেশের স্বার্থবিরোধী। স্বাভাবিকভাবেই দেশজ বাস্তব সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ছিল গৌণ। স্বাধীনতা পরবর্তী এদেশে এখন পর্যন্ত প্রচলিত বহু রীতি-নীতি, রাষ্ট্রকাঠামো, এমন-কি নাগরিক জীবন যাপন থেকে শুরু করে চিন্তা-চেতনা, শিক্ষা-দীক্ষা তথা আর্থসামাজিক-রাষ্ট্রিক সর্বস্তরেই সেই অদৃশ্য দেয়াল ও শৃঙ্খল তথা সাংস্কৃতিক বিকলতা বিদ্যমান। ফলে যে-কোনো নীতি-পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজন যে দেশজ বাস্তব সংশ্লিষ্ট চেতনা- তা শুধু গৌণই নয়, বরং দেশের ভালো ভেবেই গৃহীত বহু নীতি-পরিকল্পনা কোথাও কোথাও দেশজ স্বার্থ ও বাস্তবতা বিরোধী। দেশজ বাস্তব সংশ্লিষ্ট চেতনার দীনতা, যা রাষ্ট্রিক পর্যায়ে গৃহীত নীতি-পরিকল্পনা, ব্যাপক জনসমাজবিরোধী কুফল নিয়ে আসে। সামাজিক ও রাষ্ট্রিক পর্যায়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা, হিংসা-দুর্নীতি সহ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবিশ্বাস-কলহ-অসহিষ্ণুতা সহ চরম নীতিহীনতা। অর্থাৎ সবক্ষেত্রেই রাষ্ট্রিক সংস্কৃতি তথা রাজনৈতিক সংহতি বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। বলা বাহুল্য, রাজনৈতিক সংস্কৃতিহীনতায় রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল কখনোই দেশকে এগিয়ে দিতে তথা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে না।

 

ব্যাপক জনসমাজসম্পৃক্ত দেশজ বাস্তব সংশ্লিষ্ট বোধ বা চেতনা বলতে "সামষ্টিক চেতনা" তথা রাজনৈতিক চেতনাকেই নির্দেশ করে, যা সাংস্কৃতিক সংগ্রামের আওতাভুক্ত। যেহেতু অর্থগতভাবেই সামষ্টিক চেতনা- ব্যক্তিক ও স্থানিক চেতনা বা তথ্যের সংহত রূপকেই বুঝায়, বিধায় উক্ত বিশেষীকৃত 'চেতনা বা জ্ঞান' অন্বিত হওয়ার প্রক্রিয়া সঞ্চালনে- আধেয় তথা কাঠামো অনিবার্য।

 

অর্থাৎ সংঘবদ্ধ হওয়ার সাধারণ গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের সাথে, ব্যক্তিক বা স্থানিক চেতনা বা তথ্যকে সংহতকরণের মাধ্যমে 'সামষ্টিক চেতনা' প্রাপ্তি, যাকে 'জ্ঞানতত্ত্ব' বা 'সচেতন' (Knowledge) অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে (সংগঠন-কাঠামোর সর্বস্তরে "নিয়মিত রিপোর্ট-রেকর্ড"কে কাঠামোগত শর্তে অবশ্যপালনীয় নির্দেশবলে নিশ্চিত ও নির্বিঘ্ন করা হয়েছে। অর্থাৎ সংবদ্ধ হওয়ার শর্তে- 'পারস্পরিক বা সাংগঠনিক রিপোর্ট' এবং দেশজ চেতনা সংহতকরণে তথা সামষ্টিক চেতনা অর্জনের শর্তে স্থানিক বাস্তবতা সংশ্লিষ্টতা মানুষের জীবনঘন আবর্ত, ভূ-প্রকৃতি, আর্থিক সম্ভাবনা তথা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল প্রসঙ্গে নিয়মিত রিপোর্ট-রেকর্ড সহ যথাসম্ভব কর্মশালার গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রেরিত নিয়মিত রিপোর্টের সার-সংকলন)। তা অর্জনের প্রক্রিয়াগত দিকের কাঠামোগত প্রকাশকেও 'বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণ'-এর সংগঠন-কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রযুক্তিগত উত্তরণের সাযুজ্যতায় তথ্যনিষ্ঠ রিপোর্ট-রেকর্ড তৈরি ও সংহতকরণের প্রক্রিয়াই মূলত বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামো।

 

এদিক থেকে সংঘবদ্ধতার সাধারণ গাঠনিক নীতি বা ঐক্যবদ্ধতার শর্তের সাথে যুক্ত এবং তথ্য বা চেতনা সংহতকরণের বৌদ্ধিক বা সংস্কৃতিগত শর্তকে মিলিয়েই যে সামষ্টিক বা অখন্ড রূপ, যা কাঠামোগত পরিচয়ে বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামো এবং পারিভাষিক ক্ষেত্রে তা "সচেতন সামাজিক শক্তি" (Social Power with Knowledge) হিসেবে নির্দিষ্ট বা প্রকাশিত।

 

(২) আন্তর্জাতিক বাস্তবতাঃ ক্রমোত্তরিত সমাজ-সভ্যতায় আজকের পৃথিবীতে কোনো দেশেরই আর্থসামাজিক মুক্তি আন্তর্জাতিকতার শর্ত থেকে মুক্ত নয়। পরিবর্তিত এই বৈশ্বিক বাস্তবতা সব দেশের জন্যই নতুন। এমন-কি বিগত সমাজ বিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রিক বিকাশের চোখে সম্পূর্ণ অচেনা ও বিপরীত। বিশেষত, বিপরীত এই কারণে যে- রাষ্ট্রসমূহ ক্রমবিকাশের অর্থে ক্রম-আধুনিকতায় রাষ্ট্রকাঠামো সহ সকল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত ক্ষেত্রে চরম কেন্দ্রীভূত চেহারা নিয়েছে; বিপরীত দিকে প্রযুক্তিগত উত্তরণের ধারায় সমাজসভ্যতা মানুষের পারস্পরিকতার সীমাকে সব কেন্দ্র, এমন-কি মানচিত্রিক সীমা ছাপিয়ে বিকেন্দ্রের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থাৎ সমাজ-সভ্যতা বা আজকের পৃথিবী যে বাস্তবতায় এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোসমূহ প্রযুক্তিগত উত্তরণের অভিঘাতকে ধারণপূর্বক সমাজ সংহতকরণের বৈশিষ্ট্য (ব্যাংকিং বা আর্থিক, রাষ্ট্রিক, শিক্ষা সহ প্রায় সকল সেক্টর বা ফ্রন্টে) ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে। আধুনিকীকরণ বা কেন্দ্রীভূত হওয়ার পথ ধরেই তা ইতোমধ্যে সেকেলে হয়ে পড়েছে। কোনো এক বিশেষ কেন্দ্র-অনুবর্তী ব্যবস্থা- যা সমাজবিবর্তনের ধারায় অদ্যাবধি রাষ্ট্রীয় বিকাশ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, এমন-কি যা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য নিয়ে সংজ্ঞায়িত তথা প্রচলিত চেইন অব কমান্ড, র‌্যাঙ্ক  অ্যান্ড ফাইল বা আমলাতন্ত্র- যেটাই বলা হোক, প্রযুক্তিগত বা বৌদ্ধিক উত্তরণের এই বর্তমান বাস্তবতাকে ধারণ তথা সংহতকরণে তার উপযোগিতা হারিয়েছে। ফলে, বিকেন্দ্র-অনুবর্তী বৈশিষ্ট্যের দিকে ক্রম-অগ্রসরমান পৃথিবী এবং সে বাস্তবতায় উক্ত গৃহীত সংগঠন-কাঠামো অনিবার্য।

অর্থাৎ বোধগত ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাস্তব সংশ্লিষ্টতাও বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামো গ্রহণের অনিবার্যতাকে প্রকাশ করে।

 

(৩) রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক স্তরে সংহতি গড়ে তোলার ডাক, রাষ্ট্রিক কাঠামোগত সংহতি গড়ে তোলার অনিবার্যতাকে নির্দেশ করেঃ 'সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অবিরত' ঘোষণায়, বিগত এক যুগের সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল যেমন সংগঠন গড়ে তোলা- যা যুগপৎ সংগঠন পরিকাঠামো গড়ে তোলা বা কাঠামোগত দিকেরও নির্দেশক। তেমনি রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক সংহতি গড়ে তোলার আওয়াজ, জাতীয়-আন্তর্জাতিক উভয়বিধ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংহতির দিককেও নির্দেশ করছে।

 

পূর্বোক্ত জাতীয়-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত বিশ্লেষণে ছিল বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামোর অনিবার্যতা, যা সংহতির নির্দেশক- বিপরীতক্রমে তা ছিল কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রকাঠামো তথা বিদ্যমান বৈশ্বিক রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক পর্যায়ে বিদ্যমান কাঠামোগত অসংহতির নির্দেশক।

 

সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন পর্যায়ে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তৃতীয় রিপোর্টে আমরা বলেছিলাম, "বৈশ্বিক সংকটের বিষক্রিয়া প্রথম অনুভূত হয় আর্থ-ব্যবস্থায় দুর্বল, প্রতিরোধ শক্তিহীন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেই। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হওয়ার সুবাদে, আমাদের স্বদেশভূমি বাংলাদেশেও সংকটের তীব্রতা প্রকটভাবে ফুটে ওঠাটাই স্বাভাবিক এবং ইতোমধ্যে তা ভয়ানকভাবে ফুটে উঠেছে" এবং উক্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী জাতীয়-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত বিশ্লেষণে- সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন পর্যায়ে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত চতুর্থ রিপোর্টে উল্লেখ ছিল,

 

" ...চুম্বকদন্ডের ন্যায় রাষ্ট্রসম্পৃক্ত ধারায় রাজনীতিগতভাবে ব্যাপক জনসমাজের মধ্যে দুটো পরস্পরবিরোধী অংশের বিভাজন তীব্র হচ্ছে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার- যা বিশ্বের রাষ্ট্রিক বিকাশের সাথে সম্পর্কহীন। এরা কোনো অবস্থাতেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকশিত রূপ নয় বরং রাষ্ট্রিক বিকৃতিরই প্রমাণ এবং জননিরাপত্তা আইন (ব্রিটিশ আমলে Walton আইনের আধুনিক সংস্করণ) ইত্যাদি প্রবণতাগুলো কোনো অবস্থাতেই এদেশের ব্যাপক জনসমাজ-মুখিনতার রাষ্ট্রিক অগ্রগামিতার বৈশিষ্ট্য নয়। রাজনীতিরও উত্তরিত কোনো প্রমাণ নয়- বরং তার উল্টোটাই সত্যি।"

 

২০০৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত সাংগঠনিক চতুর্থ রিপোর্টের উল্লিখিত অংশ অনুসারে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মৌলিক শর্ত পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক আস্থা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো বৈশিষ্ট্যগতভাবে উক্ত শর্ত রÿণ ও সংহতকরণেই সৃষ্ট বা চালিত পরিকাঠামোগত দিক বা প্রকাশ। কিন্তু এক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরমত-অসহিষ্ণুতা ও অনাস্থা থেকে উদ্ভূত এবং রাষ্ট্রকাঠামো তার নিজ বৈশিষ্ট্যের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান নিতে পেরেছে। অর্থাৎ হরিণ পাখি প্রসব করলে যে অস্বাভাবিকতা বা বিকৃতি প্রকাশ পায়, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এক্ষেত্রেও তেমনি অস্বাভাবিকতাকে প্রকাশ করেছে। বিশেষত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বা ক্রিয়াশীলতা, প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রকাঠামোর কাঠামোগত দুর্বলতাকে প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যবস্থা থাকুক বা না-ই থাকুক- স্বল্পস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী হোক অথবা এখনও এর প্রয়োজন আছে কি নেই, কাঠামোগত দিক থেকে প্রসঙ্গটা একেবারে অবান্তর। কারণ সরকার ও রাষ্ট্রকাঠামো বা গাড়ি ও ড্রাইভার এক জিনিস নয়। এক্ষেত্রে প্রসঙ্গ যেভাবেই হোক, তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল- যা বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর প্রতিষ্ঠানগত বা কাঠামোগত অসংহতি বা দুর্বলতার প্রকাশক। ঠিক যেমন হরিণের গর্ভপ্রসূত পাখির ছানা বাঁচলো কি মরলো, সে প্রসঙ্গের চেয়ে ঘটনাটা অস্বাভাবিক বা বিকৃতি এবং তা ঘটতে পেরেছে- এটাই স্মর্তব্য। ফলে প্রমাণিত কাঠামোগত অসংহতি, যা মাঝে মাঝে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে এবং তা জাতীয়-আন্তর্জাতিক সবক্ষেত্রেই বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতায় কম-বেশি বেরিয়ে আসছে, যা বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকরণের বাস্তব ক্রম-অনুবর্তিতার প্রামাণিক প্রকাশ।

 

উল্লিখিত জাতীয়-আন্তর্জাতিক বাস্তবতার বিশ্লেষণ তথা বিগত সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথ ধরে উত্তরিত বর্তমানের রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে নির্দিষ্ট রাষ্ট্রিক তথা জাতীয় স্তরে সংহতি গড়ে তোলার সাথে কাঠামোগত সংহতির শর্তও যুক্ত এবং 'বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকরণ'-এর সংগঠন-কাঠামো প্রতিষ্ঠা মূলনীতির মধ্যে গৃহীত।

 

পতাকা ও লোগো   ৬। (১) পতাকাঃ

(ক) দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত = ৫:৩

(খ) জমিনের সবুজ ও ঈষৎ লালচে মেরুন অংশের অনুপাত = ৫:১

(গ) গোলকের ব্যাস প্রস্থের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রস্থ ও গোলকের ব্যাসের অনুপাত = ৩:২

(ঘ) পতাকার জমিনের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের মধ্যবর্তী বিন্দুতে গোলকের কেন্দ্র অবস্থিত।

 

ব্যাখ্যাঃ মানবীয় সমাজ-সভ্যতা দুই ভাগে বিভক্ত- কায়িক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা ও বৌদ্ধিক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা। কায়িক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা বিগত (দ্রুত অপসৃয়মান) এবং বৌদ্ধিক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা বর্তমান (দ্রুত বিকাশমান)।

  • পতাকার জমিন ধরিত্রীর রং-এ সবুজ।
  • জমিনের নিচের দিকে ঈষৎ লালচে মেরুন- বিগত কায়িক শ্রম নির্ভর জৈবিক সমাজ-সভ্যতার প্রতীক; যেখানে হিংসা, রক্তজ যুদ্ধ বোঝাতে লাল এবং উক্ত বাস্তবতার অতীত বোঝাতে মেরুন, অর্থাৎ এ দুই-এর মিলিত অর্থবোধনে ঈষৎ লালচে মেরুন।
  • মাঝে অখন্ড পৃথিবী বোঝাতে ভূ-গোলক, যা সব মানুষের বা সামষ্টিক অধিকার-বোধে অহিংস পরিস্ফুটনে সাদা রং-এ চিত্রিত।
  • মানবীয় হৃদ্যিক সম্পর্ক বা সমমর্যাদা-বোধের স্বকীয় সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্যে জীবনের জন্যে জীবিতদের জীবন্ত সম্পর্ক বোঝাতে লাল রেখায় হৃদ্‌স্পন্দ।

 

(২) লোগোঃ নৈর্ব্যক্তিকতার প্রশ্নে 'বিজ্ঞাননিষ্ঠ ফেনোমেনন' (মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম এককের গঠনপ্রকৃতির চিত্র অনুসরণপূর্বক) বা চিত্র, যেখানে গতিশীল তিনটি বৃত্ত স্বকীয় ও স্বতন্ত্র সীমানা থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক অখন্ডতাতেই কেবল স্বতন্ত্র রূপে (Unique অর্থে) বস্তুপ্রকৃতিতে অস্তিত্বশীল।

 

লোগো অর্থে ব্যবহৃত উক্ত চিত্রে তিনটি বৃত্ত 'কাঠামো ক্রিয়ার কোষ'-কে প্রতিফলিত করছে। অখন্ডতায় স্বতন্ত্র রূপের কেন্দ্রে চিত্রিত পৃথিবী বা ভূ-গোলক মূলত মানবীয় বোধের সাপেক্ষকেই প্রকাশ করছে, যা সংহতকরণে সংগঠন-কাঠামো এবং তা আহরণের মাধ্যম অর্থে- জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতীক 'কলম'।

ব্যাখ্যাঃ বৌদ্ধিক ক্ষেত্রে মানুষের পরম্পরা রÿিত হওয়ার প্রথম হাতিয়ার 'কলম', যার পরিণতিতে মানবীয় পারস্পরিকতার সীমা বৃদ্ধি তথা সমাজ-আয়তন বেড়েছে। অর্থাৎ মানবীয় সমাজ-সভ্যতা এগিয়ে যাওয়ার শর্তে যে নৈর্ব্যক্তিক 'বিজ্ঞাননিষ্ঠতা', জ্ঞান বা প্রজ্ঞা অর্থে তা আহরণ বা অর্জনকে বোঝাতেই সমন্বিত অর্থে চিত্রিত উক্ত 'লোগো'।

 

(৩) এই অনুচ্ছেদের (১) ও (২) দফার সম্মিলিত অর্থবোধনে সামষ্টিক রূপ বা ভাবাদর্শিক ঘোষণাঃ

(ক) সমাজ-সভ্যতা দুই ভাগে বিভক্ত- দৈহিক বা কায়িক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা ও বৌদ্ধিক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা। প্রকৃতিপ্রধান কায়িক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা ক্রমশ অতিক্রান্ত এবং বৌদ্ধিক শ্রম নির্ভর সমাজ-সভ্যতা সমাগত।

(খ) হিংসা নয়, বদলের বাস্তব ও বিজ্ঞাননিষ্ঠ পথ আজ- অহিংস। রক্ত নয়, বৌদ্ধিকতাই বদলের একমাত্র শর্ত।

 

ব্যাখ্যাঃ ব্যবসানীতি কিংবা যুদ্ধনীতি অথবা রাজনীতি থেকে আইন-কানুন, নীতি-নৈতিকতা সবই ভাগাভাগির (খন্ডিত বা 'আংশিক বাস্তব' প্রসূত) রক্তজ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন- যা এখনও বিদ্যমান, অথচ তা মানবসভ্যতার গর্ভোন্মুখ জৈবিকতা মাত্র। তাকে সমাহিত করার মধ্যেই আজকের মানবসভ্যতার (প্রযুক্তিগত উত্তরণের পথ ধরে 'সামগ্রিক বাস্তবতা' সংশ্লিষ্ট) যথাস্থ হওয়া নির্ভরশীল।

 

আজকের মানবসভ্যতার নিক্তিতে অখন্ড বিশ্ব-বোধে বিগত সভ্যতার যুদ্ধ ও ভাগাভাগির যাবতীয় নীতি কায়িক শ্রম নির্ভর জৈবিক সমাজ-সভ্যতার অতীত অসহায়ত্ব মাত্র। সমাগত অহিংস'র বাস্তবসমৃদ্ধ আজকের মানবীয় সমাজ-সভ্যতার গা থেকে জৈবিক সেই সব জঙ্গবাজির চিহ্ন তথা নীতি-নৈতিকতায় এখনও টিকে থাকা শিশুতোষ হামাগুড়ি থেকে ভাগাভাগির বালসুলভ বিশৃঙ্খলা- নির্মোহ চিত্তে ঝেটিয়ে বিদায় দেওয়ার মধ্যেই বিশ্বশান্তি- মানবমুক্তির সদম্ভ ঘোষণা উচ্চারিত হচ্ছে।

 

তাই পথ ও মত- আজ দুই ভাগে বিভক্ত; যে পথ আর যা-কিছু রক্তের অনিবার্যতাকে প্রকাশ করে- তা-ই কুপথ, সে ধর্ম বা বিজ্ঞান যে বেশ ধরেই আসুক- তা অতীতের কায়িক শ্রম নির্ভর জৈবিক সমাজ-সভ্যতার বাস্তবতা নিঃসৃত। যা আজকের বাস্তবতায় কুমন্ত্রণা-কুপথ হতে বাধ্য। সুসভ্যত নৈর্ব্যক্তিক বাস্তবতায় বৌদ্ধিকতাই একমাত্র মত এবং অহিংসই একমাত্র বিজ্ঞাননিষ্ঠ পথ।

