[ আমরা সম্মিলিত অনুশীলনের ভিত্তিতে, মানুষ ও মনুষ্যত্বের মুক্তিতে, মানবীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহতী সংগ্রামে- আমাদের আদর্শিক সত্তা ও সমন্বয়ক দিশারী শ্রদ্ধেয় ‘বড়দা (আব্দুর রাজ্জাক মুল্লাহ রাজু শিকদার)’র নির্দেশিত পথই- সংগঠন ও সংগঠন কাঠামোর ক্ষেত্রে মতাদর্শিক দিশা হিসেবে গৃহীত; সেই আলোকেই অত্র প্রকাশনা অনুমোদিত। ]



মেনু

লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূলনীতি

 

সংগঠনের নাম   বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট  সংক্ষিপ্তভাবে বাংলাদেশ মুক্তিজোট। সংক্ষেপে মুক্তিজোট।

 

লক্ষ্য   ২। অহিংস পথে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তিমূলকে বদলে দিতে আদর্শনিষ্ঠ ধারায় জাতীয় জীবনে ‘সংহতি গড়ে তোলা’ ।

 

ব্যাখ্যা বা প্রত্যয় স্পষ্টীকরণঃ লক্ষ্যাংশে বর্ণিত সামাজিক-সাংস্কৃতিক’ বলতে আর্থ-রাষ্ট্রিক জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধান, নীতি- নৈতিকতা তথা বৌদ্ধিকতা-প্রধান সংস্কৃতিকে নির্দেশ করেছে  এবং রাষ্ট্রিক তথা জাতীয় ‘জীবনে সংহতি গড়া’ বলতে নাগরিক বোধগত ক্ষেত্রকে  অর্থাৎ যথারীতি  সংস্কৃতিকে  নির্দেশ  করেছে । ফলে ঘোষিত  ‘সংস্কৃতি’  শব্দটা প্রথাগতভাবে অপরাপর  ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘সংস্কৃতি’ শব্দের অর্থবোধকতা  থেকে ভিন্নতার নির্দেশক- যা ব্যাপক অর্থে গৃহীত ।

 

এক্ষেত্রে, যে সংগ্রাম সমাজসংশ্লিষ্ট- তা-ই  সাংস্কৃতিক সংগ্রাম এবং সমাজবদ্ধ মানুষ হিসেবে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাপিত জীবনের সবকিছু নিয়েই সংস্কৃতি- অর্থাৎ যা-কিছু মানবীয় জীবনকে ছুঁয়ে যায়, তা-ই সংস্কৃতি । এদিক থেকে অর্থনীতি, রাজনীতি তথা পারিবারিক-জাতীয়-আন্তর্জাতিক ইত্যাদি সংস্কৃতির অঙ্গীভূত । সমাজ সংশ্লিষ্টতায় সংস্কৃতির সীমানা বলতে মানবীয় বোধগত সীমানাকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত উত্তরণ সাযুজ্যতায় বৈশ্বিকতারও নির্দেশক

 

প্রথাগত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘সংস্কৃতি’ শব্দটির প্রচলিত ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Culture’, যা গৃহিত সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘সংস্কৃত’ বা ‘সংস্কৃতি’ শব্দ থেকে ব্যুৎপত্তিগতভাবেই ভিন্ন অর্থকে প্রকাশ করেছে । ব্যুৎপত্তিগত অর্থভিন্নতা ছাড়াও ‘Culture’ শব্দটির ব্যবহার-সম্পূর্ণতায় মাত্র তিন-চার’শ বছর (culture- origin, 17th century- Concise Oxford Dictionary, Tenth Edition, revised, Edited by Judy Pearsall, Oxford University Press, 1999) অতিবাহিত হয়েছে । আর  নির্দেশিত ‘সংস্কৃত’ বা ‘সংস্কৃতি’ শব্দটি  ব্যুৎপত্তিগত  ব্যবহার-সম্পূর্ণতায় প্রায় তিন-চার হাজার বছর অতিক্রম করছে । ইতিহাস প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে কোনটি আগে-কোনটি পরে অথবা কোনটি সমগ্র বা কোনটি অংশ, তা নির্ণয়ের সর্বজনগৃহীত নৈর্ব্যক্তিক মানদন্ড হিসেবে সময় বা কাল–ই নির্দিষ্ট । এমন-কি ইতিহাস নিজেও শব্দগত অর্থে সময়কেই প্রতিফলিত করে । কালের নিক্তিতে ‘Culture’ যেখানে কয়েক’শ বছর অতিক্রম করেছে, সেখানে ‘সংস্কৃতি’ কয়েক সহস্র বছর পেরিয়ে গেছে । ‘Culture’ ব্যুৎপত্তিগত  ব্যবহার পরিক্রমায় Cultivation, বাংলা ভাষান্তরে যা কর্ষণ বা কৃষি সম্বন্ধীয় অর্থকে নির্দেশ করে আর ‘সংস্কৃতি’  ব্যুৎপত্তি ও ব্যবহার-সম্পূর্ণতায় সর্বদা সমাজবদ্ধ সকল মানুষের জীবনব্যবস্হা বা যাপন সংশ্লিষ্ট অর্থপূর্ণতাকে নির্দিষ্ট করেছে, অর্থাৎ ‘Culture’ সমাজবদ্ধ মানুষের মধ্যে একটি পেশা সম্পৃক্ত অংশকে নির্দেশ করছে । এই অর্থে- ‘সংস্কৃতি’ সামগ্রিকতার নির্দেশক এবং ‘Culture’ অংশের নির্দেশক । ফলে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ক্ষেত্রে ‘সামগ্রিক অর্থবোধন’-এ ব্যবহৃত ‘সংস্কৃতি’ বা ‘সাংস্কৃতিক’ শব্দটি প্রথাগত অর্থে ব্যবহৃত ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Culture’ থেকে মূলগত অর্থেই ব্যাপক পার্থক্য বহন করে ।

 

অতএব সমাজ সংশ্লিষ্টতায় সামগ্রিক অর্থবোধনে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম’– ইংরেজী প্রতিশব্দে ‘Sanskritic Sangram’ এবং আন্দোলন অর্থে ‘Wide Movement’ হিসেবে অভিহিত হবে ।

 

মূলনীতি    (১) রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায়  বিকেন্দ্রীভূত কেন্দ্রীকরণ (Decentralised Centralisation)-এর সমাজ–কাঠামো প্রতিষ্ঠা মারফত স্থানিক শাসন (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান, চতুর্থ ভাগ, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ-৬০) ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতঃ আর্থ-সামাজিক তথা  সাংস্কৃতিক অবস্থার বদল ।

 

                 (২) প্রথাগত রাজনীতিকে ছাপিয়ে সামগ্রিক জীবন ও যাপন সংশ্লিষ্টতায় “ডান-বাম নয়, হাঁটতে হবে আপন দেশ বরাবর!”–সাংস্কৃতিক এই বোধ সন্নিষ্ঠতায় সবক্ষেত্রেই  বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত  উত্তরণ ও চেতনার সাথে  জাতীয়  বাস্তবতার সাযুজ্যপূর্ণতায় সকল নীতি গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠাই সাংগঠনিক নীতি ।অর্থাৎ “জ্ঞানে- বৈশ্বিক, প্রয়োগে- স্থানিক” তথা “Global Knowledge Local Act” শ্লোগানই মূলনীতি অর্থে  গৃহীত এবং তা বাস্তবায়নে চাই সচেতন সামাজিক শক্তি’ (Social Power with Knowledge) –এর শাসন প্রতিষ্ঠা ।