 

সংগীত   ৭। (প্রস্তাবিত)

মঞ্চ ও ফেস্টুন   ৮। সাধারণত মঞ্চ ও ফেস্টুনের রঙ সাদা হবে। সুনির্দিষ্ট কারণে (যেমন উৎসব বা শোক) ব্যতিক্রম হতে পারে।

দপ্তর   ৯। সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর রাজধানী 'ঢাকা'য় অবস্থিত হবে। প্রয়োজনে তা দেশের অন্যত্রও হতে পারে।

তহবিল   ১০। সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যয়নির্বাহের জন্য তহবিল গঠনের প্রশ্নে আমাদের দিশা- 'যতোটুকু সংগঠন, ততোটুকু সংগ্রাম এবং ততোটুকু অর্থায়ন'। নিম্নলিখিত প্রক্রিয়ায় তহবিল গঠিত হবেঃ

     

(১) সভ্যচাঁদাঃ প্রতি মাসে ১০ (দশ) টাকা। সভ্যচাঁদার মোট প্রাপ্তির গড় হিসেবে এক্ষেত্রে স্থানিক বলতে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম বা রুট/প্রান্তিক ইউনিট বোঝালেও সমন্বয়ের শর্তগত দিক থেকে সাংগঠনিকভাবে এখন পর্যন্ত উপজেলাই স্থানিক পর্যায় হিসেবে নির্দিষ্ট থাকায় উক্ত প্রাপ্তির গড় হিসেবে স্থানিক উপজেলা ৭০%, জেলা ১৫%, অঞ্চল ১০% এবং ৫% কেন্দ্রে যাবে ('স্বতঃস্ফূর্ততা ও সক্ষমতা থাকলেই কেবল সভ্যচাঁদা গ্রহণ করা যেতে পারে'- পূর্বঘোষিত এই আর্থিক নীতি বর্তমান রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক স্তরে সভ্য স্তর নির্দিষ্টকরণ প্রক্রিয়াকে সচল করার সিদ্ধান্তে কেবল 'প্রাক-সভ্য' স্তর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে)।

 

(২) আর্থিক নীতিঃ

(ক) পরনির্ভরশীলতাই জাতীয় জীবনে বড় পঙ্গুত্ব, অন্যের পকেট ও অন্যের মগজ উভয় পথই নিজের দেশ ও সংগঠনের জন্য অভিশাপ। দেশজ বোধে স্বকীয় নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন সংগঠন গড়ে তুলতে হবে নিজেদের পায়ে ভর দিয়েই। তাই চেতনা বা সাংস্কৃতিক সংগ্রামের শর্তে সর্বাগ্রেই জরুরি হয়ে উঠেছে স্বনির্ভরতা এবং নিজের দেশ ও সংগঠনকে অপরের পকেটস্থ হওয়া থেকে মুক্ত রাখতে গৃহীত আর্থিক নীতি- 'আপন দেশ, আপন অর্থ, আপন সংগঠন'।

 

(খ) সাংস্কৃতিক সংগ্রামের পথে সংগঠন যেহেতু শ্রমসংস্কৃতি গড়ার শর্তে ঘোষণা করেছে- "শ্রমবর্জিত চেতনা আর চেতনাবর্জিত শ্রম পঙ্গু ও অসম্পূর্ণ", সেহেতু স্বনির্ভরতার নীতিগত শর্ত ও প্রতিটি সভ্যের শ্রমসম্পৃক্ততায় নিজেদের উপার্জন/অর্থ দিয়েই সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালাবে।

 

(গ) উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসারে, যাঁরা সভ্য নন অথচ সমর্থক (ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ) তাঁদের ক্ষেত্রেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদেয় অর্থ প্রসঙ্গে স্থানিক কমিটি/অথোরিটির অনুমোদন ও আলোচনার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।

 

(ঘ) এক্ষেত্রে উল্লেখ থাকে যে, সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের স্তরে সভ্যচাঁদা স্বতঃস্ফূর্ততার ওপর নির্ভরশীল ছিল বিধায়- তা ছিল অনিয়মিত। ফলে, বেশির ভাগ সাংগঠনিক কর্মকান্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত অথোরিটিবৃন্দ নিজেদের অর্থেই নিজ নিজ দায়িত্বভুক্ত কর্মসীমানার ব্যয়নির্বাহ করতেন এবং অনিয়মিত উক্ত অর্থ যতোটুকু পরিমাণে সংগৃহীত হতো, তা স্থানিক ফিল্ডেই ব্যয় করা হতো অর্থাৎ উল্লিখিত বণ্টন-রীতি রহিত ছিল। কিন্তু ২০১২ খ্রিঃ-এর ২৪শে নভেম্বরের পর উক্ত বণ্টন-নীতি সংস্কার ও সচল করা হলো।

 

দ্বিতীয় ভাগ

সংগঠন-কাঠামো ও তার ক্রমবিকাশ

 

সংগঠন-কাঠামো   ১১। (১) গৃহীত মূলনীতি অনুসারে, লক্ষ্য পূরণে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অবিরত। সংজ্ঞায়িত উক্ত সাংস্কৃতিক সংগ্রাম-এর ধারা- বৈশিষ্ট্য ও ব্যপ্তির দিক থেকে ভিন্ন হেতু তার সাথে সম্পৃক্ত পরিকাঠামোর ভিন্নতাকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ সাংস্কৃতিক সংগ্রাম ও পরিকাঠামো পারস্পরিক সম্পর্কে সম্পূরক তথা বৈশিষ্ট্য, ব্যপ্তি ও বিকাশগত দিক থেকে উভয় ক্ষেত্রেই ক্রমোত্তরণের একই শর্ত বিদ্যমান থাকে। সেই ধারায়- i) সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (Socio-Wide Movement), ii) রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (Political-Wide Movement) ও iii) সামাজিক-রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন (Socio-Political-Wide Movement) তিন পর্যায়ের বিকাশই পরিকাঠামোর সাথে সম্পূরক এবং তা পরিকাঠামোগত মানদন্ডে সাযুজ্যপূর্ণ। এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের মতাদর্শিক দিশায় তাই সামাজিক আন্দোলন-এর মাধ্যমে সাংগঠনিক ভিত্তি রচনার পর্ব বলতে মূলত তা একই সাথে পরিকাঠামো তথা সংগঠন-কাঠামোর ক্রমবিকাশ পর্বকেও নির্দেশ করে।

 

উল্লিখিত নির্দেশ বিচারে- সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ক্রমোত্তরণ যেহেতু পরিকাঠামোর মানদন্ডে সাযুজ্যপূর্ণ, তাই সামাজিক আন্দোলন তথা প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হওয়ার পরিণতিতে প্রাপ্ত যেমন সাংগঠনিক ভিত্তি, তেমনি তা একই সাথে বিকাশপ্রাপ্ত সংগঠন-কাঠামো, যা দ্বিতীয় পর্যায় তথা রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্য নেতৃত্ব নির্দেশনা তথা পদ-পদবী।

 

(২) কাঠামোর বৈশিষ্ট্যঃ 'বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকরণ'-এর সংগঠন-কাঠামোয় 'ইউনিট'- কাঠামোগত একক হিসেবে গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ ইউনিটের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যই সমস্ত সংগঠন-কাঠামোর বৈশিষ্ট্য। ফলে, একটি ইউনিটে যে ক'জন সভ্য (১০ জন সভ্য+১ জন সমন্বয়ক বা অথোরিটি = ১টি ইউনিট), সর্বোচ্চ কাঠামোগত নেতৃত্ব তথা কেন্দ্রীয় কমিটি সহ কাঠামোগত সকল অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাই প্রতিফলিত। অর্থাৎ ৩ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা (১০+১)= ১১ হবে, তার বেশি নয় এবং কাঠামোগত বিকাশও ১০-এর ধাপে ধাপে (১০+১০+১=২১ তথা সেল) এগুতে থাকে। সেই সাথে উক্ত সংগঠন-কাঠামোটি 'লম্ব ও আনুভূমিক-এর আন্তঃগাঠনিক শর্ত' মেনে সূচনা থেকে পরিণতি পর্যন্ত সব স্তরে ক্রমোত্তরিত। কাঠামোভুক্ত প্রতিটি কমিটিতে তো বটেই- বিকাশমান অংশগুলোর মধ্যেও অনুরূপ কাঠামো আন্তঃসম্পর্কে ক্রিয়াশীল থাকে এবং যথারীতি এক্ষেত্রেও কাঠামোগত একক অর্থে উক্ত 'ইউনিট' সংখ্যাই নির্ধারিত।

 

(৩) কাঠামোগত বিকাশের ধারায় সংগঠন-কাঠামো দুই ভাগে বিভক্তঃ

(ক) মৌল কাঠামো

(খ) সাধারণ কাঠামো

 

(৪) মৌল কাঠামো তিন ভাগে বিভক্তঃ

(ক) প্রথম ভাগঃ অন্তর্বীজ ফ্রন্ট

(খ) দ্বিতীয় ভাগঃ ইউনিট ফ্রন্ট

(গ) তৃতীয় ভাগঃ সেল ফ্রন্ট

(এক্ষেত্রে উল্লেখ থাকে যে, 'ফ্রন্ট' বলতে সংবদ্ধ বা অখন্ড রূপকেই বুঝানো হয়েছে) 

এই তিন ভাগ, ক্রমবিকাশের ধারায় প্রকাশিত অর্থাৎ প্রথম ভাগ (অন্তর্বীজ ফ্রন্ট)-এর মাধ্যমে দ্বিতীয় ভাগ (ইউনিট ফ্রন্ট)-এর গড়ে ওঠা এবং দ্বিতীয় ভাগের মাধ্যমে তৃতীয় ভাগ (সেল ফ্রন্ট)-এর গড়ে ওঠা, বিকাশ ও প্রকাশ নির্ভরশীল। এই তিনটি ভাগ পরম্পরার পরিণতি অর্থে এগুতে থাকলেও নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ও নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য ও রূপে বিকাশপ্রাপ্ত।

 

সভ্যকরণের শর্ত   ১২। (১) ন্যূনতম আঠারো বছর বয়স্ক বাংলাদেশী নাগরিক।

 

(২) যাঁরা ন্যূনতম নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন, দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত, চেতনাবোধে কিছুটা হলেও দক্ষতা আছে এবং কিছুটা হলেও যাঁদের নিজ এলাকায় পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা আছে- তাঁদেরই কেবল সম্পৃক্ত করা যাবে। ব্যক্তিগত বা নৈতিক বিচ্যুতি, নেশা বা হিংসার মতো অসামাজিক বিশৃঙ্খলা, আত্মকেন্দ্রিকতা ইত্যাদি আদর্শগত প্রতিবন্ধকতা তথা সামাজিকভাবে যাঁরা গ্রহণযোগ্য নয়- তাঁদেরকে সম্পৃক্ত করা যাবে না।

 

অন্তর্বীজ ফ্রন্ট, ইউনিট ফ্রন্ট এবং সেল ফ্রন্টের ক্রমবিকাশ   ১৩। অন্তর্বীজ ফ্রন্ট থেকে যে সংগঠন-কাঠামোর যাত্রা শুরু, তা ইউনিট ফ্রন্ট হয়ে সেল ফ্রন্ট-এ পূর্ণতা পায়। অর্থাৎ অন্তর্বীজ ফ্রন্টই ইউনিট ফ্রন্টের মাধ্যমে সেল ফ্রন্ট হিসেবে পরিণতি লাভ করে। এই অর্থে, এই তিনটি স্তর মিলে এটি একটি অখ- সাংগঠনিক ফ্রন্ট এবং তিন স্তরেই লম্ব ও আনুভূমিক-এর গাঠনিক শর্ত মেনে সূচনা থেকে পরিণতি পর্যন্ত ক্রমোত্তরিত বা বিকশিত এক অখন্ড কাঠামো এবং সাধারণ কাঠামোগত রূপ মূলত মৌল কাঠামোগত দিক বা রূপেরই সাধারণ পরিণতি বা স্থিতি।

 

প্রথম ধাপঃ মৌল কাঠামো

পরিকাঠামোর প্রথম ভাগ (অন্তর্বীজ ফ্রন্ট)

 

অন্তর্বীজ ফ্রন্ট   ১৪। (১) সংগঠন গড়ে তোলার শপথে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণকারী অগ্রণী অথোরিটি তথা নেতৃত্ববৃন্দ। সংগঠনের আহ্বান নিয়ে সংগঠনের দূত বা বীজ এর মতো ছড়িয়ে পড়েন এবং সংগঠন গড়ার প্রথম ভাগের কাঠামোগত রূপ দিতে সচেষ্ট হন।

 

অন্তর্বীজ প্রতিনিধি বা সভ্যরা অন্তর্বীজ প্রতিনিধি হিসেবে নিজ নিজ অঞ্চল (জেলা-উপজেলা)-এ অন্তর্বীজ ইউনিট গড়ে তুলবেন। অন্তর্বীজ প্রতিনিধির নিজস্ব ইউনিট গড়ে তোলার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিট সভ্যদের প্রয়োজনীয় নীতি-নির্দেশনার মাধ্যমে নিজ নিজ ইউনিট গড়ে তোলার নির্দেশ দেবেন অথবা তাদের সহযোগিতায় অপরাপর ইউনিট গড়ে তুলবেন।

 

(২) দায়িত্ব বা কর্মসীমানাঃ

(ক) অন্তর্বীজ (মাধ্যম অথোরিটি) প্রতিনিধি একটি নির্দিষ্ট ইউনিটে সম্পৃক্ত বা নেতৃত্বে থাকলেও সংগঠন গড়ে তোলার এ-পর্যায়ে মূলতঃ সমস্ত দেশ-ই তার কার্যক্ষেত্র, যেখানেই সম্ভব সেখানেই তিনি ইউনিট গড়ে তুলে সাংগঠনিক ফ্রন্টের সাথে যুক্ত করবেন।

 

(খ) অন্তর্বীজ প্রতিনিধি বা মাধ্যম অথোরিটি তাঁর সংযোগকৃত নতুন ইউনিটের (১১ জন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত) আহ্বায়ক বা সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করবেন।

 

(৩) প্রধান বৈশিষ্ট্যঃ সংগঠন পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রাথমিক পর্বে অর্থাৎ অন্তর্বীজ পর্যায়ে সংগঠন বিস্তর উচ্চস্তর থেকে নিম্নস্তরের দিকে- জেলা থেকে থানা, শহর থেকে গ্রামের দিকে ধাবিত হবে, যা পরিকাঠামোগত মানদন্ডে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার সংগঠন-কাঠামো সদৃশ।

 

(৪) রূপঃ অন্তর্বীজ পর্যায় মূলত কনভিন্স বা সভ্যকরণ ইউনিট।  

 

(৫) দায়িত্ব বা নেতৃত্ব নির্বাচন তথা যৌথসভাঃ সংগঠন পরিকাঠামো গড়ে তোলা ও সংহতকরণে আদর্শিক এই ধারায় এক এক করে মোট (১০+১=১১) এগারো জন সভ্য হলেই অন্তর্বীজ অথোরিটি যৌথসভা আহ্বান করে প্রত্যক্ষ আলাপ-আলোচনা তথা আন্তরিক, অবাধ ও যুক্তিনিষ্ঠ মতবিনিময়ের মাধ্যমে উক্ত ১১ জনকে ৩ জন করে মোট ৩টি ইউনিটে বিভক্ত করে কাঠামো সম্পৃক্ত করবেন। অর্থাৎ উক্ত ১১ জনের মধ্যে ১ জন সমন্বয়কারী, ১ জন যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং প্রতিটি ইউনিটে ১ জন আহ্বায়ক ও ২ জন যুগ্ম আহ্বায়ক নির্দিষ্ট করে, ১১ জনের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট করতে আরও ৮ জনকে কনভিন্স (৩+৮=১১) করা সহ পারস্পরিক বা সাংগঠনিক ও স্থানিক বাস্তবতা সংশ্লিষ্ট (মানুষের জীবনঘন আবর্ত, ভূ-প্রকৃতি, উন্নয়ন সম্ভাবনা তথা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল) নিয়মিত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দিবেন।

 

অন্তর্বীজ অথোরিটি সবাইকে উপলব্ধিমূলক সামগ্রিক মূল্যায়ন রিপোর্ট (১ সপ্তাহের মধ্যে) করতে বলে ধন্যবাদ জানিয়ে যৌথসভা শেষ করবেন।

 

এক্ষেত্রে নবগঠিত ইউনিটের নির্বাচিত আহ্বায়কই উক্ত ইউনিটের জন্য সমন্বয় করার দায়িত্বে কাঠামোগত মানদন্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং উক্ত ৩ ইউনিটের সমন্বয়ের দায়িত্বে সমন্বয়কারী এবং যুগ্ম-সমন্বয়কারী সাংগঠনিক মানদন্ডে সর্বোচ্চ অথোরিটি বা আদর্শিক শিক্ষক।

 

(৬) অন্তর্বীজ ইউনিট র্ফ‌ম পূরণের নীতিঃ পূর্বতন নেতৃত্ব পরবর্তীর জন্য অথোরিটি হিসেবে গৃহীত। অর্থাৎ সময়ের মানদন্ডে নেতৃত্ব নির্দিষ্টকরণের প্রাথমিক শর্ত অনুসারে ২ জন সভ্যের মধ্যে ১ জন পূর্বতন বা অথোরিটি, অন্যজন অনুগামী; তিনজন সভ্যের মধ্যে একজন অথোরিটি, অন্যরা অনুগামী। এই ভাবে ১১ জন পর্যন্ত্ম ১ জন প্রধান বা পূর্বতন এবং অন্য ১০ জন অনুগামী। এক্ষেত্রে ঐ পূর্বতন ১ জনই ১০ জনের অগ্রণী "অথোরিটি" বা আদর্শিক শিক্ষক, উক্ত ইউনিটের মধ্যে তাঁর নির্দেশই বিশেষ বা সর্বোচ্চ। তিনি ব্যক্তি নন- সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনিই সংগঠন।

 

পরিকাঠামোর দ্বিতীয় ভাগ (ইউনিট ফ্রন্ট)

 

ইউনিট ফ্রন্ট   ১৫। (১) সংগঠন-কাঠামোর এই পর্যায়কে ইউনিট ফ্রন্ট বলা হলেও পূর্বেই বলা হয়েছে, তা শুরু হয় মুখ্যত অন্তর্বীজ ফ্রন্টের যৌথসভার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্ব থেকেই। অবশ্য ইউনিট ফ্রন্টের বৈশিষ্ট্য মধ্যবর্তী হওয়ার কারণে এর প্রথম ভাগে যেমন থাকে অন্তর্বীজ ফ্রন্টের রেশ বা সমাপনী, তেমনি ইউনিট ফ্রন্টের শেষভাগে শুরু হয় সেল ফ্রন্টের প্রারম্ভিকতা। যে কারণে সংগঠন-কাঠামোর প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইউনিট কাঠামো বিদ্যমান থাকে। এই অর্থে ইউনিট কাঠামোই সংগঠন-কাঠামোতে স্থায়ী রূপ হিসেবে সক্রিয় থাকে।

 

(২) দায়িত্ব বা নেতৃত্ব নির্বাচন তথা যৌথসভাঃ সি.সি. (কেন্দ্রীয় কমিটি-Central Committee)-এর উপস্থিতিতে ৩টি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট তথা ১১ জন+১১ জন+১১ জন= ৩৩ জন+১ জন যুগ্ম সমন্বয়কারী+১জন সমন্বয়কারী= সর্বমোট ৩৫ জনকে নিয়ে (অন্তর্বীজ যৌথসভা থেকে ঘোষিত নিয়মিত রিপোর্ট প্রেরণ সংক্রান্ত, অর্থাৎ সাংগঠনিক ও স্থানিক বাস্তবতা সংশ্লিষ্ট প্রেরিত রিপোর্ট সহ) ২/১ দিনের কর্মশালা শেষে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ তথা ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট গঠন এবং অপরাপর গ্রন্থসহ নির্দিষ্ট সাংগঠনিক পেপারস্‌ পাঠের নির্দেশ দিবেন।

 

(৩) যেহেতু বিগত অন্তর্বীজ ফ্রন্টের যৌথসভায় প্রতিটি ইউনিটের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কদ্বয় নির্দিষ্ট হয়েছিলেন, তাই এ-পর্বে কমিটি অনেকটা প্রস্তুত হয়েই থাকে। তাই বিগত ফিল্ড কর্মকান্ডের রিপোর্ট যাচাই-বাছাই পূর্বক ৩টি ইউনিটের আহ্বায়কত্রয় ইতোপূর্বে দায়িত্ব পালনে যথার্থ ভূমিকায় অগ্রজ হলে, তাঁদের যথাক্রমে কাঠামোগত দায়িত্বে-

(ক) পরিচালনা বোর্ড প্রতিনিধি
(খ) কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিনিধি ও
(গ) এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রতিনিধি

নির্দিষ্ট করবেন।

 

(৪) বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামোর নীতি তথা মতাদর্শিক দিশা অনুসারে 'বোর্ডগুলো ক্ষমতার নিক্তিতে সম ও স্বতন্ত্র এবং 'তিন' কাঠামো ক্রিয়ার কোষ- বিধায় 'তিন' মিলেই সম্পূর্ণ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলায় ক্রমানুসার অনিবার্য, ফলে কোনো ফিল্ডে সংগঠন-কাঠামোতে অগ্রজ অথোরিটিদেরকে দায়িত্বপ্রদানে এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক), (খ) ও (গ) ক্রমানুসারে নির্দিষ্ট করবেন।'

 

(৫) তিন বোর্ড প্রতিনিধি নির্দিষ্ট হওয়ার সাথে সাথে উক্ত ফিল্ডে কমিটি পূর্ণতা পেলো অর্থাৎ এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রতিনিধি+কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিনিধি+পরিচালনা বোর্ড প্রতিনিধি+সমন্বয়কারী+কমিটি প্রধান = পূর্ণাঙ্গ কমিটি। আর এখান থেকেই অত্র ফিল্ড সংগঠন-কাঠামো পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ ও অনুশীলন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করলো। ৩টি ইউনিট অর্থাৎ ৩৩ জনের মধ্যে ৩ জন বোর্ড প্রতিনিধি নির্দিষ্ট হওয়ার পর, বাকি ৩০ জন পূর্বোল্লিখিত (অন্তর্বীজ) প্রক্রিয়া অনুযায়ী ৩ জন করে মোট ১০টি ইউনিটে বিভাজিত হয়ে কাঠামো সম্পৃক্ত হবেন। অর্থাৎ প্রতিটি ইউনিটকে ১০ জনের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হতে ৭ জনকে কনভিন্স করতে হবে।

 

(৬) যেহেতু বিগত তিনটি ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়কগণ অগ্রজ হিসেবে নির্দিষ্ট হয়েছিলেন, সেহেতু তিনটি ইউনিট যখন আজ পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হিসেবে ১০টি ইউনিটে যাত্রা করছে, তখন উক্ত অগ্রজ ভিত্তিতে তাঁদের বিগত ফিল্ড কর্মকান্ডের রিপোর্ট যাচাই-বাছাই পূর্বক (ইতোপূর্বে দায়িত্বপালনে যথার্থ ভূমিকায় নিয়মিত বা সক্রিয় থাকলে) সম্মিলিতের উপস্থিতি ও স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে, অর্থাৎ সংঘবদ্ধতার ক্রমধারা ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই পূর্বক ক্রমান্বয়ে পরিচালনা বোর্ড প্রতিনিধি, কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিনিধি এবং এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সংগঠন-কাঠামোতে সম্পৃক্ত হবেন।

 

(৭) সাংগঠনিক নীতি অনুসারে, যে-কোনো বড় সভার কর্মকান্ড স্টিয়ারিং কমিটি দ্বারা সম্পাদিত হবে। এখন থেকে পরবর্তী অর্থাৎ ৩ (তিন)-এর অধিক ইউনিটের সম্মিলিত যৌথসভাগুলো (এক্ষেত্রে ইউনিট ফ্রন্ট, সেল ফ্রন্ট) সম্পাদন করার ক্ষেত্রে উক্ত নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত যৌথসভা সম্পন্ন করার পর তৎসম্পৃক্ত ঊর্ধ্বতন কমিটিতে লিখিত রিপোর্ট প্রদানপূর্বক রিভিউ সিটিং-এ অংশগ্রহণ মারফত তাঁর কমিটির দায়িত্ব শেষ করবেন।

 

(৮) বিভাজিত এই ১০টি ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হতে পূর্বোল্লিখিত প্রক্রিয়া অর্থাৎ প্রতিটি ইউনিট ১০ জনে পূর্ণতা পেতে ৭ জনকে কনভিন্স করতে হবে। এভাবে মোট ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট যৌথভাবে (১০x১০) = মোট ১০০ জন এবং এই স্তরের জন্য প্রযোজ্য সমাজ ও রাষ্ট্রসম্পৃক্ত দর্শন সহ অপরাপর গ্রন্থসমূহ (অন্তর্বীজ অথোরিটি কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত) পাঠপূর্বক কবে নাগাদ ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইউনিটের যৌথসভা করতে পারবেন, তার সম্ভাব্য তারিখ তথা টি.টি.পি. (Terms, Time, Place) এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই এই যৌথসভার সামগ্রিক (২/১ দিনের কর্মশালা সহ) মূল্যায়ন রিপোর্ট করার নির্দেশনাপূর্বক ধন্যবাদান্তে সভা সমাপ্ত করবেন।

 

(৯) কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যঃ কাঠামোর এই স্তর থেকে প্রতিটি ইউনিটের সাথে 'বোর্ড টু বোর্ড' অনুসারে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ শুরু হবে এবং ইউনিট ফ্রন্টের ক্ষেত্রে (১০টি ইউনিট থেকে আগত কোনো বোর্ড প্রতিনিধি তথা ১০ জন পরিচালনা বোর্ড প্রতিনিধি, ১০ জন কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিনিধি এবং ১০ জন এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রতিনিধি নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে গঠিত ৩টি বোর্ড ইউনিট) যৌথসভা হতে থাকবে অর্থাৎ পরিচালনা বোর্ড যৌথসভা (১০+১), কন্ট্রোল বোর্ড যৌথসভা (১০+১) এবং এডিটোরিয়াল বোর্ড যৌথসভা (১০+১) শুরু হবে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতি থেকে বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকরণের সংগঠন নীতি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের পথে যাত্রা শুরু করবে।

 

পরিকাঠামোর তৃতীয় ভাগ (সেল ফ্রন্ট)

 

সেল ফ্রন্ট   ১৬। (১) পূর্বেই বলা হয়েছে, ইউনিট ফ্রন্টের সম্পন্নতাই সেল ফ্রন্টের প্রারম্ভিকতা এবং সংগঠন-কাঠামোর প্রায় সবক্ষেত্রেই ইউনিট কাঠামো বিদ্যমান থাকে। (১০+১০+১)= ২১ জন নিয়ে একটি সেল পূর্ণ বা গঠিত হয় এবং কমিটি সহ ১০টি সেল [(১০+১০+১) x১০= ২১০] নিয়ে একটি সেল ফ্রন্ট-এর কাঠামো পূর্ণতা পায়।

 

(২) ইউনিট ফ্রন্ট পূর্ণ হওয়ার পর সি.সি. অথোরিটি তথা জাতীয় স্তরের অথোরিটিবৃন্দের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও তত্ত্বাবধানে ১০টি ইউনিটের প্রেরিত রিপোর্ট সহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সার-সংকলনে ২ দিনের কর্মশালা সম্পন্ন করে প্রতিটি ইউনিটকে সেল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করবেন।

 

(৩) ঘোষিত সেলগুলোকে পূর্ণ করতে প্রতিটিকে আরও একটি করে অন্তর্বীজ ইউনিট (১০+১= ১১জন) গঠন করার অর্থাৎ (১০+১০+১)= মোট ২১ জন তথা একটি সেল পূর্ণ করার নির্দেশ দেবেন।

 

(৪) ঐ ফিল্ডে ঊর্ধ্বতন অথোরিটি থেকে সেল সভ্য পর্যন্ত প্রত্যেকেরই রিপোর্ট-রেকর্ড পূর্ণ করার নির্দেশ থাকছে অর্থাৎ ইউনিট ফরম্‌ পূরণ করার পরিবর্তে রেকর্ড ফরম্‌ পূরণ করার শর্ত যুক্ত হচ্ছে। আজকের যৌথসভা শেষ হওয়ার পর ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট-এর সাথে উক্ত রেকর্ড ফরমও পূরণ করে জমা দিতে হবে।

 

(৫) যে সেলটিই পূর্ণ হতে থাকবে অর্থাৎ ২১ জন পূর্ণ হওয়ার পর কমিটি তাঁদেরকে নিয়ে যৌথসভা করে এই স্তরের জন্য প্রযোজ্য সমাজ ও রাষ্ট্রসম্পৃক্ত দর্শন সহ অপরাপর গ্রন্থ, দৈনিক সংবাদ এবং নির্দেশিত সাংগঠনিক পেপারস্‌ পড়ার পরে এ-সম্পর্কিত মূল্যায়ন রিপোর্ট সহ যথারীতি 'নিয়মিত রিপোর্ট' জমা দেওয়ার নির্দেশ দেবেন। সেই আগামীর যৌথ সমাবেশ প্রাসঙ্গিক সম্ভাব্য তারিখ, শৃঙ্খলা, বিবিধ কর্মবিধি এবং ঘোষিত সেলগুলির পূর্ণাঙ্গতার টি.টি.পি. নিতে হবে।

           

সংগঠন-কাঠামোর পরিপূর্ণতা দানের উত্তরিত ধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য সবাইকে স্বাগত জানিয়ে, তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করার সংগ্রামে উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নপূর্বক কাঠামো বিজয়ের অগ্রজ সাথী হিসেবে আগামী পরিপূর্ণ সেল ফ্রন্টের যৌথসমাবেশে পুনশ্চঃ দেখা হবে- এই প্রত্যাশায় বিজয়ের আদর্শিক প্রত্যয় সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে সভা সম্পন্ন করবেন।

 

(৬) কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যঃ এক্ষেত্রে কাঠামোগতভাবে কোনো নতুন অবস্থান থাকে না এবং ইউনিট ফর্ম পূরণ করার পরিবর্তে রেকর্ড র্ফ‌ম পূরণ করার শর্ত যুক্ত হচ্ছে। সেই সাথে প্রতিটা সেলভিত্তিক (১০+১০+১=) মোট ২১ জনের যৌথসভা পূর্বস্তরে গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটি দ্বারা সম্পাদিত হয়। আর পূর্বতন অন্তর্বীজ ও ইউনিট ফ্রন্টের পূর্ণতায় যেমন ২/১ দিনের যৌথসভা বা কর্মশালার পরিবর্তে ক্রমান্বয়ে ১০টি সেল পূর্ণাঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর ১ দিনের যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, ইতোপূর্বে প্রেরিত নিয়মিত স্থানিক রিপোর্টের সার-সংকলন ভিত্তিক কোনো কর্মসূচি গৃহীত হয়ে থাকলে কাঠামোগত দিক থেকে উক্ত কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি শর্তে 'যৌথ সমাবেশ' হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যৌথসভার পরিবর্তে সেল ফ্রন্টে এসে যৌথ সমাবেশ ঘোষণা করায় তা জাতীয় স্তরের সাংগঠনিক সভার অংশ হিসেবে গৃহীত, বিধায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সর্বোচ্চ অথোরিটি সহ সি.সি. অথোরিটিদের উপস্থিতিতে তা সংগঠনের জাতীয় স্তরের সভার রূপ পরিগ্রহ করে।

 

দ্বিতীয় ধাপ- সাধারণ কাঠামো

 

সাধারণ কাঠামোগত রূপ   ১৭। মৌল কাঠামোগত দিক বা রূপের আলোকেই পরবর্তী সাধারণ কাঠামোগত রূপের ধাপগুলো তথা 'পূর্বতনই পরবর্তীর জন্যে দিশা' হিসেবে সংগঠন-কাঠামোয় নির্দেশিত। ফলে সাধারণ কাঠামোগত রূপ মৌল কাঠামোরই প্রসারমান পরিণতি বিধায় শুধু কাঠামোর বিকাশগত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যই এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

 

(১) সাধারণ কাঠামোর বৈশিষ্ট্যঃ মৌল কাঠামোগত রূপ বা প্রথম ধাপে যৌথসভাগুলোতে পূর্বতন অথোরিটি/কমিটি অন্তর্বীজ অথোরিটি কিংবা অঞ্চল বা সি.সি. যে ভূমিকা পালন করতেন, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফিল্ডের সর্বোচ্চ কমিটি সেই ভূমিকা পালন করবেন, তবে অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কমিটি, অঞ্চল কমিটি বা সি.সি.'র অবগতি বা অনুমোদন সাপেক্ষে। এক্ষেত্রে 'বোর্ড টু বোর্ড' অনুসারে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তথা যৌথসভায় উক্ত ফিল্ডের সর্বোচ্চ কমিটির অনুমোদন ছাড়া যেমন কোনো যৌথসভা সম্পাদিত হতে পারে না, তেমনি তাঁদের অনুপস্থিতিতে কোনো ইউনিট ভাঙা-গড়া কিংবা ইউনিটসমূহের যৌথসভা তথা ফ্রন্ট প্রাসঙ্গিক কোনো সভাই অনুষ্ঠিত হতে পারে না। সকল ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বতন পরবর্তীর জন্য নির্দেশ প্রদানকারী নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে কোনো স্তরের নির্দেশ তাঁর পূর্বতন স্তরের নির্দেশেই কেবল নিষ্ক্রিয় বা ব্যত্যয় ঘটতে পারে।

 

(২) সেল ফ্রন্টের যৌথসমাবেশ সম্পন্ন হওয়ার পর সাংগঠনিক নীতি অনুসারে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক সংগঠক কর্তৃক প্রদত্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট বোর্ডত্রয় মারফত তৎসংশ্লিষ্ট ফিল্ডের ঊর্ধ্বতন কমিটিতে জমা পড়বে। উক্ত ফিল্ডের ঊর্ধ্বতন কমিটি প্রতিটি সেল থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট সারসংকলন করে তদূর্ধ্ব কমিটিতে প্রেরণপূর্বক একই সাথে উক্ত প্রাপ্ত রিপোর্ট-রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে প্রতিটি সেল নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে যৌথসভার আয়োজন করবেন।

 

(৩) উল্লেখ থাকে যে, সংগঠন-কাঠামোর এ-পর্যায়ে প্রতিটি সেল কমিটিতে একজন সেল প্রধান, একজন সেল সমন্বয়কারী ও তিন বোর্ড প্রতিনিধির সাথে একজন স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান এবং ক্রমান্বয়ে কাঠামো পর্ষদ ও ন্যূনতম তিন জন সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, যা মৌল কাঠামোগত রূপ বা প্রথম ধাপের সাথে দ্বিতীয় ধাপ বা সাধারণ কাঠামোগত রূপের অন্যতম পার্থক্যগত দিক। প্রথম ধাপে কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট সভাকে ঘিরে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন ও কমিটি প্রধান নির্দিষ্ট হতেন এবং রিভিউ সিটিং পর্যন্ত তা কার্যকর থাকতো, কিন্তু সাধারণ কাঠামোগত বর্তমান রূপে স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান নির্দিষ্টই থাকবেন, কিন্তু কমিটির সভ্যগণ কেবল কোনো একটি সভাকে ঘিরেই তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট হবেন। সেই সাথে প্রয়োজনে কাঠামো পর্ষদের সভ্যসংখ্যাও বাড়তে পারে। তবে কাঠামো পর্ষদ সভ্যসংখ্যা কিংবা স্টিয়ারিং কমিটি সভ্যসংখ্যা দশ (১০) তথা ইউনিট সভ্যসংখ্যা বা একককে অতিক্রম করবে না। সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি সংখ্যার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

 

তৃতীয় ভাগ

কমিটি গঠন ও তার বৈশিষ্ট্য

 

কমিটির সাধারণ বৈশিষ্ট্য   ১৮। (১) সংগঠন-কাঠামোর সকল স্তরেই নিম্নলিখিত কাঠামোগত প্রক্রিয়া বিদ্যমান। অর্থাৎ স্তরগত ভিন্নতা ব্যতীত কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে কাঠামোভুক্ত সকল স্তরেই একই পদ-পদবী তথা কর্মদিশা প্রযোজ্য।

 

(ক) ইউনিট, সংগঠন-কাঠামোর একক বিধায় কোনো স্তরেই নেতৃত্ব সংখ্যা ও পদ-পদবী সংখ্যা ১১ তথা ইউনিট সংখ্যা (১০+১)-এর অধিক হবে না। প্রয়োজনভিত্তিক সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটলেও কাঠামোগত এককের শর্তকেই প্রতিফলিত করবে।

 

(খ) 'তিন', কাঠামোগত কোষ বিধায় তিনটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য সহ সমন্বয়ের বৈশিষ্ট্য প্রতিটি কাঠামোগত একক তথা ইউনিটে (কমিটি) ক্রিয়াশীল। অর্থাৎ তিনটি ব্যূহ তথা ৩+৩+৩= ৯ ক্রিয়াশীল এবং সমন্বয়ের শর্তে 'এক' জন প্রধান। যেহেতু সমন্বয়ের শর্তে কমিটি প্রধান-এর ক্রিয়া তৎসংশ্লিষ্ট (ইউনিট) সকল কাঠামোগত কর্তৃত্বকেই প্রতিফলিত করে, বিধায় কমিটি প্রধান-এর ক্ষেত্রে অপরাপর যে-কোনো একটি অবস্থানের মতো প্রত্যক্ষ কর্তৃত্ব বা ক্রিয়াকে রহিত (বিশেষ অবস্থা ব্যতিরেকে) করে। ফলে, 'প্রধান' (পদাধিকারী)-এর যাবতীয় প্রত্যক্ষ ক্রিয়াই নির্বাহ হওয়ার প্রশ্নে আরও 'এক' জনের অস্তিত্ব অনিবার্য। অর্থাৎ কমিটি প্রধান-এর প্রত্যক্ষ ক্রিয়া রহিত হওয়ার শর্ত থেকে উদ্ভূত একটি পদ বা কাঠামোগত অবস্থান। এভাবে কাঠামোগত প্রতিটি কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থানে মোট সংখ্যা {(৯+১)= ১০+১=}১১।

 

কমিটির পরিচিতি   ১৯। যে-কোনো কমিটিই তার স্থানিক পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করবে। অর্থাৎ জাতীয় ক্ষেত্রে জাতীয় বা কেন্দ্রীয় কমিটি, অঞ্চলের ক্ষেত্রে অঞ্চল কমিটি, জেলার ক্ষেত্রে জেলা কমিটি- এভাবে মহানগর, পৌর, উপজেলা, থানা (মেট্রোপলিটন), ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম কমিটি।

 

কমিটি গঠন প্রক্রিয়া   ২০। সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথ ধরে সংগঠন-কাঠামো বিকাশের পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত বা পরিণতি শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিতেই গড়ে উঠেছে, তাই প্রধানত কেন্দ্রীয় কমিটির কাঠামোগত অবস্থান তথা কর্মসীমানা দ্বারাই বিকাশমান প্রতিটি স্তরের (স্তরগত ভিন্নতা ব্যতিরেকে) জন্য কমিটি গঠন ও পদ-পদবী এবং কর্মসীমানা নির্ধারণের বিধি হিসেবে নির্দেশিত হচ্ছে।

 

(১) কেন্দ্রীয় তথা জাতীয় কমিটির ক্ষেত্রে মোট সভ্যসংখ্যা [(৯+১= ১০+১)]= ১১ থাকে, কিন্তু অপরাপর সকল স্থানিক কমিটির সভ্যসংখ্যা (৯+১)= ১০ পর্যন্ত নির্দিষ্ট। কারণ- অখন্ড সংগঠন-কাঠামোর শর্তে পরবর্তী পূর্বতনের অনুবর্তী বিধায় পরবর্তী বা অপরাপর কমিটি জাতীয় কমিটির যেমন অনুবর্তী, তেমনি সংগঠন প্রধান কাঠামোভুক্ত সকল কমিটির প্রধান। অর্থাৎ প্রতি কমিটিতে ১০ জন এবং কাঠামোগত প্রধান তথা সংগঠন প্রধানের উপস্থিতিতে প্রতিটি কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয় তথা (১০+১)= ১১-এর রূপ লাভ করে।

 

(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী, কাঠামোগত মানদন্ডে ১টি কেন্দ্রীয় কমিটি, যা ১১ জন সভ্য নিয়ে গঠিত এবং সারা দেশে ১০টি অঞ্চল কমিটি। প্রতিটি অঞ্চল কমিটি সহ কাঠামোভুক্ত জেলা, উপজেলা ইত্যাদি অপরাপর সকল ক্ষেত্রে কমিটির সভ্যসংখ্যা মোট (৯+১)= ১০ জন।

 

বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া   ২১। ২০ অনুচ্ছেদের (১) দফা মোতাবেক, ১০টি অঞ্চলের অঞ্চল কমিটি প্রধান- ১০ জন+১ জন সংগঠন প্রধান- মোট ১১ (এগারো) জন অর্থাৎ জাতীয় ব্যূহের রূপ পরিগ্রহ করে তথা কমিটিগত সর্বোচ্চ স্তরের সমন্বয়কে প্রকাশ করে। একই ধারায় ১০টি অঞ্চলের অঞ্চল কমিটির পরিচালনা বোর্ড প্রতিনিধি ১০ জন+কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালনা বোর্ড প্রধান ১ জন= ১১ জন, সম্মিলিতভাবে যা জাতীয় বা কেন্দ্রীয় পরিচালনা বোর্ড বা ব্যূহ হিসেবে গৃহীত। তেমনি ১০টি অঞ্চলের অঞ্চল কমিটির কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিনিধি ১০ জন+কেন্দ্রীয় কমিটির কন্ট্রোল বোর্ড প্রধান ১ জন= ১১ জন নিয়ে জাতীয় বা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল বোর্ড বা ব্যূহ এবং যথাক্রমে ১০টি অঞ্চলের অঞ্চল কমিটির এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রতিনিধি ১০ জন+কেন্দ্রীয় কমিটির এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রধান ১ জন= ১১ জন নিয়ে জাতীয় বা কেন্দ্রীয় এডিটোরিয়াল বোর্ড বা ব্যূহ গঠিত। এভাবে পূর্বতন পরবর্তীতে যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গতাকে ক্রিয়াশীল রাখে।

 

স্মর্তব্য, প্রত্যক্ষ কাঠামোগত প্রকাশ তথা স্তম্ভের সদৃশ বোঝাতে পরিভাষাগতভাবে 'ব্যূহ' ব্যবহৃত। এক্ষেত্রে সংগঠন প্রধান এবং তিন বোর্ডই কাঠামোতে স্তম্ভ-সদৃশ, যা লম্ব ও অনুভূমির পরস্পরবদ্ধ (কৌণিক মানে ৯০ ডিগ্রি) অর্থপূর্ণতায় যা প্রকাশ করে, তা-ই সংগঠন কাঠামো বা ভিন্নার্থে 'গঠনতন্ত্র'। ফলে, লম্ব ও অনুভূমি-র শর্তজাত তথা আন্তঃগাঠনিক বা পরস্পরবদ্ধতার (এক্ষেত্রে কৌণিক ৯০ ডিগ্রিই আন্তঃশর্তে সমকোণী ত্রিভুজ অর্থাৎ ক্রিয়ার অর্থে ১ জন লম্বে তথা ৯০ ডিগ্রি, কিন্তু পরস্পরবদ্ধতায় অপর দু'জন অস্তিত্বশীল বিধায় ত্রিভুজ, যা অনুভূমির শর্তে প্রকাশিত) রূপের মধ্যে যেমন প্রত্যক্ষ ব্যূহ, শক্তি ব্যূহ, লম্ব ও অনুভূমির শর্তমুক্ত (সামগ্রিক ক্রিয়ার শর্ত পূরণে- 'শূন্য' বা অনির্দিষ্ট) একটি ব্যূহ বর্তমান; তেমনি জাতীয় স্তরে প্রকাশ বা সমন্বিত অর্থে তা জাতীয় ব্যূহ, কেন্দ্রীয় পরিচালনা বোর্ড ব্যূহ, কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল বোর্ড ব্যূহ, কেন্দ্রীয় এডিটোরিয়াল বোর্ড ব্যূহ। অর্থাৎ হুবহু বা একান্তই কাঠামোগত অর্থ স্পষ্টীকরণে 'ব্যূহ' শব্দটি ব্যবহৃত।

 

স্টিয়ারিং কমিটি গঠন   ২২। ১০টি অঞ্চলের স্টিয়ারিং কমিটি প্রধানগণ পদাধিকার বলে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভ্য এবং প্রধানের ভূমিকায় থাকেন জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান। অর্থাৎ ১০ জন সভ্য+১ জন প্রধান= ১১ জনকে নিয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠিত, যা কাঠামোগত দিক থেকে স্টিয়ারিং কমিটির স্থায়ী রূপ। কিন্তু এছাড়াও বিষয়ভিত্তিক (কৃষি, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ইত্যাদি) প্রয়োজনীয়তা থেকে অনধিক আরও ১০ জন কার্যনির্বাহী সভ্য হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন। অর্থাৎ কাঠামোগত স্থায়ী রূপ (১০+১)= ১১ এবং নির্বাচিত আরও ১০, মোট সর্বাধিক (১০+১০+১)= ২১ জন, যা সংখ্যাগত রূপের দিক থেকে সংগঠন কাঠামোর একটি সেলকে প্রতিফলিত করে। সম্মিলিতভাবে তা জাতীয় বা কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি হিসেবে গৃহীত।

 

কাঠামো পর্ষদ গঠন   ২৩। ১০টি অঞ্চলের অঞ্চল কাঠামো পর্ষদ সভ্যগণ পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় কাঠামো পর্ষদের সভ্য রূপে নির্দিষ্ট হবেন এবং প্রধানের ভূমিকায় থাকেন কাঠামো পর্ষদ প্রধান। অর্থাৎ ১০ জন সভ্য+একজন প্রধান= ১১ জনকে নিয়ে কাঠামো পর্ষদ গঠিত, যা কাঠামোগত দিক দিয়ে কাঠামো পর্ষদের স্থায়ী রূপ। কিন্তু এছাড়াও নেতৃত্ব নির্বাচন সংক্রান্ত রিপোর্ট-রেকর্ড সংশ্লেষণ-বিশ্লেষণ-সংরক্ষণ তথা যাবতীয় কর্মকান্ড সম্পাদনের প্রয়োজনীয়তা থেকে আরও সর্বাধিক ১০ জন কার্যনির্বাহী সভ্য নির্বাচিত হতে পারেন। অর্থাৎ কাঠামোগত স্থায়ী রূপ (১০+১)= ১১ এবং নির্বাচিত আরও ১০, মোট সর্বাধিক (১০+১০+১)= ২১ জন, যা সংখ্যাগত রূপের দিক থেকে সংগঠন-কাঠামোর একটি সেলকে প্রতিফলিত করে। সম্মিলিতভাবে যা জাতীয় বা কেন্দ্রীয় কাঠামো পর্ষদ হিসেবে গৃহীত।

 

সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি   ২৪। অনির্দিষ্ট দায়িত্বগত অবস্থানে- সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি ন্যূনতম ৩ থেকে অনধিক ১০ জন পর্যন্ত নির্বাচিত থাকতে পারেন। জাতীয় সার্বক্ষণিক প্রতিনিধিগণ সংগঠন-কাঠামোর যে-কোনো পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে পারেন, কিন্তু অপরাপর স্তরের সার্বক্ষণিক প্রতিনিধিবৃন্দ সংশ্লিষ্ট স্তর বা কমিটি সহ অনুবর্তী কমিটির যে-কোনো পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হতে পারেন।

 

সমন্বয়কারী   ২৫। কমিটি প্রধান-এর কাঠামোগত ক্রিয়া (তৎপরবর্তী স্তরের জন্যে প্রত্যক্ষ ক্রিয়া) রহিত হওয়ার শর্ত থেকে উদ্ভূত। কাঠামোগত ভারসাম্য তথা বৈশিষ্ট্যের কারণেই প্রতি কমিটিতেই উক্ত 'একজন' অনিবার্য। সংগঠন প্রধান ব্যতিরেকে সংগঠন-কাঠামোর অপরাপর স্তরে 'প্রধান'-এর কমিটিগত প্রত্যক্ষ ক্রিয়ার শর্ত রহিত না থাকলেও সাধারণ প্রথাগত নীতিতে উক্ত পদাধিকারীর প্রত্যক্ষ ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয় সংশ্লিষ্ট কমিটির উক্ত 'একজন' তথা সমন্বয়কারী মারফত।

 

নির্বাহী প্রধান   ২৬। কাঠামোগত বিধিবদ্ধ শর্ত দ্বারাই 'সংগঠন প্রধান'-এর ক্রিয়া (বিশেষ অবস্থা ব্যতিরেকে) রহিত থাকে, অথচ অখন্ডতার শর্তে বিশেষ প্রয়োজন সাপেক্ষে সংগঠন-কাঠামোর প্রতি স্তরেই গাঠনিক পূর্ণতা বা কমিটির পূর্ণাঙ্গতায় সংগঠন প্রধানের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি অপরিহার্য। সংগঠন প্রধানের প্রত্যক্ষ সাংগঠনিক অপরিহার্যতার সাধারণ কর্মবিধি নির্বাহের নিমিত্তে নির্বাহী প্রধান ক্রিয়াশীল থাকেন। নির্বাহী প্রধান শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিতেই বিদ্যমান, কারণ- নির্বাহী প্রধান সংগঠন প্রধান-এর প্রত্যক্ষ কমিটিগত ক্রিয়ার শর্ত থেকে উদ্ভূত।

 

পদ-পদবী ও কর্মসীমানা   ২৭। (১) সংঘবদ্ধ হওয়ার সাধারণ গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের সাথে, ব্যক্তিক বা স্থানিক চেতনাকে সংহতকরণের মাধ্যমে 'সামষ্টিক চেতনা' প্রাপ্তি (যা 'জ্ঞানতত্ত্ব' হিসেবে মূলনীতিতে বিধৃত)-তে সংগঠন-কাঠামোর সর্বস্তরে "নিয়মিত রিপোর্ট-রেকর্ড"কে কাঠামোগত শর্তে অবশ্যপালনীয় নির্দেশবলে নিশ্চিত ও নির্বিঘ্ন করা হয়েছে। অর্থাৎ সংঘবদ্ধ হওয়ার শর্তে- 'পারস্পরিক বা সাংগঠনিক রিপোর্ট' এবং দেশজ চেতনা সংহতকরণে তথা সামষ্টিক চেতনা অর্জনের শর্তে স্থানিক বাস্তবতা সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনঘন আবর্ত, ভূ-প্রকৃতি, উন্নয়ন সম্ভাবনা তথা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল প্রসঙ্গে প্রেরিত নিয়মিত রিপোর্টের সার-সংকলনের প্রক্রিয়াগত দিককে ঘিরেই যেহেতু বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামো, তাই তথ্যনিষ্ঠ রিপোর্ট-রেকর্ড তৈরির উপরেই মূলত অন্যান্য বোর্ড সহ সমস্ত সাংগঠনিক কর্মকান্ড নির্ভর করে। ফলে রিপোর্ট-রেকর্ড তথা তথ্যগত এই দিকটা অত্যন্ত গুরুত্ব ও যত্নের সাথে নিয়মিত সম্পন্ন করার সাথেই মূলত যাবতীয় কর্মকান্ড ও কর্মসীমানা নির্দিষ্ট।

 

(২) পরিচালনা বোর্ড এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীঃ

 

(ক) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে পরিচালনা বোর্ড প্রধান এবং অপরাপর ক্ষেত্রে পরিচালনা বোর্ড প্রতিনিধি পরিচয়ে পরিচিত হবেন।

 

(খ) কর্মসীমানাঃ সাংগঠনিক প্রসার ও সংঘবদ্ধতা সম্পৃক্ত যে-সমস্ত কর্মকান্ড, তা পরিচালনা ও সম্পন্ন করাই পরিচালনা বোর্ডের দায়িত্ব অর্থাৎ সংঘবদ্ধকরণ ও সংঘবদ্ধ রূপের প্রকাশ তথা মিটিং, সিটিং, জাতীয় সমাবেশ অর্থাৎ সমাবেশ বা সংঘবদ্ধতা কেন্দ্রিক (আয়োজন সম্পৃক্ততা সহ) যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা বোর্ড কর্তৃক সম্পন্ন হবে।

 

(গ) বিশেষ কাজঃ সাংগঠনিক কর্মকান্ড সম্পর্কিত রিপোর্ট পেশ- যেমন জাতীয় সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ (কেন্দ্রের ক্ষেত্রে পরিচালনা বোর্ড প্রধান), আঞ্চলিক সমাবেশে রিপোর্ট পেশ (আঞ্চলিক পরিচালনা প্রতিনিধি) এবং অপরাপর সিটিং, মিটিং তথা যৌথ সমাবেশ প্রাসঙ্গিক রিপোর্ট পেশ।

 

(৩) কন্ট্রোল বোর্ড এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীঃ

 

(ক) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে কন্ট্রোল বোর্ড প্রধান এবং অপরাপর ক্ষেত্রে কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিনিধি পরিচয়ে পরিচিত হবেন।

 

(খ) কর্মসীমানাঃ সংগঠনের সাংবিধানিক প্রতিভূ। অপরাপর বোর্ড সহ সংগঠন-কাঠামোয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের কর্মসীমানা ও সাংগঠনিক নির্দেশ সমূহ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংগঠকদের আভ্যন্তরীণ পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা অথবা সংগঠকদের ব্যক্তিক বা পারিবারিক জীবন ও আদর্শিক বা সাংগঠনিক কোনো জটিলতা অর্থাৎ সাংগঠনিক নীতিভুক্ত পারস্পরিক সম্পর্কের সম্বন্ধীয় বিষয়গুলো যথার্থভাবে নিষ্পন্ন করা তাঁর মৌলিক দায়িত্ব। যা ক্রমান্বয়ে জেলা, অঞ্চল হয়ে সি.সি. তথা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল বোর্ড প্রধান পর্যন্ত রিপোর্ট মারফৎ সম্পন্ন হবে। অখন্ড সাংগঠনিক সম্পর্কের পারস্পরিক যে প্রাণজ সম্পর্ক, তা গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

 

(গ) বিশেষ কাজঃ এডিটোরিয়াল বোর্ড ও পরিচালনা বোর্ডের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতায় আন্তঃমত সভা বা সমন্বয়ক সভা (ব্যক্তি ত্রুটি-বিচ্যুতি বা মতভিন্নতা অর্থাৎ সংগঠকদের প্রসঙ্গে) ও রিভিউ বা মূল্যায়ন সভা (সাংগঠনিক কর্মকান্ড প্রসঙ্গে) সম্পন্ন করা।

 

(৪) এডিটোরিয়াল বোর্ড এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীঃ

 

(ক) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রধান এবং অপরাপর ক্ষেত্রে এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রতিনিধি পরিচয়ে পরিচিত হবেন।

 

(খ) কর্মসীমানাঃ দেশজ চেতনা সংহতকরণে তথা সামষ্টিক চেতনা অর্জনের শর্তে স্থানিক বাস্তবতা সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনঘন আবর্ত, ভূ-প্রকৃতি, উন্নয়ন সম্ভাবনা তথা সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল প্রসঙ্গে যথাসম্ভব কর্মশালা ও এতদ্‌সংক্রান্ত প্রেরিত নিয়মিত রিপোর্টের সার-সংকলনের অর্থাৎ মতাদর্শিক তত্ত্বগত দিক, জ্ঞানগত দিক এবং তথ্যগত দিক- প্রধানত এই তিনটি দিকের যাবতীয় দায়িত্ব পালন ও প্রকাশনাই এডিটোরিয়াল বোর্ডের মৌলিক সীমানা।

 

(i) তত্ত্বগত দিকঃ প্রত্যেক সংগঠকের মধ্যে আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাজ্ঞতা দিয়ে সমস্ত বিষয়ে বিশ্লেষণী ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রশ্নে সাংগঠনিক পেপারস্‌-পত্রিকার সাথে নিয়মিত সংগঠকদের সম্পৃক্তকরণ সহ সাংগঠনিক পাঠচক্র, শিক্ষাসভা বা কর্মশালা এবং দৈনিক সংবাদপত্র, ক্রিটিকস্‌ ও বিভিন্ন গ্রন্থগত বিষয়সমূহকে মতাদর্শিক কনসেপ্টে তুলে আনার ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গিগত স্বচ্ছতা গড়ে তোলা।

 

(ii) জ্ঞানগত দিকঃ বিষয়ভিত্তিক বাস্তবতাকে বুঝে বিভিন্ন বিশ্লেষণমূলক 'প্রকল্প' তৈরিতে মেধাগত প্রসারে দেশজ চেতনার অন্বিতকরণে এবং তাদের মধ্যে সংহতকরণে জ্ঞানগত দিককে দেশজ বাস্তবনিষ্ঠ করে তোলা।

 

(iii) তথ্যগত দিকঃ সংগঠন ও সংগঠকদের সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয় নখদর্পণে রেখে বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট সংগ্রহ করে তার উপরে তথ্যনির্ভর রিপোর্ট-রেকর্ড তৈরি করা। সংগঠনের সমস্যা ও সম্ভাবনা, প্রসার ও প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি বিষয়ভিত্তিক তথ্যনিষ্ঠ রিপোর্ট-রেকর্ড তৈরির উপরেই মূলত অন্যান্য বোর্ড সহ সমস্ত সাংগঠনিক কর্মকান্ড নির্ভর করলেও তথ্য ও প্রকাশনার দিকটা প্রধানত এডিটোরিয়াল বোর্ডের। ফলে তা নিয়মিত সম্পন্ন করা তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

 

উপরোল্লিখিত তত্ত্বগত, জ্ঞানগত এবং সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত দিক- এই মৌলিক তিনটি দায়িত্ব পালনের প্রকাশিত রূপ হিসেবেই সাংগঠনিক মুখপত্র বা পত্রিকা প্রাসঙ্গিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন তাঁর প্রাত্যহিক কর্ম।

 

(গ) এডিটোরিয়াল বোর্ড-এর উপরোক্ত (৪) দফায় বর্ণিত দায়িত্বপালন ক্রমান্বয়ে তৃণমূল কমিটি থেকে জেলা, অঞ্চল মাধ্যম হয়ে সি.সি.-তে সম্পন্ন হবে।

 

(৫) জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীঃ

 

(ক) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান এবং অপরাপর ক্ষেত্রে তৎসংশিস্নষ্ট স্থানিক কমিটির পরিচয়ে পরিচিত হবেন। যেমন, অঞ্চলের ক্ষেত্রে অঞ্চল স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান বা জেলার ক্ষেত্রে জেলা স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান ইত্যাদি প্রতিটি স্তরেই 'প্রধান' অভিধায় পরিচিত হবেন।

 

(খ) কর্মসীমানাঃ আর্থিক বিষয়, সাংগঠনিক প্রচার-প্রচারণী ও ব্রিফিং এবং শৃঙ্খলা সহ তাৎক্ষণিক কর্মকান্ড ঘিরেই স্টিয়ারিং কমিটি চালিত।

 

এছাড়াও স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান রিভিউ সিটিং-এ স্টিয়ারিং সভ্য সহ সকল অথোরিটিদের আলোচিত অভিজ্ঞতার সারসংকলন তথা দিকনির্দেশনামূলক রিপোর্টগুলো লিখিত আকারে প্রকাশ (আর্থিক বিষয় অবশ্যই) অথবা নিজের কাছে রেখে পরবর্তী সভায় যখন স্টিয়ারিং কমিটির সভ্য নির্দিষ্ট হবেন, তখন তাঁদেরকে নিয়ে যে প্রস্তুতি সভা- সেখানে অত্র দিকনির্দেশনাগুলো পুনরায় আলোচনাপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, যাতে করে অনুষ্ঠিতব্য সভা বিগত সভার ত্রুটি থেকে মুক্ত থেকে সুষ্ঠু ও যথাযথ শৃঙ্খলায় সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে ব্রিফ সহ যে-কোনো বিশেষ প্রয়োজনে- সংগঠন-কাঠামোয় যে-কোনো স্তরের কমিটিগত (সমগ্র কমিটি) শূন্যতা পূরণে তদস্তরের স্টিয়ারিং কমিটি ক্রিয়াশীল হতে পারে।

 

(৬) জাতীয় সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীঃ

 

(ক) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে জাতীয় সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি এবং অপরাপর ক্ষেত্রে তৎসংশ্লিষ্ট স্থানিক কমিটির পরিচয়ে পরিচিত হবেন। যেমন, অঞ্চলের ক্ষেত্রে অঞ্চল সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি অভিধায় পরিচিত হবেন।

 

(খ) কর্মসীমানাঃ ২৪ অনুচ্ছেদ মোতাবেক কর্মসীমানা নির্ধারিত হবে।

 

(৭) জাতীয় সমন্বয়কারী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীঃ

 

(ক) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে জাতীয় সমন্বয়কারী এবং অপরাপর স্তরের কমিটিভুক্ত সমন্বয়কারী অপরাপর নেতৃত্বের মতো তৎসংশ্লিষ্ট স্থানিক কমিটির পরিচয়ে পরিচিত হবেন। যেমন- অঞ্চলের ক্ষেত্রে অঞ্চল সমন্বয়কারী, জেলার ক্ষেত্রে জেলা সমন্বয়কারী।

 

(খ) কর্মসীমানাঃ প্রায়োগিক পরিভাষায় সাধারণ অর্থে, সংগঠন-কাঠামোয় তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে গঠিত কৌশলগত (সহযোগী নয়) সকল পদ বা কমিটি জাতীয় সমন্বয়কারীর সীমানাভুক্ত। যদিও জাতীয় সমন্বয়কারী ও জাতীয় সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি অবস্থানগতভাবে শক্তি ব্যূহের অংশ- তবুও তিন বোর্ড-এর কর্মকান্ডকে ভিত্তি করেই মুখ্যত এর সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিত হয় বিধায় একসাথে তা সম্মিলিত ব্যূহ (তিন বোর্ড প্রধান, জাতীয় সমন্বয়কারী, জাতীয় সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি) হিসেবেও ঘোষিত।

 

তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, কেন্দ্রের ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রধানের যে ভূমিকা, সাধারণত অঞ্চলের ক্ষেত্রে অঞ্চল সমন্বয়কারী সে ভূমিকা পালন করেন।

 

(৮) নির্বাহী প্রধান ও তাঁর কর্মসীমানাঃ কেন্দ্রের ক্ষেত্রেই কেবল নির্বাহী প্রধানের পদ ও পদাধিকারী থাকেন। সংগঠন প্রধানের ক্ষেত্রে ক্রিয়াগত শর্ত রহিত হওয়া থেকেই নির্বাহী প্রধান মারফত উক্ত সাধারণ কর্ম নির্বাহ হয়। অর্থাৎ তিনি সংগঠন প্রধানের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিগত শর্ত নির্বাহে ক্রিয়াশীল থাকেন।

 

(৯) কমিটি প্রধানঃ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে অখন্ড সাংগঠনিক কাঠামোগত অবস্থানে থাকার শর্তে কাঠামোগত সকল পদ ও পদাধিকারীর সমন্বিত মতের প্রতিমূর্তি অর্থে 'সংগঠন প্রধান'। অর্থাৎ কেবল কাঠামোগত নৈর্ব্যক্তিক অবস্থানকেই প্রকাশ করেন। কিন্তু অপরাপর ক্ষেত্রে কমিটি প্রধান তৎসংশ্লিষ্ট স্থানিক কমিটির পরিচয়ে পরিচিত হবেন। যেমন, অঞ্চলের ক্ষেত্রে অঞ্চল প্রধান ও জেলার ক্ষেত্রে জেলা প্রধান।

 

(১০) কাঠামো পর্ষদ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীঃ

 

(ক) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে কাঠামো পর্ষদ প্রধান এবং অপরাপর ক্ষেত্রে শুধু সভ্য অভিধায় পরিচিত হবেন। যেমন, অঞ্চলের ক্ষেত্রে কাঠামো পর্ষদ সভ্য। অপরাপর পদের সাথে কাঠামো পর্ষদ সভ্যের মৌলিক পার্থক্য হলো, কাঠামো পর্ষদ সভ্য তৎসংশ্লিষ্ট কমিটির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও কমিটির অপরাপর পদাধিকারী তৎসংশ্লিষ্ট কমিটি প্রধানের অনুবর্তী কর্মসীমানার অন্তর্ভুক্ত থেকেই তদূর্ধ্ব কমিটির কাঠামোগত সাধারণ অনুবর্তিতায় অবস্থান করেন, কিন্তু কাঠামো পর্ষদ সভ্য শুধু তদূর্ধ্ব কমিটির কাঠামো পর্ষদের অনুবর্তিতায় ক্রিয়াশীল।

 

(খ) কর্মসীমানাঃ সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পর্কিত যাবতীয় কর্মকান্ড কাঠামো পর্ষদের আওতাভুক্ত। এ সংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট-রেকর্ডই তাঁর প্রত্যক্ষ ফিল্ড।

 

(১১) নির্বাহী প্রধান ও কাঠামো পর্ষদের পারস্পরিক কর্মসীমানাঃ কাঠামো পর্ষদ প্রধান নির্বাচন সংক্রান্ত তাঁর যাবতীয় ঘোষণা বা প্রকাশনা তথা কোনো কর্মসম্পাদনে সাধারণত নির্বাহী প্রধানকে মাধ্যম করেন।

 

অঞ্চল কমিটি ও অঞ্চল প্রধান   ২৮। (১) কোনো কমিটি ক্রিয়াগত মধ্যম অবস্থান থেকে পূর্ব-কমিটি ও পর-কমিটি- মোট তিনটি স্তরে প্রত্যক্ষকর্মে সম্পৃক্ত। এক্ষেত্রে অঞ্চল কমিটিকেই দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করলে ব্যতিক্রম সহ সাধারণ কর্মদিশায় অপরাপর কমিটির কর্মসীমানাও একই সাথে নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। কারণ- অঞ্চল কমিটি তথা অঞ্চল প্রধান যেমন একটি অঞ্চলের সমস্ত ফিল্ড ও কমিটি সমূহের অখন্ড প্রতিমূর্তি হিসেবে আঞ্চলিক মুখপাত্র, তেমনি অঞ্চলের জন্যও একই সাথে কেন্দ্রের সার্বক্ষণিক মুখপাত্র। সেই অর্থে অঞ্চল কমিটির পূর্ব-কমিটি হিসেবে 'সি.সি. ইউনিট' এবং পর-কমিটি হিসেবে 'জেলা কমিটি'

 

(২) অঞ্চল প্রধান-এর কর্মসীমানা ও দায়িত্বঃ

 

(ক) অঞ্চল প্রধান কেন্দ্রীয় কমিটির বোর্ড প্রধানত্রয়ের পরামর্শ অনুযায়ী সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন এবং অঞ্চলের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত বা নেতৃত্ব কিংবা কমিটি রদবদল অর্থাৎ বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তিনি সংগঠন প্রধানের কাছে লিখিত এবং মৌখিক জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।

 

(খ) কেন্দ্র ও অঞ্চলের মধ্যে বোর্ড টু বোর্ড, কমিটি টু কমিটি কর্মকান্ড তথা তৎঅধিভুক্ত ফিল্ডে কমিটি প্রাসঙ্গিক সামগ্রিক রিপোর্ট-রেকর্ড যাচাই-বাছাই এবং কমিটি গঠন ও গতিশীল বা সচল রাখার প্রশ্নে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাংগঠনিক নীতি অনুসারে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেন।

 

(গ) অঞ্চল সমন্বকারী ও অঞ্চল স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান- অঞ্চল প্রধান তথা কমিটি প্রধানের কাছে দায়বদ্ধ কিন্তু অঞ্চল বোর্ড প্রতিনিধিত্রয় পূর্বতন কমিটিভুক্ত বোর্ড তথা এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বোর্ড প্রধানত্রয়ের কাছে দায়বদ্ধ।

 

(ঘ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অঞ্চল কমিটি তথা অঞ্চল প্রধান-এর কর্মধারা এবং কেন্দ্রের সাথে অঞ্চলের পূর্ব-পর তথা পূর্ববর্তী ও অনুবর্তীর আন্তঃসম্পর্কই সমস্ত কমিটি প্রধান সহ তদীয় কমিটি ও তৎসংশ্লিষ্ট ফিল্ড এবং উক্ত ফিল্ড সম্পৃক্ত অনুবর্তী কমিটি সমূহ বা ফিল্ডের ক্ষেত্রে অনুসৃত ধারা হিসেবে (সি.সি.'র ঊর্ধ্ব ইউনিট তথা সর্বোচ্চ নির্দেশগত ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে) কার্যকর বা বলবৎ থাকবে।

 

বিশেষ ক্ষমতা   ২৯। (১) কোনো কমিটি প্রধান কর্তৃক তাঁর কর্মসীমানাভুক্ত যে-কাউকে (কিছু বিধিবদ্ধ ব্যতিক্রম ছাড়া) যে-কোনো দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিক (আলোচনার সময় ও সুযোগ না থাকা অবস্থায়) অব্যাহতি প্রদান কিংবা কমিটি পুনর্বিন্যাস-এর ক্ষমতাকেই বিশেষ ক্ষমতা হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

 

(২) সেই সাথে স্বাভাবিক এই পর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কমিটিভুক্ত বোর্ড অথোরিটিত্রয় বিশেষ ক্ষমতা নিজ নিজ বোর্ডগত ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে, তা রহিত করার ক্ষমতা উক্ত ঊর্ধ্বতন কমিটি প্রধান-এর কাছেই ন্যস্ত। যেমন, তিন বোর্ড প্রধান অঞ্চল কমিটি (অঞ্চল প্রধান বা অঞ্চল সমন্বয়কারীকে নয়) বা অধিভুক্ত যে-কোনো কমিটির কাউকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দিলে, তা শুধুমাত্র সংগঠন প্রধানের নির্দেশেই রহিত হতে পারে। ঠিক তেমনি অনুবর্তী কমিটির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কমিটির একই প্রক্রিয়া কার্যকর থাকে। কারণ, প্রতিটি কমিটিতে কমিটি প্রধানই সংগঠন-কাঠামোয় উক্ত কমিটির অখন্ডতার প্রতিমূর্তি তথা সামগ্রিকতায় ক্ষমতাধর।

 

(৩) প্রতিটি কমিটি প্রধানেরই তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ত ও অধিভুক্ত কমিটি ও কমিটি সমূহ তথা ফিল্ডের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ক্ষমতা প্রায় উপরোল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক একইভাবে কার্যকর থাকে। অঞ্চল প্রধানের ক্ষেত্রে তাঁর ঊর্ধ্বতন কমিটির সাথে উল্লিখিত যে প্রক্রিয়াটা অনুসৃত, তা সবগুলো কমিটির সাথেই ঊর্ধ্বতন ও অনুবর্তীর মাঝে ক্রিয়াশীল থাকবে। এক্ষেত্রে যেমন বোর্ড প্রধান ত্রয় বলা হয়েছে, তেমন অন্য কমিটির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কমিটিভুক্ত বোর্ড প্রতিনিধিত্রয়ের সাথে ক্রিয়াশীল অর্থে বুঝতে হবে।

 

কাঠামোগত আন্তঃসম্পর্ক   ৩০। (১) সমস্ত সংগঠন-কাঠামোটি 'লম্ব ও আনুভূমিকের আন্তঃগাঠনিক শর্ত' মেনে সূচনা থেকে পরিণতি পর্যন্ত ক্রমোত্তরিত। অর্থাৎ নেতৃত্ব বা কর্তৃত্বগত ক্রিয়া উক্ত কাঠামোগত দুই শর্ত দ্বারা আন্তঃসম্পর্কে সম্পর্কিত বা বৈশিষ্ট্যপ্রাপ্ত।

 

(২) কেন্দ্রে উল্লিখিত ১১ জনের মধ্যে ৩+৩+৩ তথা তিনটি ব্যূহের মোট ৯ জনের ক্ষেত্রে পরিচালনা বোর্ড প্রধান, কন্ট্রোল বোর্ড প্রধান, এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রধান- মোট ৩ জন (অনুভূমিতে) এবং নির্বাহী প্রধান, কাঠামো পর্ষদ প্রধান, স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান- মোট ৩ জন (লম্বে) এবং অনির্দিষ্ট দায়িত্বগত অবস্থানে- জাতীয় সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি ন্যূনতম ৩ থেকে অনধিক ১০ জন সহ কমিটি প্রধান-এর কাঠামোগত প্রত্যক্ষ ক্রিয়া রহিত হওয়ার শর্ত থেকে উদ্ভূত 'এক জন' জাতীয় সমন্বয়কারী (ক্রিয়াগত ক্ষেত্রে বিদ্যমান লম্ব-অনুভূমির শর্ত মুক্ত এবং বিপরীতক্রমে যাঁরা যথাযথ বিধিবদ্ধতায় ন্যস্ত কাঠামোগত সব অবস্থানেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন)।

 

(৩) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে কেবল কমিটি প্রধান তথা সংগঠন প্রধান 'তিন কোষ' বা 'তিনটি ব্যূহগত প্রত্যক্ষ ক্রিয়া' অর্থাৎ 'লম্ব' ও 'অনুভূমি' এবং কমিটি সংশিষ্ট নির্দিষ্ট অবস্থানগত ক্রিয়ার শর্ত বিযুক্ত। অর্থাৎ সংগঠন প্রধান-এর (কমিটি প্রধান হিসেবে) নিয়মিত ক্রিয়াও (ব্যতিক্রম অবস্থা ব্যতিত) রহিত হয় বিধায় জাতীয় সমন্বয়কারীর সাথে 'নির্বাহী প্রধান'-এর পদ উদ্ভূত। এক্ষেত্রে নির্বাহী প্রধান কমিটিগত শর্ত থেকে এবং জাতীয় সমন্বয়কারী কাঠামোগত শর্ত থেকে উদ্ভূত। তাই কাঠামোগত শর্তে তথা সব কমিটিতেই সমন্বয়কারী আছেন। সংগঠন-কাঠামোর অপরাপর স্তরে 'প্রধান'-এর প্রত্যক্ষ ক্রিয়াগত শর্ত রহিত না থাকলেও সাধারণ প্রথাগত নীতিতে উক্ত পদাধিকারীর প্রত্যক্ষ ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয় সংশ্লিষ্ট কমিটির সমন্বয়কারী মারফত।

 

(৪) কেন্দ্রের ক্ষেত্রে পরিচালনা বোর্ড, কন্ট্রোল বোর্ড, এডিটোরিয়াল বোর্ড অনুবর্তী অপরাপর কমিটির পরিচালনা বোর্ড, কন্ট্রোল বোর্ড, এডিটোরিয়াল বোর্ড বিধায় কেন্দ্রের ক্ষেত্রে বোর্ড 'প্রধান' এবং অপরাপর কমিটির ক্ষেত্রে বোর্ড 'প্রতিনিধি'- যা অখন্ড সংগঠন-কাঠামোর মানদন্ডে 'লম্ব ও অনুভূমি'র প্রকাশক। অর্থাৎ 'প্রধান' সমস্ত সংগঠন-কাঠামোয় বোর্ডগুলোর ক্ষেত্রে লম্ব ও 'প্রতিনিধি' উক্ত আন্তঃগাঠনিক সম্পর্কের অনুভূমির প্রকাশক।

 

(৫) কাঠামোভুক্ত প্রতিটি কমিটিতে তো বটেই, কমিটিভুক্ত বোর্ডত্রয়, স্টিয়ারিং কমিটি তথা বিকাশমান প্রতিটি অংশের মধ্যেও অনুরূপ আন্তঃসম্পর্ক ক্রিয়াশীল- যা বিধি ও নীতি-নির্দেশনার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত। যেমন, ন্যূনতম ত্রয়ী স্বাক্ষর (তিন জন পদাধিকারীর স্বাক্ষর) সকল ক্ষেত্রেই অনিবার্য। ক্রিয়াতে 'এক' জন, অনুমোদনে ন্যূনতম দুই জন পদাধিকারী। সেক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারী 'এক' জন লম্বের অবস্থানকে প্রতিফলিত করেন, বাকি দুই বা ততোধিক অনুমোদনকারী পদাধিকারী অনুভূমিকে প্রতিফলিত করেন। 'তিন' কাঠামোগত কোষ বিধায় সাংগঠনিক সকল আদেশ, নির্দেশ বা বিধি সহ যাবতীয় প্রকাশনা ন্যূনতম তিন (১+ন্যূনতম ২) স্বাক্ষরে নির্বাহ হয়।

 

(৬) ব্যতিক্রমঃ সংগঠন প্রধান একক স্বাক্ষরে কোনো নির্দেশ (অন্তর্বীজ কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য) পাঠাতে পারেন। কাঠামোগত সব পদ-পদবী তাঁর অনুবর্তী বিধায় তাঁর উপস্থিতিতে সকল কাঠামোগত অবস্থান বা পদ শূন্য হয়ে পড়ে। এদিক থেকে তাঁর একক স্বাক্ষর বিশেষ অবস্থায় চূড়ান্ত হলেও কাঠামোগত সাধারণ প্রথা হিসেবে তিনি অনুস্বাক্ষরে আদর্শগত মানদন্ড তথা সদস্য থেকে স্টাফ সদস্য পর্যন্ত যে-কোনো দুই জন সভ্যকে নির্দিষ্ট করতে পারেন।

 

সংগঠন প্রধান (কার্যকরী কমিটি বা কাঠামোগত ঊর্ধ্ব ইউনিট) বা কমিটি প্রধান (কাঠামোগত সকল স্তর বা কমিটি) এবং কমিটিগত কর্মসীমানা বা ক্ষমতা    ৩১। (১) ৩০ অনুচ্ছেদের (২) দফায় উল্লিখিত যে তিনটি ব্যূহ, তা সামগ্রিকতার অর্থে সংগঠন প্রধান-এর প্রকাশিত রূপ। অখ- সংগঠন-কাঠামোর মানদন্ডে নির্দিষ্ট কর্মবিধি অনুসারে স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান, কাঠামো পর্ষদ প্রধান ও জাতীয় সমন্বয়কারী যখন আনুভূমিক হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকেন, তখন সংগঠন প্রধান সেক্ষেত্রে যেমন (লম্ব) ঊর্ধ্ববিন্দু হিসেবে নির্বাহী প্রধানকে এবং ৩ জন (অনধিক ১০) জাতীয় সার্বক্ষণিক প্রতিনিধির ক্ষেত্রে জাতীয় সমন্বয়কারীকে নির্দেশ দেন, তেমনি তিন বোর্ড প্রধান (যখন আনুভূমিক হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকেন)-এর ক্ষেত্রে তা না করে সাধারণ অর্থে থাকেন প্রত্যক্ষ (যে কারণে তিন বোর্ডকে প্রত্যক্ষ ব্যূহ বলা হয়)। অর্থাৎ সামষ্টিকতার সাপেক্ষে তাঁর কর্মবিধি হিসেবেই উক্ত তিন ব্যূহের বৈশিষ্ট্য বা কর্মপদ্ধতি সমস্ত সংগঠন-কাঠামোতে সঞ্চারিত।

 

(২) কাঠামোগত অবস্থানে ঊর্ধ্ব ইউনিট-কেই কার্যকরী কমিটি বলা হয় এবং ক্রিয়াশীল সকল 'প্রধান'-দের নিয়েই কার্যকরী কমিটি গঠিত। এক্ষেত্রে ঊর্ধ্ব ইউনিটে অবস্থানকারীরা যেমন অখন্ড সংগঠন-কাঠামোয় সমন্বয়ের শর্তে সর্বোচ্চ বা চূড়ান্ত নেতৃত্বের অবস্থানে শেষ কথা বলার ক্ষমতাধর, তেমনি সংগঠন প্রধান-ও ঊর্ধ্ব ইউনিট সমন্বয়ের শর্তে সর্বোচ্চ বা চূড়ান্ত নেতৃত্বের অবস্থানে শেষ কথা বলার ক্ষমতাধর। প্রতিটি কমিটিই যেমন পূর্ববর্তীর অনুবর্তী, তেমনি পূর্ববর্তী কমিটিতে অবস্থানকারী নেতৃত্ব, অনুবর্তীদের জন্য তৎসংশ্লিষ্ট বোর্ড বা কমিটির লম্ব অর্থে চূড়ান্ত বা শেষ কথা বলার ক্ষমতাধর এবং কমিটি প্রধানরা নিজ নিজ কমিটি সমন্বয়ের শর্তে চূড়ান্ত বা শেষ কথা বলার ক্ষমতাধর। এই অর্থে প্রতিটি কমিটির প্রধান তাঁর পূর্বতন কমিটি প্রধান-এর অনুবর্তী হলেও পূর্বতন কমিটিতে অবস্থানকারী অপরাপর নেতৃত্বের সম-অবস্থানকে প্রতিফলিত করেন। যেমন, অঞ্চল প্রধান পূর্বতন কমিটি সংশিষ্ট বোর্ড প্রধান বা স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান বা জাতীয় সমন্বয়কারী-র (কাঠামোগত মানদন্ডে) সম-অবস্থানকে প্রতিফলিত করেন, তাই বোর্ড প্রধান বা পূর্বতন কমিটি সংশিষ্ট নেতৃত্ব অঞ্চল প্রধানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান অথবা বহিষ্কার করতে পারেন না। কিন্তু যেহেতু বোর্ড প্রধানদের কর্মসীমানা জাতীয় বা সামগ্রিক এবং অঞ্চল প্রধানদের কর্মসীমানা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, সেহেতু কর্মসীমানাগত সামগ্রিক সমন্বয়ের প্রাধান্যে বোর্ড প্রধান তথা কার্যকরী কমিটি অঞ্চল প্রধান বা অঞ্চল কমিটির কোনো কর্ম ও কর্মাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করতে পারেন এবং শুধু অঞ্চল প্রধান ও অঞ্চল সমন্বয়কারী ব্যতিরেকে উক্ত অঞ্চল কমিটি সংশিষ্ট সকল নেতৃত্বকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সাময়িক বহিষ্কারও করতে পারেন।

 

(৩) প্রতিটি কমিটি প্রধান ও সমন্বয়কারী এক্ষেত্রে যেমন অঞ্চল কমিটি প্রধান কিংবা তাঁর পক্ষে অঞ্চল সমন্বয়কারী, তৎসংশ্লিষ্ট কমিটিভুক্ত হয়েও কাঠামোগত অবস্থানে পূর্ববর্তী। ফলে উক্ত কমিটিভুক্ত সকল অবস্থান সহ তৎপরবর্তী সকল কমিটি প্রধান বা নেতৃত্ব তাঁর অনুবর্তী এবং উক্ত কাঠামোগত পূর্ববর্তিতার শর্ত থেকে প্রতিটি কমিটি প্রধানই তাঁর অনুবর্তী অবস্থানে থাকা যে-কাউকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সাময়িক বহিষ্কারও করতে পারেন। ঠিক যেমন পূর্বতন কমিটির সংশ্লিষ্ট অবস্থানে থাকা যে-কোনো নেতৃত্বই পরবর্তী কমিটির যে-কোনো কর্ম ও কর্মাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করতে পারেন এবং কমিটি প্রধান ও সমন্বয়কারী ব্যতীত সবাইকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সাময়িক বহিষ্কারও করতে পারেন।

 

(৪) এক্ষেত্রে উল্লেখ থাকে যে, কাঠামোগত মানদন্ডে সমন্বয়ের সর্বোচ্চ অবস্থানে সংগঠন প্রধান বিধায় সংগঠন-কাঠামোর যে-কোনো বহিষ্কারাদেশকেই তিনি রহিত করতে পারেন কিংবা সাময়িক বহিষ্কারাদেশ স্থায়ী হতে পারে (সদস্যপদ বাতিল) কেবল সংগঠন প্রধান-এর অনুমোদন সাপেক্ষে। এক্ষেত্রে সংগঠন প্রধান-এর প্রত্যক্ষ ক্রিয়া রহিত থাকে বিধায় তা কার্যকরী করার প্রশ্নে সংগঠন প্রধান-এর পক্ষে কাঠামো পর্ষদ প্রধান, নির্বাহী প্রধান অথবা তাঁদের অনুমোদন সাপেক্ষে তৎসংশ্লিষ্ট কমিটি প্রধান (অঞ্চলের ক্ষেত্রে অঞ্চল প্রধান, জেলার ক্ষেত্রে জেলা প্রধান তথা প্রতিটি ইউনিট বা কমিটি প্রধান) নিষ্পন্ন করতে পারেন। তবে সকল ক্ষেত্রেই কাঠামোগত পূর্ববর্তী ও অনুবর্তী অবস্থানের শর্ত ক্রিয়াশীল থাকবে।

 

কমিটি বা কাঠামোগত যৌথ কর্মসীমানা তথা সমন্বয়গত ক্রিয়ায় অখন্ডরূপ প্রাপ্তি (কর্মদিশা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ)   ৩২। (১) কাঠামোগত প্রতিটি অবস্থানই স্বকীয় ও স্বতন্ত্র। তাই সহযোগী বা সহকারী অর্থে কোনো অবস্থানই প্রতিফলিত নয়। পাশাপাশি ভাবাদর্শগতভাবে সমন্বিত বা অখন্ড রূপ প্রাপ্তি বা ক্রিয়ার শর্তে থাকলেও 'তিন' কাঠামো ক্রিয়ার কোষ তথা মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিধায় যেমন তিন বোর্ড-এর স্বকীয় ও স্বতন্ত্র সীমানা থাকা সত্ত্বেও পরস্পরবদ্ধ হয়েই কেবল স্বতন্ত্র রূপে ক্রিয়াশীল হতে পারে তথা ক্রিয়াশীলতার শর্ত যে ব্যূহ, তার রূপ পরিগ্রহ করে। ফলে একটি বোর্ডগত দায়িত্বে অবস্থানকারী অনুপস্থিত থাকলে অপর দুটি বোর্ড কাঠামোবদ্ধতায় ক্রিয়াশীলই হতে পারে না। সেক্ষেত্রে কমিটি প্রধান সমন্বিত রূপের প্রতিমূর্তি বিধায় তিনি তাঁর কমিটিগত অখন্ডতা তথা সমন্বিত ক্রিয়া বা রূপকে অক্ষুণ্ন রাখার শর্তে- শূন্য অবস্থান পূর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি বা সমন্বয়কারী মারফত কাঠামোগত ক্রিয়া সচল রাখেন। সেদিক থেকে স্টিয়ারিং, কাঠামো পর্ষদ, সমন্বয়কারী বা সার্বক্ষণিক প্রতিনিধি দ্বারা উক্ত কাঠামোগত ক্রিয়ায় (বিশেষ অবস্থা ব্যতিরেকে) তিন বোর্ড সংশ্লিষ্টতাতেই যাবতীয় কর্ম অব্যবহিতভাবে নির্ধারিত ও সম্পাদিত হয়। এদিক থেকে, নিয়মিত রিপোর্ট-রেকর্ড সাধারণত তিন বোর্ড মারফত সংকলিত ও সমন্বিত হয়ে অপরাপর ক্ষেত্রে প্রেরিত হয়।

 

(২) তিন বোর্ড প্রধান অঞ্চল হতে প্রাপ্ত রিপোর্ট-রেকর্ড তথা যাবতীয় তথ্যসমূহের ভিত্তিতে নিজ নিজ বোর্ডগত রিপোর্টকে সমন্বিত ও তিনজন ব্যূহগত ক্রিয়া বা যৌথভাবে পরবর্তী করণীয় নির্দিষ্ট করে, তা নিজেদের কাছে সংরক্ষণপূর্বক উক্ত রিপোর্ট সহ প্রাপ্ত রিপোর্টসমূহের অনুলিপি (৩০+৩= ৩৩টি এবং ১টি ব্যূহগত রিপোর্ট= মোট ৩৪টি) সংগঠন প্রধান-এর অনুকূলে জাতীয় সমন্বয়কারীর নিকট জমা দেবেন। জাতীয় সমন্বয়কারী জাতীয় সার্বক্ষণিক (কাঠামোগত ৩ জন) প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতায় উক্ত রিপোর্ট-রেকর্ড তথা যাবতীয় তথ্যসমূহকে ভিত্তি করে পরবর্তী করণীয় প্রাসঙ্গিক একটি সমন্বিত রিপোর্ট তৈরি করে নিজের কাছে সংরক্ষণের সাথে সাথে উক্ত (৩৪+১)= ৩৫টি রিপোর্ট (অন্তর্বীজ ফ্রন্টের পরিণতি তথা ইউনিট ফ্রন্টের প্রারম্ভিক রূপের প্রকাশক, যা গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা বা কেন্দ্রীভূত সংগঠন-কাঠামো থেকে উল্লম্ফন তথা বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের প্রথম পর্যায়) নির্বাহী প্রধানের নিকট জমা দেবেন। নির্বাহী প্রধান- স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান ও কাঠামো পর্ষদ প্রধান সংশ্লিষ্টতায় উক্ত রিপোর্ট সমূহ বিশ্লেষণপূর্বক যথাবিহিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। যথার্থতার প্রশ্নে প্রয়োজনে কাঠামো পর্ষদ প্রধান এবং জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান নিজ নিজ কমিটিতে বিষয়ভিত্তিক ব্যাপক বিস্তৃত আলোচনার সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তবে সেক্ষেত্রে কাঠামো পর্ষদ সভ্য ও স্টিয়ারিং কমিটি সভ্যদের রিপোর্ট ও তা ভিত্তিক একটি সমন্বিত রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় নির্বাহী প্রধান সম্পৃক্ততায় স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান ও কাঠামো পর্ষদ প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। অতঃপর সংগঠন প্রধান-এর অনুকূলে নির্বাহী প্রধান উক্ত খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকরী কমিটির সভা আহ্বান করে যৌথভাবে কর্মদিশা এবং তা বাস্তবায়ন তথা কর্মকৌশল নির্ধারণ করবেন। ব্যাপকতার প্রশ্নে যদি কর্মদিশা ও কর্মকৌশল গ্রহণে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করতে হয়, তবে সেক্ষেত্রে কার্যকরী কমিটির উক্ত যৌথসভাতে গৃহীত কর্মদিশা ও কর্মকৌশল খসড়া সিদ্ধান্ত হিসেবে থাকবে এবং এক্ষেত্রে সাধারণত পরিচালনা বোর্ড প্রধান সভা আহ্বান করবেন এবং সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তথা কর্মদিশা ও কর্মকৌশল নির্দিষ্ট হবে, যার অনুলিপি কমিটিভুক্ত সকলের কাছে জমা থাকবে।

 

(৩) সমস্ত অঞ্চল কমিটি বা অপরাপর কমিটিতে বোর্ড প্রতিনিধিত্রয় রিপোর্ট-রেকর্ড তথা যাবতীয় তথ্যসমূহ নিজেদের কাছে সংরক্ষণপূর্বক সেগুলোর অনুলিপি তদূর্ধ্ব স্ব স্ব বোর্ডে এবং কমিটি প্রধান-এর অনুকূলে সমন্বয়কারীর নিকট জমা দেবেন। সমন্বয়কারী সার্বক্ষণিক প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতায় উক্ত রিপোর্ট-রেকর্ড তথা যাবতীয় তথ্যসমূহকে ভিত্তি করে যৌথভাবে একটি সমন্বিত রিপোর্ট তৈরি করে নিজের কাছে সংরক্ষণের সাথে সাথে উক্ত (৩টি+১টি সমন্বিত)= ৪টি রিপোর্ট কমিটি প্রধান-এর যথার্থ অবগতি ও অনুমোদনক্রমে সংশিষ্ট কমিটির কাঠামো পর্ষদে জমা দেবেন। কমিটি প্রধান বা তাঁর অনুকূলে সমন্বয়কারীর আহ্বানে উক্ত কমিটির সভা আহুত হবে এবং উক্ত কমিটির সভায় যৌথভাবে তদস্তরের জন্যে কর্মদিশা ও কর্মকৌশল নির্ধারণপূর্বক একটি যৌথ রিপোর্ট বা ঘোষণা, যা সমন্বিত রিপোর্ট আকারে কমিটি প্রধান সহ কমিটিভুক্ত সব নেতৃত্বের কাছে অনুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

 

(৪) এই অনুচ্ছেদের (২) ও (৩) দফায় বর্ণিত প্রক্রিয়া, বিকেন্দ্র থেকে কেন্দ্র-অভিমুখী এবং কেন্দ্র কর্তৃক গৃহীত উক্ত কর্মদিশা কিংবা ইস্যু বা যে-কোনো বিষয়ভিত্তিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা যদি সমস্ত সংগঠন তথা সামষ্টিকতার শর্ত যুক্ত হয়, তবে সংগঠন প্রধান-এর পক্ষ বা অনুবর্তিতায় সাধারণত নির্বাহী প্রধান মারফত জাতীয় ব্যূহ সম্পৃক্ত হয়ে ঘোষণা করবেন অর্থাৎ অঞ্চল কমিটি সহ সকল স্তরের কমিটি প্রধান ও সমন্বয়কারী বরাবর প্রেরিত হবে, যা কেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া হিসেবে নির্দিষ্ট।

 

(৫) এক্ষেত্রে অঞ্চল প্রধান ও সমন্বয়কারী কেন্দ্র কর্তৃক প্রেরিত উক্ত অনুলিপি বা কর্মদিশা বাস্তবায়নে নিজ কমিটির সভায় যৌথভাবে তদস্তরের জন্যে কর্মদিশা ও কর্মকৌশল নির্ধারণপূর্বক একটি যৌথ রিপোর্ট বা ঘোষণা সমন্বিত রিপোর্ট আকারে তৎপরবর্তী কমিটি প্রধান ও সমন্বয়কারী বরাবর প্রেরণ সহ কমিটিভুক্ত সব নেতৃত্বের কাছেই উক্ত স্তরের জন্যে গৃহীত কর্মদিশা ও কর্মকৌশলের অনুলিপি সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেবেন। এক্ষেত্রে, তিন বোর্ড নিজেদের গৃহীত কর্মদিশা ও কর্মকৌশল তথা সমন্বিত রিপোর্টটি তৎপূর্ববর্তী কমিটিতে প্রেরণ করবেন।

 

(৬) জাতীয় কর্মদিশা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লিখিত প্রক্রিয়া পূর্ব-পর সংশ্লিষ্টতায় ক্রমান্বয়ে স্থানিক বা রুট ইউনিটে পৌঁছায়, যা পরিণতিতে সকল স্তর ও কমিটি সম্পৃক্ততায় সংগঠন-কাঠামোর অখন্ড রূপ পরিগ্রহ তথা সামগ্রিকতাকে প্রকাশ করে। কাঠামোগত প্রতিটি অবস্থানের কর্মপ্রক্রিয়া রুট বা প্রান্তিক স্তর (বহু কেন্দ্র বা ইউনিট ) থেকে ঊর্ধ্ব স্তর বা কেন্দ্রে এবং কেন্দ্র থেকে রুট ইউনিট (বহু কেন্দ্র) বা প্রান্তিক স্তর পর্যন্ত অর্থাৎ রুট স্তর বা প্রান্তিক থেকে উদ্ভূত হয়ে রুটেই ফিরে আসা, কেন্দ্র যেখানে সমন্বয়ের অর্থকেই কেবল প্রতিফলিত করে।

 

অর্থাৎ সমন্বিত বা সামষ্টিক দায়িত্বগত শর্তে বা অখন্ড সংগঠন-কাঠামোগত কর্মদিশা বা একক নির্দেশনা, যেমন- জাতীয় স্তরে কোনো আন্দোলনের ইস্যু অথবা কর্মদিশা কিংবা চূড়ান্ত রায় অর্থে কোনো ঘোষণা না হয়, তবে কার্যক্রম সংক্রান্ত সকল বিষয়ই কার্যকরী কমিটিতে উক্ত বিষয় সংশ্লিষ্টতায় যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত তথা বোর্ড প্রধানত্রয় স্ব স্ব ব্যূহ, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রধান, কাঠামো পর্ষদ প্রধান এককভাবে কিংবা প্রয়োজনে নিজ নিজ কমিটি সম্পৃক্ত হয়ে ঘোষণা করবেন এবং যথারীতি পূর্বোল্লিখিত প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কর্ম নিষ্পন্ন হবে। এক্ষেত্রে রুট থেকে যে তথ্য বা প্রস্তাবনা উদ্ভূত বা প্রেরিত হয়, তা ক্রমান্বয়ে সংকলিত ও সমন্বিত হতে হতেই কেন্দ্রে পৌঁছায়।

 

(৭)উল্লিখিত প্রক্রিয়া তথা রুট থেকে রুটে ফিরে আসা, কেন্দ্র যেখানে সমন্বয়ের অর্থে ক্রিয়াশীল, যা বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণের [(রুট বা বিকেন্দ্র থেকে উদ্ভূত > কেন্দ্র > রুটে বা বিকেন্দ্রে)= বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণ] সংগঠন-কাঠামোকে নির্দেশ করে। ফলে, এখানে আরোপিত বা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের অবকাশ নেই। কারণ, সংগঠন-কাঠামো সংহতকরণের বৈশিষ্ট্যেই সর্বদা ক্রিয়াশীল, রিপোর্ট-রেকর্ডহীন বিপরীত মাত্রই বিজাতীয় বৈপরীত্য নিয়ে আসতে বাধ্য।

 

৪র্থ ভাগ

নির্বাচন, সভ্য স্তর ও পদ শূন্য

 

সংগঠন প্রধান ও কেন্দ্রীয় কমিটি তথা অপরাপর কমিটিভুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি   ৩৩। (১) বিকেন্দ্রীভূত-কেন্দ্রীকরণের সংগঠন-কাঠামোতে মূলত সমন্বয়গত ভাবাদর্শ অনুসৃত বিধায় কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যেই- অবাধ মতবিনিময় বা মতামত প্রদান সর্বোচ্চ নিষ্কণ্টক ও প্রাণবন্ত হতে বাধ্য। কারণ- প্রতি স্তরে কমিটি মাত্রই ৩ জন থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা ১০+১, যার অর্থই যাবতীয় আড়াল-আবডাল মুক্ত প্রত্যক্ষ মতপ্রকাশের তথা উন্মুক্ত বা খোলামেলা হওয়ার ক্ষেত্র উর্বর বা প্রসার হওয়া, তেমনি স্বল্প-আয়তন বা প্রত্যক্ষ পারস্পরিকতা বলেই প্রথাগত যাবতীয় মতদ্বৈততার মতো তিক্ততাকে বা বিশৃঙ্খলাকে তীব্রভাবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে। ফলে একমাত্র কমিটি প্রধান ছাড়া কমিটিভুক্ত কাউকেই আর তদস্তরে অর্থাৎ তাৎক্ষণিক বহিষ্কার বা বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়নি এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব বা কমিটিকেই পরবর্তীর জন্য বিশেষ ক্ষমতার অবস্থানে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ অনুবর্তীর দ্বারা ঊর্ধ্বতন যাচাইকে নীতিগত দিক থেকে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ বা অভিযোগ জানানোর জন্যে তদূর্ধ্ব কমিটি সহ কাঠামোগত অবস্থান হিসেবে কাঠামো পর্ষদ এমনভাবে নির্দিষ্ট, যা তৎকমিটি সংশিষ্ট (ভিতর থেকে সবকিছু জানা বা প্রত্যক্ষ করার অর্থে) হয়েও তৎকমিটি ভুক্ত নয় (আওতামুক্ত) এবং কাঠামো পর্ষদ প্রত্যক্ষভাবে কার্যকরী কমিটি তথা সংগঠন প্রধানের সীমানা সম্পৃক্ত (যে কারণে কার্যকরী কমিটিতে নির্বাহী প্রধান এবং কাঠামো পর্ষদ পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্কে সম্পর্কিত) এবং নেতৃত্ব নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কর্ম কাঠামো পর্ষদ দ্বারা সম্পাদিত হয় বলেই, নির্বাচন পদ্ধতিকে প্রভাবমুক্ত করার শর্তেই উক্ত কাঠামোগত ক্রিয়া নির্দিষ্ট, সেই সাথে তা নৈর্ব্যক্তিক রাখার শর্তেই যথার্থ সাংগঠনিক নীতি-নৈতিকতাগুলো পালিত হওয়া পূর্বক অনুশীলনগত জ্যেষ্ঠতার তথা আদর্শগত মানের পথ ধরে সভ্য স্তর নির্ধারণের পদ্ধতি অনুসৃত। কাঠামোগত পদ-পদবী তথা কমিটিতে কোনো নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে নৈর্ব্যক্তিক তথা জ্যেষ্ঠতার নিক্তিতে এগিয়ে থাকাদের মধ্য থেকে প্রার্থী যাচাই করে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। অর্থাৎ কাঠামোগত নেতৃত্বে প্রার্থী নির্ধারণে উল্লিখিত আদর্শগত মান অনুবর্তী।

 

(২) নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত করতে নির্বাচন সম্পাদনকারী কর্তৃত্ব তথা তদস্তরের কাঠামো পর্ষদকে উক্ত স্তরের নেতৃত্বের আওতামুক্ত এবং নৈর্ব্যক্তিক তথা আদর্শগত মানকে প্রতিফলিত করতে জ্যেষ্ঠতার নিক্তিতে প্রার্থী যাচাই করা।

 

(৩) কোনো কমিটি তথা কমিটিপ্রধান থেকে কমিটিভুক্ত যে-কোনো নেতৃত্ব কিংবা কোনো নেতৃত্বগত পদ শূন্য হলে কাঠামো পর্ষদ কর্তৃক তদস্তরে অর্থাৎ কেন্দ্র, অঞ্চল, জেলা, উপজেলা, থানা (মেট্রোপলিটন) তথা প্রতি ইউনিটের ক্ষেত্রে কর্মসীমানাগত সাংগঠনিক অনুশীলনের যাবতীয় রিপোর্ট-রেকর্ড যাচাইপূর্বক সাংগঠনিক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। সংগঠন প্রধান থেকে প্রতিটি স্তরের কমিটি বা কমিটিভুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসৃত হবে।

 

(৪) সংগঠন প্রধান কাঠামোগত সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকায় কাঠমো পর্ষদ সহ সাংগঠনিক সকল স্তর বা কমিটি তথা নেতৃত্বগত অবস্থান তাঁর কর্ম-আয়তনভুক্ত বা তাঁর নেতৃত্বাধীন, তাই কাঠামো পর্ষদ সকল স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারলেও, সংগঠন প্রধান-এর ক্ষেত্রে তা পারেন না এবং সে দায়িত্ব পালন করেন আচার্য সভ্য বা আচার্য সভা, যিনি বা যাঁরা কাঠামোগত অবস্থান মুক্ত তথা সংগঠন প্রধান-এর কর্মসীমানা বা অনুবর্তিতা থেকে মুক্ত।

 

সভ্য স্তর   ৩৪। (১) ২৪শে নভেম্বর, ২০১২ খ্রিঃ থেকে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের দ্বিতীয় স্তর তথা রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক সংগ্রামে অনুমোদিত তথা নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ সাপেক্ষেই 'সদস্য' পরিচয়ে পরিচিত হবেন। এক্ষেত্রে সংগঠনের সকল সদস্যই সাংগঠনিক (অনুশীলন সময়) জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আদর্শগত মানে (নির্ণয়ে) নিম্নোক্ত সভ্যস্তরের ক্রমমর্যাদায় উত্তরিত হবেনঃ

 

(ক) প্রাক-সদস্যঃ আদর্শের প্রতি ভালোলাগা থেকে সংগঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রথম স্তর। প্রাক-সদস্যকাল মূলত যে-কারও সংগঠন ও আদর্শকে প্রত্যক্ষ অনুশীলনের মাধ্যমে জানা-বোঝার সময়কাল বা পর্ব, যাতে করে সদস্য হওয়ার ইচ্ছা বা আগ্রহ জন্মালে তা যেন ভাবাবেগ বর্জিত স্বকীয় ইচ্ছা বা আগ্রহ হয়।

 

(খ) প্রার্থী সদস্যঃ প্রাক-সদস্য হিসেবে ন্যূনতম ২/৩ বছর সংগঠন অনুশীলনের পথে সংগঠনের নীতি-নৈতিকতা যদি ভালো লাগে, অর্থাৎ অনুশীলনের পথ ধরে ভেতর থেকে জেনে-বুঝে স্বতঃস্ফূর্ততায় যদি কেউ সদস্য হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবেই কেবল তাঁকে সদস্য হওয়ার ফর্ম দেওয়া হবে, যা প্রার্থী সদস্য স্তর হিসেবে নির্দিষ্ট। এ-পর্ব মূলত যাচাইকাল, যা ন্যূনতম ২/৩ বছর।

 

(গ) সদস্যঃ প্রার্থী সদস্য হিসেবে যদি কেউ স্বকীয় স্বতঃস্ফূর্ততা তথা আদর্শগত পথচলায় যথার্থ সাংগঠনিক নীতি-নৈতিকতাকে প্রতিফলিত করতে পারেন, তবেই তাঁকে সদস্য পদ দেওয়া হয়। সাংগঠনিক সদস্য পদে উত্তীর্ণ হতে সাংগঠনিক অনুশীলনে ন্যূনতম ৪/৫ বছর সময় অতিক্রম করতে হয়।

 

(ঘ) প্রার্থী সার্বক্ষণিক সদস্যঃ সদস্যের আদর্শগত মান বা সদস্য পদমর্যাদা বহনকারী যে-কোনো সাংগঠনিক সভ্য পারিবারিক-আর্থিক তথা সামাজিক জীবনে আদর্শগত মান প্রতিফলিত করতে সক্ষম হলেই কেবল সার্বক্ষণিক সদস্য হওয়ার জন্য অনুমোদন লাভ করবেন। এই স্তরকে প্রার্থী সার্বক্ষণিক সদস্য স্তর রূপে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

 

(ঙ) সার্বক্ষণিক সদস্যঃ প্রার্থী সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে ন্যূনতম ২/৩ বছর সংগঠন অনুশীলনে আদর্শভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হলে আদর্শগত মানে সার্বক্ষণিক সদস্য পদমর্যাদা লাভ করবেন।

 

(চ) প্রার্থী স্টাফ সদস্যঃ সংগঠন-কাঠামোর মধ্যে সর্বোচ্চ আদর্শগত পদমর্যাদা স্টাফ সদস্য। সার্বক্ষণিক সদস্য পদমর্যাদায় ন্যূনতম ৫ বছর অতিক্রান্ত হলে স্টাফ সদস্য হওয়ার জন্য অনুমোদন লাভ করবেন। এ স্তর প্রার্থী স্টাফ সদস্য স্তর হিসেবে নির্দিষ্ট।

 

(ছ) স্টাফ সদস্যঃ প্রার্থী স্টাফ সদস্য হিসেবে ন্যূনতম ৫ বছর সংগঠন অনুশীলন ও সামগ্রিক জীবনের সর্বদিককে ব্যপ্ত করে আদর্শভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হলে আদর্শগত মানে স্টাফ সদস্যের পদমর্যাদা লাভ করবেন।

 

সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সূচনায় নিজেকে বদলের যে শপথ, কাঠামোগত দায়িত্বপালন তথা কাঠামোগত মানদন্ডে সেই শপথই যাচাই হয়। অবশেষে দায়িত্ববোধের সুদীর্ঘ পথচলায় আদর্শগত মানে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি বা আচার্য সভ্যমান অর্জনের জন্য শুরু হয় কাঠামোগত নিক্তিতে নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ স্তর। অর্থাৎ কাঠামোগত সর্বোচ্চ স্তরের দায়িত্বপালনের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আদর্শগত মানের শ্রেষ্ঠত্ব। এই স্তর স্টাফ সদস্য স্তর হিসেবে নির্দিষ্ট।

 

* আচার্য সভ্যঃ এক্ষেত্রে প্রাক-সদস্য থেকে স্টাফ সদস্য পর্যন্ত সকল সাংগঠনিক সভ্যই বিধিবদ্ধভাবে কাঠামোগত সকল অবস্থান তথা নেতৃত্বে নির্দিষ্ট হতে পারেন। কিন্তু আচার্য সভ্য কাঠামোগত সর্বোচ্চ অবস্থানকে পেরিয়ে যান অর্থাৎ সংগঠন প্রধান কিংবা কার্যকরী কমিটিতে একাধিকবার কোনো কমিটি প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন কিংবা সংগঠনের সর্বোচ্চ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আচার্য সভ্যের মর্যাদা বহন করেন। অর্থাৎ সংগঠন-কাঠামোয় সর্বোচ্চ জ্যেষ্ঠ এবং মতাদর্শিক প্রাজ্ঞ ও সাংগঠনিক অবদানে সর্বশ্রেষ্ঠরাই সর্বোচ্চ আদর্শগত মর্যাদায় আচার্য সভ্যের পদ অলংকৃত করেন। শুধু এঁদেরই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংগঠন প্রধান নির্বাচিত হোন।

 

সেই সাথে প্রাক-সদস্য স্তর থেকে স্টাফ সদস্য স্তর পর্যন্ত সংগঠন-কাঠামোয় সম্পৃক্ত সকল সদস্যের জন্য আচার্য সভ্যদের 'যৌথ ঘোষণা'- (যা আচার্য সভা হিসেবে গৃহীত) সংগঠন-কাঠামোর জন্য সর্বোচ্চ রায়।

 

* সাম্মানিক সদস্যঃ

সংগঠন ও আদর্শের প্রতি বিশ্বাস ও তা প্রতিষ্ঠা সর্বান্তকরণে চাইলেও এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকায় তাঁর সে সদিচ্ছার প্রমাণ রাখলেও পরিকাঠামোবদ্ধ কোনো দায়িত্ব পালনের বা যুক্ত হওয়ার মতো বাস্তবতায় থাকেন না। সংগঠন ও আদর্শের প্রতি শুভাকাঙ্ক্ষী সেই সব স্বজনদেরকে 'সাম্মানিক সদস্য'-এর মর্যাদায় গ্রহণ করা হয়।

 

(২) সভ্য ও পদ-পদবী বাতিলঃ

 

(ক) কাঠামোগত পদ রহিতকরণঃ যে পদে তিনি দায়িত্বরত ছিলেন, তা যথাযথভাবে পালন না করা বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে, তাঁর কাঠামোগত পদ রহিত করা হয়।

 

(খ) অব্যাহতিঃ আদর্শগত বিচ্যুতিতে সংগঠন থেকে সাময়িক বরখাস্ত। অব্যাহতি এক অর্থে কারণ দর্শানোর সময়।

 

(গ) সদস্য পদ বাতিল বা বহিষ্কারঃ আদর্শগত বিচ্যুতিতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সদস্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে, সংগঠন প্রয়োজন মনে করলে বহিষ্কারের ঘোষণা দিতে পারেন। তবে পদ রহিত বা অব্যাহতি মূলত কাঠামোগত সীমানাতেই ঘটে, কিন্তু বহিষ্কার চূড়ান্ত অর্থে আদর্শগত বিচ্যুতিকেই নির্দেশ করে। ফলে সদস্য পদ (আদর্শগত মান) বাতিলই চূড়ান্ত বা বহিষ্কার হিসেবে গণ্য।

 

(৩) ব্যতিক্রমঃ

 

(ক) সিটিং-মিটিং তথা সামষ্টিক প্রত্যক্ষতা ছাড়া সাধারণত তাৎক্ষণিক বহিষ্কার হয় না। অর্থাৎ ন্যূনতম কারণ দর্শানোর সুযোগ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় দিয়েই কেবল বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

 

(খ) কাঠামোগত পদ রহিত, অব্যাহতি বা বহিষ্কার বা যে-কোনো উদ্‌যোগের পশ্চাতে কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যৌক্তিকতা যাচাইয়ে যদি প্রমাণিত হয় যে তা যথার্থ নয়, সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ক্ষোভ-বিক্ষোভ বা স্বার্থতাড়িত হয়ে উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে যদি নিশ্চিত হওয়া যায়- তবে যিনি বা যাঁরা তা ঘটিয়েছেন, তিনি বা তাঁদের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পদ রহিত হওয়ার সাথে সাথে অব্যাহতি বা বহিষ্কার পর্যন্ত ঘটতে পারে।

 

পদশূন্য   ৩৫। (১) সাংগঠনিক স্বার্থগত যৌক্তিক ও বাস্তবনিষ্ঠ অনাস্থা বা অভিযোগ উত্থাপনের সীমানা নির্দিষ্ট থাকে তদস্তর তথা প্রত্যক্ষ ক্রিয়ার শর্তে সংশ্লিষ্ট কমিটি বা নেতৃত্বে (যেখানে কাজ নেই, ভুল বা বিচ্যুতির প্রশ্ন অবান্তর, তাই কর্ম বা ক্রিয়ার শর্তেও সমালোচনা অর্থহীন গীবত হিসেবে ঘৃণ্য এবং অভিযোগ মাত্রই বানোয়াট বিভ্রান্তি হিসেবে নিন্দিত ও পরিত্যাজ্য)। ঠিক যেমন পদ শূন্য হলেও তা পূরণ করার শর্তেও থাকেন তদস্তরের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বা আদর্শগত মানে অবস্থানকারী সভ্যবৃন্দ।

 

(২) একমাত্র সংগঠন প্রধান-এর ক্ষেত্রেই নীতিগত বা সারগতভাবেই প্রত্যক্ষ ক্রিয়ার শর্ত রহিত থাকে বিধায় কেবলমাত্র আচার্য সভায় উন্নীত বা 'আচার্য সভ্য' ঘোষিত হওয়া মাত্র সংগঠন প্রধান-এর পদ শূন্য হয়।

 

অর্থাৎ সংগঠন-কাঠামোর সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকার শর্তে তিনি 'উপাচার্যে'র মর্যাদা বহন করেন মাত্র এবং সেক্ষেত্রে আচার্যে উন্নীত হওয়া মাত্রই তিনি কাঠামোগত অনুশীলনে উত্তীর্ণ তথা আদর্শিক মনীষায়- শ্রেষ্ঠত্বের সংগ্রামে বিজয়ী মানুষ হিসেবে মনোনীত বা গৃহীত হন। সংগঠন ও আদর্শগত সংগ্রামে সব প্রতিকূলতায় যাঁর বা যাঁদের নির্দেশনা নির্ভার ও নির্ভরতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অনুগামীদের পথ দেখায়, সবক্ষেত্রে তাঁরাই হবেন কালাতিক্রম্য আদর্শিক দিশা ও দৃষ্টান্ত।

 

নিজেকে বদলের মধ্য দিয়ে যে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সূচনা, ব্যক্তিক পর্যায় থেকে কাঠামোর নিক্তিতে ঘষে (দায়িত্বপূর্ণতার সংজ্ঞায়) এভাবেই তা পূর্ণতা পায়।

 

৫ম ভাগ

গঠনতন্ত্র সংশোধন ও বিবিধ

 

জাতীয় সমাবেশ   ৩৬। প্রতি তিন বছরে কমপক্ষে একটি জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কোনো কারণে এর ব্যতিক্রম ঘটলে পরবর্তী দু'বছরের মধ্যে অবশ্যই তা সম্পন্ন করতে হবে।

 

গঠনতন্ত্র সংশোধন   ৩৭। কন্ট্রোল বোর্ড থেকে প্রস্তবনা আসে এবং কাঠামো পর্ষদ কর্তৃক নির্দিষ্ট ও গৃহীত হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে তা প্রত্যক্ষ আলোচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত আকারে গ্রহণ করলে সংগঠন প্রধান-এর প্রত্যক্ষ অনুমোদনের ভিত্তিতে খসড়া বা অস্থায়ী সিদ্ধান্ত আকারে কার্যকর থাকে। সেক্ষেত্রে জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে স্থায়ী হয়। উল্লেখ থাকে যে, পদ-পদবী তথা সাংগঠনিক বিধি-নীতি স্থায়ীকরণে জাতীয় সমাবেশ (রিভিউ)-ই সর্বোচ্চ ও একমাত্র ক্ষমতাধর। এক সমাবেশ থেকে অন্য সমাবেশ পর্যন্ত্ম অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সংগঠন প্রধান উক্ত ক্ষমতার প্রতিনিধিত্বে থেকে বিশেষ প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাবনা তথা যে-কোনো বিধি-বিধান, পদ-পদবী অস্থায়ী কিংবা খসড়া আকারে কার্যকর করার অনুমোদন দিতে পারেন। সংগঠনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা জাতীয় সমাবেশে ন্যস্ত এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তা সংগঠন প্রধানের উপর বর্তায় বিধায়, যে কোনো জরুরি বা বিশেষ অবস্থার প্রয়োজনে তিনি তা প্রয়োগ করেন এবং যেহেতু তাঁর প্রত্যক্ষ কর্মের বাহক কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি- বিধায় তাঁরা প্রত্যক্ষভাবে বিশেষ ক্ষমতা বহন করেন এবং অপরাপর কমিটি প্রধানদের মাধ্যমে তাঁর পরোক্ষ কর্ম সম্পাদিত হয়, বিধায় স্ব স্ব স্তরে তাঁরা বিশেষ ক্ষমতার কর্তৃত্বে অবস্থান করেন। অর্থাৎ সমন্বয়গত কর্তৃত্বের প্রতিনিধি মাত্রই 'প্রধান' বা বিশেষ ক্ষমতাধর- যা মূলগতভাবে সংগঠন প্রধান-এর সমন্বয়গত শর্তে প্রাপ্ত বিশেষ ক্ষমতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষের প্রতিফলন।

 

গঠনতন্ত্র সংশোধনের শর্তগত দিক   ৩৮। ২৪শে নভেম্বর, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে ঘোষিত মহান সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সূচনাতেই বলা হয়েছিল আমাদের প্রিয়তম আদর্শিক শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক শ্রদ্ধেয় বড়দা (এ আর শিকদার- আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ্‌ রাজু শিকদার)-এঁর চিন্তাধারা ও নির্দেশিত পথই সংগঠন ও সংগঠন-কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত। সেই শর্তগত দিক থেকে সাংগঠনিক অনুমোদনের (লিখিত) পথ ধরে প্রকাশিত তাঁর চিন্ত্মাধারা ও নির্দেশিত পথই কেবল গঠনতন্ত্র সংশোধনে দিশা হিসেবে নির্দিষ্ট। এক্ষেত্রে তা তাঁর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির শর্ত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

 

ভাষান্তর   ৩৯। সুনির্দিষ্ট আদর্শনিষ্ঠতায় বর্ণিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূলনীতি এবং তদসংশ্লিষ্ট এই সংগঠন পরিকাঠামো বা গঠনতন্ত্র স্বাভাবিকভাবেই প্রচলিত সংগঠন-কাঠামো থেকে স্বকীয় ও স্বতন্ত্র এবং দর্শননিষ্ঠতায় পরিভাষাগতভাবে ভিন্ন, অর্থাৎ মূলগত অর্থে ব্যবহৃত শব্দগুলো 'প্রত্যয়' হিসেবে নির্দিষ্ট এবং মূলগতভাবে তা বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বিধায় এর ভাষান্তর-পরবর্তী অর্থবোধনে কোনো অষ্পষ্টতা পরিলক্ষিত হলে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত অর্থবোধন-ই হবে নির্দেশিকা বা যথার্থতা বিচারে প্রণিধানযোগ্য মূল মানদন্ড।

 

আচরণবিধি   ৪০। সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সূচনাই যেহেতু নিজেকে বদলের সংগ্রাম দিয়ে, তাই প্রতিটি স্তরেই মৌলিক তথা ন্যূনতম কিছু আচরণবিধির নির্দেশনা থাকে। সংগঠন গড়ার প্রাথমিক পর্ব তথা সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের স্তরে যেমন ছিল, তেমনি বর্তমান স্তর বা রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক পর্যায়েও আছে এবং ক্রমোত্তরণের পরবর্তী স্তরেও থাকবে।

 

 (১) বিকেন্দ্রীভূত সংগঠন-কাঠামো অর্থাৎ ইউনিট ও সেল ফর্মে ক্রমশ ১০ জন সভ্যের মধ্যে ৩ জন পর্যন্ত অগ্রজ নির্দিষ্ট হতে পারেন। আর তাই, এ পর্যায়ে ২ জন সভ্যের মধ্যে একজন অথোরিটি- অন্যজন অনুগামী, ৩ জনের মধ্যে একজন অথোরিটি- অন্য দুইজন অনুগামী। এ-প্রক্রিয়ায় ১১ জন পর্যন্ত একজন অথোরিটি, ১০ জন অনুগামী। অথোরিটিকে অনুসরণ না করা সংগঠন বিরোধিতার শামিল। অর্থাৎ সঠিকতার প্রশ্নে মতবিনিময় চলবে কিন্তু মতদ্বৈততার নামে তর্ক-বিতর্ক বা বিশৃঙ্খলা প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যেহেতু সমন্বয়ের শর্তেই অথোরিটি।

 

(২) মুক্তিজোট মানেই ভুলের বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম। তাই সাথীদের সকল ভুল-ত্রুটি নিরসনের জন্য সাথীরা সাংগঠনিক ঐক্যতার প্রশ্নে নিজেদের ভুল-ত্রুটি নিয়ে আত্ম-সমালোচনা সহ পারস্পরিক আন্তঃসংগ্রাম ও আত্মশুদ্ধির সংগ্রাম জারি রাখবেন। এক্ষেত্রে দায়িত্বগত ব্যক্তিক ত্রুটি-বিচ্যুতি কিংবা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কোনো পারস্পরিক জটিলতা নিরসনে একই কমিটিভুক্তদের নিয়ে কাঠামোগত যে সিটিং, তাকে আন্তঃসংগ্রাম বলে এবং সভ্য স্তর নিরিখে তথা আদর্শিক মানগত একই স্তরে থাকা ঘটনা সংশিষ্ট সাথী বা সভ্যদের নিয়ে যে বৈঠক, তাকে আদর্শগত বৈঠক বা শুদ্ধিকরণ বলে। মনে রাখতে হবে, আন্তঃসংগ্রামে অনুপস্থিত কোনো সাথীর সাথে আন্তঃসংগ্রামের কোনো আলোচনা কোনোক্রমেই করা যাবে না।

 

(৩) পূর্বতন সংগঠকের সমালোচনা তাঁর ঊর্ধ্বগামী হবে। কোনো অবস্থাতেই কোনো নেতৃত্বের সমালোচনা তাঁর অধঃস্তন নেতৃত্বের নিকট করা যাবে না।অর্থাৎ একজন অনুগামী, তাঁর পূর্বতন নেতৃত্ব বা অথোরিটি (আদর্শিক শিক্ষক) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কারও ভুল নিয়ে সমালোচনা করার সময় লক্ষ্য রাখবেন, যাঁর কাছে তিনি বিষয়টি বলছেন, তিনি উক্ত অথোরিটির ঊর্ধ্বতন কি না। যদি না হয়, তবে তাঁর সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই সমালোচনা করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের অনুগামীদের সামনেও তাঁর সমালোচনা করা যাবে না। এ-সকল বিষয়াদি লক্ষ্য রেখে যে সমালোচনা হবে- তার যথাযথ সমাধানের জন্য, যিনি সমালোচনা গ্রহণ করলেন, তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন- প্রয়োজনে তা নিরসনের জন্য ক্রমপর্যায়ে কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।

 

(৪) সমালোচনার ক্ষেত্রে সর্বদাই মনে রাখতে হবে, যাঁর ভুল প্রথমে তাঁকেই বলতে হবে। যদি দেখা যায় ভুল সংশোধন হচ্ছে না, তখন তা ঊর্ধ্বতনের নিকট উপরোক্ত নীতি অনুসারে বলতে হবে। নচেৎ পূর্বতনের অনুমতি ও উপস্থিতিতে ডেকে তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে তা ক্রম-ঊর্ধ্বতন স্তরে রিপোর্ট আকারে প্রেরিত হয়। এরপরও যিনি ধীরে ধীরে নিজের আত্মশুদ্ধি বা সেই ভুল সংশোধনের চেষ্টা করবেন না, প্রয়োজনে সংগঠন বা পূর্বতন নেতৃত্ব ক্রমান্বয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

(৫) আন্তঃসংগ্রাম বা শুদ্ধিকরণ পদ্ধতিঃ ভুলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা বলতে বোঝায় মূলত প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কোনো ভ্রান্তি নিরসন বা পূর্ববর্তী-পরবর্তী তথা অথোরিটি-অনুগামীর পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রতিফলিত না করলে তার বিরুদ্ধে অর্থাৎ সংগঠনবিরোধী বা সমন্বয়ের শর্তে মতবিনিময়ের বদলে তর্ক-বির্তকের বিশৃঙ্খলাকে- রোধ করতে কমিটি বা কাঠামোগত আন্তঃসংগ্রাম চলে এবং ব্যক্তিগত নীতি-নৈতিকতায় আদর্শিক মান প্রতিফলিত না হলে আদর্শগত আন্তঃসংগ্রাম বা শুদ্ধিকরণ চলে। এক্ষেত্রে সংগঠন ও আদর্শিক ক্ষেত্রের সুনির্দিষ্ট নীতি-নির্দেশনার বৈপরীত্য ঘটলেই কেবল এর প্রয়োজন হয়। যে-কারণে আদর্শগত ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষানবিশ বা সাংগঠনিক তৃণমূল স্তরে আন্তঃসংগ্রাম বা শুদ্ধিকরণের প্রয়োজন থাকলেও ক্রমোত্তরণে তা স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। তবুও সর্বক্ষেত্রে এটা গৃহীত।

 

কারণ সাংগঠনিক সংঘবদ্ধতা ও আদর্শিক মান রক্ষা প্রতিটি সভ্যের মৌলিক সাংগঠনিক কর্তব্য এবং কোনো সংগঠকের ব্যর্থতা ও ক্রটি যেহেতু সকল সংগঠক তথা সংগঠনের কাঁধে বর্তায়, তাই তা রোধ করার অধিকার প্রতিটি সভ্যের। তবে তা কেবল সংগঠন প্রাসঙ্গিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ককে ঘিরে বলেই তা সাংগঠনিক নীতির মধ্যে হতে হবে, যতো সঠিক কথাই হোক, সাংগঠনিক নিয়মবদ্ধতার মধ্যে না হলে- তা চরম বেঠিক।

 

(৬) সংগঠনের যে-কোনো সভ্যই তাঁর ঊর্ধ্বতন, এমন-কি সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বা অথোরিটির সাংগঠনিক কর্মকান্ড সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা করতে পারবেন এবং ঊর্ধ্বতন তা শুনতে, গ্রহণ করতে এবং উত্তর দিতে বাধ্য, তবে অবশ্যই পূর্বাপর বা অথোরিটি-অনুগামীর স্তর ভেঙে নয়। অর্থাৎ উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে অঞ্চল- অঞ্চল তার উত্তর না দিতে পারলে, তা কেন্দ্রে পাঠাবেন। এক্ষেত্রে কোনো সভ্যের তাঁর ঊর্ধ্বতনের সমালোচনা করতে দ্বিধা থাকলে কেন্দ্রে সংগঠন প্রধান বরাবর (কাঠামো পর্ষদ) রিপোর্ট করবেন। কিন্তু কোনোমতেই অনুবর্তী কিংবা কোনো অবস্থাতেই সংগঠনবহির্ভূত অথবা সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কারও সাথে শেয়ার করা যাবে না। সেই সাথে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সমালোচনাকারী নিজেও বুঝতে ভুল করছেন কি-না। সেক্ষেত্রে নিজের ভুল শুধরে নিতে হবে। সাধারণ চেতনা এবং সাংগঠনিক বা বিশেষ চেতনার পার্থক্য যেহেতু আছে, তাই দৃষ্টিভঙ্গিগত দিককে খুঁটিয়ে দেখতে হবে, মোট কথা- স্বচ্ছতার স্বার্থে সর্বক্ষেত্রে প্রশ্ন করার সততা থাকতে হবে। সেই সাথে যারা শুধু ভুল নিয়েই সরব হয়, গুণ সম্পর্কে নিঃশব্দ থাকে, তাদের আবিষ্কার করে বর্জন করুন। স্মরণ রাখুন, ঐক্যতা গড়ে তোলার জন্যই ভুলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম- যা ঐক্যতা বিনষ্ট করে তা শুধু ভুল নয়, আপাতদৃষ্টিতে যত সঠিকই হোক, তা সংগঠনবিরোধী।

 

অতএব, ভুলের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নিজের বিরুদ্ধে প্রথম সতর্ক ও নিশ্চিত হোন এবং সর্বক্ষেত্রে (অথোরিটি-অনুগামী) ক্রমস্তর বা চেইন অনুসরণ করুন।

 

(৭) আচরণবিধিতে ইতোপূর্বে ঘোষিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের রীতি বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ ঐক্যতার প্রশ্নে, ত্রুটিমুক্ত হওয়ার স্বার্থে- অবাধ মতবিনিময় তথা পারস্পরিক মূল্যায়ন বৃদ্ধিতে 'আসেন', 'বসেন' বা শ্রদ্ধামূলক সম্বোধনে সম্ভাষণ করুন। যেহেতু, সাংগঠনিক মানদন্ডে সবাই সমান। সিনিয়র, জুনিয়র বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বিভাজন সাংগঠনিক কর্মকান্ডে (সিটিং বা অন্যান্য ক্ষেত্রে) টেনে আনা, সংগঠন-বিরোধিতার সামিল বলে গণ্য হবে। উল্লেখ থাকে যে, সাংগঠনিক যোগ্যতাই সংগঠনের বিবেচ্য অর্থাৎ সংগঠনই, সংগঠনের একমাত্র মানদন্ডে শৃঙ্খলার প্রশ্নে তো বটেই সাংগঠনিক নীতিগত দিক থেকে সকল প্রকার ইগোবোধ বা অহমবোধ সর্বোচ্চ ঘৃণ্য বিষয় বলে বিবেচিত। অহমবোধ মুক্ত সম-মান প্রতিফলনের শর্তে 'আসেন-বসেন' (বিশেষত সংগঠন-কাঠামোভুক্ত কর্মকান্ডে)-এর রীতি বহাল থাকবে। অর্থাৎ পারস্পরিক সৌহার্দ্যমূলক শ্রদ্ধা ও তার পরিশীলিত বহিঃপ্রকাশ থাকতে হবে।

 

(৮) রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও পূর্বের নির্দেশিত 'সর্বক্ষেত্রে সততায়, স্বচ্ছতায় ও নৈতিক শৃঙ্খলায় নিজেকে আদর্শিক দৃষ্টান্ত করেই অন্যকে শেখানোর রীতি' আরও ব্যাপকতায় অবশ্যপালনীয় নির্দেশ হিসেবে থাকছে।

 

ইতোপূর্বে উক্ত আচরণবিধি শুধু সংগঠন-কাঠামোভুক্ত পরবর্তী সভ্যদের শিক্ষাদানের শর্তে অবশ্যপালনীয় রীতি ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বর্তমান ক্ষেত্রে তা ব্যাপক জনসমাজের কাছে আস্থাভাজন বা সামাজিক শক্তি হয়ে ওঠার মূল শর্তের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। বিশেষত, 'জাতীয় রাজনৈতিক সংহতি' গড়ে তোলার ডাক মূলত দল-মত নির্বিশেষে ব্যাপক সামাজিক ফ্রন্ট গড়ে তোলারই নামান্তর। সেক্ষেত্রে, বিশ্বাস বা আস্থা অর্জনই প্রথম এবং প্রধান শর্ত। যা খুবই সহজ, কারণ সমাজের সর্বস্তরে হিংসা, বিদ্বেষ, নৈরাজ্য, দুর্বৃত্তচারিতার দূষণে এমন এক আদর্শহীন অবিশ্বাসের অন্ধকারে ছেয়ে আছে যে, সেখানে আদর্শিক বিশ্বাসের ন্যূনতম আলোকবিন্দুও তীব্রতায় ফুটে উঠবে।

এ প্রাসঙ্গিক গুরুত্ব অনুধাবনে বড়দা যেটা বলেন- "এখনও মানচিত্রিক সীমানায় কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠির জীবন-মান নিয়ন্ত্রণে- সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কর্তৃত্বে প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্র ও রাজনীতি-ই থাকে, তাই সারা দেশ যদি সাধু-সন্ততে ভরেও যায় আর রাষ্ট্রিক কর্তৃত্ব পচে ওঠে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিটা নিম্নমান প্রতিফলিত করে- তবে দেশ অচিরেই রসাতলে যাবে। বিপরীতক্রমে সারা দেশ যদি নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলায় ভরে ওঠে আর রাষ্ট্রিক কর্তৃত্বে সততা-নৈতিকতায় উন্নত রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক মান প্রতিফলিত করে, তবে অচিরেই সে দেশ-জাতি বেঁচে উঠবে। এজন্যই জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রুরা দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে প্রথম রাজনীতির ভাবমূর্তিকেই কামড়ে ধরে। দু-দশটা ব্যক্তি দৃষ্টান্ত চর্চায় পুরো রাজনীতিটাকেই অনাস্থায় বিষিয়ে তোলে। নিজের আঙিনায় থাকা ময়লা এড়িয়ে যাওয়া যেমন সুস্থতা নয়, তেমনি সব ক্ষেত্রের মতো দু-চার জন মন্দ দৃষ্টান্তে রাজনীতিটাকে মন্দ বলা নাগরিক বোধগত মূর্খতার নামান্তর। তবুও রাজনীতির মন্দটা যেহেতু সবকিছুকে ঢেকে দিতে পারে, তাই এ-ক্ষেত্রটার পচন রোধই সামষ্টিক জীবনের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে জরুরি। বিশেষত যাঁরা জানেন রাজনীতিটা অসংখ্য মানুষের জীবনমান- বাঁচা-মরার সাথে প্রত্যক্ষ জড়িত- যাঁরা বোঝেন রাজনীতি মানে দলাদলি, খুনোখুনি কিংবা ছেলেমীপনা নয় বরং মানুষ আর মনুষ্যত্বের প্রতি, নিজের সততার প্রতি, মানবিক মমত্বের প্রতি শ্রেষ্ঠ পথ ও নিদর্শনের নাম রাজনীতি, তাঁদের ক্ষেত্রে মানবিক আমানতদারী আর ন্যায় প্রতিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ উপায় রাজনীতি এবং জাতীয় জীবন প্রসঙ্গে যে-কোনো কিছুর চেয়ে, যে-কোনো সময়ের চেয়ে জরুরি হলো রাজনীতি। আর এ কারণেই দেশ-কালে সামাজিক দায়িত্ব পালনে সৎ রাজনীতিকই শ্রেষ্ঠ সন্ত মানুষ ও মনুষ্যত্বের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সাধনা যদি করতেই হয়, মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের সাধনা করাই উত্তম। যেহেতু আজ রাজনীতির মানে হয়ে গেছে আদর্শহীনতা, তাই সাধনা-সংগ্রামে তার বিপরীতে আদর্শিক দৃষ্টান্ত হওয়ার মধ্যেই রাজনীতির উদ্বোধন। রাজনীতি মানেই যেহেতু আজ দলাদলি আর অসংহতির নেতিবাচক সংস্কৃতি, তাই তার বিপরীতে চাই সংহতির সঙ্গত দৃষ্টান্তে- দৃঢ় প্রত্যয়। আর তা হতে পারে সুনির্দিষ্ট দিশায় প্রাত্যহিক পথচলায়...।"

 

বড়দা'র উল্লিখিত নির্দেশনায় উঠে আসা 'সংহতি'র সূচনাতে যে আদর্শিক দৃষ্টান্ত হওয়ার শর্ত অনুরণিত হয়, সেখানে জাতীয় জীবন ভাবনা তথা রাজনীতিক উদ্বোধনে প্রথমেই দু'টো বিষয় পরিহার অনিবার্য হয়ে ওঠে- তা হলো 'মিথ্যাচার ও গীবত'। অর্থাৎ এই দু'টো বিষয় কঠোরভাবে পরিহার করার নির্দেশ থাকছে। 'মিথ্যা বলার চেয়ে নীরব থাকুন, গীবত থেকে দূরে থাকুন'। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক বা সংঘবদ্ধ আদর্শিক শক্তির মূর্ত রূপ হয়ে ওঠার সাধনায় যাঁরা ব্যক্তি নন- সংগঠন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে নেমে গিয়ে কটূক্তি, কটাক্ষ, বিদ্রূপাত্মক সমালোচনার জ্ঞান-গপ্পো বা হাতুড়ে পান্ডিত্যের প্রয়োজন নেই। কোথাও কোনো কিছু বেঠিক মনে হলে এবং একান্ত বলার প্রয়োজন হলে তাকে নিজের করে বলতে হবে। অর্থাৎ 'এটা আপনার ঠিক নয়', 'ওটা আপনারা ঠিক করেননি', এভাবে না বলে- বলুন, 'আমাদের এটা করা দরকার' অথবা 'আমরা এটা না করে, এটা করলে অমুক-অমুক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যেতে পারে'। এখানে লক্ষ্যণীয়, শুধু ভুল বা প্রতিপক্ষ করার সংস্কৃতি নয়- বরং যা সঠিক, তা যথার্থ সঠিকতার সিদ্ধান্তে নিশ্চিত হয়েই কেবল সেই সঠিকতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে 'ভুল' প্রাসঙ্গিক উচ্চ- হওয়া এবং সব ব্যর্থতা অপরের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার দায়বদ্ধতাহীন বিকল সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশকেন্দ্রিক ভুলের খেসারত সবাইকে দিতে হয় বলেই সে ভুল প্রসঙ্গে কথা বলার অধিকার সব নাগরিকের। পাশাপাশি সে ভুলটাও তাই দেশকেন্দ্রিক সামগ্রিক অর্থে আমাদেরই। ফলে, প্রতিপক্ষ বা দলাদলির অযৌক্তিক ও ভ্রান্তির সংস্কৃতিকে সর্বাগ্রে পরিহার করতে হবে। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, গীবত না করে গীবতের মধ্যে থাকাও গীবতের সমর্থক হিসেবে অন্যের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে, তাই এ-বিষয়টাতেও সভ্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ থাকছে। এভাবেই সামগ্রিকতাকে ধারণ করে নিজেকে ব্যক্তি থেকে সংগঠনে রূপান্তরিত করুন।

 

সর্বান্তকরণে নিজেকে দৃষ্টান্ত করেই সামাজিক শক্তির মূর্ত শিক্ষক হিসেবে অন্যকে শেখান।

 

পুনশ্চঃ বড়দা'র ভাষায় ' ...সাথে থেকে বিগত বারো বছর আপনাদেরকে বুঝেছি। জানি না আর কোনো দেশের তরুণরা এমন আত্মস্বার্থ বিলিয়ে দেয়ায় আগুয়ান কি-না। স্পষ্টতঃই সমকালীন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ তরুণরা এখন জন্মসূত্রে এদেশে। তাঁরা শুধু নিজেদেরকে নয়- নিজেদের মুক্তির শর্তেই বাঁচাবে সারা বিশ্বকে। কারণ আমরা যখন যা ভাবি, তখন তা কেউ ভাবতে পারে না- আমরা যা করি, তা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। আলহাম্‌দুলিল্লাহ্‌, আমরা এসেছি- মানে আমরা থাকবো, শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসিটা ইনশাল্লাহ্‌ আমরাই হাসবো, সাথে সমগ্র দুনিয়া।'

 

পরিশিষ্ট

 

শপথ ও প্রত্যয়ঃ

মহান স্রষ্টার জিম্মায় নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দিয়ে মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিসংগ্রামে (আন্তর্জাতিক, বিশ্বব্যাপী), দেশ ও মাতৃভূমির স্বার্থে (জাতীয়, দেশজ) সংগঠন ও আদর্শের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি এবং আদর্শিক চেতনার কাছে ব্যক্তি চেতনা লীন করার শপথে নিজেকে আদর্শিক ও ব্যক্তির বদলে সামষ্টিক চেতনায় নিজেকে সংগঠন রূপে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছি।